জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২০৫

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২০৫
চিত্র গ্রাহক - গৌতম সেন

সম্পাদকীয় 

প্রিয় বন্ধুরা, 
এই ভীষণ গরমে সবাই সাবধানে থাকছো তো ? ইউটিউবে শুনছিলাম এ বছর নাকি খুব বেশি গরম পড়বে , মানে অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি গরম থাকবে এ বছর। কাজেই সবাই কিন্তু নিজেদের আর বাড়ির অন্যান্য দের ও  খেয়াল রেখো, সেই সঙ্গে বাড়ির পোষ্যদের আর বাড়ির বাইরের পশু পাখি দের ও অবশ্যই যত্ন নিও । তোমরা হয়তো ভাবছো বাড়ির বাইরের পশু পাখি দের কি ভাবে যত্ন নেবে , তাই তো ? আরে বাবা আর কিছুই না, বাড়ির বাইরে আর বাড়ির ছাদে জলের একটা করে গামলা রেখে দিও । গরমের সময় ওরা যদি সহজেই জল পেয়ে যায় খাবার জন্য তাহলে ওরাও তো সুস্থ থাকবে তাই না ? আমাদের পরিবেশের সবাই ভালো থাকুক সুস্থ থাকুক এটাই তো আমাদের স্বাভাবিক চাওয়া । আজ তাহলে এই পর্যন্ত। আমাকে অবশ্যই মেসেজ করে তোমাদের আঁকা ছবি  আর লেখা পাঠাতে ভুলো না। ভালবাসা নিও। 
ইতি - তোমাদের স্বাগতাদি।
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ একুশ 

পর্ব- ২১

রতনতনু ঘাটী 

বসন্তবৌরি পাখিটার কথা তেমন ভাবে মনে দাগ কাটল না মনে হয় নবনীতস্যারের। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে থাকলেন তাহিরার দিকে। এবার তাহিরা শক্ত হাতে ব্যাটটাকে ঘুরিয়ে নিল একবার শূন্যে। বিরাট কোহলির ঢঙে বলের দিকে চোখ রেখে টানটান হয়ে দাঁড়াল ক্রিজে। চন্দ্রেশের নেক্সট বলটা তাহিরা আকাশপথে পাঠাল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু না। ব্যাটটা যত জোরে চালিয়েছিল তাহিরা, তেমন ভাবে বলটা ব্যাটে লাগল না। গড়াতে গড়াতে বলটা বাউন্ডারি লাইনের আগেই থমকে গেল। দৌড়ে দু’ রান তুলে নিল তাহিরা। লোকন ফিরে গেল তার আগের পজিশনে। ফের ব্যাট নিয়ে তৈরি হল তাহিরা। এবার বেশ জোরে বল করল চন্দ্রেশ। সপাটে মারল তাহিরা। বল চলে গেল সোজা বাউন্ডারি সীমানার বাইরে। চার রান। এবার খুশিতে দেবোপমস্যারের মুখটা মেঘভাঙা রোদের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। 

   স্যার চেঁচিয়ে বললেন, ‘তাহিরা, এর পরের বল থেকে ছক্কা চাই!’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘তাহিরা বলের দিকে চোখ রেখে ব্যাট চালাও।’

   সত্যিই চন্দ্রেশের এই ওভারের লাস্ট বলে তাহিরা ছক্কা হাঁকাল। দেবোপমস্যার দু’ হাত তুলে বললেন, ‘আমি জানি, তুমি চেষ্টা করলে পারবে তাহিরা। শুধু মনে আরও অনেকটা জোর আনতে হবে!’

   মাথা নিচু করে তাহিরা মান্যতা দিল স্যারের কথার। দেবোপমস্যার বললেন, ‘এবার ব্যাট করতে চলে এসো ডি-সেকশান। সোনামের দিকে তাকিয়ে স্যার বললেন, ‘ব্যাট করতে চলে এসো সোনাম মিত্র আর সুজাত পাল। আর বল করতে এসো সি-সেকশানের বাঁ-হাতি বোলার নাতাশা এবং সিন্ধুজা মাইতি।’

   তাহিরা এবং লোকন চলে গেল ফিল্ডিংয়ে নিজেদের পজিশনে। মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বললেন, ‘দেবোপম, আমি লোকনের আর এক ওভার ব্যাটিং দেখে বাড়ি যেতে চাই। আমি তো বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাইনি। ও তো সবে ক্রিকেটে এসেছে! আমার এখন বয়স হয়েছে। আর ক্রিকেটের টিকিট কেটে আকাশ পথে উড়ে গিয়ে কোথাও খেলা দেখার মতো মনই নেই আমার! আজ আমার কিন্তু বাড়ি ফেরার তাড়া আছে দেবোপম!। মন্দাকিনী তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে বলে দিয়েছে। সব দিন মন্দাকিনীর কথা রাখতে পারি না তো। আজ এমন খুশি-খুশি মুখে বাড়ি ফেরার কথাটা বলল মন্দাকিনী, তখনই ঠিক করে নিয়েছি, আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতেই হবে।’

   দেবোপমস্যার বললেন, ‘ঠিক আছে, স্যার! ডি-সেকশান দু’ ওভার ব্যাটিং করে নিক। তারপর আজকের ক্রিকেট কোচিংয়ের লাস্ট এক ওভারে লোকনকে ব্যাট করতে দেব!’

🍂

   মুকুলকৃষ্ণবাবু নিশ্চিন্ত মনে ফের জাঁকিয়ে চেয়ারে বসলেন। হেডস্যার বললেন, ‘মুকুলবাবু, দেখেই যান লোকনের লাস্ট ওভারের ব্যাটিংটা!’

   প্রথমে ডি-সেকশানের ব্যাটার সোনাম মিত্র ব্যাট হাতে ক্রিজে নেমে পড়ল। বল করতে চলে এল নাতাশা চক্রবর্তী। প্রথম বলটা খেলল বেশ সাহসের সঙ্গে সোনাম মিত্র। প্রথম বল থেকে তার সংগ্রহে এল মাত্র দু’ রান। এই ওভারের সেকেন্ড বলটা বেমক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেল সোনাম! দেবোপমস্যার মাথা নাড়তে নাড়তে হাত তুলে সোনামের জায়গায় ব্যাট করতে ডাকলেন রুচিকা গুপ্তকে। 

   রুচিকা ডি-সেকশানের ওপেনিং ব্যাটার। দারুণ ব্যাট করে। নাতাশা চক্রবর্তীর ওভারের লাস্ট বলটাকে মেরে পাঠিয়ে দিল মাঠের বাইরে—‘ছক্কা!’ নাতাশা চক্রবর্তীর ওভার শেষ হয়ে গেল। এবার বল করতে সিন্ধুজা মাইতিকে ডাকলেন স্যার। 

   হেডস্যারের পাশের চেয়ারে বসেছিলেন মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি। তিনি বললেন, ‘স্যার, দেবোপমের একটা জিনিসের প্রশংসা করতেই হবে। ও কিন্তু ব্যাটারদেরও বল করতে দেয়। আবার বোলারদেরও ব্যাট করতে দিতে ভুলে যায় না! ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সকলকেই খেলায়। এই দেখুন, কেমন সিন্ধুজা মাইতিকে বোলিংয়ে নামিয়ে দিল!’

   ততক্ষণে সিন্ধুজা ওভারের প্রথম বলটা দিল স্পিন। খেলতেই পারল না রুচিকা। রাগ দেখিয়ে বিরাট কোহলির মতো ব্যাটটাকে তিনবার ক্রিজে ঠুকল রুচিকা। এবার সেকেন্ড বলটা শাঁ করে উইকেটের দিকে ছুটে এল। রুচিকা প্রাণপণে ব্যাট চালাল। বলটা ব্যাটের কানায় টুক শব্দ করে সামান্য ক্যাচ উঠল। ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে বলটা ড্রপ খেয়ে গড়িয়ে গেল। না, এ বলেও কোনও রান হল না। এবার লাস্ট বল করল সিন্ধুজা। উইকেটের সামনে বলটা পড়ে রুচিকার বুঝে ওঠার আগেই উইকেট ভেঙে দিল। আউট হয়ে গেল রুচিকা।

   দেবোপমস্যার মুকুলকৃষ্ণস্যারের দিকে তাকিয়ে গলায় ভীষণ জোর এনে বললেন, ‘এবার মাত্র এক ওভার ব্যাট করতে আসছে লোকন দাস, গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠের বৈভব সূর্যবংশী!’

   টানটান হয়ে চেয়ারে জাঁকিয়ে বসলেন মুকুলকৃষ্ণবাবু। নবনীতস্যারকে বললেন, ‘দেবোপম আমার কথাটা কিন্তু রেখেছে! দেখি দু’ চোখ ভরে লোকনের ব্যাটিংটা।’

   দেবোপমস্যার হাতের ইশারায় লোকনকে ক্রিজে ডাকলেন। লোকন বুঝতে পারল না, কেন আবার তাকে স্যার ডাকছেন। ক্রিজে লোকন এসে দাঁড়াতে স্যার বললেন, ‘লোকন, মুকুলকৃষ্ণবাবু তোমার ব্যাটিং দেখতে চাইলেন। এর পর উনি বাড়ি চলে যাবেন। হেডস্যারও বসে আছেন তোমার ব্যাটিং দেখবেন বলে।’

    বিকেল নেমে আসছে মেঘের পিঠে চড়ে গগনজ্যোতি স্কুলের খেলার মাঠের চারদিকের গাছপালার মাথায়। লোকন দেবোপমস্যারের হাত থেকে ব্যাটটা নিল। চাঁইচাঁই করে ব্যাটটা ঘুরিয়ে নিল একবার। এবার দর্শকদের পাশের চেয়ারে বসে থাকা পারুলমণির দিকে তাকিয়ে হাসল লোকন। দিদি মাঠে আছে, তার দিকে তাকিয়ে লোকন হাসবে না, তা কি হয়? স্যারের ঘোষণাটা শুনতে পেয়েছিল পারুলমণি। চিৎকার করে বলল, ‘ভাই, এবার তিন বলের ওভারে যতগুলো পারিস ছক্কা মার! আমি গুনে রাখছি!’

   মুকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘লোকন তিনটে ছক্কা চাই এই ওভার থেকে। তিনটে ছক্কা! কম নয় কিন্তু!’

   লোকন মুকুলকৃষ্ণবাবুর দিকে ব্যাট তুলে ধরল। নবনীতস্যারও চেঁচিয়ে বললেন, ‘লোকন, ছক্কা চাই!’

   এতজনের ডিমান্ড শুনে ঘাবড়ে গেল সিন্ধুজা মাইতি। লোকনের ব্যাটিং সম্পর্কে জানে সিন্ধুজা। সিন্ধুজাকে বেশ স্টেডি দেখাচ্ছিল। প্রথম বলটা গুগলি ছিল। চোখ বন্ধ করে লোকন গায়ের সব শক্তি দিয়ে ব্যাট হাঁকাল। বল চলে গেল সাঁইসাঁই করে মাঠের বাইরে। ওভার বাউন্ডারি! দর্শকদের দিক থেকে চিৎকার ভেসে এল, ‘ছ-ক্কা! ছ-ক্কা!’

   পারুলমণি চিৎকার করে বলল, ‘ভাই, এবারও ছক্কা চাই!’

   নবনীতস্যার চেঁচিয়ে বললেন, ‘লোকন, এবারও ছয় মেরে দেখাও!’

   প্রথম বলে লোকনের ছক্কা দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেল সিন্ধুজা। এবারের দ্বিতায় বলটা কিন্তু ঘূর্ণি বল ছিল, যাতে লোকন ব্যাট চালাতে না পারে! লোকন রাজস্থান রয়্যালসের বৈভবের ঢঙে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াল। সিন্ধুজার ঘূর্ণি বলটা ক্রিজে পড়ার আগে তৈরিই ছিল লোকন। উঁচু হয়ে বলটা উইকেটে আসার আগেই মিড-অফ অঞ্চলের আকাশ দিয়ে বলটা পাটিয়ে দিল ওভার বাউন্ডারি সীমানার ওপাশে। মুখটা কালো হয়ে উঠল সিন্ধুজার। অলরেডি দুটো বলে দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে বারো রান তুলে নিয়েছে লোকন দাস। 

   সিন্ধুজাকে মুষড়ে পড়তে দেখে দেবোপমস্যার চিৎকার করে উঠলেন, ‘সিন্ধুজা, ওভারের লাস্ট বল। এবার কিন্তু উইকেট চাই-ই চাই!’

   এদিকে মুকুলকৃষ্ণবাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়েছেন নবনীতস্যারও। দু’জনেই দু’ হাত তুলে চেঁচাচ্ছেন, ‘ছয় চাই! ভুলে যেও না লোকন, এটাই লাস্ট বল!’

   এবার খুব সাদামাটা একটা বল করল সিন্ধুজা। অনেক সময় ভাল ব্যাটাররা ছয়-চার মারতে মারতে দিশেবারা ভাবে একটা সাদামাটা বলকেও সেভাবে খেলতে চায়। আর তখনই লোপ্পা ক্যাচ তুলে দেয় ফিল্ডারের গ্রিপে। এবার সেরকম আশাই রেখেছিল মনে সিন্ধুজা। কিন্তু না। লোকন একদম অন্য রকমের ব্যাটার। এই সাদামাটা বলটাকেও ছক্কা না মেরে যেন নিস্তার ছিল না লোকনের। ফিল্ডাররা মুখ আকাশে মুখ তুলে চেয়ে-চেয়ে দেখল আজকের ম্যাচের সবচেয়ে উঁচু আর লম্বা ছয়। 

   মুকুলকৃষ্ণবাবু দৌড়ে গিয়ে ক্রিজের উপর জড়িয়ে ধরলেন লোকনকে। হইহই করে দর্শকরা মাঠের মাঝখানে এসে ঘিরে ধরল লোকনকে। হেডস্যার লোকনকে জড়িয়ে ধরার সুযোগই পেলেন না। পারুলমণিও ছুটে এসেছিল ভাইকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু কিছুক্ষণ সে সুযোগই পেল না।

   দেবোপমস্যার ঘোষণা করে দিলেন, ‘আজকের মতো কোচিং শেষ। তোমরা বাড়ি চলে যাও। আর সকলে মনে রেখো, ক্রিকেটটা লোকনের মতোই খেলতে হবে।’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু আশীর্বাদ করলেন লোকনকে। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন নবনীতসার। ভবিষ্যতের আশায় তাঁর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল।

   পারুলমণি লোকনকে এতক্ষণে জড়িয়ে ধরার চান্স পেল। ভাইকে আদর করতে করতে বলল, ‘ভাই, আমরা এখন বাড়ি ফিরব না রে!’

   অবাক গলায় লোকন দিদিকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমরা এখন কোথায় যাব রে দিদি?’

    পারুলমণি বলল, ‘আমরা এখন শিমুলতলির বাজারে যাব!’

   ‘কেন রে দিদি? কী কিনবি?’

   ‘চল না। গিয়ে দেখবি!’ বলে ভাইয়ের হাত ধরে দু’জনে শিমুলতলি বাজারে পৌঁছে একটা রকমারি দোকানে গিয়ে পারুলমণি বলল, ‘আমাকে একটা কাচের গোল জার দিন তো!’

   দোকানদার স্টক থেকে কাচের গোর জার বের করে দিল। পারুলমণি জারটার গায়ে হাত বুলিয়ে দেখে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, এরকমই চেয়েছিলাম।’

   দাম মিটিয়ে রাস্তায় নেমে আসার পর লোকন জিজ্ঞেস করল, ‘দিদি, এ জার দিয়ে কী করবি রে?’

   ‘একটা রঙিন মাছ কিনে তোকে গিফট করব। তুই আজ এত ভাল ক্রিকেট খেললি! কতগুলো ছক্কা হাঁকালি!’

   ‘ও তো আমি রোজই অমন ভাল ক্রিকেট খেলব রে দিদি! তুই তখন গিফট দিতে-দিতে ফতুর হয়ে যাবি তো?’

   পারুলমণি হাসতে-হাসতে বলল, ‘দুর বোকা! ভাইকে গিফট দিলে কোনও বোন কখনও ফতুর হয়ে যায় না!’

   ‘এই গোল জার দিয়ে আমি কী করব রে দিদি?’

   ‘অমিতাভ সেনজেঠুর বাড়িতে একটা বড় মাছঘর আছে না?’

   ‘মাছঘর মানে?’

   ‘মাছঘর জানিস না? অ্যাকোয়ারিয়াম!’

   এবার লোকন চোখ বড়-বড় করে বলল, ‘হ্যাঁ। দেখেছি তো!’ 

   পারুলমণি একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলল, ‘জানিস তো ভাই, ওঁদের মাছঘরে একটা সবজে রঙের মাছ আছে। তার কোনও বন্ধু নেই। সেদিন সেনজেঠু মাছঘরের জল পরিষ্কার করতে গিয়ে আমাকে বললেন, ‘এই সবুজ মাছটার একটা চোখ অন্ধ হয়ে গেছে! অন্য মাছের সঙ্গে মারামারি করেছিল বোধ হয়! মাছটাকে ফেলে দিতে হবে!’ উনি ফেলে দিতে যাচ্ছিলেন। 

   আমি সেনজেঠুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মাছ অন্ধ হয়ে গেলে কি তাকে ফেলে দিতে হয় জেঠু? আমি তো অন্ধ! কই আমাকে তো বাবা ফেলে দেয়নি?’

   হেসে সেনজেঠু বললেন, ‘তবে তুমি বরং অন্ধ মাছটাকে বাড়ি নিয়ে যাও পারুল!’

   ‘জানিস তো ভাই, আমি কাচের জারটা ওই জন্যেই কিনেছি! চল, সেনজেঠুর বাড়ির মাছঘর থেকে এখন ওই সবুজ মাছটা চেয়ে নিয়ে জল ভরে জারে ছেড়ে বাড়ি নিয়ে আসব! কাল তো রোববার! তুই গঙ্গামুখী বাজারে গিয়ে রঙিন মাছের খাবারের দোকান থেকে মাছের খাবার কিনে আনিস! ওকে রোজ খেতে দিতে হবে তো?’

   ভাইবোন সেনজেঠুর বাড়ি গিয়ে পৌঁছল। গিয়ে পারুলমণি বলল, ‘জেঠু, তোমার মাছঘরের সেই যে মাছটা এক চোখে দেখতে পায় না, সেই মাছটা আমাকে দাও! বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছি।’

   ‘নিয়ে যা! জারে করে জল ভরে নিয়ে আসতে বল ভাইকে। আমি তোর জারে মাছটা ছেড়ে দিচ্ছি।’

   লোকন বাইরের কল থেকে জারে জল ভরে আনল। সেনজেঠু মাছটা জারে ছেড়ে দিলেন। লোকন বলল, ‘দিদি, মাছটা কী সুন্দর দেখতে রে! কোন মাছটা যে এর এমন ক্ষতি করল?’

   পারুলমণি বলল, ‘ও কথা রাখ! আমরা মাছটা তো পেয়ে গেছি। চল, বাড়ি চল!’

   দু’জনে গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল পারুলমণি। লোকনের হাতটা টেনে ধরে বলল, ‘জানিস ভাই, মাছটার একটা নাম ঠিক করতে হবে রে!’

   ‘কী নাম রাখবি তুই ভেবে বল!’

   ‘না, তোর মাছ! তুই নিজে একটা নাম ঠিক করে দে!’

   অমনি দুম করে লোকন বলল, ‘দিদি, ওর নাম থাক নয়নী!’

   পারুলমণি ভাইয়ের দেওয়া নামটার তারিফ করে বলল, ‘বাঃ! নামটা ভারী সুন্দর হয়েছে! বুঝলি লোকন, এই নামটাই থাক তা হলে!’

   ততক্ষণে পারুলমণিরা বাড়ি পৌঁছে গেল। মাছের জারটা লোকনের হাতে দিয়ে পারুলমণি হাতড়ে হাতড়ে ঘরের দরজার তালা খুলে আলো জ্বালল। লোকনকে ডাকল, ‘ভাই, নয়নীকে নিয়ে ভিতরে আয়।’

   উঠোনে দাঁড়িয়ে লোকন একবার আকাশের দিকে তাকাল। এতগুলো ছক্কা মারার আনন্দ ভাগ করে নিতে চাইল আকাশের মেঘ হয়ে যাওয়া তার বাবাকে। পূর্ণিমার চাঁদটা ঝকমক করছিল পুব আকাশে পারুলমণিদের দেবদারু গাছের মাথায়। তারই আড়ালে আকাশ থেকে ঝরে-পড়া চাঁদের আলোয় লোকনের বাবা ছেলের কৃতিত্বে মিটিমিটি হাসলেন শুধু!

(এর পর ২২ পর্ব)

অরণ্যা দাস। পঞ্চম শ্রেণী। সারদা বিদ্যা মন্দির, যমুনাবালী। মেদিনীপুর।

ছড়া দিয়ে গড়া

রোশেনারা খান


আকাশ জুড়ে মেঘ জমেছে 

মেঘের বুকে বৃষ্টি,

বৃষ্টি মানেই মাটির বুকে 

নতুন প্রাণের সৃষ্টি।


দিঘির বুকে  ফুল ফুটেছে 

জুটেছে মৌমাছি, 

নাগাল পেলেই হুল ফোটাবে

যেওনা কাছাকাছি।


গাছে গাছে ফল ধরেছে 

দেখছে টিয়াপাখি,

ঠোকর দিলেই পড়বে খসে

কুড়িয়ে নেবে রাখি।


খাতার বুকে আঁকছে ছবি

ওই যে খুকুমণি,

আঁকছে পাহাড়, আঁকছে নদী,

আরো কি না জানি।


হাসছে খুকু হাসছে খোকা

হাসছে ওদের মা,

আজই প্রথম ইস্কুলেতে

রাখল ওরা পা।


একসাথে পড়বে ওরা

থাকবে মিলেমিশে, 

দেখবে তখন সেরা সবই

মিলবে আমার দেশে।


ম্যাজিক-হাত

আনসার উল হক


তাল-সুপুরির বন পেরিয়ে একটুখানি গেলে,

দেখবে সেথায় বিমুগ্ধতায় খলবলে এক ছেলে।

ঝাঁকড়া চুলে সুঠাম শরীর কোত্থাও নেই খুঁত,

চকর-বকর পাঞ্জাবি গায়, অপূর্ব অদ্ভুত।


এই এখানে এই সেখানে গাঁয়ে কিংবা হাটে,

সবচে' বেশি আনন্দ পায় ভিক্টোরিয়ার মাঠে। 

এই দেখবে সাইকেলে সে, ওই দেখবে অটোয়, 

বোশেখ মাসে ফুল মালা দেয় কবিগুরুর ফটোয়।


ফুসমন্তর ম্যাজিক দেখায় নেই বুকে তার ভয়, 

এ-তল্লাটে বাচ্চাবুড়োর মন করেছে জয়।

ছাতিম গাছের বেদির পাশে ছোট্ট কুঁড়েঘর, 

সে জানেনা কাঁটা-তারের বেড়া, আপন পর।


তার ঘরে নেই বিজলি-বাতি, আঁধার দিয়ে ঠাসা,

কিন্তু আছে বুকের মাঝে আদর ভালোবাসা। 

এইভাবে তার দিন কেটে যায়, তাড়ায় কালো রাত,

হাতের ছোঁয়ায় দূর করে দেয় বিভেদ ও জাতপাত।

ক্যুইজ  

১. ভারতের প্রথম ডিজিটাল নোম্যাড ভিলেজ কোথায়? 

2. প্রাচীন কালে কোন দেশে বিড়াল কে দেবতা হিসেবে গন্য করা হত? 

3. রেশমকীট কোন গাছের পাতা খায়? 

4. ভারতের বৃহত্তম রাজ্য কোনটি? 

5. প্রথম কাকে টেলিভিশনের জনক বলা হয়েছে? 

গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর - 

১. রেশমকীট বা পলু 

2. লাক্ষা কীট

3. শকাব্দ

4. কাজী নজরুল ইসলাম 

5. গগনযান

ক্লিক করে শুনে নিন 👇
লেখকের পাঠক সত্তা


Post a Comment

0 Comments