Posts

Showing posts with the label শ্রদ্ধা ও স্মরণ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছাত্রজীবন /প্রসূন কাঞ্জিলাল

Image
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছাত্রজীবন প্রসূন কাঞ্জিলাল ১৮৩৯ সালের ১৬ মে  প্রথম স্কুল পরিদর্শক ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ---  "বিদ্যাসাগর " উপাধিতে ভূষিত হন। একজন ছাত্র হিসেবে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেমন ছিলেন? কারাই বা তাঁর শিক্ষক ছিলেন? তিনি কোন কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তা জানা যায় নানা গ্রন্থে।  ঈশ্বরচন্দ্রের কর্মজীবন ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজকর্ম নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, তাঁর ছাত্রজীবন নিয়ে তেমন বিস্তারিতভাবে খুব বেশি আলোচনা করা হয় না। বরং খুবই সংক্ষেপে তাঁর ছাত্র জীবন নিয়ে কিছু অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে তাতে ইতি টেনে দেওয়া হয়। বৃক্ষের পরিচয় তার চারা অবস্থাতেই পাওয়া যায়। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছাত্রাবস্থার ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য। ঊনবিংশ শতাব্দীর বঙ্গদেশে তিনি যে কি সুবিশাল মহীরুহে পরিবর্তিত হতে চলেছেন, সেটার পরিচয় তাঁর ছাত্রাবস্থাতেই পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া, তৎকালীন বঙ্গদেশের শিক্ষাব্যবস্থাও তাঁর পরবর্তী জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। সুতরাং পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে গেলে, বিস্তারিতভাবে তাঁর ছাত্রজীবনের কথা অবশ

শতবর্ষে শিল্পী সোমনাথ হোর (১৯২১-২০২১)/অর্ণব মিত্র

Image
শতবর্ষে শিল্পী সোমনাথ হোর (১৯২১-২০২১) অর্ণব মিত্র সোমনাথ হোর-এঁর  জন্ম হয় ১৯২১ সালে পূর্ববঙ্গের চট্যগ্রামে। তার কিশোর বয়স কেটেছিল পূর্ববঙ্গের তখনকার অশান্ত রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে।তরুণ বয়সে শিল্পী চিত্তপ্রসাদের  সাথে সোমনাথ  হোর–এর পরিচয় হয় চট্যগ্রামে। সেই সময় চিত্তপ্রসাদ বাংলার দুর্ভিক্ষের ছবি আঁকছেন। সোমনাথ হোরও তখন চিত্তপ্রসাদের উৎসাহে ক্ষুধায় পীড়িত মানুষের অবয়ব আঁকতে শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষ ও তেভাগা আন্দোলনের মধ্যে তিনি অনেক কাজ করেন। ১৯৪৩ সাল থেকে প্রায় ১৯৪৮ সাল অবধি তিনি দৃশ্য সংকলন ও সাংবাদিকতার কাজ করেন কলকাতার কম্যুনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘জনযুদ্ধ’-র জন্য। এই সময়ধরে তিনি সেই সময়ের বিখ্যাত পোস্টার ও ছাপচিত্র শিল্পী চিত্রপ্রসাদ-এর অধীনে কাজ করেন ও তার আঁকা সাদাকালো ড্রয়িং ও পোস্টার ‘জনযুদ্ধ’পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হতে থাকে।   এ সমন্ধে সোমনাথ হোর একটি লেখায় লেখেন ‘একসময়ে চিত্তপ্রসাদের সাথে যোগাযোগ হয় । তিনি আমাকে হাতে – কলমে দেখিয়ে দিলেন কি করে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের ড্রয়িং করতে হয়। তাই থেকে আবার পোস্টার করা’।  তিনি সেই লেখায় স্বীকার করেন ‘চিত্তপ্রসাদই আমার প্রথম

সত্তায় শিল্পীর স্বকীয়তা ----- রামকিঙ্কর বেইজ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

Image
সত্তায় শিল্পীর স্বকীয়তা --রামকিঙ্কর বেইজ প্রসূন কাঞ্জিলাল শিল্পী জীবন সম্পর্কে রামকিঙ্কর একটা কথা বলতেন, “একজন শিল্পী হওয়া খুব কঠিন কিন্তু একজন শিল্পীকে বোঝা আরো কঠিন।”    মানুষটির জন্ম ২৫ শে মে, ১৯০৬.        স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ, রামকিঙ্কর বেইজকে এইভাবে দেখতেই শিখিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “যখন কিছু দেখবে বাঘের মতো ঘাড় মটকে ধরবে পিছনে আর তাকাবে না।” বিখ্যাত ভাস্কর রাধাকৃষ্ণণের কথায়, “রামকিঙ্কর জীবনকে সুক্ষ্ম এবং খাঁটিভাবে তাঁর আঁকায় ফুটিয়ে তুলতেন। তিনি শুধু ভাস্কর নির্মাণ করতেন না বরং জীবনকে সমৃদ্ধ এবং ব্যাখ্যা করতেন তাঁর ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে।" কে কার অন্তরে বাস করে? কার দ্বারা কে বেশি সমৃদ্ধ? কে যে কার অনুচর বোঝা দায়- শিল্প না শিল্পী বিদগ্ধ ? এক কৃষ্ণকায় কিশোর যুগীপাড়ার দোলতলা বাজারে এক গাছের নীচে সামনে একটা কাঠের বাক্সের উপর খুর-কাচি-নরুন সাজিয়ে অপেক্ষা করছে খরিদ্দারের। অপেক্ষা করতে করতে নিজের অজান্তেই কখন যেন তুলে নিয়েছে সামনে রাখা নরুন, আর তা দিয়ে গাছের গায়ে আঁচড় কেটে শরীর দিচ্ছে তার কিশোর মনের কল্পনাদের। বাড়িতে তার ভীষণ অর্থাভাব। বাবা চণ্ডীচরণ সারাদিন যজমানদের বাড়ি খেউর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী

Image
স্মৃতি ডট কম ১১ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী  ‘যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াবো / আমি বিষপান করে মরে যাবো! / বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ / নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ / প্রান্তরে দিগন্ত নিনির্মেষ- / এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমি / যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াবো / আমি বিষপান করে মরে যাবো…’ – কোথা থেকে শুরু করি? বাবার কেনা রেকর্ডে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠে আবৃত্তি থেকে? অথবা, সেই আইডিয়াল বুক স্টোরে দাঁড়িয়ে ‘স্মৃতির শহর’ পড়ে বিস্মিত কিশোরীর ভালো-লাগা থেকে নাকি ‘ভালো-বাসা’-তে বসে দীপঙ্কারদার (সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী) কাছ থেকে তাঁর গুরু সুনীলদার কথা শুনতে শুনতে কৌতুহলের উদ্রেক থেকে? অথবা দীপঙ্করদার সঙ্গে এক মহালয়ার সকালে লেখক সুনীলকে দেখতে যাওয়া থেকে? আগে কখনো লিখেছি আমার বেড়ে ওঠার সময়ের অনেকখানি হিন্দুস্থান পার্কে 'ইলাবাস'-এ থেকেছি। সামনেই সুনীলমাধব সেনের বাড়ি... ঢিল ছুঁড়লে 'ভালো-বাসা', নরেন্দ্র দেব রাধারাণী দেবীর বাড়ী, পরবর্তীতে নবনীতা দেব সেনের। কখনও লিখেওছি নবনীতাদির বাড়ি ভালোবাসা-তে সেই সময়ের অনেকখানিই কাটত আমার। সব সময় যে নবনীতাদ

বিজয়াদি, বিজয়া মুখোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী

Image
স্মৃতি ডট কম ৯ বিজয়াদি, বিজয়া মুখোপাধ্যায় // ঈশিতা ভাদুড়ী ‘বিশ্বের সমস্যাপূরণের ভার / তোকে দেওয়া হয়নি, পুঁটি। / ভারতবর্ষ বোমা বানবে কিনা / আমেরিকা ভিয়েতনাম ছাড়বে কবে / অটোমেশনের বিরুদ্ধে গনস্বাক্ষর জরুরি – / এ সব ভাবনা তোর নয়। / বিকেলে গা ধুয়ে তুই খোঁপা বাঁধ / লক্ষ্মীবিলাস তেল দিয়ে, / মাসির দেওয়া পার্ল পাউডার / মুখে আলতো করে মাখ / কাগজ পোড়ানো ঝুরো টিপ পর কপালে / সন্ধ্যামালতির থোকা গুঁজে দে খোপায় / বর্ষায় ঘন সবুজ শাড়ি / তোকে মানায় ভালো।…’ - কবি বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের  এই ‘পুঁটিকে সাজে না’ কবিতাটি পড়ে নারীবাদী কবিতা মনে হলেও, তাঁর কবিতার মূল চরিত্র বুঝতে গেলে তাঁকে পড়তে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে। আসলে একজন নারীর কবিতা বলতে পাঠক যা বোঝে, সেই জায়গা উত্তীর্ণ করে তাঁর লেখা বিস্তৃতি পেয়েছে। ১৯৭৭ অথবা ৭৮-এ আমি প্রথম পড়ি বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের কবিতা। আমার জীবনের বেশ কিছু সময় হিন্দুস্তান পার্কে ইলাবাসে কেটেছে, বেড়ে ওঠার সময়ে। এই বেড়ে ওঠায় যে দুটির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল আমার সঙ্গে, সেই দুটি হলো বালিগঞ্জ ইন্সটিট্যুট লাইব্রেরী আর আইডিয়াল বুক স্টোর, দুটোই গড়িয়াহাটে। আইডিয়াল বুক স্টোরে দাঁড়িয়ে কত

অন্তরঙ্গ নবনীতা // ঈশিতা ভাদুড়ী

Image
স্মৃতি ডট কম ৭ অন্তরঙ্গ নবনীতা // ঈশিতা ভাদুড়ী সেই যে সেই কবে পনেরো / ষোল বছর বয়সের ছেলেমানুষীতে তাঁকে একটি চিঠি লিখেছিলাম, সেই থেকে , নাকি অটোগ্রাফ খাতা নিয়ে যেদিন দাঁড়িয়ে ছিলাম তাঁর সামনে, সেই থেকে কিভাবে যেন...  প্রশ্ন করেছিলেন, 'তুমি সুনন্দার মেয়ে না? দেখো তোমার চিঠিতে তোমার এমন আদল ছিল যে, তুমি কথা বলার আগেই আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি।' বন্ধুর মেয়ে বলে নাকি একনিষ্ঠ পাঠক বলে কিভাবে যেন সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেল। ক্রমশ বেশির ভাগ সময় ভালোবাসা-তে কাটতে লাগল আমার। বাড়ি ফেরার পথে দেখতাম গাড়িটা আছে কিনা, DLI 2147, গাড়ি আছে মানে নবনীতাদি আছেন। সেই গাড়ি চালিয়ে যখন লেকক্লাবে পিকো টুম্পাকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যেতেন, আমি তো চালকের পাশের আসনে বসে দিব্যি ফুরফুরে। কখনও গড়িয়াহাট থেকে জিনিস কিনে ফিরছি... আমার হাত থেকে প্যাকেটগুলো নিয়ে 'কবির হাতে এসব মানায় না' বলে রজনীগন্ধার একটি স্টিক আমার হাতে দিলেন (যদিও আমার চেয়ে ঢের বেশী কবি তিনিই) ... এইভাবে কিভাবে নবনীতাদি মায়ের নয় আমারই বন্ধু হয়ে গেলেন, এবং মাসি থেকে দিদি। নবনীতাদি ‘ইলাবাসের জ্যাঠামশাই’ নিবন্ধে ২০০৩ সালে লিখেওছিলেন “গত পঁ

অল্পস্বল্প এবং ব্যক্তিগত পূর্ণেন্দু পত্রী/ ঈশিতা ভাদুড়ী

Image
স্মৃতি ডট কম ৬ অল্পস্বল্প এবং ব্যক্তিগত পূর্ণেন্দু পত্রী  ঈশিতা ভাদুড়ী ‘যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসে নি। / প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে / সূর্য ডোবে রক্তপাতে / সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূন্য বিছানাতে। / একান্তে যার হাসির কথা হাসে নি। / যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসে নি’… – এমন অনবদ্য লাইন পড়ে যে কিশোরী পাঠ্যপুস্তকের বাইরে প্রথম কবিতা পড়া শুরু করেছে, সে কেমন ও কতখানি মন্ত্রমুগ্ধ হতে পারে সেকথা ব্যক্ত করার মতো অক্ষর নেই আমার। আমি তাঁর সাহিত্যের বা শিল্পের আলোচনা করতে বসিনি এখানে। সেনেট হল ভাঙার প্রতিবাদ করে উঠেছিলেন যে মানুষটি তাঁর আলোচনাও নয়। বরঞ্চ গুণমুগ্ধ পাঠকের প্রতি তাঁর যে দৃষ্টি, আমি সেইটুকুই বলতে চাই। এবং আমার লেখাজোকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতখানি, সেটুকুও। তখন সতের বছর বয়েস আমার। ‘তুমি এলে সূর্যোদয় হয়’ বইটি হাতে এল। আর আমার উন্মাদ-অবস্থা। এমন সব কবিতা আছে সে বইতে যেগুলি সতেরো-আঠারো বছরের পক্ষে ‘স্ফীত বন্যাজল’। ‘সবাই মানুষ থাকবে না। / মানুষের কেউ কেউ ঢেউ হবে, কেউ কেউ নদী / প্রকাশ্যে যে ভাঙে ও ভাসায়…’ – যে কবি এমন সরল সুন্দর ভাষায় ভাব ব্যক্ত করেন, তাঁর সঙ্গে আলাপ

সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর শ্রদ্ধা ও স্মরণে /মায়া দে

Image
সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর শ্রদ্ধা ও স্মরণে  মায়া দে "তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে  সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে"... সংগীত  জগতের সুরসম্রাজ্ঞী স্বয়ং সরস্বতী লতা মঙ্গেশকর। আসমুদ্রহিমাচল যাঁর মধুর কোকিলকণ্ঠ পিয়াসী। সুরের দেবীর সুরমূর্ছনায় কন্ঠ -মাধুর্যে বুঁদ সারা দেশ। তিনি সংগীতাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র। সেই নক্ষত্রের পতন হলো আজ। সুরের দেবী লতাজী আজ নেই । কিন্তু তাঁর সৃষ্ট সঙ্গীত সম্ভার সে তো চিরন্তন। এর মৃত্যু নেই। দেবীর মৃত্যু হয় না। বিসর্জন হয়। তিনি তো সাক্ষাৎ মা সরস্বতী। আজ তাঁর বিসর্জনে নশ্বর শরীরটা বিসর্জনে যাবে তবু গান রয়ে যাবে। "আজি এ কোন গান নিখিল প্লাবিয়া  তোমার বীনা হতে আসিল নাবিয়া! ভুবন মিলে যায় সুরের রননে গানের বেদনায় যায় যে হারায়ে।"... ২৭ দিনের লড়াইয়ের মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। কোভিদ আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে গত ৮ ই জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আবার আইসিইউতে রাখা হয় । চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চলে। কিন্তু রবিবার ৬ই ফ্রেব্রুয়