জ্বলদর্চি

পারমিতা রায়- এর পাঁচটি কবিতা


পারমিতা রায়- এর পাঁচটি কবিতা

স্তব্ধ শোক

আমার জীবন যেমন কাটে, কাটুক 
তোমার জীবন আকাশের মতো হোক, 
ভালো যদিও বেসে থাকো অল্প 
ঢাকা থাক সব শোক। 
প্রবল বৃষ্টি আসুক হঠাৎ নেমে 
ভাসুক জলে তোমার আমার শহর, 
মিশে যাবে তাতে বঞ্চনারই রাতে 
অতীত নোনাজল । 
 যতদূর যাও, প্রশান্ত নজর থাক পিছুপানে
উড়ে যাবে অশান্ত মনের শোক। 
ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের কার্ণিশ ধরে ঝোলে 
 আমার পথ
 চোখের মুকুরে চাতকের মতো পথ ভুলে যদি মিশে থাকি।
জানি কোনোদিন পারোনি তুমি বুঝতে 
অন্ধ গভীরে জ্বেলেছো কিসের আলোক, 
ছুঁতে গিয়ে হাত পুড়িয়েছি বারেবারে 
সেই আলোতেই জ্বলুক আমার শোক।

🍂

 নির্বাসিত স্মৃতি 

নির্বাসিত স্মৃতি কখনো ভেসে ওঠে 
মনের অলিন্দের চারপাশ দেওয়ালে
যখন পৃথিবী ঘুমায় তিমির আঁধারে, 
নিক্বণ যেন ঢেউ তুলে বেড়ায় 
দিক হতে দিকে হৃৎকম্পের তালে। 
বুকে আঙার নিয়ে খেলা করে মন 
নির্বাসিত স্মৃতির সৈকত কিনারে 
বৃষ্টির আশায় চেয়ে থাকে বুক 
নির্বাসিত স্মৃতি জেগে ওঠে যার তরে। 
তীর বেঁধা পাখির মত ডানা ঝাপটায় 
আহত হৃদয় মাঝে নির্বাসিত স্মৃতি 
একে একে জেগে ওঠে যখন ঘুমায় পৃথিবী 
বক্ষ আঙারে যদি আসো বৃষ্টি কি ক্ষতি? 
যেন বিষ্ময়ের ঘুরপাকে বাঁধা এ জীবন 
বর্ণহীন জ্যোৎস্নায় ঘুমিয়ে থাকা পৃথিবী 
বুকের আঙার মাঝে জ্বল জ্বল করে 
নির্বাসিত স্মৃতিগুলো যেন জল ছবি।


কোথায় পাবো তারে

গ্যাসে গ্যাসেই চলছিল দেশটা.... 
হঠাৎ গ্যাস উধাও, 
কোথায় পাবো তারে? ছুটছে মালিক 
ছুটছে ধোপার গাধাও। 
অতি চালাক দিতে চায় 
তেলা মাথায় তেল, 
কার তেলে কার পোদ্দারি 
জমেছে খেলা বেশ। 
সব ঠিক হ্যায়, সব ঠিক আছে 
শুনছি আশ্বাস বাণী,
আসল খেলা কি চলছে 
আমরা কি আর জানি? 
দুর্দিনে যায় বন্ধু চেনা 
ঠান্ডা মাথায় ভাবনা, 
তেল দিয়ে তেল খুঁজে ফিরি 
বাকি কথা থাক না।


 বোধোদয়

দেখতে চেয়েছিলাম পুতুল নাচ 
জীবন যুদ্ধের মেলায় 
আসর পাতা উঁচু মঞ্চে কর্তারা সব মেতে উঠল মানুষ নাচানোর নেশায়। 
সুতো কাটা, স্বার্থে আঁটা শরীরে সরব 
ছন্দ হারা ভিন্ন কলা'র কলরব... 
তবু দর্শক নীরব--- নিমগ্ন বিনোদনে 
ধীরে ধীরে নেমে গেছে চরিত্রটা নিষিদ্ধ স্বপ্নে।
রক্তের ছিটে দাগ জন্মগত পোশাকে 
এঁকেছে উষ্ণ লালসা আপন জিভের বাঁকে।
আজ আসরে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মাশুলে 
সেই মানুষই পুতুল নাচের পুতুলে।


কবি প্রণাম

এই ঠাকুরটি গল্প গানের
এই ঠাকুরটি সুর, 
এই ঠাকুরটি পথ পথিকের 
অনন্ত রোদ্দুর।
এই ঠাকুরটি আকাশ মাটির 
চাঁদ, সূর্য, তারা 
এই ঠাকুরটি নদী পাহাড়ের 
আলোর ঝর্ণাধারা।
এই ঠাকুরটি আলোর আলো 
আলোয় ভুবন ভরা, 
এই ঠাকুরটি তোমার আমার 
শ্যামল বসুন্ধরা।
এই ঠাকুরটি কবির কবিতা 
দুঃখ ব্যথার জাল 
অন্ধকারের উৎস হতে 
উৎসারিত আলো।
এই ঠাকুরটি কথার কথা 
কথা মালার 
সীমা হারানো ছাদ, 
এই ঠাকুরটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে 
দুর্বার প্রতিবাদ।
এই ঠাকুরটি পরশমণি 
সাম্যের জয়গান, 
সন্ত্রাস ঘিরে যে বিহ্বলতা 
নিজেরই অপমান।

ক্লিক করে শুনে নিন 👇
লেখকের পাঠক সত্তা

Post a Comment

0 Comments