Posts

Showing posts with the label কবিতা

রম্য কবিতা, পর্ব - ১৫ /তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
রম্য কবিতা, পর্ব - ১৫ তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় (১) মাতালের ভারকেন্দ্র পদার্থবিদ্যার শিক্ষক মহাশয়, যেতে যেতে প্রাক্তন ছাত্রের দেখা পান, ছাত্র কি দুর্বল? দেহ তার টলমল! ঠাহর করতে তাকে আরও তার কাছে যান। মদের বোতল হাতে, মুখে দুর্গন্ধও, দৃষ্টিও মদিরেক্ষণ, কুণ্ঠিত সে, দিতে সে কৈফিয়ত - লজ্জিত, আড়ষ্ট শব্দয় যেতে চায় ঘটনার উৎসে। সবিনয়ে হাতজোড় করে বলে, “দুঃখিত! দেখা হবে এভাবে যে কোনোদিনই ভাবিনি, আগে জানলে তো মদ খেতামই না মহাশয়, শিবের দিব্যি আমি অতোখানি নাবিনি।” কি বিষাদসিন্ধুর সুরাহা খুঁজতে সুরাসক্তি হয়েছে তার জানালো সে বেসুরো, সদা সুরারঞ্জিত, শুঁড়িরা বন্ধু হতো কেনো - তা বোঝালো সাথে নিজেকে বেকসুরও। শিক্ষক মহাশয় বললেন, “মনে কিছু করবোনা, উত্তর দাও যদি আমারে, মনে আছে কিনা দেখি, যা যা আগে পড়িয়েছি, নাকি হারিয়েছো সবই জলে, খেতে-খামারে! দেখি কি রয়েছে ঘটে - তোমার সন্নিকটে এসে কেউ তোমায় কি শুনবে না শুঁকবে? নাভির কাছেই থাকা ‘ভারকেন্দ্র’ তোমারই, মদ্যপ হয়ে বলো আদৌ কি ঝুঁকবে? তিরিশ ডিগ্রি বাঁয়ে, ঝুঁকলে নেশার ঘা’য়ে, ‘ভারকেন্দ্র’ কতোটা, কোনদিকে সরবে? কতোটা পড়লে পেটে, দারুণ নেশার চোটে, দোলকের মতো সেটা ক্রম

তমাল লাহা ও এস. মহীউদ্দিন-এর কবিতা

Image
অসতর্ক কাচ তমাল লাহা তুমি নেই ; অতিষ্টবেষ্টিত এই দুর্গম আমি  অপেক্ষার লুব্ধকে শ্রেয়।  আর কোনো প্রয়োজনও নেই ; পথের বৈশাখ  কিছু লুকিয়ে রোহিত, আর কিছু ভদ্র-চাঁদ যাযাবর  প'ড়ে আছে ঘি-মাখা পাঁপড়ের মতো, আধখাওয়া  মোহিত বিস্মৃত ; এখন নদীর কাছে চাওয়া যায় স্নানপ্রবণতা,  আগুনের গা থেকে খুলে নিয়ে অগ্নিগহনায়  স্বসম্মত নিঃস্ব হওয়া যায় ; নিশ্চিত, প্রশ্নচিহ্ণে তবু সেই অহংকার, তোমার-আমার, তার কিছু  অসতর্কে, সময়ের মেরুদন্ড বিক্রি ক'রে বাঁচে। তুমি নেই ; তবু যেন বিঁধে আছো আজও  চিড় ধরা কাচে। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   নীলকণ্ঠ পাখি  এস. মহীউদ্দিন নীলকণ্ঠ পাখি তুমি। উড়ে বেড়াও ধূসর ডানাজড়ানো  ধুলো পাখির জীবনবিন্যাসে। উড়ে যাও- দূর আকাশের ছায়াপথে পরমাকে ভালোবেসে, আকণ্ঠ ডুবে আছো  নীল বিষণ্ণতা বিষে... আজো সমুদ্র ভাঙে ঢেউ, সোনালী ডানার চিল উড়ে যায় শূন্যতার বুকে । নোনা হাওয়ায় ভাসে চিক্‌চিক বালি,  কান্নার কাতরতা। গ্রামগঞ্জে ভেসে আসে রূপশালী  ধানের দিগন্ত

প্রতাপ সিংহ ও বিমান কুমার মৈত্র-র কবিতা

Image
স্টেশনে  প্রতাপ সিংহ  ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছি একটা স্টেশনে  চতুর্দিকে ঝড় তুলে একটার পর একটা ট্রেন  দিগন্ত পেরিয়ে যাচ্ছে  শ'য়ে শ'য়ে মানুষ নামছে  আমি কাউকে চিনি না, কেউ আমাকে চেনে না এক মুখের সঙ্গে অন্য মুখের কোনো মিল নেই।  মিল শুধু একটাই -- আলোছায়ার ভেতর দিয়ে  একটা অদৃশ্য আধোচেনা রাস্তা।   কোথাও যেতে হবে আমাদের   ছুটতে ছুটতে আরেকটা পৃথিবী   এক্ষুনি ছুঁয়ে ফেলতে হবে আমাদের! জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   বিমান কুমার মৈত্র সন্ধিক্ষণ এমন নম্র সন্ধ্যায় একটি জাহাজ  যেন ক্রমশ বিন্দুভূত দৃষ্টি  শূন্যতায় ঢলে পড়ে। তাকে খূঁজি শব্দের মতো। ওইখানে শ্বেত পত্র ছিল। সময় অসময়ে ওরাও বরফের কুচি হয়ে ঝরে গেছে কবে কৃষ্ণ-গোধূলি তীরে। বোধ হয় বাবুইয়ের চঞ্চুবিদ্ধ হয়ে  চলে গেছে বিলাসী মহলে। জোনাকির আকাঙ্ক্ষার  ওম পাবে বলে। কৃষ্ণ-গোধূলি তীরে বসে আছি  বাঙ্ময় স্তব্ধতার রূপ মুগ্ধ হয়ে। কবিতা সরিয়ে রাখি। এখানে কবিতা ভাবার কোন অবকাশ নেই।। জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে 👇 ২০২৩ জ্বল

রাতি /ভাস্করব্রত পতি

Image
বাংলা প্যারোডি কবিতা, পর্ব -- ৫ রাতি ভাস্করব্রত পতি গোধূলির রঙে রেঙে দিন শেষ হল। উনুনে ভাতের হাঁড়ি ফুটিতে বসিল।। মাতাল পাতাল ফুঁড়ে শুঁড়িখানা ছোটে। বউগন দ্যায় মন 'সিরিয়াল' পাঠে।। ফুটিল তারার দল, আলোক ছুটিল। তাসপেটা লোকজন আসিয়া জুটিল।। গোপনে আসিল চোর করিতে হরন। গয়নার পুঁটুলি আর অযাচিত ধন।। ঝিঁ ঝিঁ শুধু রব করে, বাকি সব স্থির। ঝিকমিক ঝিকমিক আলো জোনাকির।। ওঠো ওঠো ভাত খাও, যাও ঘুম দেশ। স্বপনের মায়াজালে রাত হবে শেষ।। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   প্রভাত মদনমোহন তর্কালঙ্কার  পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।। শীতল বাতাস বয় জুড়ায় শরীর। পাতায়-পাতায় পড়ে নিশির শিশির।। ফুটিল মালতী ফুল সৌরভ ছুটিল। পরিমল লোভে অলি আসিয়া জুটিল।। গগনে উঠিল রবি সোনার বরণ। আলোক পাইয়া লোক পুলকিত মন।। রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।। উঠ শিশু মুখ ধোও পর নিজ বেশ। আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।। জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে 👇 ২০২৩ জ্বলদর্চি তিরিশ প

পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ কাঞ্জিলাল-এর কবিতা

Image
পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশান্তর হারার কাছে জেতা যখন হারে। জীবন নামের নিকষ কারাগারে। তখন কবিতারা, নিমিত্তে দায়সারা, নিয়ম ভাঙে হেলায় বারে বারে। এ সত্যিটা যেদিন থেকে জানি। তোমার মতো আমিও এটা মানি। বিপন্নতার দেশে, অনটনের শেষে, হেরো'ও বাঁচে সরিয়ে মনের গ্লানি। এও তো এক বাঁচার পরিসর। ঘরের ভিতর আর একখানা ঘর। বিষণ্নতায় ভাবো? তবুও বলে যাব, আসলে দেশ দেশেই দেশান্তর। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   প্রতিদান  সন্দীপ কাঞ্জিলাল  আমার নাতি বালির ভাত রান্না করছে  ধুলোর ডাল নকল উনুনে বসিয়েছে  কানি খোলার ঝোল বানিয়ে  কলাপাতায় সাজিয়েছে সবকিছু।  আমার আর কিছু দেওয়ার নেই ভেবে  কেউ কিছুই আর আমাকে দিচ্ছে না। সবাই যখন আমার প্রহর গুনতে ব্যস্ত তখন আমার নাতি,  সপেদা গাছের তলায় আমার হারানো শৈশব  আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।  জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে 👇 ২০২৩ জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে। শুভেচ্ছা জানালেন স্বনামধন্য লেখক শিল্পী ক্রীড়াবিদ।

গুচ্ছ কবিতা-২/গুরুপদ মুখোপাধ্যায়

Image
গুচ্ছ কবিতা-২ গুরুপদ মুখোপাধ্যায়  অমলতাস জীবন -মৃত্যুর হাইফেন বসানো বারান্দায় বসে  চায়ে চুমুক দিচ্ছি বেশ, বোহেমিয়ান স্তবগান  শিকড় ছুঁয়ে নেমে আসছে আরো গভীরে  ঝুরিগুলি দোল খায়, তমসায় ঢাকা নিরন্নরাতে। রোদ ছুটি নিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে আকাশগঙ্গা শুক-সারির আখড়ায় মহুলের ঢল ছুঁয়ে বনসাই শরীর, সোনাঝুরি ক্লান্তি মাখে,  হারিয়ে যাওয়া পথের মার্গসংগীত।  স্তনের চরে শুয়ে শিশু কাঁদে,কাঁদে শালফুল সরে যাচ্ছে কথার সরণী,মুখ ঢাকছে শালুক  বৃন্তমুখ খুলে খুলে রাখে, ছুঁয়ে দয়িতা শরীর  নেমে আসে লাঙলের ডাক,অলকানন্দা।  শুক সঙ্কেত খোঁজে, সুখের সন্ধানী ছায়াপথ সরে সরে যায়, রামধনুদ্বারে বসে থাকে ধূমকেতু, শূন্য গহ্বর  অমলতাস তুমি কি গেছো পাতাঝরা চন্দনের বনে। ভূগোল  কবি ভূগোলে বসে আছেন আসলে কবি একটা আস্ত ভূগোল  গ্লোবের ডানাগুলি খুলে খুলে শুক, পেড়ে নেয়, পড়ে নেয় সমুদ্রমুখ। ভূমধ্যে কোটি কোটি মানুষের স্বর,  ভূগোল স্বর,বাঁধা গ্লোবাল ঢেউয়ে  ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাড়ে তুলসীতলার সুখ,  কন্ঠ ভাঙতে ভাঙতে জোট, মেহনতী মুখ। কবি মেহনতী নন,দোসর তাদের, তাই........  ভূগোল ঘুরতে ঘুরতে অক্ষর অসুখ,   ছুঁয়ে থাকে উপবাস, নির্জন ঝিঁ ঝিঁ শ্বাস  ঝিনু

যে কথা রেখে এসেছে বালক - জন্মান্তর/শুভদীপ মাইতি

Image
যে কথা রেখে এসেছে বালক - জন্মান্তর শুভদীপ মাইতি ১. যে কথা রেখে এসেছে বালক, পূর্ব জন্মে তার সমস্ত উঠোন জুড়ে লবনাক্ত ঢেউ। সে ভালো নেই মজে যাওয়া জুনপুটের মতো। কি ভীষণ ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে ভেতরে ভেতর। ওপরে যিনি নিদান লিখে রেখেছেন সেই মহামান্য জানেন, ঝাপসা চোখে বান্দ্রা স্টেশনের দিকে মাথা নিচু করে ফিরে আসা এক জাতিস্মর; শুধুমাত্র প্রিয় মানুষের জন্য কিভাবে প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে, পুড়ে পুড়ে যাচ্ছে; কি ভীষণ অনুভব, কি ভীষণ শূন্যতা ঘিরে ধরছে, সে ততো বেশি আঁকড়ে ধরছে প্রিয় মানুষের স্মৃতি। প্রিয় মানে― সবচাইতে আপন, যে প্রশ্বাসে থাকে ছুঁয়ে। প্রিয় মানে বুকের ভেতর জারন, চোখে হারানো, তার ভাবনাতেই ডুবে থাকা। প্রিয় মানে সেই― যার জন্য অপেক্ষা করা যায় হাজার হাজার বছর। যে কথা রেখে এসেছে জাতিস্মর, পূর্ব জন্মে– সে জানে, একদিন ঠিক মনে পড়বে। ফিরে আসবে প্রিয়। ২. জাতিস্মর এক অভিশাপ। চোখের জলে বাড়তে থাকা একটি লবন হ্রদ। শাপমোচন কিভাবে হয় জানা নেই বলেই, কি ভীষণ শূন্যতায় একা; বুকের ভেতর মোচড় মারে খাঁ খাঁ ময়াল হাইওয়ে। প্রিয় মানুষটি প্রতিটি খাঁজে রেখে যাচ্ছে মিথ্যে, চকমকি পাথর তারপর মুহুর্মুহু বিচ্ছুরণ, আগুন। এত

কবিতাগুচ্ছ /স্বপন কুমার দে

Image
কবিতাগুচ্ছ স্বপন কুমার দে বর্ষণসিক্ত এসো না, বৃষ্টিতে ভিজি কিছুক্ষণ, রোদেরা বরং জিরিয়ে নিক গাছতলায়, পাখিরা ফিরুক নিজের বাসায়, আমরা তখন দাঁড়াই বেশ মেঘছায়ায়। দেখো,কেমন ছাদহীন খোলা আকাশ দিনের আলো ছুটি নিয়েছে কিছুটা সময়। আমরা বরং মাখি না মেঘের আদর, ঢালি না মনের বেগ,বেশ রসময়। যাক্ না মনের খেদ,উড়ে যাক্ দূরে এসো এই অশান্ত উদ্বেল নেশায়, শূন্যতা ঘোচাও প্রাপ্তির আগুনে, না পাওয়ার বেদনাটা বাঁধা থাক খাঁচায়।   অধরা তুমি তো ছুঁয়েছো সাত রং, তুমি তো মেখেছো কত সোনালি আদর, রজনীগন্ধার ঘ্রাণ, আরও কত কিছু। অফুরান ঐশ্বর্যের ভার খুলেছে ভোগের গুহাদ্বার। তাও কি পেয়েছো সুখ? পরিতৃপ্ত হাসিমুখ? তবে কেন এই অভিনয়? ভালো নয়,ভালো নয়।ভালো থাকা নয়। তবুও ভালো। সে যে ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয়। আমি তো দেখেছি অনেক খাদ, দেখেছি অনেক বাধা, কষ্ট; জীবনের সুখ শান্তি হয়েছে বরবাদ। তবুও প্রত্যহ বাঁচি সুখের আশায়। যে স্বপ্ন তোমায় নিয়ে, ছিল ভোরবেলা; তার থেকে অনেকটা সরে এসে জীবনের স্রোতে ভাসিয়েছি ভেলা। এখন মাটিতে চরণ রাখি, এখন হিসাব মেলাই চেয়ে চেয়ে, এখনো ভোরের কুয়াশা গায়ে মাখি। এখনও বাঁচার আশায় বাঁচি

গুচ্ছ কবিতা ২ /অমিতাভ সরকার

Image
গুচ্ছ কবিতা ২ অমিতাভ সরকার  অভিযোজন আজ ভিন্নতাটা একটু অন্য রকম। আসা-যাওয়ার জ্যাকেট পেট্রাপোলে ভাবনার কাঁটাতারে আবদ্ধ ভ্রামক জীবন, যেখানে পারাপার মানেই মনের ভালো লাগার ঋণশোষের ক্ষোভ জমা পেটে দুঃখের আয়কর পকেট কাটা।  অতৃপ্তির প্রাপ্তি ক্ষুধায় সীমান্ত আজও একলার কষ্ট নিয়ে রোজকারমতো ধুঁকছে। নেশার বে গুণ দেখানদারির ঘোরে প্রতিদিন কয়েক কোটি প্রণাম বিক্রি হয়।  এর মধ্যে প্রতারকের দোর্দণ্ড প্রতাপও অনেকখানি ক্ষমতাশালী। মানবতার স্কুটি চড়ে স্বার্থ রাজনীতি শিখে যাচ্ছে। বিয়োগান্তক প্রেমের শীর্ণ বয়সভারে এই মকর সংক্রান্তির দিনেও শীতের সংক্রমণ ঠিক মতো জমল না। যাপনা বাড়ি ফেরার পথে...  জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   প্রান্তিকের ছবি টানে  সারাদিন বেশ ঘোরাঘুরি করে কাটল।  বেরোনোটা খুবই দরকার ছিল যে। আপনাদের সবার সাথে একসঙ্গে ফিরতে বেশ ভালোই লাগছে। ঠাণ্ডাটা আজ খুব একটা পড়েনি। পথে দেরি হলেও মনটা দারুণ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। জানুয়ারির ভিড়টাও অনুভূতির হিমেল শরীরে কিন্তু খুব একটা খারাপ লাগছে

গুচ্ছ কবিতা/ শ্রাবণী গুপ্ত

Image
গুচ্ছ কবিতা  শ্রাবণী গুপ্ত  ঈশ্বর তোমাকে ঈশ্বর আর নিজেকে ধূপ ভেবে পুড়িয়ে যাচ্ছি আমি ধুলো গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে ধুলো ছড়িয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে  তাবৎ সংযম জানে পুড়ে যাওয়াও আসলে এক মোহ ঈশ্বর কি আদৌ ধূপের গন্ধ ভালোবাসেন! ২. তোমাকে ঈশ্বর নয় প্রতিমা ভেবেছি আমি মুঠোয় জ্বলন্ত ধুপকাঠি নিয়ে শান্ত আমি লুকিয়ে পড়েছি  আঁশগন্ধ আঁচলের ছায়ায় ধুপের অনুধ্যানে নয় মায়ের হাতমোছা কাপড়ের গন্ধেই আমার ঈশ্বর খুঁজে পেয়েছি তাবৎকাল।  ৩. ধোঁয়া কখনও ধ্যানস্থ করে না বরং একটু একটু করে প্রতিটি রন্ধ্রে প্রোথিত করে ঈশ্বরের নশ্বর রূপ প্রতিদিন ধুপ জ্বালেন মা প্রতিদিন গুল গুগ্গুল... রান্নাচালায় আগুনের রঙে  মা প্রতিদিন ঈশ্বর হয়ে ওঠেন উনুনের ধোঁয়া আর ভাতের গন্ধে। হাঁড়ির খবর ঈশ্বরের উঠোনে তাদের খোলামেলা সংসার ঈশ্বর খাওয়া শেষ করে নিদ্রায় গেলে তারা খেতে বসে মা ভাতের বদলে এগিয়ে দেন পরমান্ন কালো হাঁড়ির অন্ধকার থেকে চাঁদ উঠে আসে আর প্রতিদিন একটু একটু করে আকাশ হয়ে ওঠেন মা। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...  

কয়েকটি রম্য কবিতা - ৯ / শুভশ্রী রায়

Image
কয়েকটি রম্য কবিতা - ৯  শুভশ্রী রায় অশরীরীর রাত রাত গভীর, গা ছমছম ঘন আঁধার অসময়ে বাইরে কারা থাকে আর? থাকে হয়তো, ভূত-প্রেত অশরীরী কে বা রাখছে সে জগতের খবরই! রাত যত গভীর হয় ঘোর অনিশ্চিত দেহজীবনে টান প্রেতের হয় কিঞ্চিৎ বেঁচে থাকার ও পার থেকে, রজনীতে সে চায় ঝলক জীবন দেখে নিতে; আহা, এসেছে প্রেত কত আশা করে দেখতে দাও ওকে জীবন চোখ ভরে! সংবৃত রাত তোমাকে ঘিরে একটু বেশী জমাট হলে পেও না ভয় রাত্রির মনের কথা না জেনেই, হয়তো বা, জীবিতদের সংসার দেখে নিতে ওই পার থেকে আলাপী কেউ এসেছে চলে। রাতেও দেহ ধারণ সোজা নয় তবে টান বাড়ে প্রেতযোনি সংসার দেখতে চায় কাছে এসে, তাকেও বহন করতে হয় কত কত অতৃপ্তি জীবনের গৃহবাস দেখে স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে। প্রেত আসুক আরো কাছে রাত বেড়ে গেলে ভয় পেয়ে তুমি তাকে দিও না স্বস্তির অভাব, কী ক্ষতি, সেও যদি বেঁচে থাকা দেখতে চায়? যে জীবনে সে ছিল, বাধ্য হয়ে গেছে ফেলে! জেনে রাখো, থাকবে না সে বেশীক্ষণ মোটে খুব কম সময়ের জন্য ইহজগতে ঢুকতে পায়, পেও না ভয়, অতৃপ্ত কোনো প্রেত কাছে এলে ভয় দেখাতে না, আকর্ষণ থেকে এসে জোটে। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ

এক সারি কবিতা /সোমদত্তা

Image
এক সারি কবিতা  সোমদত্তা  ফাঁকি মনে হয় বেশ ভালো ই আছিস  রাতের তারায় আমায় খুঁজিস? দিনের বেলা ট্রেনে  বাসে  পুরোনো শব্দেরা ভিড় করে আসে  স্কুলের  ক্লাসে  কিম্বা  অফিস পাড়ায়   আমায় কি আর  মনে পরায়?  নদীর ঘাটে যখন তুই  মনে হয় না কাউকে ছুঁই?  আমি আছি,  যদি নাই বা থাকি   কোথাও কি নেই এতটুকু ফাঁকি? হয়তো আমি ভালো নেই, একছুটে যাই ছাদে...  কান্না পেলেই।। দিন বদল  নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা  ঢেউয়ের তালে নাচছে  পুরানো নৌকা, পুরানো রঙ এক ই ছবি আঁকছে।  চল না নৌকা মাঝ দরিয়ায়  এগিয়ে নিয়ে যাই  সেই খানেতে নতুন প্রাণের  নতুন কথা পাই।।  এলোমেলো ভাসতে  ভাসতে  এগিয়ে পিছিয়ে থাকি,  আমার জন্য নতুন কি দিন...  সেই ছবি টাই আঁকি।। ফেরা   আকাশ ভরা তারা   আমি একটা তারা খুঁজে ই সারা  একটা ই তো চাঁদ,  তোর আর আমার আলাদা ছাদ  তোর ছাদেতে আলো,  আমার শুধু ই  অন্ধকার,  আমার সেটা ই বোধহয়  ভালো ।  আমার চারপাশে তে  তারা  আমি  একা একাই  থাকি ,  তুই অনেক তারার মত ,  কেবল মাত্র ফাঁকি।  এই ফাঁকি টাই সেরা,  আমার আবার অন্ধকারে ফেরা।। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.co

গুচ্ছ কবিতা /বিজন সাহা

Image
গুচ্ছ কবিতা  বিজন সাহা  ধুসর আকাশ  গলির মোড়ে যেখানে অন্ধকার হারিয়ে গেছে আলোয় অথবা ঘটেছে ঠিক উল্টোটা একটা হাসি দাঁড়িয়েছিল। মুক্তো ঝরা কিন্তু নিঃশব্দ। একটু উপরে দুটো চোখ হাস্যোজ্জ্বল। কিছু বোঝার আগেই সব আকাশে মিলিয়ে গেল - সেই ঠোঁট, সেই দুটো চোখ সেই হাসি। এখন সেখানে শুধুই ধূসর আকাশ। কাজান, ২১ নভেম্বর ২০২২ দৃষ্টিভঙ্গি   আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর করে দেখার দৃষ্টিকোণের উপর রাস্তায় হাঁটার সময় দালানগুলো মনে হয় দৈত্যের মত এই বুঝি হাত বাড়িয়ে মটকে দেবে ঘাড় তারপর সোজা পেটে চালান করে দেবে। উঁচু দালানে দাঁড়িয়ে নীচের দিকে চাইলে  নীচের দালানগুলো মনে হয় শিশুর মত অথবা রঙ বেরঙের ঢেউ লাল, কমলা, হলদে শহর নয়  যেন বিশাল সমুদ্র।  কাজান, ২২ নভেম্বর ২০২২  তারার হাসি রাতের তাপমাত্রা এখানে ছাব্বিশ ডিগ্রি - হিমাঙ্কের নীচে। বরফের কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে ভোলগা। যদি না বাতাস শিস দিয়ে গান গাইতো পথিক শুনতে পেত ভোলগার নাক ডাকার শব্দ। রাস্তা জুড়ে শুয়ে আছে বরফ কণা ঠিক যেন গৃহহীন মানুষের দল একে অন্যের গায়ে গা লাগিয়ে যেন শীত থেকে বাঁচতে চাইছে ওদের শরীর মাড়িয়ে মানুষের হেঁটে যাওয়ার কচ কচ