Posts

Showing posts with the label কবিতা

এক গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
এক গুচ্ছ কবিতা শুভশ্রী রায় সর্বনাশী কোনটা বেশি এই জীবনে, পাপ অথবা পুণ্য? আমি বলি, সবার আগে বিচার পাবেই শূন্য! পাপের সাথে পুণ্য মিশেই গাঁথা মানব জীবন কখনো শুদ্ধ ফের অপবিত্র দিকেও ঝোঁকে মন। সবাই যাকে ভালো বলে সে খাপের মধ্যে আঁটা অদৃশ্য এক খাঁচার ভেতর জন্মকর্ম এবং হাঁটা বিশেষ করে মেয়ে মানুষ হয়ে জন্ম যদি নাও, গোণার বাইরে চলাফেরায় কত বাধাই পাও! যারা যুগে যুগে ঠিক করে সংজ্ঞা ভালো মেয়ের তারাও কী ত্রূটিবিহীন, তাদের বিচার করে কে? তাইতো আদর্শ এক নারী হয়ে বাঁচতে রাজী নই জীবন নিজেই গড়ে নেব, মন্দ বলে গণ্যও বা হই, কলম থেকে ঝরুক আগুন মুখের থেকে হাসি পুরুষবাদী সমাজ হেঁকে বলুক "সর্বনাশী"।   প্রাণপূর্ণা আমার জীবনকে কেউ নরক বানাবে, এত সহজ ভেব না ভেতরের সমস্ত সবুজ কিছুতেই মরূর জঠরে দেব না নরকে যদি বা পৌঁছতে হয় কখনো কারো কূট-জালে পড়ে অসহনীয় উষ্ণতাকে নিজের মায়ায় নেব শীতল করে। প্রাসাদ এক সময়ে ছিল গমগমে প্রাসাদ এখন কয়েকটা ইঁটের হাহাকার, নিয়মিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায় হাওয়া, "ঢুকব, কী ঢুকব না" করেও এসে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রশ্মির হাসি, এখানে ওখানে পড়ে থাকে সুরার বোতল; উৎসবের আগে পরে কন্ড

বন্ধ্যাকাল /পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
বন্ধ্যাকাল পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় আজকাল যা লিখি তা সব কেটে দিই। এখন যা মনে হয়, ঠিক। পরক্ষণেই দেখি ভুল। মন সে দুবিধা নিয়ে  অবিরল ভেবেই আকুল। আমিও মনের সাথে  দুখবাহী হতে হতে তার কিছু ভাগ করে নিই। যা লিখি তা সব কেটে দিই। কাটা কবিতারা বাঁচে ফের। ফিনিক্স পাখির মতো বলে, এভাবে কখনও কেউ মরে? তুসের জ্বলন সয়ে- হৃদয়ের আঁধার জঠরে? তারা শ্বাস নেয় অবিরত। কেটে দিস তাকে যদি, স্বীকার না করলেও- মেরে ফেলা সহজ কি অত? তার কথা শুনে কেঁপে কেঁপে, লজ্জার নরম হৃদয়। চুপি চুপি কবি-কানে বলে, না কেটে পুড়িয়ে দিতে হয়,  অতীতের জ্বালা। নইলে আবার ঠিক  চেপে বসে হয়ে ফুলমালা- গলার উপরে। কবিতার মন্বন্তরে। ....ঠিক এর পর থেকে পাল্টেছি সব রীতিনীতি। বাঁচতে তাদের থেকে সব ভয়ভীতি- পুড়িয়েছি আগুনের তেজে। সাম্রাজ্যবাদীর ভক্তের সহকারী সেজে। করেছি কি  ভুল? উত্তর দিও জ্ঞানীগুণী। জবাবী ভরসা পেতে হয়ে আছি নিথর আকুল।   পেজে লাইক দিন 👇

তিনটি কবিতা /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
তিনটি কবিতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় মন ও হৃদয় মন ও হৃদয় এক নয় জেনো মিত্র , নানান সময়ে  মন নানা রূপে আসে, মন তটিনীতে কতো না চিন্তা ভাসে, একক হৃদয়  মহান চির পবিত্র ।।  চঞ্চল মন নানা পথ ধরে চলে , সামনে,পিছনে, উঁচুতে, নিচুতে গতি, চলমান  মন বোঝে না - কি তার মতি, স্থির এ হৃদয় থাকে না কো দোলাচলে। মন ও হৃদয়ে বিস্তর ব্যবধান , না ভেবেই মন বুঝে নেয় কতো কথা, কখনও ক্লান্তি কখনও অজানা ব্যথা, মনটাকে ভাঙে করে তাকেখান খান । মন গড়ে নেয় নানান পরিস্থিতি, কখনও দুঃখ কখনও রঙিন চিত্র , ভিড় করে মনে  আজব কতো চরিত্র, কখনও ঈর্ষা কখনও আনে  তা প্রীতি । হৃদয় কখনও দেখেনা কু পরিবেশ , সব কিছুকেই ভালো মনে করে ভাবে, কারণ জানে সে,  ভালো যে  ভালোই  পাবে, হৃদয়ের  নাই ঘৃণা ও অসুয়া লেশ । স্বার্থ পূরণে মনের চাহিদা মেটে  পরের জন্য ভাবনা তো তার নাই আরামের তরে ভোগের পিছনে ছোটে, সুখ ও আয়েশ  সকল সময়ে চায় । হৃদয় সদাই বাহুল্য বর্জিত - কখনও ঘোরে না সুখের অন্বেষণে , সংযত থাকে আপন নিয়ন্ত্রণে , সুখের জন্য হয়  না সে লালায়িত । মন দুরন্ত  ভাবে চাওয়াটাই আগে, উদ্দাম গতি ছুটে চলা এক তরী  সময়টা মেপে চলে নাতো তার ঘড়ি, প্রক্ষোভ নিয়ে স

গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
গুচ্ছ কবিতা শুভশ্রী রায় অগ্নিমন্ত্র অন্যায়স্বস্তিক দেখে ভয় পেয়ে চুপ করে আছি, এমন ভেবো না, ভেতরের আগুনকে কখনো বলিনি "এবারে নেভো না!" আগুন রেখেছি বাঁচিয়ে, মতবাজারে তাকে পণ্য বানাই না, তবে পবিত্র আগ্নেয় শপথ; প্রতিটি রক্তবণিককে পোড়াব একে একে। অরাজনৈতিক "রাজনৈতিক কবিতা চলবে না," সম্পাদক স্পষ্ট বলে দিলেন। কিন্তু আমি তো ও বিষয়ে কোনো কিছু লিখিনি, খালি বলেছিলাম, রাজধানী রাক্ষসের কবলে পড়েছে; অমনি গর্জন করে বলা হল, "ফাঁসাবেন না!" জানতাম না, বুঝতাম না, তলিয়ে ভাবিনি যে রাক্ষসের গল্প মানেই মানুষের গন্ধ পাওয়া কোনো হিংস্র জীবের গল্প। রাক্ষস রাজধানী অবধি পৌঁছে গেছে মানেই রাজনীতি, অতএব! আবহ বাতাস কী শুধুমাত্র বিদ্বেষে আমোদিত হয় আজকাল! চ্যানেলে চ্যানেলে হিংসার উদগীরণ.. ভূমির প্রতি বর্গে নাশকতার তুমুল চাষ, নদীর স্রোতে কারুর কারুর রক্ত মেশা তবু সে নাকি অধিকতর পুণ্যতোয়া! অন্যদের রক্তরস দিয়ে নিজেদের ঘরদোর মুছবেই! জেদ ধরে বসে আছে কিছু লোক, পক্ষে তাদের গদী; তারই মধ্যে  তামাসা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া সংখ্যা ধরতে আসে পাঁচ বছরে একবার। গণতন্ত্র কার এত সহজ আহার?  আরে সে একা ন

রম্য কবিতা, পর্ব-১০/তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
রম্য কবিতা, পর্ব-১০ তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় (১) মেঘাপসারক ঝাঁটা উঁচু পাহাড়ের গায়ে থাকা এক ছোটো গ্রাম প্রতিবাত ঢালে কিছু বেঁচে থাকা সংগ্রাম। বাষ্পরা উড়ে এসে বাধা পায় প্রায়শই, ওপরে উঠতে থাকে বেয়ে পাহাড়ের মই। যত ওঠে বায়ু নিয়ে বিজয়ের ঝাণ্ডা, রুদ্ধতাপ ক্রিয়ায় হয় আরও ঠাণ্ডা। ঘনীভূত হয়ে শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টি- হয় যা মুষলধারে, লাগেনাতো মিষ্টি। অনুবাত ঢালে গিয়ে বায়ু হয় শুষ্ক, জনগণ সেথা তাইতো উসকো-খুসকো। কতো জ্ঞান দেয় লোকে, বাতলায় বুদ্ধি, বারবার ভেবে ভেবে হয় ভ্রমশুদ্ধি! বসতি না সরিয়েও নিয়ে আসে মুক্তি - স্যাঁতস্যাঁতে, একঘেয়ে জীবনে - প্রযুক্তি। লোহার এক সুদীর্ঘ দণ্ডয় অতিকায়, জল-বিশোষক মোড়া তক্তাকে আটকায়। সৌরচালিত পাখা সাঁটা হয় তারপর, এ বিশাল ঝাঁটা রয় বড় ক্রেনের ওপর। বৃষ্টি না চাইলেই গতিপথ ঘুরিয়ে, ধাওয়া করে, হাওয়া করে মেঘেদের উড়িয়ে; সে গ্রাম এখন আছে প্রাণের আনন্দে, মেঘাপসারক ঝাঁটা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে। (২) ষাঁড় ও ম্যানিকিন পোশাক প্রদর্শক পুতুলকে দেখতেই, ষাঁড়ে কয়, “তোকে আমি খুঁজছি কাল থেকেই, জানতিস্‌ -রাত্তিরে অন্য গোয়ালে শুই, সে সুযোগে প্রেমিকাকে চুরি করেছিস তুই। আজ তোকে পেয়ে প্রতিশোধ নিতে পারবো,

উর্বশীর অভিশাপ /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
উর্বশীর অভিশাপ বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (অস্ত্র শিক্ষা গ্রহন এবং স্বর্গরাজ্যের ভয়ঙ্কর অস্ত্র শস্ত্র সংগ্রহের জন্য তৃতীয় প্যান্ডব অর্জুন অমরাবতীতে এসে ছিলেন। সেখানে সুপুরুষ ধনঞ্জয়ের রূপ দর্শনে অনন্ত যৌবনা স্বর্গের বারবধূ রূপসী উর্বশী তাঁর প্রতি আকৃষ্টা হন।কামাতুরা উর্বশী অর্জুনের আসঙ্গ লিপ্সায় তাঁর কাছে আসেন এবং তাঁর সঙ্গ কামনা করেন।অর্জুন যখন জানতে পারলেন উর্বশী তাঁর প্রপিতামহেরও প্রপিতামহী তখন তিনি উর্বশীকে প্রত্যাখ্যান করেন। কুপিতা উর্বশী তখন তাঁকে ক্লীবত্বের অভিশাপ দেন) অর্জুন:  পাণ্ডু পুত্র অর্জুন আমি গাণ্ডিবী গুড়াকেশ, অমর্ত্যলোকে এসেছি এখন ধরেছি ছদ্মবেশ। অস্ত্র শিক্ষা ,সমর বিদ্যা এখানে শিখবো আমি, স্বর্গ আয়ুধে সজ্জিত হয়ে হবো মর্ত্যের স্বামী।। দিনটা কেটেছে শিক্ষণে আর শস্ত্র অভ্যসনে, হয়েছি এখন সুপ্তি মগ্ন,অবসাদ প্রশমনে, কেগো রূপবতী,সুরূপা শ্রীমতি দাঁড়ালে সুমুখে এসে আছি সুষুপ্ত,চেতনা লুপ্ত, অবিন্যস্ত বেশে।। তুমি তো শ্রীময়ী,লাবণ্যময়ী, চিত্ত হারিণী বামা রূপগর্বিনী,উত্তম ধনি, যৌবনবতী রামা, বলো সুবদনী, প্রয়োজন শুনি,অসুর এসেছে হেথা? খুঁজি শরাসন, অসি প্রহরণ, সত্ত্বর যাই সেথা ।। উ

কয়েকটি রম্য কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
কয়েকটি রম্য কবিতা শুভশ্রী রায় রাত-জাদু কত কী যে ব্যাপার মজার ঘটে রাতবিরেতে সামনেই স্পষ্ট হয়ে খেলা করে ভূতপেরেতে! মোটা মতো বেড়ালটা সেই বড্ড চেনা জানত কে তারও এমন জাদু জানা! নিজের শরীরটাকে দশ ফুট শূন্যে ভাসায় দেখে বিস্ময়ে তো আমার শ্বাস আটকে যায়! মেঘের হাত ছাড়িয়ে চাঁদ সুখের মুখ বাড়ায় কিরণ দিয়ে খানিক খানিক আঁধার তাড়ায়। বেড়ালের ভেতর থেকে বার হয় দশটা আরো এ সব দেখেও তুমি না লিখে থাকত পারো? ছিঁচকে চোর পালাচ্ছে কী চুরি করে নিয়েছে কার যেন মন ঝোলায় ভরে! এক সময়ে রাত্রি-জাদুর ঘনঘটা সীমা ছাড়ায় সে সব অনুভবেই থাকে, কলমে এলেই হারায়। রাতবিরেতে কত কী যে জাদুঠাসা ব্যাপার ঘটে, বলতে পারি দিব্যি করে, ঘটনার কমই রটে! কিপ্টের সেরা   লোক তো খারাপ নন তবে বাড়াবাড়ি কিপ্টে টাকা বাঁচানোর উপায় তাঁর কাছে হয় শিখতে ছ' মাসে এক বার আনেন তিনশো কাটাপোনা সর্বদা চিন্তিত মুখে বসে টাকাকেই হয় গোনা। বছরে একটি দিন চিনি দিয়ে খান চা সেটুকুর জন্যও আপসোস কত না! অতিথি পড়লে ঢুকে দেন না তো জল পাছে সাথে দিতে হয় মিষ্টি বা ফল! লাখ লাখ টাকা আছে তবু পোষাকটি ছিন্ন সব্জিটব্জি কেনেন কই রোজ দু'টি আলু ভিন্ন? এই পন্থায় বানালেন বা

একটি বোকা মেয়ের আত্মকথা /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
একটি দীর্ঘ কবিতা একটি বোকা মেয়ের আত্মকথা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় আমি তো ছিলাম/মা ও বাবার/একটি মাত্র/মেয়ে, মানুষ হয়েছি/সাগর সমান/স্নেহ ভালোবাসা/পেয়ে। খাগড়া শহরে/থাকতাম আমি/মুর্শিদাবাদ/জেলা মফস্বলের/ছোটো এ শহর/সকলেই করে /হেলা।। আদরিণী মেয়ে বড়ো তো হলাম ভর্তি হলাম স্কুলে, কিশোরী বয়সে যৌবন এলো আমার দেহের কুলে। সকলে বলতো আমি নাকি এক অতি সুন্দরী পরি, যারাই দেখতো তারাই বলতো"এরূপ দেখেই মরি"।। শ্রীমণ্ডিতা,সুডৌল তনু বেরোতাম বাড়ি হতে, দুই চোখ ভরে সকলে দেখতো- সুদেহিনী দেহ স্রোতে, আমার তখন কুতুহলে বেশি বুদ্ধি অনেক কম, বুঝি নি এ কুঁড়ি ফুল্ল হয়েছে সুন্দর অনুপম ।।                        এ  র    প  রে আমি তো ছিলাম অতি বোকা মেয়ে, আমার কাহিনী শুনবে কি ? ভাবছো হয়তো রোজকার কথা, 'এ কথা আবার শুনবো কি ?' নাও যদি শোনো তবুও বলবো, বেশি সময় আর নাই হাতে, আমার কাহিনী শুনে যদি কারো, চেতনাটা আসে সে কথাতে ।। সতেরো বছর বয়স আমার, বুদ্ধিতে মন পাকে নি তো , আকুল প্রেমের ডাকে সাড়া দিয়ে, ভাবিনি ঘটবে এমন তো ।। প্রেমিক আমার অতি পরিচিত, আমারই  সে সহপাঠী ছিলো, প্রেম পিয়াসায় আকুল হয়ে সে যে  আমাকে ভিক

গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
গুচ্ছ কবিতা শুভশ্রী রায় ভাঙাচোরা জীবন খুচরো যাপন করি, ভাঙাচোরা অসম্পূর্ণ বসতিতে কোনো মতে চব্বিশটা বেওকুফ ঘন্টা এঁটে যায়। সমস্ত অসোয়াস্তি জড়ো হয়, ফের ছড়িয়ে পড়ে সারা দিন ধরে অভাব আর ক্ষিদে আমাকে খায়। তার মধ্যেই বেঁচে থাকা, তার মধ্যেই নিয়তিকে ঘাঁটা কবিতার শরীরকে কলম ধীরে ধীরে গড়ে তোলে। মায়া বড়, যদিও দু' চারটে পংক্তিই সম্বল এ জীবনে তবু তফাত হয়ে যায় তাদের সঙ্গে দেখা না হলে। প্যাপিরাস ও ভিক্ষা বৃষ্টির কথা কী বলব আমি? সেই তো টানা নিজের কথা বলে যায়। রোদের কথাই বা বলি কী ভাবে সকাল হ'লেই তো সে নিজের জিভ দিয়ে পোড়াতে শুরু করে! আকাশের কথা? সে তো নিজেই ঝুঁকে আছে পৃথিবীর মুখের ওপর, কত কথা বলছে মুহূর্তে মুহূর্তে, মাটিকে দেখ, ভিতকথা হয়ে শান্তভাবে শুয়ে। আর আমি এই সব কথা ও বার্তার মধ্যে থেকে কিছু ভিক্ষা চাইছি, হাতের প্যাপিরাস বাড়িয়ে। নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা      যে লোভনীয় চৌরাস্তায় নাগরিকগণ সমস্ত ন্যায়নীতি ত্যাগ করেছেন সেইখান থেকে হারিয়ে গেছে, শেষ দেখার সময়ে স্মৃতি অনুযায়ী  পরণে ছিল আলোর জামা। প্রতি দিন ধর্ষিত হওয়া ও তারপরে মিডিয়ার সামনে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পাহাড়প্রমাণ যন্ত্রণা চোখেমু

চারটি কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
চারটি কবিতা শুভশ্রী রায় জাদু, আয় না!      আয়না কবিতা বলে না, না জানে জাদু নির্ভেজাল, কঠিন-কঠোর বাস্তব মানে কিন্তু আমরা অনেক, অনেক জাদু চাই! তাই জাদুআয়নার কথা আমাদের টানে। জাদুআয়না! আছে না কী সেরকম কিছু? মনে হয় নেই, না থাকুক, বানিয়েই নেব। জাদুকে বলব, আয় না, দর্পণে মিশে যা কাহিনী বানিয়ে মনকে সেরা উপহার দেব। আয়না বায়না  আকাশ আমার বন্ধু তবু সেই শত্রুতা করে যেন মাঝেমধ্যেই ভান্ডার থেকে এত জল ঢালে কেন? কেন সে থাকে না সর্বদা হেসে খুশী ঝকঝকে নীল মাঝেমাঝেই থমথমে কালো তার সুগভীর দিল। অপছন্দ রাগী আকাশ, চাই তাকে সেরা আয়না! প্রকৃতির কাছে এই টুকু করি স্বচ্ছ সহজ বায়না। গগন হোক নীল ঝকঝকে, কাচের থেকেও কাচ সাথে আহ্বান, "আমার সঙ্গে হাসিমুখে তুই বাঁচ।" শপথ         আয় মন শক্ত করে তোর হাত ধরি কাঁটা ভরা জঙ্গল কেটে সাফ করি মসৃণ ও সহজ পথ নাই মেলে যদি কিম্বা ফুঁসেও ওঠে আগুনের নদী তবুও তো থামবে না পা আমাদের জানি বিজয় হ'বে আগুন স্বাদের! আয় মরণের নামে নি' আজ শপথ সামনে শতেক আসুক কষ্ট-বিপদ মুখে হাসি নিয়ে চরমকে করব বরণ তাও জিতবে না কোনো প্রলোভন! চটাসপটাস    কেন আমার নামে এত বেশি মিথ্যে কথ

তিনটি কবিতা /অর্ণব মিত্র

Image
তিনটি কবিতা  অর্ণব মিত্র মনে পড়ে  মনে পড়ে মেঘলা দিনে  বহুরুপা পুকুরের ধারে  সেই প্রাইমারী স্কুল, বৃষ্টির দিনে  পুকুরের সবুজ জল  উপচে আসতো পাড়ে  আর  ঘুরে বেড়াত  মেঘের প্রতিবিম্ব  সারা দুপুর জুড়ে, মনে পড়ে  পুকুরের ধার দিয়ে ছায়া ঢাকা সেই নিবিড় স্কুলে যাওয়ার ঢালু পথ,  কখনো বর্ষার জলে  ভেসে যেত সেই পথ , মনে পড়ে সেই পথে   ছোটো ছোটো পায়ে  বর্ষার জল ডিঙ্গিয়ে  স্কুলে যাওয়া  ও ফেরা, মনে পড়ে স্কুলের টিফিনে সেই শালপাতায় জড়ানো কাঁচা শসা, গরম ঘুগনির গন্ধ,  মনে পড়ে কাঁচের জারে রঙ্গিন চকলেট আর মনে পড়ে  স্কুলের ছুটির পরে পাওয়া সেই নরম পাউরুটির গন্ধ, মনে পড়ে, বৃষ্টির দিনে-  ও মেঘলা সন্ধাবেলায়  স্কুল বাড়ির বন্ধ গেট, ও   স্কুলমাঠের নির্জনতা। মনে পড়ে স্কুলের মঞ্চে সমবেত গান,   নাটকের উল্লাস,  রাংতার মুকুট, ঝলমলে বস্ত্র, বকাসুর-বধ, সীতা-হরণ,     আর অনুষ্ঠানের শেষে পুকুরপাড় ধরে  বাড়ি ফিরে যাওয়ার কোলাহল, আর  মনে পড়ে গ্রামের স্কুলের সামনে  তিরিশ বছর আগে  সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যেবেলা একসাথে ছবি তোলার সময়   শেষ দেখা  মৌমিতা, শ্রাবন্তি,  ও  সরমা জানার মুখ।  ইঙ্গিত ক্লাবের গলি  মেঘলা দিনে  পেরিয়ে যাই  বৃষ

দস্তানা ও সিংহ/ভাষান্তর :বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
অনুবাদ কবিতা The Glove and the Lions দস্তানা ও সিংহ মূল রচনা :James Leigh হুন্ত ভাষান্তর : বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্রান্সিস রাজ,দরাজ মেজাজ ক্রীড়া ও প্রমোদ ভক্ত, যেখানেই যান,সাথে থাকে বহু সামন্ত অনুরক্ত,  একদিন হলো রাজনির্দেশে  বিচিত্র আয়োজন ওপরেতে সভা নিচেতে রইলো নিখুঁত ক্রীড়াঙ্গন । অভিজাত গণ আসন নিলেন স্ব স্ব প্রেমিকার সাথে, আমোদ আনন্দে মাতলেন সবে পানীয় পাত্র হাতে, নিচে ক্রীড়া ভূমি সেখানে অনেক হিংশ্র পশুরাজ, ক্ষুধার্ত তারা গর্জন করে সে আওয়াজ যেন বাজ। বালি ও মাটিতে আবৃত মাঠ সিংহরা ধাবমান , বালি ও মাটিতে ঢাকা পড়ে গেছে কেশর ও গুমফ খান, সিংহ শরীর আবৃত করেছে বালু আর ধূলি কণা, অভিজাত সব রাজ-সভাসদ দেখেন হয়ে একমনা। সভাসদ সহ ওপরে আছেন স্বয়ং রাজাধিরাজ, নিচেতে ঘুরছে ক্রুদ্ধ চিত্তে কয়েকটি পশুরাজ,, তাদের শক্ত চোয়ালে রয়েছে জিঘাংসা অনুরক্তি, তাদের থাবায় লুকানো নখরে আছে আসুরিক শক্তি। ক্ষুধার্ত সব সিংহেরা দেখো একে অন্যকে ধরে, কখনও আবার লাফায় উচ্চে প্রচন্ড ক্রোধ ভরে, লোহার গরাদে ঘেরা বলে তাই নিরাপদ'সিট' গুলি, অভিজাত গণ আমোদিত তাই সকল বিপদ ভুলি।  রাজা ফ্রান্সিস বলেন সবকে,"ওপরে

বেনামী পাঁচ /গৌতম বাড়ই

Image
বেনামী পাঁচ গৌতম বাড়ই কবিতা- ১  কবিতাকে তুমি কোনদিন কবিতা বলোনি,  বলেছিলে ধূর্ততা। আজন্মেয় এক শঠতা , কোথাও বারুদ তো কোথাও গোলাপের কাঁটা ! বাড়ির মগচালে চড়ুই আর বাস্তুসাপ  খুব গা ঘেঁষাঘেষি করে থাকে , তাদের রাম- রাধা- মহম্মদ কিছুই নেই  তবে শতাব্দীর বিস্ফারিত ভালোবাসা আছে  কবিতা-২ রাত্রির মরণের ভেতর কিছু অযান্ত্রিক কেলো কিছু হাত ধরবার কিছু ছেড়ে দিতে হয়  জানি চুপিচুপি ঝরে পড়ে হিম আর আলো এই অন্ধকার উদ্দীপ্ত কামনার  কে কার কবেকার নিজেকে বেসেছে ভালো? আবির করে দিতে হয় নেত্রগোলক শোনো মধুবনী সজ্জায় সাজাব অন্তরঙ্গ চরা আর চরাচর প্রস্ফূটিত জোছনার যৌবনে আদি আর অনন্ত কেমন মিলিয়ে যায়  পুকুরের শ্যাওলা খেয়ে ফেলে চুপিচুপি  এখন মরসুমী বকেরা কেমন  শুনেছি সমুদ্রের কাছে এক নোনাদেশ ছিল যার আঠারবিঘা বুক ভেঙ্গে উঠে আসে  পরাণসমুদ্রে এখনও বসতবাড়ি গড়া হলোনা গোটা পৃথিবীটাই শরণার্থী শিবির আর আদি বাসিন্দা কতিপয় কিছুজন কবিতা-৩  ছেড়ে যেতে চায় কেউ কেউ  তবুও কেমন যেন আটকে থাকে ক্ষতের মতন যেমন করে পুষছি আমি হাঁটুর কাছে অপছন্দের  জন্মগত পানসে তিল  আটকে থাকে এঁটুলি আর যখন-তখন  গন্ধপোকা সারাটা ঘর

চারটি কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
চারটি কবিতা  শুভশ্রী রায় মীনহীনের বিলাপ   মাছের বাজারে গিয়ে দাম শুনেই উল্টে যাই আমার প্রিয় মাছগুলোরই দাম বেশি, হায় হায়! কী যে করি পমফ্রেট প্রায় আটশো টাকা কিলো এ দিকে নির্মম ভাগ্য আমার চাকরি খেয়ে নিল! পাবদাও তো দামী, ঠিক ততটাই চিংড়ি একটু বড় মাছের বাজার ঢুকেই আমি ভয়েতে জড়োসড়ো! মাছ বিনা কী বাঙালি বাঁচে? কিনি একটু লোটে কপালে আজকাল এ সব সস্তা মাছই জোটে। তবে জুৎ করে রাঁধতে পারলে লোটে ভীষণ স্বাদু আমার হাতে মোটেই নেই ঠিক তত রাঁধন-জাদু। তবু মাখোমাখো লোটে দিয়েই এক থালা ভাত খাই এ ধরণের কম দামী ছাড়া এখন মৎস্য কোথায় পাই আমার আর্থিক হাল কেমন, বুঝি ঢুকে বাজার মীন সেখানেই টের পাওয়া যায় আমি কোন স্তরের দীন! টক মাহাত্ম্য   খাই কয়েতবেল মাখা আর প্রিয় তেঁতুলের চাটনি হাসিমুখে করি ভালোবেসে, মোটেই হয় না খাটনি খাই কাঁচা আম মাখা কত, টুকরো টুকরো আমড়া পরম আনন্দে কেঁপেকেঁপে ওঠে ব্রহ্মতালু ও চামড়া! চাখি কামরাঙা আর সময় আসলে জলপাইয়ের টক সারা দিন আমি তেঁতুল হজমির গুণ গাই বকবক। অনুভব করি পাতি লেবু, কাগজি বা গন্ধরাজের জাদু পাই টকটক অপূর্ব ঘ্রাণ আর পৃথিবীটা লাগে স্বাদু! খাই আমলকি তারিয়ে তারিয়ে, চালতা যতটা পারি

রম্য কবিতা, পর্ব-৯/তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
রম্য কবিতা, পর্ব-৯ তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়িচোরের ভয়ে ‘দিমিত্রি জেলেপভ্‌’ ভয় পাচ্ছেন খুব, যবে থেকে রাশিয়াতে সূর্য দিয়েছে ডুব। গ্রীষ্মঘুমে ছিলো যে চোরগুলো এতদিন, জেগে উঠে তারা নাকি আনিয়েছে দূরবীন। নাছদুয়ারে বিজলি বাতি নেই, স্তব্ধ, জানেন - চোরেরা চাপা, করেনাকো শব্দ। ‘চোরের হাঁড়ির কথা জানলেন কিকরে?’ তবে কি তিনিও!-থাক্‌ সেকথা হবে পরে। মান্ধাতা-আমলের সাধের এক গাড়ি তাঁর, হারানোর ভয় বাড়ে, বাড়লে অন্ধকার। গাড়িটিও মাথামোটা - অঘটনে থাকে চুপ, বাজায়না ভেঁপু দিলে দৃষ্টি কেউ লোলুপ। নিজে থেকে এখনো সে জ্বলতেও পারেনা, বেগতিক দেখলেও তেড়ে গুঁতো মারেনা। ভয়ে- তা’র বাম্পারে আর লোহার বেড়ায়, লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে - পাহাড়ায়। “গাড়ি বেঁধে রেখেছেন! কি ভয় অতো?”-শুধাই, বললেন, “এ আমার পোষা কুকুরের মতো, তাই।” গরুচোর ছুটির সন্ধ্যে ছিল, টিভিতেও ফুটবল, ভুঁড়ি হাতে শাশুরিমা তাম্বুলে বিহ্বল। বড়, মেজো, সেজো-বৌ গেছে জল আনতে, তখনই তো চুপিসারে সবার অজান্তে- লরি নিয়ে এসে থামে সরু সরু গরুচোর, কর্কট-গতি দিতে মর্কটেরা তুখোড়। মুখচোরা জাতভাই লরিটাতে দাঁড়িয়ে- দেখে বেগতিক গরু ডাকে গলা ছাড়িয়ে। ছোট-বৌ ছুটে আসে ছেড়ে-ছ

বিন্দুতে সিন্ধুভ্রম /আবীর ভট্টাচার্য্য

Image
বিন্দুতে সিন্ধুভ্রম আবীর ভট্টাচার্য্য আজ শোনাই এক নতুন কাব্যযাত্রা কথা। আধুনিক পৃথিবীর ব্যস্ততায় তাল মিলিয়ে আবেগ সীমাবদ্ধ হচ্ছে,কবিতায়ও তার প্রভাব পড়ছে। সুললিত দীর্ঘায়িত ছন্দমাধুরী হ্রস্ব হতে হতে অনু থেকে পরমানু ছুঁয়ে আজ মাত্র সতেরো অক্ষর বা শব্দাংশে(সিলেবলে) এসে থেমেছে তার কাব্যিক প্রকাশ।  'হাইকু' বা 'হক্কু' হল জাপানি কবিতার ক্ষুদ্রতম রূপ।প্রাথমিক পর্যায়ে ৫-৭-৫ অক্ষরে বা সিলেবলে 'হক্কু'(hokku)  লেখা হয়; অবশ্য তারও আগে 'রেঙ্গা'(renga) কবিতা ৫-৭-৫-৭-৭ ফর্ম্যাটে 'অক্ষর বা সিলেবল' মিলিয়ে মোট পাঁচটি ছোট লাইনে লেখা হতো। 'রেঙ্গা' (Renga)কবিতার আরেক নাম 'তানকা' (tanka) কবিতা,যেগুলি জাপানের 'Heian Period' ( ৭৯৪ – ১১৮৫ ) থেকে রাজদরবারে গুণী মনোরঞ্জনে লিখিত ও ব্যবহৃত হতো। তখন থেকেই 'haikai-no-renga' রেঙ্গা কবিতারও প্রচলন হয়।কেউ বলেন তাতে থাকবে 'কিরেজি' নামক অনুসর্গ,কেউ বলেন থাকবে প্রকৃতি বা প্রেমের অনুসঙ্গ,কেউ বা বলেন থাকবে 'কিগো' বা যতি… নানা মুনির নানা মত। সে যাই হোক, নতুন কিছু তো সবসম

গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
গুচ্ছ কবিতা   শুভশ্রী রায় অন্ধকারের শব আলো নিয়ে তুমি কত উজ্জ্বল ভাবো ও দিকে তোমাকে ভেদ করে যেতে চায় আলো মাত্রায় অন্য, বাধা পেয়ে হয়ে যায় একটু বন্য। সব আলো দেখা যায় না কোনো কোনো আলো লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের কাজ করে যায়, তারপরে আশীর্বাদের মতো এক পলে তোমার চোখে ঢুকে যায় আর তুমি দেখ আলোর নদী, ঝর্ণা, ফোয়রা আলোর সরোবর, হ্রদ, নদী, সমুদ্র সেখানে সাঁতার কাটতে চাও তুমি আলো পান করতে চাও যদি বা অনাসৃষ্টি ভাবে মানুষ, ভাবুক! রচয়িতার কল্পনা এক কণাও তোমাকে বাদ দিয়ে নয়, আলোচিত্রে তুমিও জ্বলজ্বল করছ, অক্লান্ত তুলি, আলোকিত কলম, আলোকপিয়াসীদের জন্য ঈশ্বর আলো লিখছেন পৃথিবীর খাতায় আর পরিবার 'বিবাহ পরমোগতি' ধাঁচের  নিয়তি লিখছে তোমার মাথায়। মেঘ ক্যুরিয়র মেঘ ভর্তি একটা শ্রাবণ আমাকে উপহার দিতে পারে কেউ, ঠিক এ কথা  কিন্তু দেবে না কেউ সহজেই  যেহেতু আমি বৃষ্টিকে ডাকছি আর তাতেই পরমাপ্রকৃতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভাবখানা এরকম তাঁর, এই যে একক রমণী, তুমি কে বৃষ্টি ডাকার? বর্ষার অভিমুখে আধপোড়া সমস্ত মানুষ হো'ক সমবেত যাদের জীবন মরূ হয়ে গেছে তারা মস্তকে নত সমবেত প্রার্থনায় বৃষ্টিকে ডাকুক জমায়েত না চাইলে ব্যক্তি

সোনামনি /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
দীর্ঘ কবিতা সোনামনি বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ' নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার    কেন নাহি দিবে অধিকার, হে বিধাতা' ? 'সবলা'--   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর              ***   ***   ***   *** সোনামণি তাকে সকলেই ডাকে এটা তার নাম নয়, চন্দ্রবদনী, তন্বী তরুণী রূপ ই তার পরিচয় , দিব্য কান্তি, সুডৌল তনু অতি লাবণ্য ময়, সুদেহিনী নারী, সুনিতম্বিনী মদালসা মনে হয় । বরবর্ণিনী , অতি সুন্দরী প্রিয় দর্শিনী সে ,  লিপ্সু জনের মন টেনে নেয় পলকে  অক্লেশে, মৃণাল বাহুর পরশে জাগায় রোমাঞ্চ সব প্রাণে, পুরুষের মন - সুরূপা এ ধনি পলকেতে কাছে টানে । অনেকেই তাকে দোষ দিয়ে বলে, "এ মেয়ে সর্বনাশী, সুখী সংসার করে চুরমার গৃহী হয় পরবাসী ", তার আকর্ষণে নীতিহীন কাজ ঘটে নাকি অবিরত, দুস্কৃতি যত কুক্রিয়ান্বিত হয়ে চলে শত শত। অভিনয় করে সিনেমা টিভিতে স্বল্পবসনা হয়ে, এসব চিত্র নয় পবিত্র সমাজটা চলে ক্ষয়ে, গাঢ় যৌবনা মেয়েটিকে তাই সবে দোষ দিয়ে চলে, 'প্রযোজকদের পরিকল্পনা' জানে না কি সক্কলে ? দুশ্চরিত্র দূরাচারী যারা সদা অনাচার করে , তারা নির্দোষ(?) এ মেয়েই নাকি তাদেরকে আনে ধরে, এই মেয়ের নাকি  একটাই ঝোঁক -

জীর্ণসময় মৃতজিন /গৌতম বাড়ই

Image
জীর্ণসময় মৃতজিন  গৌতম বাড়ই  কবি বিহীন এমন জীর্ণ শহর কে চেয়েছে বলো? সবুজ গাছপালা শুকিয়ে নিবিড় কাঠ কবি না থাকলে ভাবনাগুলো রাতের প্রজাপতি মাধুর্য হারিয়ে যায় সূর্য ডোবার মতন অন্ত্রে ভীষণ পচন এখন পচন সারা শরীরময় গলি ঘুপচির মধ্যেও গজিয়ে উঠছে  স্বাস্থ্যনবীদের ইমারত মেহেরবান  খেতে খেতে মিথ্যে কথা বলি অহরহ করি ষড়যন্ত্রের ছক অন্ত্রে গিয়ে সব মিথ্যে জড়ো হয়  চোখের ক্রুদ্ধতায় হৃদয় অঙ্গার বর্ণ যা নই আমি তো তাই ----- ‌‍ক্ষমতা তাই বলে  আমি যা আমি তো তাই না----- বিকিয়েছি মাথা প্রেমিকা আর কবি একসাথে হাত ধরাধরি সৌধের সবুজ গালিচায় বহুদিন দেখিনি শহরের দুব্বোরাও কেমন ফ্যাকাশে হয় সবুজঘাসের এ্যানিমিয়া ক্লোরোফিলে  একটা জাহাজ ভগ্ন রাজপ্রাসাদ হয়ে  মনুমেন্টের মাথায় বসে  গুঁড়ো দুধের মতন পলেস্তারা খসাচ্ছিল  উড়ছিল শহরের বায়ু দূষণ  নস্টালজিক হই জীর্ণ শহরে  আমরা মনুমেন্টের নিচে  ধুলো বালি পায়ে মাখা  ডলা ঘাসে জিপসি মেয়েদের রোপ- ব্যালেন্সিং দেখতাম  কলুষিত নদী আজ চোখে চোখে ঘোরে বহু কবিঋষি অক্ষিগোলকে খুঁজে বেড়ান  দীর্ঘতমা মুনি  কবিও তো জীর্ণ শহরের দিশাহারায় ঊর্দ্ধরেতা হয়েছেন  প্রেম

পরম আত্মা /বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
পরম আত্মা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় চোখ আমাদের সঙ্গেই থাকে, বুঝতে পারিনা সহজে, বুঝিনা  তো সব ইন্দ্রিয় মাঝে, চোখই সবার বড়ো যে । যদি কেউ বলে নয়নের কথা, বা বালি এসে পড়ে দু চোখে, তখনই চোখ যে দেহেরই অঙ্গ, ভাবনার মাঝে তা ঢোকে । ঠিক এ  ভাবেই বুঝিনা মনেতে, বিরাজ করেন  মহাজন, শুদ্ধ আত্মা,শুদ্ধ সত্ত্বা, বিশ্ব বিধাতা সনাতন । শাস্ত্র পঠনে , গুরুর কথনে, কিছুটা ধারণা হয়, মনে বুঝি বেশ এই ধারণাটা, ঝাপসা , স্পষ্ট নয় । সংসার জ্বালা করে কষাঘাত, যখনই হৃদয় মনে, স্বজন হারানোর মর্ম বেদনা, অশ্রু আনে নয়নে, নিরাবলম্ব মানুষ তখন, ব্যাকুলিত হয় প্রাণে , অসীম আঁধার সে সময় তাকে,  হতাশার পানে টানে । তখনই মানুষ ডুবদেয় তার, অতল গভীর মনে, খুঁজে পেতে চায় অভয় আশ্রয়, একান্ত নির্জনে । শোক দুঃখের দ্বন্দ্বে আঘাতে, বিক্ষত হয় চিত্ত , খোঁজে সে তখন অন্তর মাঝে, শোকাতীত সেই বিত্ত । অন্তর মাঝে অতল গভীরে, আত্মা বিরাজ করে, চঞ্চল মতি মানুষ বৃথাই , খুঁজে খুঁজে তাকে মরে । উপেক্ষা করে বহির্জগৎ , যেই জন তারে খোঁজে, সেই জন তার পায় দরশন সেই জন তারে বোঝে । বিচার- নিষ্ঠ জিতেন্দ্রিয়  পায় তাঁর  সন্ধান , পায় সে তখন মহান আশ্রয়, শাশ্বত কল্