তিনটি কবিতা 

সালেহা খাতুন

একদা

আন্টার্টিকার বরফ হৃদয় ছুঁয়ে তোমার মন,
প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবল ঘূর্ণিপাকে বিদ্ধ হলো
লাল গোলাপের কাঁটায়; যখন ফুটলো  কোমল

রায়দীঘিতে তুমি কেমন যেন একা পদ্মাসীনা!
বৈভব প্রতিপত্তি ছেড়ে পদ্মের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে
দিলে লালজলের গুহামুখ থেকে দান্তম ভ্যালিতে।
সল্টলেক খেচুপেরি ডিমনা থেকে চলে গেলে
কাস্পিয়ান সাগর বা সুপিরিয়র বৈকালের দিকে।


আর এক দিন


ডানা মেলে শিলাবতীর তির ছেড়ে সাইবেরিয়ার
তুন্দ্রা-তৈগায় এস্কিমোদের সাথে মাছরাঙা হয়ে
ইগলুগুলো ভেঙে তছনছ করে দিলে। ঠাঁই নেই
ঠাঁই নেই ছোট্ট এই পৃথিবীর কোনো এক কোণে,
পাড়ি দিতে তাই চাও মহাকাশের দিকে? রসায়নের
রস ছেড়ে অগাথা ক্রিস্টি হাতে তুলে গলায় ঢেলে

দিলে  ডোম পেরিগনন। আভিজাত্যের উগ্র 

অহংকারে  কৌলিন্য পেতে শিষ্টতা গেলে ভুলে।

অন্যদিন

আদিত্য বোধোদিত্য শিলাদিত্য সমস্ত মানব
ভূ-পরিক্রমা শেষে মিশে যায় পৃথ্বীর আঁচলে,
যৌবনের তেজ নিঃশেষিত হলে পার্বতী পদতলে
পুষ্পসম্ভার দেয় ঢেলে; ধার্মিক-অধার্মিক-বকধার্মিক
মিলে যায় বিদ্রোহ বিতর্ক শেষে। যেতে পারি কিন্তু
যাবো না,বলার মতো নেই সাহস। তিষ্ঠ ক্ষণকালের 

বার্তা ডিমেনশিয়ায় কবে যে খেয়েছে গিলে! খোঁজ

তার পাবে না আর, দুর্মূল্য সে স্মৃতির মিলনায়তনে।

🍂