লোককথা - বোকা তাঁতি



লোককথা - বোকা তাঁতি

সু ব্র ত কু মা র  মা ন্না   
 

'বোকা পড়মরি করে মাঠে ছুটল'


গ্রামটা ছিল এক শহরের প্রান্তে। তাই গ্রামের কোন আচার-অনুষ্ঠানে গ্রামবাসী শহর থেকে সকল জিনিসপত্র কেনাকাটা করে। গ্রামে কোনাে দোকান ছিল না। এই গ্রামের জমিদার বাবুর নাতির অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে ভোজসভার আয়ােজন করা হয়েছিল। সেখানে গণ্যমান্য লােকের সাথে সাথে বােকা তাঁতির নেমতন্ন পড়েছিল। 

বােকা তাঁতি সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করল। ভােজন করার পর জমিদার জিজ্ঞাসা করেন, কি হে রান্না কেমন হয়েছে? বােকা বলল, ভালাে। তবে সবচেয়ে ডাল রান্নাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আচ্ছা মশায় এটা কি ডাল ? জমিদার বলেন, খেয়ে বােঝনি? শহরের স্পেশাল মুসুর ডাল। তাঁতি জিজ্ঞাসা করল তাহলে বল কি করে বানাতে হয় ? জমিদার রান্নার পদ্ধতিটাও বুঝিয়ে বলেন।

কিছুদিন যাওয়ার পর তাঁতির মনে সাধ হল ডাল খাওয়ার। তাঁতির সব কথা মনে নাই। আবার জমিদার বাড়িতে গেল। সেখানে সব কিছু ভালােভাবে বুঝে নিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হ’ল ডাল কেনার জন্য। শহরে যাবার পথে "মুসুর ডাল" --“মসুর ডাল” উচ্চারণ করতে করতে চলল, পাছে সে ডালের নাম ভুলে যায়। কিন্তু সে বান্নার পদ্ধতি ভুলে গেল। তখন সে ভাবল দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলে বলে দেবে। এই ভেবে সে আবার মসুর ডাল উচ্চারণ করতে করতে চলল। পথ চলতে চলতে সামনে তিনটে নালা দেখতে পেল। নালার পাশে বসে ভাবতে লাগল কি করে নালা পেরানাে যায়। পথে কাউকে দেখতে পেল না, যাকে সে নালা পেরানাের উপায় জিজ্ঞাসা করতে পারে। যাই হােক কিছুক্ষণ ভেবে সে একটা উপায় বার করল। দূর থেকে দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে নালা পেরাল। পেরাবার সময় মুখে বলল হেইজো ... হেইজো...। এমনি করে এক লাফ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপর নালায় গিয়ে পড়ে গেল। ফলে তার সারা শরীরে কাদা মাখা হয়ে গেল। আর তখনই সে ডালের কথা ভুলে গেল। তবে সেটা দেখতে কেমন তা তার মনে আছে।

শহরে গিয়ে সামনে একটা লােহা দোকান দেখতে পেল। সেখানে গিয়ে বলল, আমাকে লাল - লাল, হলুদ - হলুদ, চ্যাপ্টা - চ্যাপ্টা, গােল - গােল দাও। দোকানদার আশ্চর্য হল। ফিরে জিজ্ঞাসা করল, কি? তাঁতি একই কথা বলল। তখন দোকানদার বিরক্ত হয়ে একটি বীজের দোকান দেখিয়ে দেল। সেখানে গিয়ে তাঁতি একই কথা বলল। বীজ দোকানদার বুঝল, হয় লঙ্কা বীজ, না হয় মূলােবীজ। এই না ভেবে দোকানদার মূলােবীজের সঙ্গে লঙ্কাবীজ মিশিয়ে তাঁতিকে দিয়ে দিল।

তারপর বাড়িতে গিয়ে তাঁতি রান্না বসাল। কিন্তু সে রান্নার পদ্ধতি ভুলে গিয়ে একসঙ্গে - তেল, নুন, লঙ্কা বীজ, মূলা বীজ চাপিয়ে দিল কড়াইতে। কিছুক্ষণ পর কড়াই নামিয়ে থালায় বেখে স্নান কৱে আহারে বসল। কিন্তু খেতে খেতে দেখল জমিদার বাড়ির মত হয়নি। সে ভাবল, তার ঠিক করে রান্না করা হয়নি। আর কিছু ভাবার আগেই বােকার পেট কেমন করতে লাগল। বােকা পড়িমরি করে মাঠে ছুটল।

Comments

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি