জল ধরো, জল ভরো – ভবিষ্যৎ গড়ো ( অন্তিম পর্ব)
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
ভারতের মতো একটি সুবিশাল দেশের জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার কথা একটিমাত্র নিবন্ধে বলে ওঠা যে খুব সহজ কাজ নয় তা প্রথম পর্বের আলোচনা পড়েই পাঠকেরা বুঝতে পারছেন। লিখতে গিয়ে আমিও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি । তাই এই দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হতে হলো। অনুপম মিশ্র জীর মতো মানুষ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই বৈচিত্র্যের প্রতি আম আদমির দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে গেছেন। মাত্র কিছুদিন আগে এক বিদেশি অতিথি– ক্যারন রন্সলের কথা লিখেছি অন্য এক পত্রিকায় যিনি নিজের দেশ ছেড়ে এদেশে এসেছিলেন স্থানীয় লোকজনের অজ্ঞানতা,অনাদর আর অবহেলায় প্রায় অকার্যকর হয়ে ওঠা একটি আশ্চর্য জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের জন্য। চেনা যোগী ভিখ পায়না’র মতো দশা আমাদের পারম্পরিক ব্যবস্থাপনার। নতুন খেলনা হাতে নিয়ে যেমন শিশুরা অনেক দিনের চেনা পুতুলের কথা ভুলে যায় আমাদেরও যে তেমন হাল। নতুন ব্যবস্থাকে দেখে আমরা রাতারাতি বর্জন করেছি দেশজ ভাবনার চমকপ্রদ প্রকৌশলকে।জল ধরে রাখার খুব সহজ অথচ বিস্মৃতপ্রায় ‘জোহাদ’ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে এনে ডক্টর রাজেন্দ্র সিং’জী ও তরুণ ভারত সংঘের উদ্যমী সদস্যরা জয় করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি , সেচের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছেন বহু মানুষের আয়ত্তে।
সারা দেশের কথা বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মরুরাজ্য রাজস্থানের জল সংরক্ষণের একদা প্রচলিত ব্যবস্থাগুলোর কথা বললেই বিস্ময়ের অন্ত থাকবে না। এই পর্বে সেই কথাই আলোচনা করবো। পরিবেশগতভাবে বৃষ্টির জল ধরে রাখার প্রয়োজন সবথেকে বেশি এই রাজস্থানের। আবহমানকাল ধরে এই মরুরাজ্যের সাধারণ মানুষেরা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভবকে কাজে লাগিয়ে তিলতিল করে গড়ে তুলেছিলেন অনন্য সাধারণ সব উপায়। মৌসুমী বর্ষণের জন্য চাতক পাখির মতো আকুল হয়ে অপেক্ষা করে থাকেন এখানকার তৃষিত মানুষেরা। নদী থেকে উপচে পড়া জল তিলতিল করে জমানো হতো তাদের তৈরি নানান আধারে, কার্যকারিতায় যেগুলো ছিল অসাধারণ। পারিপার্শ্বিক ভূমিরূপ, শিলার গঠন, ভূমির ঢাল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে কী গভীর জ্ঞান থাকলে এসব গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল তা ভাবলে আজও বিস্ময় জাগে।
রাজস্থানের এক এক অংশে এক এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, ভূ- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও গ্রামীণ চাহিদার তারতম্য ভেদে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে জলের জোগানে তারতম্যের কারণেও পদ্ধতিগত ফারাক ছিল। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো –
পার
রাজস্থানের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশই কমে যায়। বৃষ্টিপাতের এই তারতম্যের কারণে পশ্চিমের জল ধরে রাখার পদ্ধতির সঙ্গে পূর্ব দিকের পদ্ধতির পার্থক্য রয়েছে। ক্যাচমেন্ট বা আগারের ঢাল বরাবর গড়িয়ে নেমে আসা বৃষ্টির জলের সবটুকুই প্রায় সুপ্রবেশ্য বালির গভীরে প্রবেশ করে ভৌম জলের আকারে জমা হয়। এই জলকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় রাজানি পানি। মাটির নিচে থাকা এ্যাকুইফারে ( acquifer ) জমা জলকে নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য তুলে আনতে আগার বা ধারণ অববাহিকার ওপরে প্রয়োজনমতো কতগুলো ক্যুইস ( kuis) বা বেরিস (beris) খোঁড়া হয়। কতটা জল জমা হতে পারে সেই সম্পর্কে প্রায় নিখুঁত ধারণা ছিল স্থানীয় লোকজনের।তার ওপর নির্ভর করে ৫ মিটার থেকে ১২মিটার পর্যন্ত গভীর ক্যুইস খোঁড়া হয়ে থাকে। আমাদের এখানে দেশ গাঁয়ে যেভাবে পাতকুয়ো খোঁড়া হয় ব্যাপারটা ঠিক তেমনি। একই পদ্ধতিতে ইঁট গেঁথে অথবা মাটির তৈরি চারি বসিয়ে নেওয়া হয় যাতে সহজেই জল তুলে আনা যায়। পার বা এ্যাকুইফারের আয়তনের তারতম্য ভেদে ক্যুইস বা বেরিস এর সংখ্যায় তারতম্য ঘটে। সাধারণভাবে ৮ থেকে ১০ টি ক্যুইস খোঁড়া হয়ে থাকে। জয়সলমীরের শুষ্ক বৃষ্টিহীন অঞ্চলে একসাথে ২০ টি ক্যুইস থেকে জল তুলে আনার বিষয়টি সহজেই নজর কাড়ে। পশ্চিম রাজস্থানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পারের মাধ্যমে জল সংরক্ষণের পদ্ধতি বহুকালের। এই জল পাতালি জল হিসেবে পরিচিত।
তালাব / বান্ধিস
হিন্দি তালাব শব্দের বাংলা অর্থ পুকুর। বৃষ্টির জল ধরে রাখার সবথেকে প্রচলিত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো তালাব। সারা ভারতের অন্যান্য অংশের মতো রাজস্থানেও বৃষ্টির জল ধরে রাখতে নানান মাপের তালাব বা পুষ্করিণী খনন করা হয়েছিল। সাধারণভাবে ৫ বিঘার কম আয়তনের পুকুরকে বলা হয় তালাই ; মাঝারি আকারের জলাশয়কে বলা হয় বান্ধিস বা তালাব। আরও বড়ো আকারের জলাশয়কে বলা হয় সাগর বা সমন্দ। এই পুকুরের জল সেচ ও পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হয়। গরমের সময় এই অগভীর জলাধারগুলো শুকিয়ে গেলে সেখানে ধান চাষ করা হয়।
টাঙ্কা
রাজস্থানের বিকানীর জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই জল ধরে রাখতে টাঙ্কা ব্যবহার করা হয়। এগুলো হলো ছোটো ছোটো জলাধার। বাড়ির লাগোয়া উঠোনে মাটির নিচে এমন জলাধারগুলো তৈরি করা হয়। উঠোনের জমিতে গোলাকার এই গর্তগুলো তৈরি হয় এবং এদের চারদিকে সুদৃশ্য টাইলস বসানো হয়। এই ব্যবস্থা জলকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। টাঙ্কাসে সংগৃহীত জল কেবলমাত্র পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আরও বেশি জল ধরে রাখতে চারিদিকে বাঁধানো জলাধারের নির্মাণ করা হয়।
জোহাদ
রাজস্থানের পাশাপাশি উত্তর ও উত্তর পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে যেমন হরিয়ানা,পাঞ্জাব , দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাংশের বিস্তির্ণ অংশে জল সঞ্চয়ের কাজে জোহাদ নামের এক বিশেষ ধরনের ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়। মাটির গভীরে জল জমা করে রাখার ক্ষেত্রে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে এদের অনুস্রবন জলাধার বা পারকোলেশন পন্ড বলা হয়। স্থানীয় মানুষজনের কাছে এগুলো পোখর নামেও পরিচিত। ঢালের ওপর দিয়ে বয়ে চলা জলকে এক বিশেষ ধরনের অর্ধচন্দ্রাকৃতি বাঁধের সাহায্যে আটকে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এই জল একাধারে মানুষ ও গৃহপালিত পশুদের সারা বছরের জলের চাহিদা মেটায়। জমির ঢালের প্রান্তসীমায় মূল জোহাদটি তৈরি করা হয়। পাশাপাশি খোঁড়া হয় আরও কিছু ছোটো গর্ত। এই গর্তগুলোয় জমা জল নানান প্রয়োজনে কাজে লাগানো যায়।
স্থানীয় ভূমি ঢালের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জোহাদ বা পোখরের গঠনে রকমফের ঘটানো হয়ে থাকে। তিনদিকে উঁচু চেক্ ড্যাম বা আঁড় বাঁধ নির্মাণ করা হয় সমোন্নতি রেখা বরাবর। খোলা অংশ দিয়ে জল গড়িয়ে এসে জমা হয় আঁড় বাঁধ দিয়ে ঘেরা অঞ্চলে, তৈরি হয় জলাধার। আর এভাবেই গড়া সম্ভব হয় গ্রামীণ সমৃদ্ধির ভিত। জোহাদে আটকে পড়া জল মাটির আর্দ্রতা বাড়ায়,ভৌম জলস্তরকে উন্নীত করে, জলের জোগান সুনিশ্চিত করে। জোহাদকে ঘিরেই গড়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ বসতি। ভারতের ‘ ওয়াটার ম্যান ‘ হিসেবে পরিচিত রাজেন্দ্র সিং জী এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত তরুণ ভারত সংঘের সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আলোয়ার জেলার ভিখমপুরা গ্রামে জোহাদের সাহায্যে জল সমস্যার সমাধান করে কৃষির ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব এনেছেন। জোহাদ , শুধু রাজস্থানের নয়, দেশের জল ধরো জল ভরো সংস্কৃতির উজ্জ্বল ধারক।
বাওলি
বৃষ্টির জল ধরে রাখার একটি অভিজাত পদ্ধতি হলো বাওলি, বাওরি বা ভাব। ঋতুপর্যায়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রাকৃতিক জলের জোগানে টান পড়ে। বর্ষায় ভৌম জলস্তরকে নাগালের মধ্যে পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মের সময় বা শীতকালে
কুয়োর একেবারে গভীরে নেমে যায়। সেই নেমে যাওয়া জলস্তরের নাগাল পেতে প্রয়োজন হয় ধাপ বা সিঁড়ির। সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাওয়া যায় জলের কাছে। এমন সিঁড়ি,ধাপ বা স্টেপ যুক্ত কুয়োকেই বাওলি বলা হয়। মুখ্যত রাজ পরিবারের বা অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষদের জলের চাহিদা পূরণ করতেই এই ধাপ কুয়ো বা বাওলিগুলোকে তৈরি করা হয়েছিল বহুকাল আগে। প্রধানত অধিবাসীদের ব্যবহারিক প্রয়োজনেই এই বাওলিগুলোকে তৈরি করা হলেও এই কূপগুলি রাজপুতানার উন্নত স্থাপত্য কলার উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।
বাওলি বা ধাপ কুয়োর সবথেকে বড়ো সুবিধা হলো ঋতু পরিবর্তনের ফলে জলস্তর যতোই নিচে নেমে যাকনা কেন মানুষের পক্ষে সেই জলের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয় কেননা সিঁড়িগুলো অনেক গভীর পর্যন্ত নেমে গেছে। এই ধরনের কুয়ো থেকে সারাবছর জল পাওয়া যায়। কোনো রকমের মশলা ব্যবহার না করে কেবলমাত্র পাথরের ব্লককে কুয়োর পাকা পাথুরে দেওয়াল বরাবর সাজিয়ে এই সিঁড়ি বা ধাপগুলোকে তৈরি করা হয়েছে যা স্থাপত্য শৈলীর দৃষ্টিতে বিচার করলে অভিনবত্বের দাবি রাখে। আমাদের বাংলায় যেমন একসময় দীঘি বা পুষ্করিণীকে ঘিরে গ্রামীণ মহিলাদের আলাপচারিতার আসর বসানোর চল ছিল,রাজস্থানেও বাওলিকে ঘিরে প্রমীলাদের আড্ডা জমে উঠতো। মহিলারাই সাধারণভাবে এই জল আনার কাজটি করতেন। চারিদিক ঢাকা থাকায় বাওলির সিঁড়িগুলো বাইরের তুলনায় অনেকটাই ঠাণ্ডা থাকতো। দেবস্থল বা মন্দির লাগোয়া বাওলিগুলোতেও মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। আদতে কুয়ো হলেও বাওলিগুলো তাদের অনুপম নির্মাণ বৈশিষ্টের জন্য আজও বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আধুনিক সময়ে জল সংরক্ষণের জন্য এগুলোর গুরুত্ব কিছুটা কমলেও তাদের পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের কাজ চলছে।
পাট
আজকের এই আলোচনা শেষ করবো বৃষ্টির জলকে বাঁচানোর আরও এক অনন্য উপায়ের কথা বলে। এজন্য অবশ্য রাজস্থান ছেড়ে যেতে হবে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ঝাবুয়া জেলার ভিতাদা গ্রামে। পদ্ধতিটি পরিচিত পাট নামে। জল সংরক্ষণের জন্য ঠিক কোন পদ্ধতি বা উপায় যথার্থ কার্যকর হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে স্থানীয় ভূ প্রকৃতির ওপর।
পাট পদ্ধতিতে মালভূমির ঢালের ওপর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বয়ে যাওয়া জলকে সেচ খালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে। পাট নামে পরিচিত এই সেচখালের নামানুসারেই পদ্ধতিটি পাট নামে পরিচিত।
নদীর জলকে খালে পাঠিয়ে দেবার জন্য নদীতে স্থানীয় ভাবে বাঁধ তৈরি করা হয়। এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত পাথর । প্রথমে পাথরের ব্লককে নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে সাজিয়ে নদীর জল আটকানো হয়। তারপর সেগুন গাছের পাতা ও মাটি দিয়ে বাঁধের দেওয়ালের ফাঁক ফোকরগুলোকে আটকে দেওয়া হয় যাতে জল এতোটুকুও নষ্ট না হয়। পাটগুলোতে ঢুকে পড়া জল ছড়িয়ে দিতে তৈরি করা হয় অসংখ্য নালা। এগুলোর সঙ্গে মূল নদীরও সংযোগ থাকে। বর্ষার সময় জলের জোগান বেড়ে গেলে এই নালাগুলো ভেসে যায়।
গ্রামের মানুষজন পর্যায়ক্রমে এই জলের সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে। এই নালাগুলোকে মেরামত করার কাজ এরাই করে থাকে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ওপর নির্ভর করে এই পদ্ধতিতে জল বাঁচিয়ে নিজেদের উন্নতিতে সুনিশ্চিত অবদান রেখেছে ভিতাদা গ্রামের মানুষজন। এ এক অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।
দুই পর্বের আলোচনার এখানেই সমাপ্তি। বিষয়টির পরিসর এতোটাই বড়ো যে এরকম আরও কয়েকটি পর্ব ধরে নিবন্ধটিকে টেনে নিয়ে গেলেও সব কথা হয়তো ঠিকঠাক বলা হয়ে উঠতো না। জল নিয়ে আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমাদের সরক্ষণবাদী মানসিকতা অনেকটাই বদলে গেছে আধুনিকতার নামে। ক্যারন রন্সলে ঠিক এই কথাটাই বলেছেন রাজস্থানের যোধপুরের ঐতিহ্যমন্ডিত নবী বাওলিকে পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে। নিজের একান্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ক্যারন রন্সলে সাহেব জানিয়েছেন –
“আমি ২০১৪ সালের শেষের দিকে যোধপুরে বেড়াতে এসে দেখি স্টেপ ওয়েলের এই অনন্য স্থাপত্য নিদর্শনগুলো সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। অথচ জল সংরক্ষণ ও সরবরাহের এমন অতুলনীয় ব্যবস্থা দুনিয়া ঘুরে মিলবে না। মানুষের এই বিষ্ময়কর ঔদাসীন্য আমাকে গভীরভাবে আহত করে। আমি তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই প্রাচীন জল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন ঘটানোই হবে আমার প্রাথমিক এবং আশু লক্ষ্য।”
একজন বিদেশি মানুষ হিসেবে ক্যারনের যে উপলব্ধি এদেশে
থেকেও আমাদের মধ্যে তার ছিটেফোঁটাও নেই। দুঃখটা এখানেই।
10 Comments
দ্বিতীয় পর্বের লেখাটা পড়লাম। তথ্য বহুল আলোচনা। দুই পর্বের এই লেখাটি জলসংরক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে মান্যতা পাবে।
ReplyDeleteপ্রথম মত দাতাকে ধন্যবাদ। এই লেখাটি লিখতে গিয়ে আমিও অনেক অনেক বিষয়ে জানতে পেরেছি যা আমাকেও সন্ধানী করে তুলেছে। আগামী দিনে জল নিয়ে তীব্র লড়াই বাঁধবে। সময় থাকতে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিলাম। ছড়িয়ে পড়ুক সচেতনতার জন্য।
ReplyDeleteতথ্য সমৃদ্ধ। রেফারেন্স এর জন্য সংগ্রহে রাখলাম।
ReplyDeleteপরে রয়্যালটির জন্য বিল পাঠিয়ে দেবো।
ReplyDeleteআলোচনা তথ্যপূর্ণ কিন্তু তথ্যের ভারে আক্রান্ত নয়। সাবলীল উপস্থাপন। ধন্যবাদ।
ReplyDeleteছবিগুলো ওলটপালট হয়ে গেছে!
তথ্যের ভার বাড়ালে তাকে বয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন। লিখতে গিয়ে পাণ্ডিত্য ফলানোর পক্ষপাতী আমি নই। ছবিগুলো এলোমেলো হয়েছে -- বিষয়টি নজরে এসেছে দেখে ভালো লাগলো। ছড়িয়ে দিতে পারেন।
Deleteস্যার,আপনার লেখার পরিসর এত বিস্তৃত এবং এত তথ্যমূলক ,অ্যাপের ছোট পাতায় জলের এক ফোঁটার মত, তেষ্টা মেটে না।বই প্রকাশ করার অনুরোধ জানাই।তাতে অনেক জ্ঞানপিপাসু মানুষ উপকৃত হবেন।🙏
ReplyDeleteধন্যবাদ কমলিকা। আপনার লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় বেশ কিছু দিনের। লেখার পরিসর বিষয়ের ওপরই খানিকটা নির্ভর করে। ফলে তৃষিত পাঠকদের খানিকটা হয়তো সুবিধা হয়। লিখতে গিয়ে আমিও অনেক নতুন নতুন বিষয়ের সাথে পরিচিত হই।এটাই আমাকে খুব আনন্দ দেয়। বই লিখলে পড়ার মানুষ জুটবে? কে জানে? ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteআমি কমলিকা দির সঙ্গে সহমত। স্যার বড়ো ক্যানভাসের লেখক। দুই পর্বের লেখাটা সত্যিই ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। আরও লিখুন স্যার। ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteলেখার ক্যানভাস বড়ো ছোটো হয় বলে জানা ছিলোনা। আমার কাছে লেখাটাই মুখ্য। কমলিকা দির কথায় সায় দিলে আমিতো সংখ্যায় পিছিয়ে যাবো।
ReplyDelete