জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/সুব্রত দাস

গুচ্ছ কবিতা
সুব্রত দাস

মাতৃত্বের হাহাকার

অলিখিত কথাগুলো বাক্স বন্দী থাক,
লিখিত কথাই যখন মূল্য বিহীন 
রক্তের সম্পর্ককে যেখানে ছুঁড়ে ফেলা যায় রাস্তার ধারে,
সেখানে বন্ধ্যা থাকায় ভালো ছিল। 
সূর্য যদি আলো না দিত
চন্দ্র যদি জ্যোৎস্না না ছড়াতো 
বাতাস যদি স্তব্ধ হতো 
জলের উনুই থেকে জল যদি 
না ঝরত
চাষি যদি শষ্য না ফলাত, তবে 
সকলের গুমোর মরুভূমি হয়ে যেতো। 
আসলে আমরা নিজেকেই বুঝতে পারিনি 
নিজেদেরই ভালোবাসতে পারিনি 
যদি নিজেদের হাহাকারগুলো শূন্যতাগুলো আনন্দের মুহূর্তগুলো গভীর থেকে উপলব্ধি করতে পারতাম, তবে
হয়তো নিজেদের মানুষ বলে ভাবতাম।। 


চাইলে পরে

চাইলে পরে নদীর মতো বয়ে যাব তোমার কাছে 
শব্দগুলো একটু চেয়ে দেখো
অভিমানে কেন ভেজাও চোখের পাতা
সোহাগ ভরে আঁজলা তুলে মাখো।
চাইলে পরে নীল আকাশ 
আনতে পারি নামিয়ে, না হয়
সবুজ তুলে যাই উপরে চলো, 
জোনাকিকেই ভাববো না হয় 
সব সবুজের তারা
নীচের আকাশ পাঠিয়ে দেবে
ঊর্ধ্বে সকল আলো। 
নীচের আকাশ ঊর্ধ্বে দেখবে চেয়ে 
নতুন গ্রহে ছোট্ট সংসার গড়া
পাঠ্যবই-এ এমন আজীব হয়নি কারও পড়া,
সেই গ্রহেতে মাত্র দুটি প্রাণী। 
অন্যলোকের কেউ জানে না 
ওইখানেতে থাকি তুমি আমি।।
🍂

স্যালুট করি

চেনা দিনগুলোও মাঝে মাঝে ভীষণ অচেনা লাগে,
বসন্তে যদি পলাশ না ফোটে
বর্ষাতে যদি নদী ফুলে ফেঁপে না বয়
সময়ের আগে যদি বনে বনে পাতা খসানো শুরু হয়,
তবে ছন্দের তাল কেটে যাওয়ার মতোই বেসুরো লাগে। 
অনামিকা নামের মেয়েটিকে অফিস দিনগুলোতে দেখেছি সদা হাস্য মিষ্টভাষী সাবলীল কথার ছন্দ অত্যন্ত মার্জিত। 
সেদিন দেখলাম কেমন যেন বিধস্ত, বিমর্ষ, কথা বন্ধ,
তারপর আর কোনো দিন বাস স্টপেজে দেখিনি। 
প্রথম প্রথম দিনগুলো ভীষণ অচেনা লাগতো, ক্রমে গা সোয়া হয়ে গেল। পরে জেনেছিলাম—অফিসের কেউ অশালীন প্রস্তাব দিয়ে ছিল, তাই কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে। 
আমি মনে মনে তাকে স্যালুট করি।।

Post a Comment

1 Comments

  1. ধন্যবাদ জ্বলদর্চি পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়কে, আমার লিখিত কবিতাগুলো তার পত্রিকাতে স্থান দেওয়ার জন্য।

    ReplyDelete