জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প /অনামিকা তেওয়ারী

দুটি অণুগল্প 
অনামিকা তেওয়ারী 

গোত্রহীন


“শ্রীতমা, এই যে মিসেস সিনহা, এদিকে।”
ব্যস্ত রাস্তায় বন্ধু অনির্বাণের ডাকে ঘাড় ফেরায় শ্রীতমা। 
 বলে ওঠে, “ অনির্বাণ! হোয়াট আ সারপ্রাইস! কবে এসেছিস লন্ডন থেকে”?
“ পরশুদিন, তাও দু’বছর বাদে। মেয়ের বাবা হয়েছি”।
“ তাই, কংগ্রাচুলেশনস!”
“ থ্যাংকস। তা মিসেস সিনহাকে ফেসবুকে আর দেখিনা কেন!”
একটু ইতস্তত করে শ্রীতমা বলেই ফেলে, 
“ ওই একাউন্টটা আর নেই। আর এখন আমি আবার শ্রীতমা দত্ত, ডিভোর্স হয়ে গেছে আমার”।
হঠাৎ অনির্বাণের খেয়াল হয় শাঁখা- সিঁদুরহীন শ্রীতমাকে।
-“এক্সট্রিমলি সরি, আমি জানতামই না রে”।
-“ইট’স ওকে। আসলে মেয়েদের তো কোনো স্থায়ী গোত্র নেই, তারা যখন যেখানে থাকে …”
কথা অসম্পূর্ণ রয়ে যায় শ্রীতমার। অনির্বাণের চোখের সামনে ভেসে ওঠে  তার ছোট্ট শিশুকন্যার মুখ।

🍂

সেতু
 
রক্তিমের সাথে আত্রেয়ীর সম্পর্কটা ক্রমশই রুক্ষ হয়ে উঠছিল। বারান্দায় রাখা টবভর্তি শুকিয়ে আসা ফুলের চারাগাছগুলো যেন তারই প্রতিফলন!  সন্তানহীন দাম্পত্য একটা সময় সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। 
 বাইরে অপেক্ষারত আত্রেয়ীর কাছে রক্তিম জানতে চায়, “ আজই যাবে উকিলের কাছে?” 
-“হ্যাঁ “। 
 -“ আজ যে মায়ের মৃত্যুদিন “!  চমকে ওঠে আত্রেয়ী। দাম্পত্য কলহ এই প্রথম তাকে শাশুড়ির মৃত্যুদিনটাও ভুলিয়ে দিয়েছে!
অসময়ে চলে যাওয়া শাশুড়ির শেষ কথাগুলো মনে পড়ে যায়, “ এই সংসারে আমার পরে অধিকার শুধু তোর।"
 ভেতরে আসে আত্রেয়ী। জলের অভাবে মরতে বসা চারাগাছে জল দিতে শুরু করে। পেছনে দাঁড়ানো রক্তিমকে বলে ওঠে,  “সিদ্ধান্তটা যখন নিতেই পারোনি, নাহয় আর কিছুদিন অপেক্ষা করা যেতেই পারে।"

Post a Comment

0 Comments