জ্বলদর্চি

চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী : শ্রদ্ধা ও স্মরণে

চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী : শ্রদ্ধা ও স্মরণে


যোগেনদা
অসিত পাল

প্যারিস থেকে ফেরার পরে কলকাতায় সোডা ফাউন্টেনে শিল্পীদের আড্ডায় প্রথম দেখা ও সখ্যতার শুভারম্ভ। সময়টা ১৯৬৮-৬৯, তখন তার ক্রিস ক্রস কাজের সঙ্গে অল্প রঙের ব্যবহার চমক এনে দেয়। কিছুটা স্বপ্ন, কিছুটা অবাস্তব, আর পৃথুল, মেদ যুক্ত চেহারা। সবই আমাদের চারপাশের চরিত্র। 
তিনি তখনই গড়ে নিয়েছিলেন তার পথ। জন্ম দিয়েছিলেন বাংলায় এক নতুন শিল্পের । 
যোগেনদার সঙ্গে বহুবার সাক্ষাতহয়েছে। তাঁর কথাবার্তা এত সহজ ছিল যে শ্রোতাকেও সহজ করে দিত তার প্রকাশে।
১৯৭৫ সালে যখন আমরা চলমান শিল্প নিয়ে নিয়মিত কাজ করে চলেছি, আমাদের বুলেটিন রাখতেন পড়তেন এবং তার ভাবনার কথা লিখে পাঠাতেন। পরবর্তী সময়ে এর ২৫ বছর পরে কলকাতা জুড়ে উৎসবে নিজের দীর্ঘ লেখা ও ছবি দিয়েছিলেন। ওর বোন নমিতা যুক্ত ছিলেন উৎসবে। উনিও বিশ্বাস করতেন শিল্পীদের সব মাধ্যম একসঙ্গে কাজ করা উচিত। এ ভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা গড়ে উঠতে পারে। নিজে ভালো সংগঠক, শান্তিনিকেতনে গড়ে তুলেছেন শিল্পের কেন্দ্র। কলকাতাতেও চারুবাসনা গড়ে তুললেন।
ভারতীয় শিল্পের ভূমিতে অনায়াসে নিজের কাজের উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যেতে সমর্থ হলেন।
মোটা কালো রেখায় ক্যানভাস হয়েছে মুখর। অনেক রঙ সেখানে ফিকে হয়ে যায়।তার সৃষ্টি বেঁচে থাকবে মানুষের মনে।
বাংলা শিল্পজগতে নক্ষত্রবিয়োগ
যশোধরা রায় চৌধুরী 

প্রয়াত শিল্পী যোগেন চৌধুরী। বাংলা শিল্পজগতে নক্ষত্রবিয়োগ৷ আমার মা অরুন্ধতী রায়চৌধুরী ছিলেন তাঁর ক্লাসমেট। 

মায়েদের মুখে তাঁর  একেবারে অল্প বয়স থেকে অত্যন্ত  পরিণত টানে রেখা আঁকার কথা শুনেছিলাম। শিক্ষকরা ছিলেন মুগ্ধ এই ছাত্রের বিষয়ে৷ ১৯৬০ পাস আউট গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ব্যাচে, যোগেন চৌধুরী ছিলেন সবার মধ্যে তরুণতম। 

সেই অল্প বয়সেই এই প্রতিভাবান অতিতরুণ ও-বাংলা থেকে আসা  টালমাটাল অবস্থার মধ্যে কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 

যোগেন-রেখার টান 
আশিস মিশ্র 

 শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে আমাদের অনেকের নিবিড় যোগ ছিল। যোগ না থাকা মানুষেরাও তাঁর ইতিতে শোক প্রকাশ করছেন। তাঁকে বা তাঁর ছবিকে বুঝুক আর না বুঝুক। সবসময় সবটা বোঝা যাবে এমনটা নয়। কিন্তু যোগেন চৌধুরীর ছবি আমাদের টেনে নিয়ে যায় --সেই টান এতো তীব্র --একের পর এক ছবির কাছে দাঁড়িয়ে বিস্মিত হতে হয়। 

তাঁর পার্থিব শরীরের কাছে আমি কখনো দাঁড়াইনি। দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই ছিল না। শুধু একবারই তাঁর কলকাতার যাদবপুরে ' চারুবাসনা ' -য় গিয়েছিলাম আমরা তিন বন্ধু। বছর দুই আগে শিল্পী তপন শেঠ ও তাঁর কয়েকজন শিল্পী বন্ধুদের নিয়ে সেদিন ' চারুবাসনা '-য় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল। উদ্বোধনে তিনি যখন এসেছিলেন, তখন আমরা সব ছবি দেখে চলে আসি। 

শিল্পী ও শিল্পবিষয়ে কোনো প্রবন্ধ বা সাক্ষাৎকার আমাকে টানে। সেই টানে যোগেন চৌধুরীর লেখা যখন প্রথম পড়লাম এবং তাঁর ছবি দেখলাম, তখন থেকেই তাঁর ছবির প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা জন্মায়। ছবিতে তাঁর সই না থাকলেও দূর থেকে ছবি দেখে বলে দেওয়া যায়, এই ছবি যোগেন চৌধুরীর। ' যো ' অক্ষরটির ফর্মও কারুর সঙ্গে মেলে না। 

রেখা, রেখার ঢেউ, কতকগুলি গোল বিন্দু, নারী-পুরুষের চোখ, মুখ, হাত-পায়ের আঙুলের গড়ন, শরীরীবিভঙ্গ --সবটাই তিনি যেভাবে আঁকতেন, তা একেবারে তাঁর নিজস্ব ফর্মে তৈরি। রঙের বর্ণনা থাক। যোগেন যুগের ইতির সঙ্গে সঙ্গে চারুকলা জগতে আবারও গভীর শূন্যতা তৈরি হলো। অজস্র শিল্পের ভিড়ে আমরা যখন হাবুডুবু খাচ্ছি, তখন ভিড় ঠেলে তিনিই যে ' যোগ ' রেখে গেলেন, তা যুগে যুগে আলোচিত হবে। 

সে যাইহোক, ফেসবুকে যখন এই সব কিছু নিয়ে হৈচৈ চলছে, তার মধ্যে যোগেন চৌধুরীর চলে যাওয়া ও তাঁকে কে কতটুকু জানেন বা বোঝেন, এইসব নিয়ে কথা.....আমি সে-সবের মধ্যে না গিয়ে শিল্পীকে নিয়ে যাঁরা কলম ধরেছেন, তার মধ্যে মৃণাল ঘোষ, হিরণ মিত্র ও পরেশ মাইতির লেখাগুলি পড়লাম। এই আলো-অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তাঁকে একটু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা। হিরণদার লেখার একটি অংশ এখানে রাখলাম ( সংবাদ প্রতিদিন,  ২৬ অক্টোবর)  --'' দু' ধরনের রেখাচর্চা আমরা দেখি। এক-ধরনের রেখা সতত সচল, তরল, জলের মতো, বয়ে চলা রেখা। আর এক ধরনের রেখা টুকরো -টুকরো ভাঙা রেখা, যা জাল বিস্তার করত। ছায়া, আবছায়া, রহস্য নির্মাণ করত, যাকে পরিভাষায় ' হ্যাচিং ' বলা হয়। এনিয়ে যোগেনদা বেশ সচেতন ছিলেন। নিজস্ব রেখা-ভাষা নির্মাণে। অর্থাৎ, রেখাচর্চার যে ইতিহাস, তার যা প্রভাব, তাকে পাশ কাটিয়ে এই নির্মাণ, যথেষ্ট জটিল একটি ক্রিয়া। বিশ্বজুড়ে এত রেখার চলন, তার এতরকম ভাব, যে রেখাগুলো আত্মপরিচয় বহন করে। যেমন পিকাসোর রেখা, মাতিসের রেখা, হুসেনের রেখা, নন্দলালের রেখা, রামকিঙ্করের রেখা। তার মধ্যেই বৈশিষ্ট্য নিয়ে যোগেনের রেখা। " 

চিত্রকলা তেমনই। বৈশিষ্ট্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, বিক্রির ঢক্কানিনাদে কিছু যায় আসে না।


অস্থিরতাকে তিনি প্রকাশ করতেন অসামান্য নিয়ন্ত্রণে
হিন্দোল ভট্টাচার্য 

আমিই বোধহয় কলকাতা শহরের একমাত্র সেই ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে যোগেন চৌধুরীর কোনও প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল না। আমার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর শিল্পের, তাঁর চিত্রশিল্পের।

যোগেন চৌধুরীর ছবির সামনে দাঁড়ালে মনে হত, মানুষের শরীর আসলে শুধু শরীর নয়, তার ভিতরে জমে থাকে সময়, ক্লান্তি, কামনা, ক্ষয় এবং এক আশ্চর্য নিঃসঙ্গতা। তাঁর রেখার মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত স্নায়বিক টান। শরীর কখনও সেখানে স্থির নয়, তার ভিতরে যেন নিরন্তর কোনও আলোড়ন চলছে। মুখ, চোখ, হাত, আঙুল, ধড়—সব কিছুর মধ্যে এক ধরনের চাপা অস্থিরতা। অথচ সেই অস্থিরতাকে তিনি প্রকাশ করতেন অসামান্য নিয়ন্ত্রণে।

তাঁর ছবির মানুষগুলি আমাদের পরিচিত জগতের মানুষ, অথচ তাদের চেহারায় পরিচিতির নিশ্চিন্ত আশ্রয় নেই। শরীরের ভাঁজ, রেখার পুনরাবৃত্তি, বিকৃতির নিজস্ব ব্যাকরণ, আলো-অন্ধকারের সূক্ষ্ম বিন্যাস—সব মিলিয়ে তিনি মানুষের অবয়বকে এমন এক ভাষায় অনুবাদ করতেন, যেখানে বাস্তব আর কল্পনা পরস্পরের মধ্যে মিশে যায়। তাঁর ওয়াশ পদ্ধতির ছবিতে কালির স্তর, ধূসরতার গভীরতা এবং রেখার সংযম এক ধরনের রহস্যময় আবহ তৈরি করে। আবার রঙের ব্যবহারে, বিশেষত জলরং ও কালির কাজে, তাঁর মুনশিয়ানা ছবির শরীরকে দেয় এক অনন্য স্পর্শযোগ্যতা। কালিঘাটের পটচিত্রের ঐতিহ্য ও আধুনিক সংবেদনার মেলবন্ধনে তাঁর শিল্প পেয়েছিল নিজস্ব ভাষা। তাঁর ছবিতে সৌন্দর্য কখনও নিছক অলংকার নয়; তার ভিতরেই লুকিয়ে থাকে অস্বস্তি, ব্যঙ্গ, জীবনের ক্ষত।

তাঁর ছবি দেখতে দেখতে মনে হয়েছে, একজন শিল্পী আসলে তাঁর সময়কে কী আশ্চর্যভাবে নিজের রেখার মধ্যে ধরে রাখতে পারেন! মানুষের শরীরের ভিতর দিয়ে তিনি যেন এঁকে গেছেন মানুষেরই অন্তর্জগৎ। তাঁর ছবির সামনে দাঁড়ালে তাই শুধু ছবি দেখা হয় না, নিজের অচেনা কিছু অনুভূতির মুখোমুখিও হতে হয়।

যেহেতু তাঁর কাজের সঙ্গেই আমার যোগাযোগ, তাই তাঁর মৃত্যু আমার কাছে তথ্যমাত্র। কাজের মধ্যে দিয়েই তিনি আমার কাছে একজন চিরজীবিত শিল্পী ছিলেন এবং থাকবেন। তাঁর শিল্পের মৃত্যু নেই।


রেখার আড়ালে যে মানুষ
 মইনুদ্দিন সরদার

একটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ কী দেখে? রং, রেখা, অবয়ব—নাকি সেই দৃশ্যমানতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অচেনা জীবন? যোগেন চৌধুরীর ছবির সামনে দাঁড়ালে প্রশ্নটি বারবার ফিরে আসে। তাঁর আঁকা মানুষগুলি যেন ক্যানভাসে স্থির থেকেও কত কথা বলে যায়। তাদের শরীরের বাঁকে, মুখের অভিব্যক্তিতে, ঘন রেখার জালে জমে থাকে জীবনের ক্লান্তি, নিঃসঙ্গতা ও নীরব আর্তি।

১৯৩৯ সালে অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্মেছিলেন এই শিল্পী। দেশভাগের অভিঘাত তাঁকে শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল; কিন্তু তাঁর শিল্পে বাংলার মাটি ও মানুষের স্মৃতি থেকে গিয়েছিল গভীরভাবে। কলকাতায় শিল্পশিক্ষা এবং প্যারিসে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিকে প্রসারিত করেছিল। তবু তিনি নিজের জন্য নির্মাণ করেছিলেন এক স্বতন্ত্র শিল্পভাষা—যেখানে দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক আশ্চর্য সংলাপ।

তাঁর ছবির রেখাগুলি নিছক অবয়বের সীমানা টানে না; কখনও মনে হয়, সেগুলি মানুষের ভিতরের ক্ষতচিহ্ন। নিখুঁত সৌন্দর্যের মোহে মানুষকে ঢেকে না রেখে তিনি দেখিয়েছেন তার অসম্পূর্ণতা, দুর্বলতা ও জটিল সত্য। সেই কারণেই তাঁর শিল্প কেবল চোখের সামনে থেমে থাকে না, দর্শকের মনেও প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে।

আজ যোগেন চৌধুরী নেই। কিন্তু শিল্পীর অনুপস্থিতি কি তাঁর সৃষ্টির অনুপস্থিতি? ক্যানভাসে রয়ে গেছে তাঁর সময়কে দেখার চোখ, মানুষকে বোঝার চেষ্টা, আর রেখার ভিতর দিয়ে সত্যকে প্রকাশ করার সাহস।

একজন শিল্পীকে স্মরণ করা মানে শুধু তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ নয়; তাঁর সৃষ্টির সামনে আবার দাঁড়ানো, নতুন করে দেখা ও ভাবতে শেখা। যোগেন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর রেখায় ধরা মানুষের গল্প আগামী দিনেও আমাদের নীরবতার ভিতর কথা বলে যাক।

আমার চোখে আমার জেঠু
দীপান্বিতা ঘোষ

শিল্পী যোগেন চৌধুরী সম্পর্কে তো অনেকেই জানেন। আমি চিনি আমার জেঠু, যোগেন চৌধুরীকে। তার সাধারণ জীবন যাপন, নরম করে কথা বলা, শিকড়ের টানে বেঁধে থাকা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, আমাদের শিখিয়েছে পরিবারকে কিভাবে জড়িয়ে বাঁচতে হয়।
জেঠু তখন রাষ্ট্রপতি ভবনের কিউরেটর। আমার বাবা আমাদের নিয়ে হঠাৎ পৌঁছে গেছিলেন জেঠুর বাড়ি। তখন আমার কত বয়স হবে, ১২কি ১৩ বছর। তখন এমন এক সময়, যোগাযোগের ব্যবস্থা বলতে ছিল শুধু চিঠি, টেলিফোনের চল ছিল না। আর বাবা কোন কিছু না জানিয়ে তার বন্ধু-বান্ধব পরিবার নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। এত বড় মাপের মানুষ জেঠু এবং জেঠিমা যে, তাদের আপ্যায়নে কোন ত্রুটি চোখে পড়েনি আমার।যদিও তখন আমি খুবই ছোট। জেঠু আমাকে আর পুপুনকে (জেঠুর ছেলে) সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন, মোগল গার্ডেন সব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন।
বাড়ির প্রতিটা অনুষ্ঠানে জেঠুর সব সময় বাড়ির একজন হয়ে থাকতো। সে সেখানে শুধুই ভাই কাকু বা জেঠু, কোনদিন কখনো বুঝতেই দেয়নি যে সে এত বড় মাপের মানুষ। বুঝতাম যখন অন্যের চোখে সম্ভ্রম দেখতাম।
বাড়ির কোন সদস্য যদি কোনো ভালো কাজ করত, জেঠু ভীষণ খুশি হত। তাকে সমস্ত রকম সাহায্য করত। ২০১৩ সালে যখন আমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হল, অ্যালবামের কভার পেজ জেঠু নিজে হাতে এঁকে দিয়েছিল। তারপর২০২৫ সালে যখন আমার প্রথম সিনেমা তৈরি হল, জেঠু নিজের হাতে আমার সিনেমার নাম লিখে দিয়েছিল।
তার নিজের হাতে লিখে দেওয়া নামটি আজও সিনেমার পর্দায় জ্বলজ্বল করছে। ভীষণ খুশি হয়েছিল আমার সিনেমা তৈরি করার খবর শুনে। বারবার বলছিল, আমাদের বংশের কেউ এই কাজটা এখনো করেনি। তুমি প্রথমবার করলে। খুব ভালো কাজ করলে। আরো অনেক এগিয়ে  যাও। সিনেমার নিবেদনও করল জেঠু।
আজ জেঠু নেই, যেন মনে হচ্ছে মাথার ছাদটা সরে গেছে। কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর জীবন বোধ শিখিয়েছে আমাদের, কিভাবে মাটির কাছাকাছি থেকেও আকাশ ছোঁয়া যায়, নিজের নিজের মত করে। ভালো থেকো জেঠু, তোমার অপেক্ষায় রইলাম।

যোগেন চৌধুরী থেকে যোগেনদা
ঋত্বিক ত্রিপাঠী 

২০১৩ সালে প্রকাশ পায় জ্বলদর্চি'র বিশেষ সংখ্যা 'কেন লিখি'(২য় খণ্ড)। সেই সংখ্যায় চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী এই বিশেষ বিষয় নিয়ে একই সঙ্গে কলম ধরেন, তুলি ধরেন। জ্বলদর্চি'র আমন্ত্রিত লেখক হিসাবে তিনি তাঁর গদ্যে জানান, তিনি 'কেন লেখেন।' তিনি লেখায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, —" হাতে গোনা কিছু কবিতা এবং প্রবন্ধ ছাড়া আর কিছু লিখিনি। প্রবন্ধ অবশ্যই মূলত শিল্পকলা বিষয়ক।... এক একসময় মনে হয় যদি গল্প বা উপন্যাস লিখতাম তাহলে কেমন হয়। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয় —কারণ ছবি আঁকার ব্যস্ততা প্রচুর সময় নিয়ে নেয়।" আর, আমন্ত্রিত চিত্রশিল্পী হিসাবে আঁকেন চিত্র।

২০১৪ সালে 'বিশ্ববোধ' সংখ্যাতেও তিনি লিখেছিলেন প্রবন্ধ। লেখায় উঠে এসেছিল বিশ্বের সমস্যা।
'বিশ্ববোধ-বিশ্বজনীনতা'— এই শিরোনামে তিনি লিখেছেন—"পৃথিবীতে ধর্মযুদ্ধে এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের কারণে যত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং যত সভ্যতার ধ্বংস হয়েছে—তত মৃত্যু এবং ধ্বংস আর কিছুতে ঘটেনি।"

২০১৭ সালে জ্বলদর্চি'র ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে আসতে পারেননি, কিন্তু শুভেচ্ছাপত্র পাঠিয়েছিলেন।

জ্বলদর্চি'র সাক্ষাৎকার সংখ্যায় তিনি দিয়েছেন দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। জ্বলদর্চি গর্বিত। আমরা হয়েছি ঋদ্ধ। মুখোমুখি হইনি কোনওদিন। কিন্তু ফোনে চিত্র ও লেখালেখি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বহুবার। তাঁর ছিল বড় মন। লিটল ম্যাগাজিন ভালোবাসতেন। দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কে, তিনি হয়ে উঠেছিলেন—যোগেনদা।

🍂

Post a Comment

0 Comments