তনুশ্রী ভট্টাচার্য্য
প্রম্পটার
নাটক শেষ। গ্রীণরুমে মেকাপ তোলার পালা। পোষাক বদলিয়ে রাজা এখন বারমুডা আর টি শার্টে ফ্রেশ। মন্ত্রীর পাগড়িতে গোঁজা কূটনৈতিক পালক এখন নেতিয়েপড়া সতরঞ্জিতে মুখথুবড়ে পড়েছে ।
রাণীর ঠোঁটে সিগারেট। মোলায়েম ধোঁয়া ছেড়ে সে গোটা টিমের জন্যই ডিনারের অর্ডার দিচ্ছে সস্তার হোটেলে।
গ্লিসারিনের কৌটা এখুনি চাই বলে হাঁক পাড়ছে মেকাপ ম্যান--চোখের জলের বিকল্প গুছিয়ে রাখতে হয়।
মঞ্চের সব কৃত্রিম আলো নিভে যাচ্ছে ক্রমশ।
শুধু একজনের কোনো রূপসজ্জা মুছে যায় না।
সে সব ভূমিকায় অভিনয় করে।
স্ক্রিপ্টের বাইরে তার যাবার জো নেই।
অবিকল মানুষের মতো ।
সে প্রম্পটার। নিরুপায়।
ধূলট কিশোর
থম মারা ওই আকাশখানা
নিচ্ছে গুনে ভয়ের আনাগোনা
সোনালী রোদ হারিয়ে গেছে
আর কি তবে ফিরবে না রূপমতী?
কোথাও যেন জমাট বাঁধে
দরিদ্রনীল হৃদয় মনকেমন
বাতাস ওড়ায় বিষণ্ণ এক ডানা
রূপমতীর আবাস —জানে একজনা।
কোন জনা সে কেমন সহচর
নবীন? স্তব্ধ? নাকি মুখর ---?
শুশ্রুষা সে দেয় বসুমতীর মতো
নতমুখের লাজুক চোখ নওল কিশোর।
রাত্রি যখন পরিক্রমা শেষে
পৌঁছে যায় দিনের ওষ্ঠরেখায়
অন্যমনা রূপমতীর স্খলিত নূপুর
ধুলো ঝেড়ে পরিয়ে দেয় ধূলট কিশোর।
বেদখল
ছাদটি দখল করে থাকে দিনে রোদ, রাতে তারা।
আঁধার হোক কি মেঘলা
ছাদ যেন একলা হতে পারে না।
শুধু হলুদ ঘোমটা যখন খুলে যায় এক ঝটকায়
ঝড় উঠলে
ছাদ ছুটে যায় তার আঁচলে একা।
গোল চাঁদ যখন শুষে নেয় ভালোবাসা বৌটির কাছ থেকে
ছাদ চেটেপুটে স্বাদ নেয় তার একলা।
বেদখল ছাদ তখন কদমতলি।
0 Comments