বাসুদেব গুপ্ত
হরেকরকম্বা
খেলতে নেমে পড়ার কথা? সেটাই আদিখ্যেতা
পদ্য শোনাও ছুরিও শানাও হরেক রকম ক্রেতা।
ভাবনাবিভোর আকাশটা ভার কাজলকালো হাওয়া
উড়ছে গুলি ফুটছে দালান চোখ ভরে তার চাওয়া
হাঁটতে গেলেই হঠাৎ হোঁচট ভালোবাসলে উপহাস
কুমীর আমার নৌকো আমার জলের ঘরেই বাস
খেলতে নেমে একটু আঘাত একটু আড়াল ক্ষত
জানি গো তাই সাজঘরে যাই সাজতে মনো মত।
শব্দগুলো নিচ্ছে ছুটি সুরগুলো সব বুড়ো
ঝাঁপ ফেলেছে প্রেমের দোকান বুকগুলো সব গুঁড়ো
হাড়ের ভিতর বাজছে বাঁশী রক্তে ওঠে তান
কে যে মানুষ আমিই বা কি কে দেবে প্রমাণ
ছুটিও আজ ছুটির আশায় রেল লাইনে বসে
দেখছি চোখের তারা সবার যাচ্ছে খসে খসে।
হৃদয়ে প্লাস্টিক বাঁধো
সোনালি আকাশ হবে রূপালী পরীরা কথা দিয়েছিল
পাড়াগাঁর শুকনো পায়ে ঝমঝম চাকা হবে। হয়েছিলো?
শহরের আকাশ হবে বিস্মিত হলিউডি নীল
বলেছিলে দুর্বা ছুঁয়ে সে তো ছিল ভাতা পাওয়া রীল।
ঝড়বৃষ্টি হতে পারে পূর্বাভাস ছিলো দুপুরেই
সোনালি ঈগল আগে। ঈশ্বর একটু পরেই।
উডে যায় কাঁথা ওড়ে হাঁডিকুড়ি প্রাথমিক বই
ঝড় বসে ওয়াই ফাই-এর ঘাড়ে বৃষ্টি এলো কই
ঝড়েশ্বরের নাম সাষ্টাঙ্গ প্রণাম হোক ভবিষ্যৎ ভূত
বেঁচে থাকবার চেয়ে সোজা ফিসফিস বলে গেল দূত
কে চালায় ফাঁকা ট্রাম কে দেয় নদীর বুকে পাড়ি
জানে তো সবাই কিন্তু বললেই বয়ে যাবে আড়ি।
বলবনা বুঝে নাও। সকলেই জীবন পড়েছো
যুদ্ধটা হোক। পরে, যে যার হৃদয়বাস কেচো।
শেষ স্টেশন
যেন শেষ এবারের মত চলাফেরা।
ক্লান্ত ট্রেন দীর্ঘ ভূতদেহ।
ডিউটি শেষ
ড্রাইভার উড়ে গেল উন্মুখ বাদুড় ডানায়
রাস্তা থমকে কার ভয়ে?
আকাশের মত খাদ নেমে আসে
খাদের প্রবেশ ঢাকা প্রবীণ সবুজে।।
তুমি জানো। এর পরে কিছুই করার নেই
এর পরে কিচ্ছু বলার নেই
যেন সব শেষ এবারের মত …
নাগরদোলায় চড়ে মেলা বনবাসিনী
এইতো ওড়াচ্ছিল রঙিন বেলুন
চাক চাক ভীড়
সৃষ্টিধরের চায়ে টুং টুং চামচের সুর
ঘন ঘন কুরিয়ার কে পাঠায় পুষ্পস্তবক?
এইতো টেবিলে পাতা সপ্তরথীর ভাঙা হাত
সাতটা কাপের গালে হাত। অবাক দেখছিলো
ঠোঁট, আর চায়ের ফাঁক দিয়ে
কোন পথে খসে যায় সঙ্গ শপথ
ঝাঁকামাথা বট আজ ডাইনীর পোড়া সাদা চুল
খেলা শেষে নেমে এলো অন্ধকারে ঝুরি ধরে ক্ষয়
ভাঙা সার্কাসের তাঁবু। রাক্ষস আজ রিংমাস্টার
মাটিতে গড়ায় সব রংচটা দেবতার মুখ।
অস্পষ্ট কুকুরের মুখে ঝুলতে ঝুলতে যায় সুখ।
রীল শেষ
এবারের মত … গাড়ী আর যাবে না কোথাও।
0 Comments