দেবাশিস মাঝি


দে বা শি স  মা ঝি


লৌকিক প্রচ্ছদে

অশান্ত খনি গর্ভ থেকে উঠে আসছে লাভা
চোখের অগোচরে লৌকিক প্রচ্ছদে
বিস্তীর্ণ সাহারা জুড়ে মরু ঝড়,
সাইরেন আর লালবাতি ওয়ালা এসি গাড়ি গুলি
ঝাঁ-চকচকে রাস্তা ধরে ছুটে যায় 
ক্ষমতার ছায়া ছড়িয়ে।
ধুলোরেণুর জন্ম মাটি আঁকড়ে
নুয়েপড়া গাছগুলি রহস্য গন্ধের সৌজন্য বিনিময়ে
নুন-ঘাম-রক্তে জেগে আছে বিষন্ন সন্ধ্যায়-
কার্নিসের কিনারায় পায়রার বকবকানি, খুনসুটি
আকাশে আকাশে রোদঝরা সকাল
নক্সি কাঁথায় ঝাপসা চোখ।
সবুজ দিগন্তে লক্ষ্মণরেখা ভেদ করে
ঢুকে পড়ছে শঙ্খচিলের কনভয়।
শীতঘুম ভেঙে জলরং তুলিতে
ভেসে ওঠে অবেলার রোদ।
চাঁদ পূর্ণিমার সাপলুডোর খেলা ঘর ফেলে
ফিরে গেছে ভিন্ন পথে সন্ন্যাসরঙা সন্ধ্যা,
অনন্ত মাঠের সীমানায়
জীবন কথার কথাঘর সাজিয়ে
অষ্টাদশী ডুব দেয় মেঘ মাদল ওড়িশী নাচে
মন্দিরার লয় তানে।
সরলরৈখিক নিয়ম
               
আলো অন্ধকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
হঠাৎ মনে হল-
কে যেন আমার ছায়া টানছে
প্রতিবিম্ব কেঁপে কেঁপে উঠছিল তারপর অদৃশ্য হলো ছায়া।
কারা যেন মেঘটাকে জোর করে টেনে এনে
দাঁড় করালো সূর্যের সামনে
আমি-মেঘ-সূর্য,
গ্রহণের ঐকিক নিয়মে বাঁধা করলাম।
সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ নয়
এক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অনভিপ্রেত আর্তনাদ।
একাকিত্বের মুখোমুখি
শূন্য থেকে মহাশূন্যের হিসেব কষতে কষতে
তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে-
দিবালোকে আমার সঙ্গী বলতে আর কেউ রইল না।


রাত্রির বাস্তবতা
          
গঙ্গার ঘাটে ডুবে যাচ্ছে শহর কলকাতা
মানচিত্রে ছায়াটা দীর্ঘ হতে হতে একসময় লীন-
হাওড়ামুখো কাকের ঠোঁটে ঠোঁটে
ছেঁড়া বারুদের গন্ধ
ব্রীজের শব্দ-ধোঁয়াশা গোধূলি পিছনে ফেলে
তড়িঘড়ি গঙ্গা পার।
লিপস্টিক ঠোঁটে তর্জনী চেপে
নিঃশব্দে চুম্বন আঁকে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে
কামরাঙা কিশোরী,
খোঁপা খুলতে খুলতে কালো রাত্রিকে ছড়িয়ে দেয়
দু'বাহু তুলে আজানুলম্বিত-
রাত গভীর হলে চুপচাপ সেলফোনের উলঙ্গ আলিঙ্গনে
হাজার আলোকবর্ষের পথ ছুঁয়ে ল্যাম্প পোস্টের বোবা আলো
অন্ধকারের কাঠগড়ায় বেবুক নির্বাক।
রাতভর বাস্তবের মুখোমুখি
নিস্তেজ ক্লোরোফিলের নাড়িছেঁড়া চোখের জল
ভোরের কুয়াশায় মিশে যায়
কেউ তার খবর রাখে না-
অথচ ভোর হলেই পবিত্র গঙ্গা স্নানে যত হুড়োহুড়ি...


বৃত্তময় অনুভূতি
      
একটি স্পর্শকাতরতাময় নৈঃশব্দ দুপুর চেয়েছিল-
বৃষ্টি নামুক রাত্রির গা বেয়ে...
কেশবিন্যাস থেকে ঝড়ে পড়ুক নদী,
চোখের জলে নৌকো ভাসাব বলে
জ্যোৎস্নার উৎসকে পিছনে ফেলে
হাওয়ার অনুকূলে প্রতিক্ষায় দিন গুণি।
স্তব্ধতা সপ্ত রং ছুঁতে ভালোবাসে খুব...
বিকেলের মৃদু আলোয় বেরিয়ে আসে বালিহাঁস
দীর্ঘশ্বাস আর বিষন্নতার উপচ্ছায়ায়
প্রজাপতির রংচটা শরীরে
নির্জনতার প্রলেপ।
মাঝরাতে চাঁদকে ছোঁব না বলেই
অন্ধকারের দিকে পা বাড়াই,
আস্থা অনাস্থার প্লাটফর্ম ছুঁয়ে
ছায়াচিত্র তুলতে তুলতে একসময়
অন্ধকার গিলে গিলে খায়
রাত্রির শরীর-
দৃশ্যমান প্রান্তর অন্ধকারে ডুব দেয়
ধাবমান সরলরৈখিক পথ বৃত্ত পথে মোড় নেয়,
যার কেন্দ্রে শূন্যতা অনুভব করি অহরহ...


তোমাকে...

তোমার জন্য জমানো চোখের জল
নীল সমুদ্রকে দান করলাম।
পরিচয়পর্ব ভালোবাসাবাসি গূঢ় সম্পর্ক 
সবই অলীক-
সমুদ্রের ও জোয়ার আছে
আছে উচ্ছ্বাস, সম্মোহন টান
নিত্য অনিত্যের রোজ নামচায়
কেউ ভালো নেই কোত্থাও
সুখ অসুখ নিয়ে বেঁচে আছি।

ভালোবাসা আজ আছে, কাল সন্দিগ্ধ...
কায়ায় কায়ায় মান অভিমান অহংকার
ছায়ায় ছায়ায় প্রবঞ্চনা,
মায়ায় মায়ায় এত দুঃখ এত কান্না‌ এত টান-
তোমার জন্য ভালোবাসার সাগর
জেগে আছে আমার বুকে,
কারণ সমূহ চোখের জল
আমি তোমাকেই দান করেছি...

------

Comments

Post a Comment

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন