গুচ্ছ কবিতা /শুভশ্রী রায়

গুচ্ছ কবিতা 

শুভশ্রী রায়


অন্ধকারের শব

আলো নিয়ে তুমি কত উজ্জ্বল ভাবো
ও দিকে তোমাকে ভেদ করে
যেতে চায় আলো মাত্রায় অন্য,
বাধা পেয়ে হয়ে যায় একটু বন্য।

সব আলো দেখা যায় না
কোনো কোনো আলো লুকিয়ে লুকিয়ে
নিজের কাজ করে যায়, তারপরে
আশীর্বাদের মতো এক পলে
তোমার চোখে ঢুকে যায় আর
তুমি দেখ আলোর নদী, ঝর্ণা, ফোয়রা
আলোর সরোবর, হ্রদ, নদী, সমুদ্র
সেখানে সাঁতার কাটতে চাও তুমি
আলো পান করতে চাও যদি বা
অনাসৃষ্টি ভাবে মানুষ, ভাবুক!

রচয়িতার কল্পনা এক কণাও
তোমাকে বাদ দিয়ে নয়, আলোচিত্রে
তুমিও জ্বলজ্বল করছ, অক্লান্ত তুলি,
আলোকিত কলম, আলোকপিয়াসীদের জন্য
ঈশ্বর আলো লিখছেন পৃথিবীর খাতায়
আর পরিবার 'বিবাহ পরমোগতি' ধাঁচের 
নিয়তি লিখছে তোমার মাথায়।



মেঘ ক্যুরিয়র


মেঘ ভর্তি একটা শ্রাবণ আমাকে উপহার দিতে পারে কেউ, ঠিক এ কথা 
কিন্তু দেবে না কেউ সহজেই 
যেহেতু আমি বৃষ্টিকে ডাকছি
আর তাতেই পরমাপ্রকৃতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ভাবখানা এরকম তাঁর,
এই যে একক রমণী, তুমি কে বৃষ্টি ডাকার?

বর্ষার অভিমুখে
আধপোড়া সমস্ত মানুষ হো'ক সমবেত
যাদের জীবন মরূ হয়ে গেছে তারা মস্তকে নত
সমবেত প্রার্থনায় বৃষ্টিকে ডাকুক
জমায়েত না চাইলে ব্যক্তিগত উপাসনাগারে
কান্নায় ভেজা মন্ত্র বলুক
নিজের নিজের অশ্রুর বর্ষণ ঘটাক তো আগে
মেঘের জন্য এমন কালো হয়ে মেঘ
নারীপুরুষের মুখে জমে থাকুক
যাতে খটখটে দিনগুলোকেও মেঘলা মনে হয়।
তারপরে বৃষ্টি নামে এক দুষ্টুকে পাঠাব আমি
ক্যুরিয়র মেঘ।

বৃষ্টির জলগান তুমি চেও না একলা।



আদি তর্ক


আদি তর্ক সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে রয়েছে একা তোমারই ওপর
কতখানি অন্ধকার তুমি ধরে রাখবে নিজের ভেতর!

চার দিকে বিচিত্র আঁধার কখনোই শুধু সূর্যাস্তের পরে নয়
যথারীতি সে সমস্ত আঁধারকেও তুমি করবে কী ভয়?

নিছক রাত নয়, রোগ-মৃত্যু-শোকও আঁধার বহন করে
সেই আলোহীনতার ছায়া তোমার আত্মায় কতদূর পড়ে?

অন্ধকার তো হাজারো ধারায় প্রবাহিত হয় তোমার সমুখে
স্থির কোরো তার কতখানি রেখে দেবে তোমার দু'চোখে।

তুমি আঁধারের পিছু পিছু কত দূর যাবে বা আদৌ কী যাবে?
একটু ভেবে নিও তুমি যখন পড়বে প্রকৃত আলোর অভাবে।

তুমি আঁধারকে শাসন করবে না কী সে হ'বে তোমার শাসক
কোনো এক নির্ণায়ক পলে সে তর্কেরও ফায়সালা হো'ক।



ঘরপুরুষ


নেই আমার কোনো ঘরপুরুষ বাধ্য বা অবাধ্য
কোনো পরপুরুষও নেই।

বন্ধুরা জানতে চায়, কী করে থাকিস বেঁচে পুরুষবিহীন?
উত্তরে আমার হাসির গায়ে
কমরেডকথা লেগে থাকে চুপচাপ।
ভাবি কিছু কথা।

কমরেড থাকেন মহানগরীর দক্ষিণ দিকে
তাঁর কথা বাড়াবাড়ি মনে পড়ে কখনো কখনো,
ছিমছাম ছোট্ট ঢাকুরিয়া-বাড়ি
ঢুকেই একটা জেদী পেয়ারা গাছ যে মরেও
বারবার বেঁচে উঠে কিংবদন্তী হয়ে গেছে
দক্ষিণ আপন পাড়ায়,
আরো মনে পড়ে কমরেডের চিবুকের দৃঢ়তা
ঘন কালো ভুরু; অনেকটা দৈর্ঘ্য।

মনে মনে বলি, সামনের জন্মে যেন
রাগী, জেদী কমরেডকে পাই
আবাসে ঢুকতেই পেয়ারা গাছের ছায়া জড়িয়ে ধরবে। তারপরে ঘরপুরুষ....
ওই দেব-ভবন, কমরেড, তাঁর একান্ত মুহূর্ত
আমার সমস্ত হ'বে। 

এ জন্মে বাতাসী মৌসুমী পেয়ারা গাছের সঙ্গে
আশ মিটিয়ে করে নিক খেলা।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি