গুচ্ছ কবিতা -৪ /তাহের আলি

গুচ্ছ কবিতা -৪
তাহের আলি

গল্প বলি শোনো


বাসটি ছুটছিল, ছিল ঝড়ের গতি,
বাসে জনাবিশেক ছাত্রী, খুশির নেই খামতি।

তারা যাবে ভ্রমনে, কোনো এক স্থানে,
আর যাবে একজন, কোথায় যাবে সেই জানে।

সে ছিল বছর চল্লিশের ব্যক্তি, একজন,
খোঁচা খোঁচা দাড়ি,আর উদাস নয়ন।

ওগো পিতৃসম, ছাত্রী সব শুধাইল তাহারে,
কোথায় যাবে তুমি, বলো আমাদেরে।

শান্ত স্বরে বলিল সে, নামিতে পারি মধ্যখানে,
নতুবা যেতে পারি, রাস্তার শেষ যেখানে।

ওগো পিতৃসম, তাহারা শুধাইল আবার,
কি কাজ করো তুমি, বলো না একটিবার।

বিস্তারে বর্ননা করি, তোমাদের প্রশ্নের উত্তরে,
অবশ্য শুনিবে তাহা, মনোযোগ সহকারে।

বিনা অপরাধে আমি, জেলে ছিলাম সাতটি বছর,
আমাদের প্রথম সন্তান জন্মিত তখন, কয়েক মাস পর।

প্রিয়তমারে বলে ছিলাম--প্রিয়তমা আমার,
কোনো সম্পর্ক রাখিও না, কোনোভাবে কোনোবার।

তুমি তো সুন্দর, প্রকৃত যৌবনা,
সাত বছর আমার জন্য,অপেক্ষা করিও না।

তুমি করিতে পার, বিবাহ পূনর্বার,
কোনো দুঃখ, অভিমান থাকিবে না আমার।

যদিও বা মনে রেখো, সাত বছর আমারে,
হলুদ ফিতে লাগিও ওই ওক গাছে, রাস্তার মোড়ে।

আসিব ফিরে হলুদ ফিতে দেখে, সাত বছর পরে,
না হলে চলে যাব, হারিয়ে যাব, জন্ম জন্মান্তরে।

চোখ ফেটে এল জল, কাঁদিয়া উঠিল সে তখন,
ছাত্রীরাও কাঁদিল খন, ভেঙে গেল তাহাদের মন।

উত্তেজনার পারদ উঠিল, ছাত্রীদের অন্তরে,
চালককে পুছিল-ওই ওক গাছ আরো কত দূরে?

দেখা গেল সেই গাছ, প্রতীক্ষার হলো অবসান,
হলুদ ফিতার সাথে মিশে আছে, হলুদ ফুল বিতান।

ইভান নামিল সেথা, বাস দাঁড়ালে পরে,
ওয়েলকাম জানাল গ্ৰামবাসী, হলুদ ব্যানারে।

দাঁড়িয়ে থাকা জলি, লুটিয়ে পড়ল ইভানের বুকে,
ফুলের মতো সুন্দর ছোট্ট টমি, জড়িয়ে ধরলো বাবাকে।

আনন্দে কাঁদিল তা্রা বেশ কিছুক্ষণ,
কালো মেঘ সাদা হল, ঢালিয়া বরষন।

বাসের ছাত্রীসব দেখিল, এক নাটকের সমাপন,
তারাও কাঁদিল, অবশেষে হাসিল, এ যেন স্বর্গীয় বন্ধন।


বন্ধু হলে

দেখা হল সেই দিন
মিলে গেল মতের, মিলে গেল পথের,
মিশে গেল হৃদয়ের।
তুমি আমার বন্ধু হলে।

অনেক পথ পেরিয়ে, এসেছি তোমার কাছে,
জিরিয়ে নিয়েছি একটুখানি, তোমার স্নেহের পাশে।
তোমার অন্তরের পাখি, আমারে শুনিয়েছে গান,
তোমার হৃদয় বীণা বিলিয়েছে সুর তান।
তুমি আমার বন্ধু বলে।

চলতে চলতে পথে,যদি
থেমে যাও আমার কুটিরে।
বিছিয়ে দেব শীতল পাটি,
সরা ভরা জল, বাটা ভরা পান,দেব তোমারে।
তুমি আমার বন্ধু বলে।


যৌবনের পরে

পাহাড় তুমি তো যৌবন ধরে রেখেছ।
নদী তুমি ছন্দের তালে তালে বয়ে চলেছ।
আর নক্ষত্ররাজি তোমরা মিঠি মিঠি
হাসি বিকি্রন করে চলেছ।
তোমরা আমার বন্ধু,
তোমাদের তারুন্যে আমি খুশি।

তোমরা আমার পানে তাকাও।
মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়েছে,
ত্বক হয়েছে কুঞ্চিত বলিরেখা,
হাসি হয়েছে মধুহীন।
কোনো দুঃখ নেই আমার,
এটা তো প্রকৃতির দান।

এক পাখি আছে আমার বন্ধু ,
তাকে বড় ভালোবাসি,দিবাকালে সে
গাছে গাছে উড়ে বেড়ায়।
সন্ধেবেলায় বাসায় এসে আমাকে গান শোনায়।
আমি গান শুনে ,ঘুমিয়ে যাই।
একদিন সে আমাকে বললে-
বন্ধু তুমি কষ্ট পেয়ো না।
আমিও তো একদিন বুড়ো হব
ঠিক তোমার মতো।



মেঘ আমার বন্ধু 

সূর্য দেব ওঠেনি তখনও
চোখ কচলাচ্ছে মাত্র।
পূর্ব দিক মেঘমুক্ত আকাশ
পশ্চিম দিক ঘন কালো মেঘে ঢাকা।
মেঘের পানে তাকিয়ে হেঁটে চলেছি।
প্রকৃতি রূপে বিভোর হয়ে।

মেঘকে ডেকে বললাম -
মেঘ তুমি কত সুন্দর,
তুমি আমার বন্ধু হবে?
তোমার ঘরে নিয়ে যাবে?
কদিন থাকব তোমার সঙ্গে,
তোমার সঙ্গে উড়ে বেড়াব।
বলতে বলতেই বৃষ্টি এলো,
ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি এলো,
ধবল বক যুগল
বুঝে ওঠার আগেই ভিজে গেল।
একটা বুনো শিয়াল সেও,
বোকার মতো ভিজে গেল।
আমিও ভিজে গেলাম,
আমাকে কিন্তু মন্দ লাগেনি।

মেঘ আর নেই,
তার কালো রূপ আর নেই।
সব জলঢেলে দিয়ে, সে হয়েছে নিঃস্ব রিক্ত।
হয়েছে আকাশ মাত্র।
কানে কানে বলে গেল
রাগ করোনা বন্ধু।
আমি রূপ বদল করি
আমাকে দেখতে পাবে ভেজা রাস্তায়,
দীঘির জলে, নদীর জলে।
বন্ধু! আবার দেখা হবে।

পেজে লাইক দিন👇



Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন