মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

বিজ্ঞানের অন্তরালে বিজ্ঞানী ।। পর্ব ― ১৭

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক : শূন্য থেকে অসীমে উত্তরণের রূপকথা 

পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা


'মণি, কোথায় গেলি রে? ফিরে আয় বাবা'― এক জনম দুঃখিনীর আহ্বান। এ এক অমোঘ ডাক। আকাশে বাতাসে অনুরণনের ঝড় তোলে। না-শোনার ভান করে ফিরিয়ে দেবে সে দুঃসাহস কারও নেই। আবার চুপ করে বসে থাকারও জো নেই। সে-সুরে যেমন মায়া-মমতা-প্রেম মেশানো; তেমনই আছে এক আত্মিক নির্ভরতা, অসংশয়ী নিশ্চয়তা। 

  দৃশ্য―১ : দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। যেন কচি সবুজের চাদর বিছিয়ে রেখেছে কেউ। প্রকৃতির সে-ছোঁয়া লেগে চিন্তন, মনন আর বিমূর্ত চেতনা মূর্ত হয়ে উঠছে। কী মনোরম দৃশ্য। কী আশ্চর্য প্রশান্তি। আলতো বসন্ত পবন মাথা দুলিয়ে দিয়ে যায় বোরো ধানের ক্ষেতে। সমুদ্রের হালকা নীল জলরাশির ন্যায় মৃদুমন্দ আন্দোলিত হচ্ছে নরম সবুজ মাথাগুলো। অচেনা-অজানা সংগীতের তাল-লয়-সুরে কেঁপে কেঁপে উঠছে তাদের শরীর। শিস দিতে দিতে আঁকা-বাঁকা উঁচু-নিচু ঢেউ-খেলানো আলপথগুলো লুকিয়ে পড়ছে ধানের শিষের কোলে। এ এক অদ্ভুত মিথস্ক্রিয়া! কী আশ্চর্য সুন্দর দৃশ্যপটও। 

  এমন প্রেক্ষাপটের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটি ধুম্রযুক্ত চার-চক্র যান। সাদা রঙের মারসেডিজ। সম্পূর্ণ শীততাপনিয়ন্ত্রিত। উচ্চ গতি। ধানক্ষেত পেরিয়ে, আলপথ ডিঙিয়ে এগিয়ে যায় দূরের অখ্যাত গ্রামটির দিকে। মাইল দুয়েকের পথ তখনও বাকি। রাস্তা গিয়েছে সরু হয়ে। এরপর হাঁটা পথ। মারসেডিজের বিশাল বপু সে সরু পথে বেমানান। অগত্যা পড়ে রইল সবুজে ঘেরা মাঠের চৌহদ্দির মধ্যে। গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন একজন সুদর্শন ভদ্রলোক। সাক্ষাৎ রাজপুত্তুর যেন। পিনস্ট্রাইপড কালো স্যুট পরিহিত আর চামড়ার জুতো পায়ে। সামনের পথ শুধু কাদা আর জল। উঁচু নিচু মেঠো পথ। এতটুকু বিচলিত হলেন না তিনি। সেই কর্দমাক্ত পথে পায়ে হেঁটে মজা ও কুণ্ঠাহীন হনহন এগিয়ে চলেছেন ভদ্রলোক। একফোঁটা ক্লান্তি নেই শরীরে। উধাও শরীরের সকল ধকল। প্রায় ছুটে চলেছেন কুঁড়ে ঘরটার দিকে। যেদিক থেকে ধেয়ে আসছে ওই মায়াময় ডাক। হৃদয় জুড়ানো মমতা-মাখা সুরেলা কণ্ঠস্বর।
  দৃশ্য―২ : সবে শীত পেরিয়ে বসন্ত পড়েছে। ছেঁড়া র‍্যাপার মুড়ি দিয়ে মাঠের কোনাকুনি ছুটে আসছে বছর এগারোর কিশোর এক। বিবর্ণ মুখ। উষ্কোখুস্কো চুল। খালি পা। জীর্ণ জামা। শীর্ণকায় শরীর। হাড় বের হওয়া একহারা চেহারা। ছুটে আসছে ফুটিফাটা খোলা মাঠের বুক চিরে। একের পর এক আলপথ ডিঙিয়ে। গেল-বছর সপ্তমীর দিন সকাল থেকেই মুখ ভার ছিল আকাশের। যে কোন সময় ঝপঝপিয়ে নেমে আসবে বাঁধন-হারা অশ্রু। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই উঠল সর্বনেশে ঝড়। সেই সঙ্গে অঝোরে বৃষ্টি। ভোর রাতে থেমেছিল প্রলয়ঙ্করী নৃত্য। আস্ত দণ্ডায়মান নেই কোনও মাটির বাড়ি, গাছপালা, সোনার ফসল। সপাটে ভূপতিত সব, আস্ত ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে এলাকাগুলো। মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হল। গবাদিপশু মৃত্যুর হিসাব নেই। ঝড়বৃষ্টি শেষ হয়েও শেষ হল না সেই ভয়ংকর রাতের তাণ্ডব পরবর্তী দুঃস্বপ্ন। শুরু হল মহামারি। লোকে বলছে মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষ। মাঠ ফেটে চৌচির। সমাগত গ্রীষ্মের দাবদাহে খাঁ খাঁ করছে দিগ্বিদিক। অজন্মার কারণে ঘরে একমুঠো চাল-ডাল নেই। ঘরে ঘরে উপোস নিত্যসঙ্গী। দ্রব্য মূল্য আকাশ ছোঁয়া। দলে দলে ফ্যান ভিক্ষে করে বেড়াচ্ছে মানুষ। গৃহস্থের ফ্যানও আজ বাড়ন্ত! একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার চারিদিকে। এত যন্ত্রণা সহ্য করে কোনও মানুষ বাঁচে? রাস্তার ধারে ডোবাগুলো থেকে কেমন যেন আঁশটে গন্ধ বেরচ্ছে। একটি ছেলের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে ডোবায়। কুকুরে খেয়েছে অর্ধেকটা। বাকিটা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ রকম বীভৎস দৃশ্য দেখে কিশোরটি দৌড় দিল বাড়ির অভিমুখে। সে ভাবল, ধীরে ধীরে পুরো গ্রাম শ্মশানে পরিণত হবে। যে দু-এক ঘর গৃহস্থ বাজরার ঝোল, রাঙালু আর কলাই সেদ্ধ খেয়ে দিন গুজরান করছে, নেহাত ভাগ্যের জোরে; আর বেশিদিন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না এ মন্বন্তর। উজাড় হয়ে যাবে গ্রামকে গ্রাম। কাতারে কাতারে মৃত্যুর মিছিল পড়ে যাবে। চক্ষুর সম্মুখে সাক্ষাৎ মৃত্যু তাণ্ডব নৃত্য করছে, নটরাজ ভঙ্গিমায়।

  মুখ-চোখ যেন গর্তে ঢুকে গেছে ছেলেটির। অনেকক্ষণ যাবৎ সে অভুক্ত। খিদের জ্বালায় পেট চোঁ চোঁ করছে। বাড়ি পৌঁছেই বা কী করবে সে! সেই তো কলাই আর বাজরার ঝোল! দিনের পর দিন সেই এক মেনু। কোনও পরিবর্তন নেই। একই রকম খাবার কতদিন আর খাওয়া যায়? কাঁচা লঙ্কা দিয়ে আলু সেদ্ধ পান্তাভাত অনেক দিন খায়নি সে। বড়ো লোভ হয়। আসলে ১৯৪৩ সালের মহামন্বন্তর, বন্যা, মহামারিতে কলাই আর বাজরাও বড়ই বাড়ন্ত আজকাল। তবুও সামান্য যে-টুকু বাজরার সংস্থান এখনও আসছে তার বাড়িতে, তার-ই জোরে একবেলা আধপেটা খেয়ে কোনমতে টিকে আছে এত গুলো প্রাণী। এই যা রক্ষে! নইলে কবেই সাঙ্গ হয়ে যেত ভবলীলা। সেজন্য অরুচি হলেও মুখ বুজে চুপচাপ খেয়ে নেয় খাবার। তার ঠাকুমাও হয়েছে তেমনি। নিজে না খেয়ে জোর করে প্রাণাধিক প্রিয় নাতিকে খাওয়াবে। না খেয়ে খেয়ে দিনকে দিন নিজে খুব দুর্বল হয়ে পড়ছে বৃদ্ধা। কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হতে শুরু করেছে। কেমন যেন মিইয়ে মিইয়ে চেয়ে থাকে সর্বক্ষণ। কুঁড়ে ঘরটার দাওয়ায় বসে থাকে, পথ চেয়ে। অপেক্ষা করে কখন আসবে তার সাত-রাজার-ধন-এক-মানিক প্রিয় নাতি। সেজন্য মা ললিতার চেয়েও অত্যন্ত কাছের তার ঠাকুমা সারদা।

  কিন্তু এমনটা ছিল না কিছুদিন আগেও। তারা ছিল রাজার বংশধর। বাবার কাছে শুনেছে সে। 'ভৌমিক' নয়,  তাদের আসল পদবী 'ভুঁইয়া' ছিল। তমলুকের রাজা কালু ভুঁইয়ার বংশধর তারা। সেটা তেরশ বছর আগেকার কথা। বঙ্গোপসাগরের তীরে তমলুক তখন জমজমাট বন্দর। রাজারাজড়া আর বড় বড় ব্যবসায়ীর ভীড় লেগে থাকত  তমলুকে। হিরেজহরতের ছড়াছড়ি। বাজারঘাট রমরম করত কেনাবেচার ব্যস্ততায়। সেই সময়ে তমলুকে এসেছিলেন একজন বৌদ্ধ পরিব্রাজক এবং ঐতিহাসিক, হিউয়েন সাঙ। শহরের বৈভব এবং শোভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। ইস, তখন যদি সে জন্মাত! 
         
  রাজরক্ত বইছে তার শরীরে, শিরায়। একদিন সেও রাজা হবে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে। রাজার মতো অর্থ হবে তার। ঘুচে যাবে যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট, অপমান, না-পাওয়ার বেদনা। জীর্ণ অন্ধকার কুঁড়ে ঘরে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে ভুলে যায় খিদের জ্বালার কথা। স্বপ্ন দেখে রাতের আকাশ, তারাদের কাছাকাছি পাহাড় চূড়ায় হবে তার অট্টালিকা। যেখান থেকে হাত বাড়ালেই চাঁদ ছোঁয়া যায়, ছুঁয়ে দেখা যায় ঝিকিমিকি চমকানো রাতের তারা। সেখানে নিয়ে যাবে তার ঠাকুমা'কে, নিজের মা'কে। বাবা গুণধর ভৌমিকের উপর বেজায় ক্ষিপ্ত সে। বাবা কী করেছে তাদের জন্য? দেশের কাজ করতে প্রাইমারি স্কুলের চাকরিটা পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে! কেমন করে চলবে সংসার, ছেলে লেখাপড়া শিখবে কী করে― কোনও কিছু ভাবল না লোকটা। বাড়িতে প্রায় থাকে না বললেই হয়। ইংরেজের অত্যাচারে প্রায়ই ঘরছাড়া। মা-ই কেবল সারাদিন খেটে মরে। ছেলের দিকে ধ্যান দেওয়ার ফুরসৎ তার নেই। একমাত্র ঠাকুমাই আদরের নাতিকে বুকে ধরে আগলে রেখেছে। শত অভাব-অনটনেও বুঝতে দেয়নি কষ্ট।

  আরেক জন স্নেহময়ী নারীর কথা খুব মনে পড়ে তার। মাতঙ্গিনী হাজরা। তার প্রিয় 'মাতঙ্গিনী দিদি'। তাকে খুব ভালো বাসত মাতঙ্গিনী দিদি। তাদের বাড়ি প্রায়ই আসত। এসেই বলত― 
'তোর জন্যে পিঠে করে এনেছি। তুই পিঠে খেতে খুব ভালোবাসিস, না রে?' 
দৌড়ে গিয়ে মাতঙ্গিনী দিদিকে জড়িয়ে ধরে সে। দাওয়ায় বসে নিজের হাতে তাকে পিঠে খাইয়ে দেয় দিদি। সে দিনটি ছিল ঐতিহাসিক ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২-এর আগের দিন। পরের দিনই এক হাতে শাঁখ আর অন্য হাতে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে দিদি এগিয়ে গিয়েছিল রূপনারায়ণের তীর ধরে তমলুক সিভিল কোর্টের দিকে। সেই যে গেল, আর ফিরে আসেনি মাতঙ্গিনী দিদি। কোনদিন ফিরে আসবেও না। সন্ধেবেলায় জানতে পারে সে। দিদি বলত― 
'একদিন তুই লেখাপড়ায় খুব ভালো হবি। জীবনে অনেক বড় হবি, দেখিস।'

  মশার কামড়ে সম্বিৎ ফিরে আসে। মনে মনে আরও একবার দৃঢ় সংকল্প করে সে, বড় তাকে হতেই হবে। প্রিয় মাতঙ্গিনী দিদির কথার হেরফের হতে দেবে না সে।
  দৃশ্য―৩ : সেটা ছিল ১৯৫৯ সাল। আগের বছর খড়গপুর আই আই টি থেকে পদার্থবিজ্ঞানের ইলেকট্রনিক এনার্জি ট্রান্সফার বিষয়ে পি এইচ ডি সম্পূর্ণ করলেন অত্যন্ত মেধাবী ভদ্রলোকটি, তরুণ বয়সে। অধ্যাপক জগদীশ শর্মা'র তত্ত্বাবধানে। পরে ড. শর্মা কানাডা চলে গেলে প্রফেসর এইচ এন বসুর অধীনে শুরু হল গবেষণা। তিনি হলেন খড়গপুর আই আই টি'র প্রথম ডক্টরেট। তার গবেষণা পত্রের কিয়দংশ ছাপা হল বিখ্যাত 'আমেরিকান জার্নাল অব কেমিক্যাল ফিজিক্স'-এ। সেই ঝকঝকে প্রবন্ধখানি পাঠ করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (লস এঞ্জেলেস)-এর কেমিস্ট্রির অধ্যাপক-লেখক উইলিয়াম ম্যাকমিলান দারুণ মুগ্ধ। তিনি লিখলেন―
'তুমি বিশ্ববিখ্যাত সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছাত্র! যদি ইউ সি এল-এ ছাত্র হিসাবে আসতে চাও, আমি তোমার জন্য স্লোন ফাউন্ডেশন ফেলোশিপের ব্যবস্থা করছি। শুধু প্লেন ভাড়ার খরচ জোগাড় করে আমেরিকা চলে এসো। বাকি সব আমাদের।'

  ব্যাস, ১৯৫৯ সালের পয়লা মে সকালবেলা। পকেটে মাত্র তিন ডলার নিয়ে আমেরিকায় পা রেখেছিল লোকটা। স্টুডেন্ট ভিসায়, মাত্র এক বছরের জন্য। তারপর বদলে গেল তাঁর জীবন যাত্রা। ইউ সি এল এ-তে অধ্যাপক ম্যাকমিলান-এর তত্ত্বাবধানে আরম্ভ হল পড়াশুনা। তখন 'লেজার' নিয়ে খুব বেশি ধারণা ছিল না। যদিও ১৯১৭ সালে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন লেজারের মূল ব্যাপারটা। তা সত্ত্বেও প্রায় পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে গেল লেজার আবিষ্কার। ১৯৬৬-তে থিওডোর মেমান আবিষ্কার করলেন লেজার। এই ক্যালিফোর্নিয়াতেই, ম্যালিবুর হিউস রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে। নবাগত তরুণটি আকৃষ্ট হলেন এ হেন লেজারের ঝর্ণাধারায়। শুরু হল কঠোর অধ্যবসায়, কঠিন পরিশ্রম। রাত জেগে চলল আলোর চর্চা― লেজার সাধনা। চোখের অপারেশনে লেজার ক্রমশ অনিবার্য হয়ে পড়ল। বিশেষত চোখের ছানি অপারেশনে। পৃথিবীতে অনেক মানুষ দৃষ্টি ফিরে পেল লেজার চিকিৎসার সাহায্যে। লেজারের ব্যবহার দিনকে দিন বাড়তে থাকল। বিপুল সম্ভাবনার দিশা দেখাল লেজার, ওরফে 'লাইট অ্যামপ্লিফিকেশন বাই স্টিমুলেটেড এমিশন অব রেডিয়েশন' (LASER)। সি ডি প্লেয়ার, লেজার প্রিন্টার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেটের ঢোকা-বেরনোর পথে বসল লেজার মেশিন। বিশ্ব জুড়ে শুরু হল লেজার প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমেরিকার প্রয়োজন একজন লেজার বিশেষজ্ঞ। ইতিমধ্যে লেজার বিষয়ে হাত পাকিয়ে ফেলেছেন ওই ভদ্রলোক। সেজন্য তাকে আমেরিকায় আটকে দিল। সমস্ত সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, 'জে' ভিসার শর্তকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে খোদ আমেরিকান গভর্মেন্টের সম্মতিক্রমে তিনি রয়ে গেলেন প্যাসাডিনার ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেমস-এ। বিজ্ঞানী হিসাবে। সেখান থেকে ১৯৬৮ সালে এলেন নর্থরপ কর্পোরেট রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারে। বিপুল আর্থিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ভাগ্যলক্ষীর ভাঁড়ার উপচে পড়ার উপক্রম হল। ইতিমধ্যে ১৯৬৫ সালে একবার ঘুরে গেলেন কলকাতায়, তার গ্রামে। এক বছর পরে ফিরেও গেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৬৬ সালে নিজের জমানো টাকা থেকে কিনলেন প্রথম বাড়ি। প্যাসাডিনার সেকো স্ট্রিটে। 
         
  তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর বিজয় রথের চাকা গড়গড়িয়ে চলেছে। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসের চোদ্দো তারিখে তিনি প্রথম ঘোষণা করলেন 'এক্সিমার লেজার'-এর কথা। স্থান, ডেনভার অপটিক্যাল সোসাইটি অফ আমেরিকার সুশোভিত হলঘর।

  এক্সিমার লেজার কী? 
  নোবেল গ্যাস (আরগন, ক্রিপটন বা জেনন)-এর সঙ্গে সক্রিয় ফ্লুওরিন অথবা ক্লোরিন গ্যাস সংযোজন ঘটিয়ে তৈরি হয় এক্সিমার লেজার। সঠিক তড়িৎ উদ্দীপনা আর উচ্চ চাপে এক অলীক অণু, যা এক্সিমার নামে পরিচিত, গঠিত হয়। এই ছদ্ম অনুটি উচ্চ শক্তি কক্ষে অবস্থান করে। উদ্দীপ্ত শক্তিস্তর থেকে ভৌম স্তরে গমনকালে অতিবেগুনী আলোকের স্বল্পপাল্লার শক্তিশালী লেজার রশ্মি বিকিরণ করে। চোখের ছানির সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচার করতে এক্সিমার লেজার আজ অব্যর্থ।

  এমন আবিষ্কারে ছড়িয়ে পড়ল নর্থরপ-এর নাম। সেই সঙ্গে আবিষ্কারক বৈজ্ঞানিকের খ্যাতি। বিজ্ঞানের বিখ্যাত সব কাগজে পঞ্চাশেরও বেশি লেজার বিষয়ক লেখা ছাপা হল তাঁর। বারোটা লেজারের মার্কিন পেটেন্টের মালিক তিনি। একই সঙ্গে জুটে গেল বিরল যুগ্ম সম্মান― আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি এবং ইনস্টিটিউট অফ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার্স-এর নির্বাচিত ফেলো।

  তাঁর সহবাস বিজ্ঞানের সঙ্গে। ম্যালিবুর বাড়ির একটা অংশে তৈরি করেছেন তাঁর নিজস্ব সংস্থা 'কসমোজেনিক্স'। কয়েক বছর আগে যাঁর একটা ঘর পর্যন্ত ছিল না নিজের, অপমানে পরাশ্রয়ে মানুষ হয়েছেন; একের পর এক প্রমোদ-প্যালেস কেনা তাঁর বাতিকে পরিণত হল। 

  লস এঞ্জেলেস-এ ছ'খানা প্রাসাদ তাঁর। এদের মধ্যে অন্যতম বেল এয়ার-এর মোরাগা ড্রাইভে নিও-ক্লাসিক্যাল বিন্যাসের দশ হাজার স্কয়্যার ফুটের স্বপ্নপুরী। আর ম্যালিবুর সান্টা মনিকা পাহাড় চূড়ায় প্রাসাদাপোম বাড়ি। যার একদিকে অরণ্য আর পাহাড়। অন্য পাশে হলিউড, ডাউনটাউন লস এঞ্জেলস। বাড়ির সুইমিং পুলটি শেষ হয়েছে একেবারে খাদের কিনারে। নীচে অপূর্ব সুন্দর গল্ফ কোর্সের মাঠ। নির্ভয়ে হরিণ খেলা করে সে-মাঠে। নির্জন অরণ্যের ভেতর দিয়ে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত যে-রাস্তা, তার নাম ডিয়ার রান। নিভৃত অন্ধকারে রাতের তারারা সে-রানওয়ে ধরে নেমে আসে তাঁর প্রাসাদপুরীতে। নিটোল কোজাগরী চাঁদ বিশ্রাম করে সুইমিংপুলের ধারে আরাম-কেদারায়। নির্জনতায় দুদণ্ড কথা কয় অকৃতদার গৃহকর্তার সঙ্গে। আজন্মের বিরহ-বেদনা ব্যক্ত করে। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় গাঢ় হয় রাত্রি, সম্পর্ক, বন্ধন। মন খারাপ করে, দূর দেশে এক পল্লী বালকের কথা ভেবে। স্মৃতি ভারী হয়ে ওঠে। বাড়ি ফেরার তাগিদ অনুভব করে তখন।

  দৃশ্য―৪ : মাতঙ্গিনী দিদি চলে গেল। বড় আদরের ঠাকুমাও আর নেই। ১৯৪৩ সালে ঠাকুমা মারা যাবার দু'বছর পর শেষ হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪৫-এ বাড়ি ফিরলেন পিতা গুণধর ভৌমিক। ডিমারি হাইস্কুলে আর পড়তে ইচ্ছে করছে না কিশোরটির। সংসারের হাল ভালো নয়। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এমন সময় কোলাঘাটের কোলা ইউনিয়ন হাইস্কুলে ভর্তি হল সে। পেয়ে গেল স্কলারশিপ। শর্ত একটাই― ক্লাসে প্রথম হতে হবে। সবার প্রথম। পড়াশুনার মান ধরে রাখতে না পারলে বন্ধ হয়ে যাবে বৃত্তি। পিতার এক বন্ধু, যার কোলাঘাটেই বাড়ি, তার বাড়িতে জুটল মাথা গোঁজার ঠাঁই। ক্লাসে অবশ্য বরাবর ফার্স্ট হয় সে। দেশ স্বাধীন হল। সেই বছর, ১৯৪৭ সালে ষোলো বছরে পা দিল সে। ম্যাট্রিক পাশ করল। তখনও পর্যন্ত খালি পায়ে হাঁটা তার অভ্যাস। একজোড়া চটি কেনার সামর্থ নেই। জীবনে প্রথম বার কলকাতা এসে তার পায়ে জুতো উঠল। কিনল একজোড়া হাওয়াই চটি। শহরের রাজপথে খালি পায়ে হাঁটা দুস্কর। স্কটিশ চার্চ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হল। কলেজের প্রিন্সিপাল তখন ড. কেলাস। এ হেন কলেজটি কো-এডুকেশন মহাবিদ্যালয়। ছেলে মেয়ে একসঙ্গে পড়ে। কলেজ থেকে শর্তাধীন জুটে গেল স্কলারশিপ। পুনরায় ভালো রেজাল্ট করে বৃত্তি ধরে রাখার শর্ত। কলেজের অগিলভি হস্টেলে থেকে থেকে চলল পড়াশুনা। কলেজ স্ট্রিটের ইন্ডিয়া কফি হাউসে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্য নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় মেতে ওঠে গ্রামের ছেলেটি। ১৯৫২ সালে বি এসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হল। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ১৯৫৪ সালে পাশ করলেন এম এসসি। এসময় সে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর স্নেহের ছায়ায় এল। শ্রদ্ধেয় বৈজ্ঞানিকের সঙ্গে গুরু-শিষ্যের পবিত্র সম্পর্ক গড়ে উঠল। পি এইচ ডি খড়গপুর আই আই টি থেকে, ১৯৫৮ সালে। প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলেটি হল খড়গপুর আই আই টি'র প্রথম ডক্টরেট।
         

  অন্তিম দৃশ্য : গাড়ি থেকে নেমে সবুজের ভেতর দিয়ে হনহন হেঁটে চলেছেন ভদ্রলোক। বেলগাছের তলা দিয়ে ছোট্ট পুল পেরিয়ে গ্রামে ঢুকলেন। বিস্তর পাল্টে গেছে তাঁর স্বপ্নের গ্রামখানি। অনেক বাড়ি পাকা হয়েছে। অধিকাংশ বাড়িই কাঁচা। সে-অর্থে উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। অথচ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে একান্ন বছরে পড়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবনা ভীড় জমায় স্মৃতির মধ্যে। চৌধুরীদের পুকুর পাড় ধরে সোজা এগিয়ে চলেছেন সেই মায়াময় সুর অনুসরণ করে। সূর্য অস্ত গেছে পাটে। বাড়িতে বাড়িতে শঙ্খের ধ্বনি জাগ্রত হচ্ছে। ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকতে শুরু করেছে। অন্ধকারে সপ করে ছুটে ঝোপের আড়ালে ঢুকে গেল কিছু একটা। দেখার জো নেই। একটু দূরে একখানি কুঁড়ে ঘর নজরে পড়ল। রেড়ির তেলে হ্যারিকেন জ্বলছে। নিভু নিভু শিখা তার। আবছা আলোয় স্পষ্ট ঠাহর হয় না সব কিছু। কুঁড়ে ঘরের কাছে যেতেই ভদ্রলোক দেখল―

  'কোথায় ছিলি এতক্ষণ? এই দ্যাখ, তোর জন্য কেমন নারকেল নাড়ু বানিয়েছি'― জিজ্ঞেস করে মাঝবয়সী নারী।
'কেন মা? আজ ঘন ঘন ডাক দিচ্ছ যে বড়! আর নারকেল কোথায় ছিল?'― এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ফেলল বছর এগারোর ছেলেটি।
'আজ তোর শুভ জন্মদিন রে'― থালায় ধান-দূর্বা আর বাটি ভর্তি পায়েস নিয়ে স্মৃতি আওড়ায় বয়সের ভারে নুব্জ এক বৃদ্ধা ঠাকুমা। 

  চমকে ওঠে সুদর্শন ভদ্রলোক। মনে মনে ভাবে, আজ তিরিশে মার্চ। ১৯৩১ সালে আজকের দিনে তারও জন্ম। বাটি হাতে পায়েস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে নারী, সে যে তাঁর ঠাকুমা সারদা দেবী। আর নাড়ু হাতে তাঁর মা ললিতা। ওদের সম্মুখে আবছা আলোয় স্নেহের মাতঙ্গিনী দিদির কোলে বসে আছে সদ্য শৈশব পেরনো কিশোরটি। নিজের হাতে পিঠে বানিয়ে এনেছে এই ভর সন্ধ্যাবেলায়। আসলে এই পায়েস, এই নারকেল নাড়ু আর পিঠেপুলির ওপর তো তাঁর অধিকার! মনে মনে ভাবে আগন্তুক। তবে ওই জীর্ণ-শীর্ণ ছেলেটিকে খাওয়ার জন্য সকলে পিড়াপিড়ি করছে কেন? কে সে? তাঁর সঙ্গে কী সম্পর্ক ওই পল্লী বালকের? ছেলেটির সঙ্গেই বা তাঁর কী আত্মিক সম্পর্ক? মা, ঠাকুমা, মাতঙ্গিনী দিদি'র সঙ্গে ওর কী সম্পর্ক? ওই ছেলেটাকে কিছুক্ষণ আগেও সে দেখেছে, মাঠের ওপর দিয়ে ছুটে আসতে। গায়ে ছেঁড়া জামা। পায়ে জুতা নেই। হাঁটু পর্যন্ত ধুলো মাখা। দুর্বল। আর এটা তো ১৯৯৮ সাল। 'আমিই তো ঘটমান বর্তমান'― রাগে বিড়বিড় করে আগন্তুক। কৌতূহলবশত ডান হাত দিয়ে কুঁড়ে ঘরের শেকলটাকে ছুঁয়ে দেখার কৌতূহল দমন করতে পারে না সে। আর ছোঁয়া লাগতেই অমনি ভ্যানিশ হয়ে গেল সবকিছু। কোথায় যেন হারিয়ে গেল মা-ঠাকুমা-মাতঙ্গিনীদিদি, মায় অজ্ঞাত ছেলেটি পর্যন্ত! এইবার মাথা বনবন ঘুরছে আগন্তুকের। হাত-পা ধীরে ধীরে অসাড় হতে শুরু করেছে। বল নেই শরীরে। কখন যে মাথা ঘুরিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, কে জানে? 

  হুঁশ ফিরল মায়ের ডাকে। 
'নারকেল নাড়ু একখান খাবি বাবা? আজ তোর জন্মদিন। ছেলেবেলায় কতদিন ভালো করে খেতে দিতে পারিনি তোকে' বলেই ডুকরে কেঁদে উঠল মা ললিতা দেবী।

  জ্ঞানের দরজা খুলে গেল। যে-টুকু দৃশ্য ছিল চক্ষুর অন্তরালে, পরিস্কার হল সব ঘটনা। কোনও এক টাইম মেশিনে চড়ে তিনি যেন পৌঁছে গেছিলেন ১৯৪৩ সালে, মন্বন্তরকালে নিজের শৈশবে। সে বছর একটাও জামা কিনতে পারেনি সে। টাইম মেশিনে ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান পরিভ্রমণ করলেও ভবিষ্যৎ যেমন ধরা যায় না, তেমনি অতীত পাল্টানো অসম্ভব। অতীত অথবা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের চেষ্টা ক‍রলে তৎক্ষণাৎ উবে যায় সবকিছু, পড়ে থাকে রূঢ় বাস্তব টুকু। সেজন্য ১৯৯৮-এ দাঁড়িয়ে ১৯৪২–১৯৪৩-এর শৈশবকে ধরার চেষ্টা করতেই ভ্যানিশ হয়ে গেল দৃশ্যমান সব স্মৃতি।
       

  ইতিমধ্যে গ্রাম্য প্রতিবেশীগণ ঘিরে ধরেছে তাঁকে। সকলের মুখ-চোখে উৎকণ্ঠা। তাঁর জ্ঞান ফিরতেই আনন্দ উৎফুল্লে তারস্বরে চিৎকার করে উঠল সবাই। তাঁর বড় আপনজন, গ্রামের গরিব-গুর্বো প্রতিবেশী এই মানুষগুলো। ১৯৫৯ সালে এরাই তাঁর প্লেনের টিকিটের ভাড়া জোগাড় করে দিয়েছিল। একরকম জোর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করেছিল তাঁকে। এতবছর পরে সে বাড়ি ফিরে আসতে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে গ্রামে, তাদের চোখে, মুখে, সরল গ্রাম্য-ভাষায়, কথোপকথনের অভিব্যক্তিতে। তিনি মেদিনীপুরের গর্ব, সকলের প্রিয় ড. মণিলাল ভৌমিক। এক্সিমার লেজারের আবিষ্কর্তা। ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত যার পায়ে একজোড়া জুতো পর্যন্ত ছিল না, আজকে সে-ই তিনি কিনা কোটি কোটি টাকার মালিক! এক কথায়, 'মিলিওনেয়ার'। বিশ্বের সেরা ধনী বৈজ্ঞানিকের একজন। এ হেন ধনাঢ্য মানুষটি ১৯৯৮ সালে একবার দেশভূমি দর্শণ হেতু পদার্পণ করেছিলেন তমলুকে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকে নিজের অখ্যাত গ্রাম শিউরি'তে। বিত্তশালী হয়েও তিনি ভোলেননি নিজের গ্রামের কথা, গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা। অসীম বৈভবের মাঝেও তিনি বেশি করে মাটির কাছাকাছি থাকা একজন রক্ত মাংসের মানুষ। জীবন্ত কিংবদন্তী। সেজন্যই তিনি মহান। সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। অনুপ্রেরণার আরেক নাম। এই মহান বৈজ্ঞানিকের শ্রীচরণকমলে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম আর অন্তহীন ভালোবাসা। আপনি ভালো থাকবেন, স্যার। সুস্থ থাকবেন।

(পদার্থবিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিককে পরাবাস্তব আয়নায় ধরার প্রয়াস লেখকের, যদিও তিনি রূঢ় বাস্তবের একজন জীবন্ত কিংবদন্তী, রূপকথার নায়ক)

পেজ-এ লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল