শিশির পাল ও বিজয় চক্রবর্তী-র অণুগল্প
ঝগড়া
শিশির পাল
কলেজে যেদিন তুমুল ঝগড়ার পর সব সম্পর্ক ছিন্ন করে মৌপর্ণা বেরিয়ে এসেছিল, ভেজা চোখে অর্পণ বলেছিল, "একদিন ভুল ভাঙবে তোর। বুঝবি, তুইই ভুল। আমি ঠিক। আমি শুধু তোকেই ভালোবেসেছি। অন্য কাউকে নয়। আমাকে অযথা সন্দেহ করছিস।" জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে, রাগে, কাঁপা কাঁপা গলায় মৌপর্ণা বলেছিল, "নেভার। আমি ভুল হতে পারি না। তুই আসলে একটা বিশ্বাসঘাতক।"
গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে এই পনের বছরে।
হঠাৎ চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনে সেদিন খুব ভিড়। মৌপর্ণা, ভিড় ঠেলে দেখল, একজন গেরুয়া পোশাকের সন্ন্যাসীকে ঘিরে আছে অনেকজন ভক্ত। তাঁর কথা মনে দিয়ে শুনছে সবাই।
মুখটা ভীষণ চেনা। ভীষণ। অনেক বছর আগে, ঝগড়ার দিন দেখা ঠিক নিরীহ অর্পণের মতো!
🍂
ঠকা
বিজয় চক্রবর্তী
মিসেস ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ঘুটে ঠিকুজি কুষ্ঠি বার করে ফেললো লোকটি সম্পর্কে। ছেলের স্কুলে গরমের ছুটি। ওর ক্লাসের কোন একজন অভিভাবক সন্ধ্যায় ফোন করার পর থেকে বার বার বলছে, লোকটাকে দেখে একবারও মনে হয়নি…। বাচ্চাটির কি হবে?
লোকটিকে আমিও দেখেছি। লম্বা, ফর্সা, মুখে ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি। বিপত্নীক। কাস্টমস অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিল। বললাম আমারও কয়েকজন পরিচিত আছে কাস্টমস এ।
ওর মেয়ে আমার ছেলের স্কুলেই পড়ে। এমনিতেই বাচ্চাদের আমার খুব ভালো লাগে। স্কুলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে মেয়েটিকে দেখতাম, কলকল করে কথা বলে। শুধু বাচ্চা মেয়েটিকে নয় সব শিশুদেরই আমার ভালো লাগে । ফুলের মতো, পবিত্র সবাই ।
0 Comments