অনামিকা তেওয়ারী ও মিলি ঘোষ-এর অণুগল্প
ফেরা
অনামিকা তেওয়ারী
হসপিটালে বেডের ঠিক ওপরে রাখা মনিটর থেকে বিপ বিপ শব্দটা ক্ষণিকের জন্য হলেও চেতনার জগতে ফিরিয়ে আনছে ঘোরে আচ্ছন্ন অনুপমাকে। মনে পড়ছে কাঁদো কাঁদো গলায় সেই ডাকটা, “ মা ওঠো, আমার খিদে পাচ্ছে। কাল থেকে ভাল করে খাইনি আমি”। ঢোক গিলতে গিয়ে কষ্টটা টের পেতেই মনে পড়ে গেল দড়ি ছিঁড়ে নীচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তটা !
চোখের সামনে থেকে হঠাৎ যেন ঘোরের পর্দাটা টেনে সরিয়ে দিয়ে গেল কেউ। উল্টোদিকের দেয়ালে নিজের বাচ্চা মেয়ের মুখটা ভেসে উঠতেই মস্তিস্ক জানান দিল, কী করতে চলেছিল অনুপমা !
ভাগ্যবশত ছিঁড়ে গিয়েছিল দড়িটা! না হলে মুহূর্তের মস্ত এক ভুলে “ মা “ ডাকটা মেয়েটার জীবন থেকে হারিয়ে যেত চিরতরে!
🍂
সেরে ওঠো পৃথিবী
মিলি ঘোষ
মাঝেমাঝেই ল্যাপটপে পৃথিবীর ছবি আঁকে অর্জুন। একদিন মনে হলো, নীল রঙটা একটু যেন বেশি জায়গা নিয়েছে। আর সবুজটা কমে সেই জায়গায় খয়েরি এসে যাচ্ছে। কী করে সম্ভব! চোখের ভুল? যতবার সবুজ দিচ্ছে, ততবার খয়েরি। অর্জুন পারছে না খয়েরিটাকে সবুজ করতে।
সকালে ঘুম ভেঙে মা-বাবা কাউকে দেখতে পেল না অর্জুন। খুঁজতে খুঁজতে ছাদে গিয়ে দেখে ছাদের প্রায় অর্ধেক মা টবে ভরিয়ে দিয়েছে, তাতে নানারকম গাছ।
"এত গাছ কোথায় পেলে মা!" অর্জুন অবাক।
মা মুখ না তুলেই বললেন, "পেছনের জমিতে দেখ।"
অর্জুন ছাদের পিছন দিকে গিয়ে দেখে বাবা মাটি কোপাচ্ছে।
অর্জুন ছাদ থেকেই ডাকল, "বাবা!"
1 Comments
ধন্যবাদ সম্পাদক মহাশয়কে।
ReplyDelete