নতুন বছরের কবিতা গুচ্ছ
আবীর ভট্টাচার্য্য চক্রবর্তী
নতুন বছরের কবিতা
যা প্রথম,তাই সুন্দর। কারণ সে অনাস্বাদিত।
প্রথম যে মানুষটি আগুন আবিষ্কার করেছিল
অথবা প্রেমে আকুল হয়েছিল
মানুষ তাদের ভুলে গেলেও দহন ভোলেনি
কারণ, মানুষ পুড়তে ভালোবাসে।
দুঃখ পেতে ভালোবাসে।
দুঃখগুলো তার স্মৃতি জাগানিয়া কবুতর
এবং এই দুঃখবিলাসই তার জাগরণী।
বছরের পর বছর যায়,
আনন্দে ,অঙ্গীকারে, গতানুগতিক বাধ্যতায়
ক্যালেন্ডারে পাতা ওড়ে, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর
আটপৌরে ব্যর্থ দায় পায়ে পায়ে জড়ায় ব্যস্ততায়। পাখি ঠোঁটে উড়ে যায় আস্বাদের সেই অবসর।
একটি সকালে তবু অস্ফুট এ আলোক সুন্দর
নতুন অঙ্কুর দানে চিরায়ত ঝরাপাতা,আনন্দ মর্মর।
🍂
শুভেচ্ছা
সকাল এলো যুক্তকরে সন্ধ্যা নমস্কারে
সোহাগ নরম কমলা আদর সন্ধ্যামণি ফুলে
অ-মরসুমী গহীন বাদল ডাকে উদাস সুরে
ও সোনা বৌ!তোমায় কেন ছিলাম বলো ভুলে…
বাইরে হিমেল মাঠ পেরোনো হলুদ রোদের বাঘ
ফসল তোলা রুক্ষ মাঠে একাই ছুটে ছুটে
ক্লান্ত দেহে একটু যেন জিরোয় অবশেষে
নধরকান্তি হরিণ ধরার ব্যর্থ পরমাদ!
জীবন নদীর দুকূল ভরে এমনই আচম্বিতে
কখন যেন জোয়ার আসে শূন্য খেয়ার পালে
সোনার ধান, নবশ্যামল জীওনকাঠি হাতে
সুধা সাগর উথলে ওঠে শীর্ণ করতলে…
নতুন বছর, নতুন আশা, নতুন অভিমানে আলোছায়া কারুকথা,কে লেখে মনে মনে
মৌলিক নিষাদ
তোমার মনের মালকোষ ধুনে আমার মনে ইমন
ফিরেও কি তাই থমকে দাঁড়াও,ওগো কল্যাণধন!
'এ ভরা বাদর মাহ ভাদর'-এর শূন্য এ মন্দিরে
মেঘ ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি কখন ঝরে, আকাশপট চিরে
আবার কখন উথলে ওঠে অসীম নীলাকাশ
হাসির মতো যেখানে আমার নিত্য সহবাস
দুই-পা দূরের ধানের আগায় হিমের কণার শিরে
সৃষ্টি-বোধন বাজে, প্রাণের বিহ্বল মঞ্জীরে
বীতশোক এ তুচ্ছ যাপনে অনির্বাণ শাব্দিক-উন্মন,
0 Comments