ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১৮৬
চিত্রগ্রাহক - রাকেশ সিংহ দেব
সম্পাদকীয়,
ছোটোবন্ধুরা, কাল ছিল শনিবার। আজ রবিবার। রবিবার মানেই ছোটোবেলা, ছোটোবেলার গল্প, ছড়া, আঁকা আর ছবি। এখন আবার শনিবার মানে পাথরকুসমায় স্কুলে ক্রিকেট ম্যাচ। টান টান উত্তেজনা। কে জেতে কে হারে। না না প্রতি শনিবার নয়। তাহলে কোন কোন শনিবার, সেটা জানতে পড়ে নাও রতনতনু জ্যেঠুর নতুন উপন্যাস 'গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ'। তোমাদের বন্ধু মোনালিসা লিখেছে প্রকৃতির ছড়া। আর শ্রেয়সী এঁকে পাঠিয়েছে। রাকেশ আঙ্কেল তোমাদের এক বন্ধুর ছবি পাঠিয়েছে। ছোটবন্ধুটি বলছে, মা দেখ আমি জিরাফ দাদার মতো লম্বা হয়ে গেছি। সত্যিই তাই। নেহাৎ জিরাফ দাদার গলাটা একটু বেশি লম্বা তাই, নাহলে দুজনে প্রায় সমান সমান। সুমেধা দিদির পাঠ প্রতিক্রিয়াটি খুব স্মৃতি মেদুর হয়েছে। তোমরাও দিদির মতো খুব মন দিয়ে এবারের ছোটোবেলা পড়ে লিখে পাঠাও কেমন লাগল। আমি কিন্তু ক্রিকেট খেলা দেখতে খুব ভালোবাসি, তোমরা কারা কারা আমার দলে চটপট হাত তোলো। -- মৌসুমী ঘোষ।
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ২
রতনতনু ঘাটী
গত শনিবার গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠে ক্লাস এইটের দুটো সেকশানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে হয়ে গেল ক্রিকেট ম্যাচ। সেই জমজমাট ম্যাচের স্মৃতি স্কুলের সকলের মনে এখনও গেঁথে আছে। রোববার স্কুল ছুটি। সোমবার স্কুল শুরুর আগে অ্যাসেম্বলি হলে প্রেয়ারের মন্ত্র শেষ হয়ে গেল। তারপর মিনিট তিনেকের নীরবতা। এর পর ক্লাস নাইনের দিদিরা সমবেত কণ্ঠে গান গাইল—‘জীবনে যত পূজা হল না সারা। জানি হে জানি তাও হয় নি হারা...!’ খুব ভাল গাইল দিদিরা। তারপর সেদিনের খবরের কাগজ থেকে নির্বাচিত তিনটি খবর পড়ে শোনাল ক্লাস টেনের সুমাল্য দাস। সুমাল্যদার কণ্ঠ ভারী সুন্দর। টিভিতে যাঁরা সংবাদ পড়েন, অনেকটা তাঁদের কণ্ঠের মতো।
এর পর হেডস্যার শনিবারের ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘তোমরা সকলেই জানো, আমাদের গগনজ্যোতি স্কুলে নতুন একটি অধ্যায় গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে—ক্রিকেট ম্যাচ। ক্লাস এইটের চারটি সেকশানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে হবে এই ক্রিকেট ম্যাচ। প্রত্যেক মাসের প্রথম এবং শেষ শনিবার করে হবে ক্রিকেট ম্যাচ। শনিবার তো স্কুল হাফ-ডে। সেই নিয়ম মেনে প্রথম ম্যাচটা দারুণ জমেছিল। ক্লাস এইটের এ-সেকশানের সঙ্গে বি-সেকশানের খেলা আমি পুরো ম্যাচটা দেখেছি। এই ক্রিকেট ম্যাচের মূল কারিগর কিন্তু আমাদের স্কুলের অঙ্কের দেবোপমস্যার। এ মাসের শেষ শনিবার হবে পরের ম্যাচ, ক্লাস এইটের সি এবং ডি সেকশানের মধ্যে। আমাদের ক্লাস এইটের মেয়েরা যে অনেকেই এত ভাল ক্রিকেট খেলতে শিখেছে, আমি সেদিনের খেলা না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না।’
হেডস্যার একটু থেমে ফের বলতে শুরু করলেন, ‘তোমাদের মনে প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে, তা হলে কি অন্য ক্লাসের ছেলেমেয়েরা এই ক্রিকেটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে? তা নয়। আগামী বছর থেকে এই ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আমাদের স্কুলের সব ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই। আমরা এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু বাদ থাকবে ক্লাস টেন। কেননা, তাদের সামনে মাধ্যমিকের মস্ত উঁচু হার্ডলস। এবার পরের ম্যাচ হবে ক্লাস এইট সি-সেকশানের সঙ্গে ডি-সেকশানের। মনে রেখো, খেলা হবে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার। তারপর এক শনিবার বাদ দিয়ে পরের শনিবার হবে নেক্সট ম্যাচ। আমরা সকলে সেদিন দারুণ একটা ক্রিকেট ম্যাচ দেখব!’ হেডস্যারের ভাষণ শেষ হওয়ার পর সকলে যে যার ক্লাসে চলে গেল।
সে কথা মাথায় রেখেই সোমবার স্কুল ছুটির পর ক্লাস এইটের দুটো সেকশানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুলের মাঠে ক্রিকেট প্র্যাকটিস শুরু দিলেন দেবোপমস্যার। অনেক ছাত্রছাত্রীই স্কুল ছুটির পর বাড়ি না গিয়ে মাঠের চারপাশে ক্রিকেট কোচিং দেখতে ভিড় করেছে। হঠাৎ ক্লাস এইটের সি-সেকশানের বাঁ-হাতি বোলার নাতাশা চক্রবর্তী দেবোপমস্যারের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘স্যার, আমি একটা কথা বলব?’
দেবোপমস্যার ডি-সেকশানের ইরাবান বিষয়ীকে বল করার জন্যে সবে হাতটা ঘোরাতে শুরু করেছেন, এমন সময় নাতাশা স্যারের একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। কাঁচুমাচু মুখ করে নাতাশা বলল, ‘স্যার, জানেন তো, যে শনিবার স্কুলের মাঠে আমাদের নেক্সট ম্যাচ হওয়ার কথা সি-সেকশানের সঙ্গে ডি-সেকশানের। কিন্তু আপনার মনে আছে কি, ওই দিন মানে ওই শনিবার ইডেনে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলা আছে? কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংসের খেলা। আর ওই শনিবারই তো আমাদের ক্রিকেট ম্যাচ! কী হবে স্যার? পাথরকুসমা গ্রামের লোকজন সকলেই তো দুপুর হতে-না হতেই টিভির সামনে বসে পড়বেন? আমাদের ম্যাচ দেখতে কে আর আসবেন?’
দেবোপমস্যার বলটা ডান হাতের তালুতে নাচাতে-নাচাতে ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছ নাতাশা! তোমার মাথায় অনেক বুদ্ধি! আমি তো এই কথাটা ভেবেই দেখিনি!’
স্যারের কথা শুনে নাতাশা গলায় একটু জোর পেয়ে গেল। গলায় জোর এনে বলল, ‘স্যার, আমাদের ম্যাচটা একদিন স্কুল ছুটি করে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় না? এ মাসে তো মাত্র একটা দিন! ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলা তো আর তারিখ বদলে অন্য দিন করা যাবে না। তাই বলছিলাম কী, আপনি যদি একবার হেডস্যারকে গিয়ে আমাদের খেলার দিনটা এগিয়ে দিতে বলেন?’
দেবোপমস্যার তাঁর স্বভাবসুলভ জোরের গলায় বললেন, ‘তাই কি কখনও হয় রে নাতাশা! খেলার জন্যে স্কুল ছুটি? লোকে কী বলবে? অ্যানুয়াল স্পোর্টস থাকলে তেমন হলে হেডস্যার অ্যানুয়াল স্পোর্টসের দিনটাই শনিবারের বদলে পালটে রোববার করে দেবেন, যা কড়া ধাতের মানুষ! এ কথা আমি হেডস্যারকে বলতে পারব না রে!’
মাঠের সব ছাত্রছাত্রী স্যারের কথা শুনে হঠাৎ করে থমকে গেল। নাতাশা বলল, ‘আমরা ক্লাস এইটের ছেলেমেয়েরা সকলে যদি হেডস্যারের কাছে এই নিয়ে অনুরোধ করি, তিনি আমাদের অনুরোধ রাখলেও তো রাখতে পারেন!’
নাতাশার কথাটা সঙ্গে-সঙ্গে নাকচ করে দিল ডি-সেকশানের চন্দ্রেশ সূত্রধর। চন্দ্রেশ মুখে হাসি ছড়িয়ে বলল, ‘তুই কী বলছিস রে নাতাশা? তোরা যারা-যারা হেডস্যারের সামনে গিয়ে কথাটা বল না কেন, ‘আমি কিন্তু স্যারের সামনে এই প্রস্তাব নিয়ে দাঁড়াতে পারব না। শেষে স্যার আমার গার্জেন কল করতে পারেন। আর বাবা এসব কথা শুনলে বাড়িতে রক্ষে রাখবেন না। মাও আমার এমন কাণ্ড দেখে রাগ করে আমার মামাবাড়ি চলেও যেতে পারেন।’
সি-সেকশানের তাহিরা দত্ত দু’ হাত নেড়ে বলে উঠল, ‘না বাবা, আমিও নাতাশা তোর প্রস্তাব নিয়ে হেডস্যারের কাছে যেতে পারব না, এই আমি আগেভাগে বলে দিলাম।’
নাতাশার কথাটা যারাই শুনেছিল, তাদের সকলেরই মন খারাপ হতে শুরু করল। কারও কারও মুখে চলকে উঠল তীব্র হতাশা। প্র্যাকটিস দেখতে এসেছে এ-সেকশানের রোরো মজুমদার। আজ স্কুল ছুটির পরও সে বাড়ি ফেরেনি। রোরো বলল, ‘স্যার, শুনেছি, ক্রিকেটে নাকি অনেক কাকতালীয় কাণ্ড ঘটে। আমাদের এই ম্যাচ হওয়ার দিন যদি সেরকম কোনও কাকতালীয় ঘটনা ঘটত, তা হলে বেশ হত!’
স্যার কৌতূহলী গলায় বললেন, ‘কী রকম, বলো তো শুনি?’
রোরো ক্রিকেটের নানা খবর রাখে। রোরো বলল, ‘স্যার, সেদিন আমার ছুটকাই মামা আমাদের বাড়ি এসেছিলেন। কলকাতার আশুতোষ কলেজে ইংরেজি অনার্স পড়ে ছুটকাইমামা। হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে সেই যে কলকাতায় পড়তে গেছে, সেই থেকে ছুটকাইমামা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের একটিও খেলা এখনও পর্যন্ত বাদ দেয়নি। ক্রিকেট নিয়ে অনেক সত্যি ঘটনা তাঁর মুখস্ত।’
এ-সেকশানের অরিত্র বর্মণ ঘাড় উঁচু বলল, ‘তাতে কী হল? তোর ছুটকাইমামা কি ইচ্ছে করলে ইডেনের শনিবারের প্রিমিয়ার লিগের খেলাটা পিছিয়ে দিতে পারবেন?’
দেবোপমস্যার অরিত্রকে শান্ত করার গলায় বললেন, ‘তা কি আর করা যায় অরিত্র? তুমি বোকার মতো কথা বোলো না তো! রোরো কী বলছে শোনাই যাক না!’ তারপর রোরোর দিকে তাকিয়ে স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী বলতে চাইছিলে বলো তো রোরো!’
রোরো বলল, ‘আমি ছুটকাইমামার মুখ থেকে ক্রিকেটের একটা কাকতালীয় ঘটনার কথা শুনলাম। সচিন তেন্ডুলকর ষোলো বছর বয়সে করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম যেদিন ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন, সে দিনটা ছিল উনিশশো উননব্বই সালের পনেরোই নভেম্বর। তার ঠিক চব্বিশ বছর পর সচিনের কেরিয়ারের শেষ দিনটিও ছিল দু’ হাজার তেরো সালের সেই পনেরো নভেম্বরই। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দু’শোতম ম্যাচটিই ছিল সচিনের বাইশ গজের শেষ দিন। তারিখটা কেমন কাকতালীয় ভাবে এক, তাই না স্যার?’
একটু থেমে রোরো চোখ নাচিয়ে বলল, ‘আমি ভাবছিলাম, কোনও কাকতালীয় কারণে আমাদের আগামী ম্যাচটা পিছিয়ে গিয়ে যদি তার পরের শনিবার করা যায়, তা হলে বেশ হয়! পাথরকুসমা গ্রামের সকলের সঙ্গে আমরাও আই পি এলের খেলাও দেখতে পেলাম। আর পরের শনিবার আমাদের ক্রিকেট ম্যাচটাও হল! বেশ জমবে ব্যাপারটা!’
দেবোপমস্যার বললেন, ‘তোমাদের সুখস্বপ্ন তোমাদের মনেই থাক। বরং, পারলে তোমরা সকলে একদিন দল বেঁধে হেডস্যারের কাছে গিয়ে কথাটা বলে দেখতে পারো। যদি হিমালয়ের বরফ গলতে পারে তো ভালোই হবে।’
বীরত্বের গলায় রোরো বলল, ‘স্যার, কেউ না গেলে, আমি একাই গিয়ে হেডস্যারকে বলতে পারি!’
নাতাশা বলল, ‘রোরো, তোর সঙ্গে আমিও যেতে রাজি! তবে বেশ ভারী দলবল না নিয়ে গেলে হেডস্যার তেমন গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন। যা গম্ভীর মানুষ! ’
এসব কথার মাঝখানে সূর্যদেব পাটে যাওয়ার তোড়জোড় করছিলেন। দেবোপমস্যার বললেন, ‘ঠিক আছে তোমরা কাল স্কুলের টিফিন ব্রেকে আলোচনা করে ঠিক করে নিও, কে কে হেডস্যারের কাছে যাবে আমাদের ক্রিকেট ম্যাচ এগিয়ে দেওয়া যায় কিনা, বলতে। ততক্ষণ তো আর আমাদের ক্রিকেট কোচিং থেমে থাকবে না। আজ সবাই বাড়ি চলে যাও। কাল বিকেলে স্কুল ছুটির পর ক্রিকেট কোচিংয়ে ক্লাস এইটের সি এবং ডি সেকশান মাঠে চলে এসো!’
ব্যাট ঘোরাতে-ঘোরাতে ছেলেমেয়েরা বাড়ির পথ ধরল। মাঠের পাশের ছোট পদ্মদিঘিটায় নতুন কুঁড়িগুলো ততক্ষণে ফুটে ওঠার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে!
(ক্রমশ)
শ্রেয়সী ঘোষ
ষষ্ঠ শ্রেণি, ঝাপানডাঙ্গা সাবিত্রী দেবী বালিকা বিদ্যালয়, পূর্ব বর্ধমান
আই ফোন!
তৃষ্ণা বসাক
‘শীত পড়তেই চিড়িয়াখানা,
কিংবা চলো সার্কাস,
এইটুকুই তো চাইতে গেলি
তাতেও কেন মার খাস?’
‘মার দেবে না? তার আগে যে
চেয়েছিলাম ছুটি’
‘একটা দিনের?’ না রে মাসের’
‘তাতেই চুলের মুঠি
ধরল চেপে, কেমন মা রে?’
‘আরে না, না, শোন,
বলেছিলাম, এবার কিন্তু
নেব আই ফোন!’
‘পেগলে গেছিস? জানিস ওটা
কী সাংঘাতিক দামি?’
‘দূর! তুইও দেখছি মায়ের মতোই,
আই মানে তো আমি!’
🍂
প্রকৃতি
মোনালিসা বেজ
অষ্টম শ্রেণি
পি এম শ্রী জওহর নবোদয় বিদ্যালয়
পশ্চিম মেদিনীপুর
প্রকৃতি মানে খোলা আকাশ
প্রকৃতি মানেই মুগ্ধ বাতাস
প্রকৃতি মানে গাছপালা সব,
ঘুম জাগানো পাখিদের কলরব।
প্রকৃতি মানেই হাজার হাজার প্রজাপতি
প্রকৃতির সাথে খেললে মনে হয়,
তারাই আমার জীবনের সাথী।
প্রকৃতি মানেই নানান রঙের ফুল,
প্রকৃতি মানেই মন ভরানো মিষ্টি পাখির সুর
প্রকৃতি মানেই হাজার হাজার গাছ,
বাগানে গেলেই মনে হয়
প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখাই আমার কাজ।
প্রকৃতি মানে গাছের মিষ্টি মিষ্টি ফল
তাই তো বলি,
প্রকৃতি মানে প্রেম জাগানো আমার মনোবল।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
সুমেধা চট্টোপাধ্যায়
"ছোটবেলা ১৮৫" পড়ে ফিরে গেলাম ছোটবেলাতেই। মেয়েদের স্কুলে পড়ার জন্য ক্রিকেট খেলার সুযোগ হয় নি, সে যুগে তো স্মৃতি মান্ধানা ছিল না। কিন্তু একবার বাবার হাত ধরে পাড়ার দাদাদের একটা ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলাম, সন্ধ্যেবেলা। সেই ম্যাচই যেন রতনতনু জেঠুর ধারাবাহিকের প্রথম পর্বে পেলাম। শকুন্তলা দেবীর প্রসঙ্গটা এমনভাবে এনেছেন সেটি খুব গ্রহণযোগ্য হয়েছে এবং খুদে পড়ুয়াদের মনেও থাকবে। 'মহারাজদা'র প্রসঙ্গও বেশ মজাদার।
উপন্যাসের প্রচ্ছদটি খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ, সকলের মুখে হাসি এবং সকলেই উপভোগ করছে সেটা স্পষ্ট হচ্ছে প্রচ্ছদ দেখেই।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ছোট্ট আয়ুস্মিতা ছবিটি এঁকেছে খুব মন দিয়ে। হাতের টান এই বয়সেই বেশ পাকাপোক্ত।
মৌসুমী আন্টির সান্টা নিয়ে গল্পটা একদম আলো ঝলমলে শেষে আবার হাসির মোড়কে আছে পরিবেশসংক্রান্ত একটা গুরুগম্ভীর বার্তা। সেটাও এমনভাবে হাসতে হাসতে বলা যে মনের ভিতরে একদম গেঁথে যায়।
হোস্টেলে থেকে মা-বাবাকে ছেড়ে পড়াশুনো করা যেমন একদিকে বেদনার তেমন অন্যদিকে আনন্দের। প্রথমদিনের দুঃখের কান্না শেষদিনে বদলে যায় আনন্দাস্রুতে। এই সহজ ঘটনার খুব পরিণত বিবরণ এসেছে দ্বাদশ শ্রেণীর রিয়ার কলমে। খুব সহজবোধ্য একটি গদ্য কবিতা।
0 Comments