জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা /দীপশ্রী সেনগুপ্ত

তিনটি কবিতা 
দীপশ্রী সেনগুপ্ত 

যা বাকী আছে 

শুধু বললেই কি লেখা যায় ?
শুধু বললেই বলা ও যায় না।
শেষ পর্যন্ত সবটাই বাকী।
ঢেউ ভেঙে ভেঙে সমুদ্রের বাজিমাত,
কবেকার প্লাবন ছিল কে জানে।
কে বা জানে কবে আকাশ হয়েছিল লাল,
ঝড় আসবে বলে ও আসেনি।
শুধু বিষণ্ণ চরাচর বসেছিল 
বুক পেতে, খড়কুটো আর ধূলো নেবে বলে।
কিছুই জোটেনি তার ভাগে 
শুধু ই অব্যক্ত করুণা।
বাকী রয়ে গেল বলে ফেরাও হয় না আর,
প্রতীক্ষার দিন ফুরোয় না।


প্রার্থনা 

এ জীবন প্রার্থনা সঙ্গীত কর '  প্রভু।
শৈশব, কৈশোর, বার্ধক্য, 
একাল, সেকাল, মহাকাল।
শুধু যৌবন যাপন অদক্ষ দক্ষতায়,
ফুৎকারে নিভে যায় মন্দিরের বাতি,
উন্মাদ ঝোড়ো হাওয়ায় প্রবল হাহাকার,
 আমি ই সত্য, একমাত্র আমি।
প্রলয় রাতেও  দীর্ঘ, দীর্ণ পদচারণা,
কে জেগে আছ সাথে? পরোয়া নেই উত্তরে,
স্বাধীন যৌবন কি প্রার্থনা র গান নয় ?


এসো একবার 

একবার এসো, হাতে হাত রাখো,
ফিরে আসার কথা ছিল তো।
উথাল পাথাল দিন, রাত্রি।
কে জানে কখন কেটেছে সাতরঙা তার।
যা ছিল, বয়ে নিয়ে গেছে আহত বিকেল।
একবার তাকালেই ভেসে যেত সব,
হয়তো স্বপ্ন ঝুরি ঝেঁপে নামতো চারপাশে,
আলোয় কেঁপে উঠতো দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ।
আরো কী ? কিছুই না, শুধু এইটুকুই,
এটুকুই থেকে যেত সবটুকু হয়ে।
🍂

Post a Comment

0 Comments