জ্বলদর্চি

ছাতিম তলায় হাতিম নাচে/ প্রথম পর্ব/সৌমেন রায়

ছাতিম তলায় হাতিম নাচে 
প্রথম পর্ব
সৌমেন রায়

চিত্র – কল্লোল মজুমদার 

হাতিম জলদাপাড়ায় বাবা মায়ের সঙ্গে থাকে। জলদাপাড়া জঙ্গলে অনেক গন্ডার থাকে। হাতিমের মা এবং বাবার পিঠে চড়ে ভোরবেলা অনেকে গন্ডার দেখতে যায়। সকালে দুবার আর বিকালে দুবার জঙ্গলের ভেতর যেতে হয়। বাকি সময় তাদের ছুটি। একবার হাতিমও বায়না  ধরল যে সেও যাবে মায়ের সঙ্গে। হাতিমের মা বলল, ‘না না তুমি একদম ছোট। তোমাকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বড় চেহারা বলে গন্ডারগুলো আমাদের কিছু করেনা। ওরা খুব রাগী হয়। যদি তেড়ে আসে ? আগে জঙ্গলের নিয়ম কানুন শেখো, তারপর যাবে’। হাতিম তো কিছুতেই শুনবে না। মায়ের পায়ে শুড় জড়িয়ে কাঁদতে বসলো। শেষে বাবা এক ধমক দিতে চুপচাপ চলে গেল বড় জলাটার ধারে।
খানিকক্ষণ মন খারাপ করে বসে রইল ছাতিম গাছটার নিচে।  ছাতিম গাছটা কবেকার কেউ জানে না। তার ডালে, কোটরে অনেক পাখির বাসা। সকলে ভোরবেলা উঠে কিচির মিচির করছিল। হাতিম দেখল আস্তে আস্তে সূর্যি মামা উঠছে জলাটার পূর্বপাড় থেকে। গাছের মাথায় মিষ্টি  রোদ  পড়েছে।একটা কালো সাদা পাখি নাগাড়ে শিস দিচ্ছিল। পাখিটা হঠাৎ এসে বসল হাতিমের মাথায়। হাতিম মাথাটা নাড়াল। 
পাখিটা বলল, ‘তোমার মন খারাপ কেন গো?’
  ‘মা আমাকে জঙ্গলে নিয়ে যায়নি’।
 পাখিটা বলল, ‘তাতে কি? তুমি বড় হয়ে যাবে। কি সুন্দর সকাল। এখন কেউ মন খারাপ করে?’
 বলেই পাখিটা উড়ে গেল। হাতিম উঠে জলের কাছে গেল। শুড়  দিয়ে জল নিয়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলো লাল সূর্যি মামাটার দিকে। বেশ মজা লাগলো । চারিদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো।  শালুক পাতার উপর ব্যাঙ বসে ছিল একটা। বোধহয় ব্যাঙটা  ভয় পেয়েছে। হাতিম শুড়  দুলিয়ে  আরেকটু ভয় দেখাতেই  ব্যাঙটা  লাফিয়ে পড়ল জলের মধ্যে। রেঞ্জার সাহেবের মেয়ে টুকাই বেড়ার পাশ থেকে হাতিমের কান্ড দেখছিল। হাতিমও দেখল টুকাইকে। কি সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে। একটা ফ্রক পরে আছে। খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটছে। হাতিম দেখল আঙ্গুলের নখে কি সুন্দর রঙ লাগিয়েছে টুকাই। তারপর নিজের পায়ের দিকে দেখল। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা  লাগছে !
এমন সময় ফিরে এলো হাতিমের মা আর বাবা। বলল চল এবার তোকে জঙ্গলটা দেখিয়ে আনি। সামনে বাবা, পিছনে মা, মাঝে হাতিম। জন্ম থেকে সে  জঙ্গলের  বাইরের  দিকেই আছে। যত ভেতরে ঢুকতে লাগলো ততই অবাক হয়ে গেল। কত বড় বড় গাছ। গাছগুলোতে লতাপাতা জড়িয়ে আছে। কি ঠান্ডা ভেতরটা। পাশ দিয়ে একটা বুনো শুকর  যাচ্ছিল।তাকে দেখে হাতিম বলল, ‘বাবা ওর  শুড় নেই কেন ? ‘
হাতিমের বাবা মুচকি  হেসে  বলল ‘তুমি হাতি তাই তোমার শুড় আছে। সবার ওরকম শুড়  থাকে না’।
 জঙ্গলের মাঝে একটা ফাঁকা জায়গায় ওরা একটু দাঁড়ালো। তারপরে শুরু হয়েছে বড় বড় ঘাসের জঙ্গল। হাতিমের বাবা কতগুলো গাছের ডাল ভেঙে আনল।  তিনজনে মিলে খেতে লাগলো। খেতে খেতে মা আর বাবা গল্প করছিল। হাতিমের পেট ভরে যেতে সে চলে গেল ঘাসের জঙ্গলটার দিকে। গিয়ে দেখল একটু দূরেই একটা গন্ডার আর তার বাচ্চা দুজনে মিলে  ঘাস খাচ্ছে। বাচ্চাটার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে বলে  হাতিম ঘাসের জঙ্গলের মধ্যে ঢুকলো।  কিন্তু হাতিম এগিয়ে যেতেই গন্ডার-মা  খড়গ উচিয়ে তেড়ে এলো । হাতিম চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এলো ঘাসের জঙ্গল থেকে। সামনে ছুটছে হাতিম, পিছনে গন্ডার। 
(পরবর্তী অংশ পরের পর্বে )
🍂

Post a Comment

4 Comments

  1. Kamalika BhattacharyaJune 19, 2026

    হাতিমের পিছনে ছোটে গণ্ডার,
    গল্প বেশ মজার।
    দেখি কি হয় শেষে,
    ঘরে ফেরে কি হাতিম হেসে?

    ReplyDelete
  2. Soumen RoyJune 19, 2026

    ধন্যবাদ।
    নিশ্চয় ফিরবে ঘরে/ কিন্তু গল্প যাবে ঘুরে।পাবেন সূত্র ,দেখেন যদি ফিরে।

    ReplyDelete
  3. AnonymousJune 19, 2026

    খুব মজার। আর একটু পেলে হতো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. Soumen RoyJune 19, 2026

      ধন্যবাদ। পরের সংখ্যায় এটা শেষ হয়ে যাবে।ছোটদের বলে দুভাগে দেওয়া হচ্ছে।

      Delete