জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/তাপস কুমার দত্ত

গুচ্ছ কবিতা 

তাপস কুমার দত্ত

ফেরার প্রতীক্ষায়


সবাই ঘরে ফেরার কথা বলছে
আগুন থেকে বহু দূরে সরে যাওয়ার ও কথা উড়ছে
কিন্তু বাতাস ফিস ফিস করে বলছে
 এক মাত্র আগুন ই পারে তোমায় শুদ্ধ করতে
যে আগুন বারে বারে দগ্ধ করছে 
সেই পারে শুদ্ধ খাঁটি সোনায় পরিণত করতে
কিন্তু পথ কি সহজ? সে কঠিন থেকে কঠিন তর
কেউ দূরে, কেউ বাড়য়েছে অবলীলায় দু খানি হাত
কেউ বা হাসছে,আর আমি হেঁটে চলেছি তার জন্য!
পথ ধ্বসে গেছে বার বার গড়েছি আনমনে
আবার চলা শুরু আগুন ছাড়েনি পিছু
শুভাকাঙ্ক্ষী দের শঙ্খ ধ্বনি সাথ ছেড়েছে অনেক আগেই
এখন পথ চলছি একা, জানিনা তার শেষ আছে কি না?
তবু ও চলতে হবে শুধু তার জন্য,তাদের জন্য
যারা প্রতীক্ষায় আছে,শুধু তাদের জন্য!



অভিমানী

ওদের সাথে কথা বলা হয়নি অনেক দিন
ওরা দাঁড়িয়ে আছে দিন রাত
আদর ও করা হয়নি,জল ও দেওয়া হয়নি
সে বলেছিল বারবার ওরা ও তো– থামিয়ে দিয়েছিলাম
বিকেলের পড়ন্ত রোদে –
ওর ছায়ায় দাঁড়ালাম!
পাতা গুলো বড্ড সবুজ, ওর শরীরে সস্নেহে হাত বোলাতেই
টকটকে সবুজ জামরুল
খসে পড়লো হাতে।
বসে পড়লাম, চোখের কোনো জমাট বেঁধেছে মেঘ
গুমরে গুমরে –
চোখ থেকে ঝরে পড়ছে অবহেলার অশ্রু!
মন্দিরে ঘন্টার শব্দে চোখ মেলে তাকালাম,
আজ চাঁদ উঠেছে তেজ পাতার গাছে
 জড়িয়ে আছে মাধবী লতার রংবেরঙের ফুল 
টলমল পায়ে এগিয়ে গেলাম
ওদের সু –গন্ধ সুবাসে বড্ড অভিমানের সুর
জড়িয়ে রইলাম.....


চেতনার জন্ম

রাত যত গভীর হয় নিস্তব্ধতার আলপথ বেয়ে
কোলাহল উচ্চারিত হয় 
সূর্যোদয়ের স্পর্শে
প্রতিটি দিন নতুন সত্ত্বার জন্ম হয়
মিথ্যের মিথ বিলীন হয়ে যায় সময়ের ওঠা পড়ায়
স্বপ্ন জোড়া লাগে হারিয়ে যায়,
এক দল মুষ্টিব বদ্ধ হাত
বাঁধ গড়ে।
ভালো লাগার,ভালো  বাসার–
উষার আগমনের নেশায়।
জনপদ জন্ম নেয়
শ্বাস ফেলে বিশ্বাসের, উচ্চারিত হয় বন্দোমাতরম
স্বদেশের গড়ার হৃদয়ের স্পর্শে 
মানব বন্ধনের বৃত্ত সু সম্পূর্ণ  ’ওম’ শব্দের
উৎসারিত প্রাঙ্গণে। 
আজ যারা এই তোমাদের  গড়া বাঁধ ভাঙতে উদ্যত
তোমার, তোমাদের বিশ্বাস,  তোমাদের বন্দেমাতরম
আজ যারা আঘাতের পর আঘাত, স্নেহ কে পদ দলিত 
  করেছে বারং বার। 
আমি পারিনি,  কিন্তু –
তোমরা আর কত দিন?

🍂

Post a Comment

0 Comments