জ্বলদর্চি

স্বপ্ন -স্বপ্নে বাঁচি, স্বপ্নে জাগি/ মায়া দে


স্বপ্ন -স্বপ্নে বাঁচি, স্বপ্নে জাগি
                     
মায়া দে 

 “স্বপ্নে আমার মনে হলো ,কখন ঘা দিলে আমার দ্বারে “

আমি জাগি আর নাই জাগি, আমি জানলাম সে এলো।রূদ্ধ মনের দ্ধারে ঘা দিয়ে জানান দেয় –সে এসেছিল। অবচেতনে মন তাকে খোঁজে।ভাবে। সচেতন মনের অবচেতন প্রকাশে আমার মন  সেই আনন্দে রিনি ঝিনি বেজে ওঠে। আসলে স্বপ্ন তো অধরা মাধুরী । সেই অধরা মাধুরীর অদ্ভুত মোহনীয়তার জন্য জীবন ভোর ঘোর । অধরা মাধুরী ধরেছি স্বপ্নে- অবচেতনে।

 ইতিবাচক স্বপ্নে মস্তিষ্কে ফিল গুড হরমোন ক্ষরণ হয়। ডোপামিন হরমোন আনন্দ দেয় ।সেরাটোনিন হরমোন মেজাজ ভালো রাখে। আর অক্সিটোসিন হরমোন ভালবাসার অনুভূতি দেয় ।এই হরমোন গুলো মনকে ফুরফুরেও প্রশান্ত রাখে। ক্ষতি কি স্বপ্নময় হয়ে থাকতে? হোক না সে সত্যিই কিংবা মিথ্যে ? থাক না সে অধরা।তাই তো আমি স্বপ্নেই দেখি, কি  মোহে আছি দোঁহে—-

“স্বপ্নে দেখিএকটি নূতন ঘর 
তুমি আমি দুজন প্রিয় তুমি আমি দুজন। 
বাইরে বকুল  বনে, কুহু পাপিয়ায় করে কুজন 
তুমি আমি দুজন প্রিয়, তুমি আমি দুজন।”

স্বপ্ন আমাদের অভিজ্ঞতার প্রক্রিয়াজাত প্রকাশ । জেগে থাকার সময় তথ্য ও অভিজ্ঞতা যা সঞ্চয় করে সচেতন মন,যখন ঘুমাই ব্রেইন সেগুলোকে প্রসেস করে প্রকাশ করে । ঘুমের সময় মন সক্রিয় থাকে না । সক্রিয় থাকে অবচেতন মন। 

অবচেতনের ভাষা রূপক ও প্রতীক। প্রতীকি স্বপ্নকে জটিল দুর্বোধ্য মনে হয়। আমার স্বপ্ন আমার মনের প্রকাশ । আপনার স্বপ্ন আপনার মনের লুকোনো কথা। কোনো না কোনো সময় সচেতনে কিংবা অচেতনে মনে গোপনে সঞ্চয় হয়েছে। আবার যখন ভয়াবহতা স্বপ্নে আসে ? ধরুন পরীক্ষা হলে পৌঁছোতে পারছি না দেরি করে  ফেলেছি,   কিম্বা ট্রেন ছেড়ে দেবে ধরার জন্য দৌড় লাগাচ্ছি। কিন্তু যেতে পারছি না। নয়তো কুকুর তাড়া করছে কিন্তু দৌড়াতে চেয়েও পারছি না ,----এ ধরনের স্বপ্ন আসলে  ব্যক্তির উদ্বেগ , উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার প্রকাশ । এই ধরনের স্বপ্ন বেশি দেখলে নিজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে হয়। কেন এমন হচ্ছে? এর নিরাময় করতে হয় । দেখতে হয় কেন এত উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, আশঙ্কা?

স্বপ্ন জেগেও হতে পারে, আবার ঘুমিয়ে ও । 
ঘুমের ঘোরে মস্তিষ্কের অবচেতন মনের খেলা হিসেবে আমরা স্বপ্ন দেখি । তবে জেগে থেকে যে স্বপ্ন দেখি তা হলো জীবনের লক্ষ্য বা অদম্য ইচ্ছে। ডঃ আব্দুল কালামের কথায় “স্বপ্ন সেটাই যা পূরণের প্রত্যাশায় মানুষকে ঘুমোতে দেয় না। “সেই স্বপ্ন থেকে এক একটা সভ্যতা গড়ে ওঠে। সাহিত্য গড়ে ওঠে।আকাশ পাতাল একাকার করা যায়। সেই স্বপ্ন আনে সৃষ্টি। সৃষ্টির আনন্দে মানুষ আজ মানুষ।নয়তো অন্য প্রানীদের মতো হতো হয়তো।

  স্বপ্নে থাকি, স্বপ্নে জাগি। স্বপ্নে অধরাকে ধরি, স্বপ্নে না পাওয়াকে পাই। স্বপ্নে এগিয়ে চলি।দুঃসহ জীবন। তবু স্বপ্ন আঁকড়ে বাঁচি।বাঁচবো বলেই ।—----

“যখন সময় থমকে দাঁড়ায়
     নিরাশার পাখি দুহাত বাড়ায় 
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন  কোন 
      কি আর করে তখন–
 স্বপ্ন  স্বপ্ন  স্বপ্ন দেখে মন।”
 
“যখন এ মনে প্রশ্নের ঝড় 
     ভেঙে দেয় যুক্তির খেলাঘর 
তখন বাতাস অন্য কোথাও 
      শোনায় তার উত্তর ।
যখন আমার ক্লান্ত চরণ 
     অবিরত বুকে রক্তক্ষরণ
 খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোণ
       কি আর করে তখন —--
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন দেখে মন ।”

🍂

Post a Comment

0 Comments