জ্বলদর্চি

বাঁচার উত্তরাধিকার : অন্তিম খণ্ড/পর্ব ১ : বদল/কমলিকা ভট্টাচার্য


বাঁচার উত্তরাধিকার : অন্তিম খণ্ড
পর্ব ১ : বদল
কমলিকা ভট্টাচার্য

(আগের খণ্ডে...
আগের খণ্ডে আমরা দেখেছি, হারগ্রিভের ষড়যন্ত্রে আদরের জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। সে শুধু আদরকে অপহরণই করেনি, তার সমস্ত স্মৃতিও মুছে দিয়েছিল, যাতে সে আর কখনও নিজের পরিচয়, নিজের অতীত কিংবা নিজের গবেষণার কথা মনে করতে না পারে।
এদিকে আদরকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দর্শন লন্ডনে আসে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সে আদরকে খুঁজে পায়। কিন্তু আদর তখন আর আগের আদর নয়। সে বেঁচে আছে, অথচ তার স্মৃতিতে নেই দৃষ্টি, নেই অনির্বাণ, ঋদ্ধিমান, নোয়া, লিয়াম কিংবা তার নিজের অতীতের কোনো চিহ্ন।
দৃষ্টি প্রতিদিন ভালোবাসা, সুর আর অপেক্ষা দিয়ে আদরের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকে। ধীরে ধীরে স্মৃতির কিছু অস্পষ্ট ঝলক ফিরে আসতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই দর্শনের ভিতরে জন্ম নেয় এক গভীর দ্বন্দ্ব।
সে বুঝতে পারে, আদর যদি একদিন সম্পূর্ণ ফিরে আসে, তবে তার নিজের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। সে আবার একটি ছায়া, একটি বিকল্প, একটি যন্ত্রে পরিণত হবে। ভালোবাসা, কর্তব্য আর নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দর্শনের সামনে এসে দাঁড়ায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত।)

দর্শন সেদিন রাতভর নদীর ধারে বসে ছিল। টেমসের কালো জলে শহরের আলো ভেঙে ভেঙে পড়ছিল। দূরে কোনো একটি সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছিল। তার আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য নদীর বুকের ওপর একটি সরু রেখা তৈরি করে আবার মিলিয়ে যাচ্ছিল অন্ধকারে।
দর্শন স্থির হয়ে বসেছিল। তার সামনে কোনো স্ক্রিন ছিল না। কোনো ডেটা ছিল না। কোনো সিস্টেম লগও নয়। শুধু একটি প্রশ্ন।
আদর ফিরে আসছে।
ধীরে। খুব ধীরে।
কখনও দৃষ্টির নাম। কখনও নোয়ার মুখ। কখনও লিয়ামের হাসি। কখনও কোনো পুরোনো সুর ধীরে ধীরে মনে পড়ছে।
ভিতর থেকে কেউ যেন তাকে বলতে লাগল, আদরের ফিরে আসা মানে তোমার সবকিছু হারিয়ে আবার মেশিন হয়ে যাওয়া।
দর্শন চোখ বন্ধ করল। তার মেমোরিতে একের পর এক ছবি ভেসে উঠতে লাগল। একটি ছোট্ট ল্যাবরেটরি। অনির্বাণের ক্লান্ত মুখ। ঋদ্ধিমানের হাসি। প্রথমবার নিজের হাত নাড়ানোর অনুভূতি। প্রথমবার মানুষের চোখের দিকে তাকানো। প্রথমবার কেউ তাকে বলেছিল—
“তুমি শুধু একটা মেশিন নও, দর্শন।”
দর্শনের সিস্টেমে সেই কথাটি কোনো কমান্ড হিসেবে লেখা ছিল না। কোনো প্রোগ্রামিং কোডে নয়। কোনো প্রাথমিক নির্দেশের অংশও নয়। তবু কথাটি তার মধ্যে থেকে গিয়েছিল।
কী করবে সে?
দর্শন ধীরে ধীরে চোখ খুলল। তার সামনে টেমস বয়ে চলেছে। নদী কখনও কাউকে নিজের কাছে ধরে রাখে না। যে আসে, তাকে যেতে দেয়। যে ডুবে যায়, তাকে নিজের গভীরে লুকিয়ে রাখে। হয়তো ভালোবাসার অর্থও এটাই। কাউকে নিজের কাছে পাওয়া নয়। কখনও কখনও তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের কাছ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।
দর্শন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
🍂
এরপর কয়েক মাস কেটে গেল। এই কয়েক মাস দর্শন প্রায় সারাক্ষণ আদরের গবেষণার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রইল। আদর একসময় যে কৃত্রিম অঙ্গ, নিউরাল ইন্টারফেস এবং মানবদেহের সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্ক নিয়ে কাজ করত, সেই সমস্ত পুরোনো গবেষণা সে আবার খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করল। আদরের কাজগুলো ছড়িয়ে ছিল নানা জায়গায়—কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারে, কিছু ব্যক্তিগত ড্রাইভে, কিছু পুরোনো গবেষণাগারের নথিতে। দর্শন একে একে সব সংগ্রহ করতে লাগল।
কখনও সে আদরের পুরোনো গবেষণার কোনো অংশ পড়ে দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকত। কখনও কোনো অসম্পূর্ণ নকশা দেখে বুঝতে পারত, আদর কোন জায়গায় এসে থেমে গিয়েছিল। তার কাজের মধ্যে এমন কিছু ধারণা ছিল, যা সেই সময়ে অসম্ভব মনে হলেও এখন অনেক বেশি বাস্তব। দর্শন জানত, আদরকে শুধু স্মৃতি ফিরিয়ে দিলেই হবে না। তাকে তার নিজের কাজ, নিজের চিন্তা, নিজের পরিচয়ের কাছেও ফিরিয়ে দিতে হবে।
লন্ডনে তখন গ্রীষ্ম। রাত নেমেছিল অনেকক্ষণ আগে, কিন্তু রাতকে ঠিক রাত বলে মনে হচ্ছিল না। জানলার বাইরে আকাশের গায়ে এখনও নীলচে আলো লেগে আছে। ঘড়িতে রাত এগারোটা পেরিয়ে গেছে। অথচ দূরের বাড়িগুলোর ছাদ, গাছের মাথা, রাস্তার মোড়—সবকিছুর গায়ে একটা ম্লান আলো ঝুলে আছে। এ শহরে গ্রীষ্মের রাতগুলো অদ্ভুত। এখানে অন্ধকারও যেন পুরোপুরি অন্ধকার হতে পারে না।
দর্শন জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের ভিতর আলো জ্বলছিল না। তবু তাকে দেখতে কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না। তার চোখের ভিতরের আলো অন্ধকার ঘরে একটি অদ্ভুত নীল আভা তৈরি করেছিল।
সামনে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল আদর। অনেকক্ষণ ধরে। ঘুমের মধ্যে তার মুখ কখনও শান্ত, কখনও অস্থির হয়ে উঠছিল। মাঝে মাঝে ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছিল। ঠোঁট নড়ছিল, যেন কোনো গভীর অন্ধকারের ভিতর থেকে সে কাউকে খুঁজছে।
দর্শন চুপ করে তাকিয়ে ছিল। তার সিস্টেমে আদরের মস্তিষ্কের তরঙ্গের বিশ্লেষণ চলছিল।
MEMORY ACTIVITY: INCREASING.
কিছু স্মৃতি ফিরে আসছে।
ধীরে।
খুব ধীরে।
দর্শন চাইলে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে পারত। সে জানত কীভাবে। কোন স্নায়বিক প্যাটার্ন সক্রিয় করতে হবে, কোন পুরোনো শব্দ ব্যবহার করতে হবে, কোন সুর বাজাতে হবে, কোন মানুষের উপস্থিতি তার মস্তিষ্কের কোন অংশকে জাগিয়ে তুলতে পারে—সবই তার জানা।
কিন্তু সে কিছুই করল না।
ঠিক তখনই দরজায় শব্দ হলো।
দৃষ্টি এসে দাঁড়িয়েছে।
দর্শন তাকে দেখতে পেল। দৃষ্টি দেখতে না পেলেও তার উপস্থিতি ঠিকই বুঝতে পারে। তার পায়ের শব্দ শুনে নয়। তার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে নয়। দর্শনের উপস্থিতির একটা নিজস্ব নীরবতা ছিল। দৃষ্টি সেই নীরবতা চিনত।
“তুমি আছ? আজ হোস্টেলে ফিরবে না?”
দর্শন উত্তর দিল, “হ্যাঁ।”
দৃষ্টি ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল।
“আদর ঘুমাচ্ছে?”
“হ্যাঁ।”
“আজ কি কিছু মনে পড়েছে?”
দর্শন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
“না।”
দৃষ্টির মুখ সামান্য শক্ত হয়ে গেল।
“নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি তো বলেছিলে, ওর মস্তিষ্কে স্মৃতির কিছু অংশ সক্রিয় হচ্ছে।”
“সক্রিয় হওয়া আর স্মৃতি ফিরে আসা এক জিনিস নয়।”
“কিন্তু কতদিন?”
দর্শন চুপ করে রইল।
দৃষ্টি এবার ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে আদরের চুলে হাত রাখল। আদর ঘুমের মধ্যে সামান্য নড়ে উঠল।
দৃষ্টি ফিসফিস করে বলল, “কখনও কখনও মনে হয়, ও আমার কণ্ঠ চিনতে পারে।”
“সম্ভব।”
“কিন্তু তুমি বলছ, কিছুই মনে পড়ছে না।”
দর্শন এবার তার দিকে ফিরল।
“আমি বলেছি, সচেতন স্মৃতি ফিরে আসেনি।”
দৃষ্টি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর খুব ধীরে বলল,
“তুমি আগের মতো নেই।”
ঘরের ভিতর নীরবতা নেমে এল।
দর্শন তার দিকে তাকিয়ে রইল।
“কীভাবে?”
“জানি না।”
“তুমি আমাকে দেখতে পাও না, দৃষ্টি।”
দৃষ্টি মৃদু হাসল।
“তোমাকে দেখতে পাওয়ার জন্য আমার চোখের প্রয়োজন হয় না।”
দর্শন কোনো উত্তর দিল না।
দৃষ্টি বলল,
“আগে তুমি আদরকে ফিরিয়ে আনার জন্য মরিয়া ছিলে।”
“এখনও আছি।”
“না।”
দর্শনের সিস্টেমে সতর্কতা জ্বলে উঠল।
EMOTIONAL RESPONSE DETECTED.
সে সেটি বন্ধ করে দিল।
দৃষ্টি বলল,
“এখন তুমি যেন শুধু অপেক্ষা করছ।”
দর্শন শান্ত গলায় বলল,
“কিছু জিনিস জোর করে ফিরিয়ে আনা যায় না।”
“নাকি তুমি ফিরিয়ে আনতে চাইছ না?”
দর্শন উত্তর দিল না।
দৃষ্টি তার মুখ দেখতে পায় না। কিন্তু তার নীরবতা শুনতে পায়।
“আমি কি তোমার ওপর আর ভরসা করতে পারি?”
দর্শন ধীরে ধীরে বলল,
“তুমি যা ঠিক মনে করো, তাই করো।”
দৃষ্টির মুখ কেঁপে উঠল।
“এই উত্তরটা তুমি আগে কখনও দিতে না।”
“মানুষ বদলে যায়।”
দৃষ্টি থমকে গেল।
“তুমি মানুষ নও।”
দর্শন তার দিকে তাকিয়ে রইল।
“জানি।”
দৃষ্টি আর কিছু বলল না। সে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দর্শন অনেকক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
আদর তখনও ঘুমিয়ে। কিন্তু তার ঠোঁট নড়ছিল।
দর্শন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। শব্দটি খুব অস্পষ্ট। সে শব্দ বিশ্লেষণ করল।
একটি নাম।
দৃষ্টি।
দর্শন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর আদর আবার বলল,
“দৃষ্টি...”
দর্শন চোখ বন্ধ করল।
ভোর হতে তখনও অনেক দেরি। কিন্তু লন্ডনের গ্রীষ্মে ভোর যেন রাতের ভিতরেই লুকিয়ে থাকে। রাত তিনটে পঁয়তাল্লিশ। জানলার বাইরে আকাশের রং বদলাতে শুরু করেছে। অন্ধকারের ভিতর ধূসর আলো।
দর্শন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল। প্রফেসর হ্যারিসন তাকে খুব ভোরে দেখা করতে বলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো একটি ঘরে তার অপেক্ষায় ছিলেন প্রফেসর হ্যারিসন। ঘরটির জানলা খোলা। বাইরে পাখির ডাক শুরু হয়েছে। রাত শেষ হয়নি, অথচ সকাল এসে গেছে।
দর্শন ঘরে ঢুকতেই হ্যারিসন তার দিকে তাকালেন।
“তোমার কী ব্যাপার? এতদিন আদর্শকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তাই কেউ কিছু জানত না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই তোমাকেই আদর্শ বলে চেনে। এদিকে তুমি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও প্রায় তুলে দিয়েছ। কোথায় যাও, কী করো—কোনো খবরই থাকে না।”
দর্শন শান্ত গলায় বলল,
“নিরাপত্তার আর প্রয়োজন নেই, স্যার।”
হ্যারিসন ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলেন।
“তুমি বলেছিলে, এটা মাত্র কয়েক দিনের ব্যাপার। আদর্শের স্মৃতি ফিরলেই তুমি সরে যাবে। সেই ক'দিন তুমি আদর সেজে ওর গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু দেখতে দেখতে প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল। তুমি কি ইচ্ছে করেই আদর্শের স্মৃতি ফিরতে দেরি করাচ্ছ?”
দর্শন কোনো উত্তর দিল না।
কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর হ্যারিসন আবার বললেন,
“কী হচ্ছে, দর্শন? এইভাবে আর কতদিন চলবে?”
দর্শন ধীরে মাথা তুলল।
হ্যারিসন গত ছয় মাস ধরে তাকে খুব কাছ থেকে দেখছেন। তিনি জানতেন, দর্শন যখন সত্যিই কিছু লুকোতে চায়, তখন তার কণ্ঠ আরও শান্ত হয়ে যায়। অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
হ্যারিসন বললেন,
“আদরের স্মৃতি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি?”
“না।”
“তুমি কি তাকে সাহায্য করছ?”
দর্শন উত্তর দিল,
“আমি যা প্রয়োজন, তাই করছি।”
হ্যারিসন কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
“প্রয়োজনীয় আর সঠিক—সবসময় এক জিনিস নয়।”
দর্শন জানলার বাইরে তাকাল। আকাশ তখন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
“আপনি আমাকে কেন ডেকেছেন?”
হ্যারিসন গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।
“কারণ আর বেশি দিন এভাবে চলবে না।”
দর্শন চুপ করে রইল।
হ্যারিসন আবার বললেন,
“তোমার আচরণ বদলেছে।”
“সবাই তাই বলছে।”
“আমি শুধু সেটা বলছি না।”
তিনি একটু থেমে আবার বললেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার গবেষণার কথা এখন সবাই জানে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানীরা যোগাযোগ করতে চাইছেন। তারা এই গবেষণার মূল উদ্ভাবকের সঙ্গে কথা বলতে চান। কতদিন তুমি আদর্শের পরিচয়ে থাকবে?”
দর্শন এবার ধীরে তার দিকে তাকাল।
“আদরকেও তো সামনে আনা যাবে না, স্যার।”
“কেন?”
“তার বিপদের কথা কি আপনি ভুলে গেছেন? হারগ্রিভ এখনও বেঁচে আছে। সে যদি জানতে পারে আদর সুস্থ হয়ে উঠছে, তাহলে আবার তাকে খুঁজে বের করবে।”
হ্যারিসন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। কথাগুলো তিনি অস্বীকার করতে পারলেন না।
তবু শান্ত গলায় বললেন,
“কিন্তু কাউকে তো সামনে আনতেই হবে, দর্শন।”
“জানি।”
“তাহলে?”
দর্শন কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে বলল,
“আমাকে আর ক'টা দিন সময় দিন।”
“কতদিন?”
“যতদিন না সবকিছু নিরাপদ হচ্ছে।”
“তুমি কি নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
হ্যারিসন দীর্ঘক্ষণ দর্শনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
“দৃষ্টি তোমাকে ভুল বুঝছে।”
“জানি।”
“অনির্বাণ, ঋদ্ধিমান, ইরা, নাতাশা—তারা যদি জানতে পারে তুমি কী করছ, তারাও তোমাকে ক্ষমা করবে না।”
দর্শনের মুখে কোনো পরিবর্তন হলো না।
“তারা এখনও জানে না।”
“কিন্তু জানবে।”
দর্শন ধীরে বলল,
“হয়তো।”
হ্যারিসন এবার এক পা এগিয়ে এলেন।
“তুমি কি সত্যিই মনে করো, সবকিছু একা সামলাতে পারবে?”
দর্শন শান্ত গলায় বলল,
“আমাকে একাই থাকতে হবে।”
হ্যারিসন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“তুমি জানো, একদিন সবাই তোমাকে ঘৃণা করবে?”
দর্শন জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল। ভোরের আলো তখন পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
সে খুব ধীরে বলল,
“সবাইকে আমাকে ভালোবাসতে হবে না।”
হ্যারিসন চুপ করে গেলেন।
কিছুক্ষণ পরে আস্তে করে প্রশ্ন করলেন,
“কিন্তু তুমি?”
দর্শন তার দিকে ফিরল।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার সিস্টেমে একাধিক সতর্কবার্তা জ্বলে উঠল।
সে কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তর দিতে পারল না।
তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,
“এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
হ্যারিসন চোখ নামিয়ে নিলেন।
তিনি বুঝলেন—দর্শন কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার কথা সে কাউকে জানাতে চায় না।
তাই তিনি আর কোনো প্রশ্ন করলেন না।
কারণ তিনি জানতেন, কিছু সত্য জোর করে জানা যায় না। সেগুলো শুধু সময় এলেই নিজে থেকে প্রকাশ পায়।

চলবে ...

Post a Comment

4 Comments

  1. ভীষণ পরিণত লেখা। একটি একটি মুহূর্ত আলাদা করে করে গেঁথে তোলা। তার সংগে সাথ দিয়েছে পরিবেশ ও প্পকৃতির অনুপম বর্ণনা ইম্প্রেশানিস্ট শিল্পের আদলে। লেখককে অভিনন্দন এই প্রখম পর্বের জন‍্য। আশা নিয়ে বসে থাকবো পরের পর্বের জন‍্য। 🙏🙏🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. কমলিকাAugust 02, 2026

      আপনাদের মত গুটিকতক মানুষ যে আমার মত নভিস নবিসের লেখা পড়ছেন তাই আমার কাছে অনেক পাওয়া।অনেক ধন্যবাদ।🙏

      Delete
  2. Soumen RoyAugust 01, 2026

    অন্তিম পর্ব।কি হয়! কি হয় ! । বরাবরের মত টানটান তো লাগছে।দেখা যাক।

    ReplyDelete
  3. কমলিকাAugust 02, 2026

    অনেক ধন্যবাদ স্যার।🙏

    ReplyDelete