জ্বলদর্চি

ছোটবেলা বিশেষ সংখ্যা ২১৪

ছোটবেলা বিশেষ সংখ্যা ২১৪ 
সম্পাদক : স্বাগতা পাণ্ডে 
চিত্র গ্রাহক: কৃষ্ণ প্রসাদ সংগ্রাম

সম্পাদকীয় 


প্রিয় বন্ধুরা, 
সবাই নিশ্চয়ই খুব ভালো আছো। আগস্ট মাস পড়ে গেল। আগস্ট মাস মানেই  স্বাধীনতা দিবস এর মাস। সত্যি আজ আমরা কল্পনাও করতে পারিনা ইংরেজ দের কাছ থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে কত মানুষ কত সংগ্রাম ই না করেছে । নিজের ভালো থাকা নিজের আনন্দের তোয়াক্কা না করেই কত মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। কত লড়াই, কত চোখের জল, কত না যন্ত্রনা র বিনিময়ে আমরা আজকের এই স্বাধীনতা ভোগ করছি। জানো তো , আমাদের এই মেদিনীপুর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কত বড় ভূমিকা নিয়েছিল। মেদিনীপুর ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের আঁতুড়ঘর। আমার দাদু ঈশ্বর মহেশ্বর পাণ্ডে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আমার দিদার মুখে শুনেছি, দিদা আর বাড়ির অন্যান্য লোকজন বিপ্লবী দের অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন রান্নাঘরের উনুনে র কাঠ রাখার চৌবাচ্চার নীচে চোরা কুঠুরি তে। ইংরেজ পুলিশ এসে বহুবার খানা তল্লাশি করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানতো আমার দিদার বুদ্ধি র কাছে। আজ তোমাদের আমার দাদুর প্রিয় বন্ধুর কথা বলবো। তাঁর নাম বিপ্লবী বিমল দাসগুপ্ত। বিমল দাসগুপ্ত আর আমার দাদু ছিলেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র। মেদিনীপুর এর জেলাশাসক পেডি দীঘার লবণ সত্যাগ্রহী দের উপর খুব অত্যাচার করে। তখন বিপ্লবী রা সিদ্ধান্ত নেয় পেডি কে হত্যা করার। জ্যোতিজীবন ঘোষ আর বিমল দাসগুপ্ত এই দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দের ৭ ই এপ্রিল মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে একটা প্রদর্শনী দেখতে আসেন পেডি। সেই সময় এই দুই বিপ্লবী পেডি কে গুলি করে হত্যা করে । আর তারপরেই  দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে অবশেষে হরিহর গোয়ালার কাছে পৌঁছে যায়। তখন হরিহর গোয়ালা ওদের কে নিজের নাতি সাজিয়ে, সাইকেলে  চাপিয়ে নিয়ে সোজা ট্রেনে  তুলে দেয়। ট্রেনে করে ওই মহান বিপ্লবী দুজন পালিয়ে যান। ভেবে দেখো তো দুটো বাচ্চা ছেলের কি অসম্ভব সাহস আর মনের জোর। নিজের মৃত্যুর ভয় নেই, মনে শুধু দেশ স্বাধীন করার অসম্ভব জেদ। এরাই আমাদের আসল হিরো তাইনা?
 আজ চিঠিটা অনেক টা লম্বা হয়ে গেল। পরের সপ্তাহে তোমাদের মেদিনীপুরের আরো একজন হিরোর গল্প বলবো। ভালো থাকো সবাই। ইতি তোমাদের স্বাগতা দি

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ উনত্রিশ পর্ব ২৬ 

রতনতনু ঘাটী

সকালে রেডিওতে ওয়েদার ফোরকাস্ট শোনা হয়নি দেবোপমের। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে দেখল আকাশ মেঘলা করে ঝিরিঝিরি করে বৃষ্টি নেমেছে। স্কুলের প্রেয়ারের পর ক্লাস শুরু হয়ে গেল যার-যার ক্লাসরুমে। আজ অ্যাসেম্বলি হলে এগারোটার সময় স্কুল-কমিটির জরুরি মিটিং ডেকেছেন হেডস্যার। এখন সব স্যার এবং ম্যামরা যে-যার ক্লাসে চলে গেলেন ক্লাস নিতে। একটা পিরিয়ডের পর তাঁরা চলে আসবেন অ্যাসেম্বলি হলে। 

   আজকের মিটিংয়ের মূল বিষয় হল, কবে স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচের ফাইনাল খেলা হবে? সেই ডেটটা ফাইনাল করে ফেলতে হবে এখনই। এর পর সব ক্লাসের অ্যানুয়াল পরীক্ষা চলে আসবে। শুরু হয়ে যাবে মাধ্যমিক পরীক্ষাও। 

   স্কুল-কমিটির মিটিংয়ে বাইরের মানুষ বলতে হেডস্যার ডেকেছেন মুকুলকৃষ্ণ বাবুকে। উনি এখন স্কুলের এত সব উপকারী কাজে নিজেকে যুক্ত করে নিয়েছেন, সেই অর্থে উনি এখন এই গগনজ্যোতি স্কুলেরই একজন। বৃষ্টির মধ্যে গগনজ্যোতি স্কুলের ক্লাসে ফার্স্ট পিরিয়ডটা শুরু হয়ে গেল।

   দেবোপমস্যার শেড তৈরির লোকদের কাজের নির্দেশ দিয়ে হেডসারের রুমে দিকে এগিয়ে এলেন বৃষ্টির মধ্যেই। মুকুলবাবু আর হেডস্যার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আলোচনা করছিলেন শেডের কাজ নিয়ে। 

   মুকুলকৃষ্ণবাবু মুখভার আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই জন্যেই স্যার আমাদের স্কুলের মাঠের শেডটার কথা ভেবেছিলাম। শেড হয়ে গেলে আমাদের স্কুলের মাঠে আমরা বৃষ্টির মধ্যেও খেলা বা অ্যানুয়াল ফাংশান বা অন্য কিছু সুন্দর ভাবে করতে পারব?’

   ‘সে আপনি অমন উদারতা না দেখালে আমি অত টাকার ঝক্কি কি মাথা পেতে নিতে পারতাম মুকুলবাবু? আমাদের গরিব স্কুল! না আছে আমাদের স্কুলের অঢেল বিষয়আশয়, না আছে মস্ত বড় ব্যাঙ্ক ব্যালান্স।’

   হেসে মুকুলবাবু  বললেন, ‘আপনার স্কুলের যা আছে নবনীতস্যার, তা অনেক স্কুলই পয় না। এই যে আপনার এত উজ্জ্বল ছাত্রদল, এই যে ক্রিকেটের এত উজ্জ্বল নবীন প্রতিভা তৈরি করছেন, তেমন হলে এই প্রতিভাবানদের মধ্যে থেকে কেউ-কেউ হয়তো ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শাসন করবে। একজন বৈভব সূর্যবংশী বা একজন স্মৃতি মান্থানা উঠে আসবে না সে কি আপনি জোর দিয়ে বলতে আরেন? ঝক্কি যখন নিয়েই ফেলেছেন স্যার, চলুন আমরা গগনজ্যোতি স্কুলকে একটি নজর-কাড়া স্কুল করে করে গড়ে তুলি। না না। লেখাপড়ায় গগনজ্যোতিকে যে ভাবে উন্নীত করেছেন আপনি, সে নিয়ে কারও কিছু বলার থাকবে না নিশ্চয়ই। এ ছাড়া খেলাধুলোয় আপনার স্কুলের সাফল্যের কোনও তুলনা মিলবে না এমন ভাবে আমরা তৈরি করব ছাত্রছাত্রীদের।’

🍂

   ‘আমাদের মিটিং শেষ হওয়ার পরেও তখনও যদি বৃষ্টি চলতে থাকে, তা হলে সব ক্লাসের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অ্যাসেম্বলি হলে আমরা ক্রিকেটে গল্পের ব্যবস্থা করব ভেবেছি। সেই অনুষ্ঠানে আপনার মুখ থেকে ক্রিকেটের নানা দরকারি কথা যেমন শুনব, তেমনই আপনি আমাদের শেনাবেন ক্রিকেটের মজাদার এবং মূল্যবান গল্প।’ মুকুলবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘চলুন মুকুলকৃষ্ণবাবু, আমরা অ্যাসেম্বলি হলের দিকে এগোই?’

   ততক্ষণে দেবোপমস্যারও এসে গেলেন। হোডস্যার বললেন, ‘এই তো দেবোপম এসে গেছে! চলো, একটু পরেই তো আমাদের মিটিং? বুঝলে দেবোপম, আমাদের মিটিংয়ের পরও যদি এমনই ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে’ চলতে থাকে, তবে তুমি ঘন্টিদাদুকে দিয়ে সব ক্লাসে খবর পাঠিয়ে দিও, ‘মিটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যদি  অমন বৃষ্টি চলতে থাকে, ছেলেমেয়েরা যেন সকলেই অ্যাসেম্বলি হলে চলে আসে!’

   ‘কী হবে? আপনি কি কিছু ভেবেছেন স্যার?’

   ‘ছেলেমেয়েরা তো মুকুলবাবুর মুখ থেকে ক্রিকেটের অজানা গল্প শুনতে চেয়েছিল! আজই তা হলে ক্রিকেটের গল্পের আসরটা হয়ে যাক। মুকুলবাবুও তো এসেই পড়েছেন। আমারা সকলে, মানে সব ম্যাম এবং স্যাররাও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে শুনবেন সেই সব গল্প।’

   দেবোপমস্যার বললেন, ‘দারুণ হবে স্যার! আমি ক্লাসে-ক্লাসে খবর পাঠিয়ে দেব মিটিংয়ের পর।’

   অ্যাসেম্বলি হলের দিকে যেতে-যেতে হেডস্যার বলতে লাগলেন, ‘দেবোপম, আমি আজকের মিটিংয়ে কয়েকজন অভিভাবকেও আসতে বলেছি। ওই যাঁরা মনে করো ক্রিকেট নিয়ে খুব উৎসাহী, আমি তাঁদেরই আসতে বলেছি। যেমন ধরো, তিথিবকুল গ্রামের অমূল্য ধর, কাঁকনকুষি গ্রামের একাদশী পাল, ছোটো জগৎপুর গ্রামের অভিরূপ দলুইকে ডেকেছি। ওঁরা আমাদের অভিভাবক অথছ ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহ দেখান! আমি আর একজনকেও ডেকেছি!’

   দেবোপম জানতে চাইলেন, ‘কাকে স্যার?’

   ‘লোকন দাসের দিদি পারুলমণি দাসকে। লোকন এখন দারুণ ক্রিকেট খেলছে! সেই সঙ্গে মেয়েটি নিজে চোখে দেখতে পায় না বটে, কিন্তু  ক্রিকেট নিয়ে তার উৎসাহ দেখার মতো। তোমার ক্রিকেট কোচিং দেখতেও এসেছে ক’দিন। তাই অভিভাবকদের পক্ষ থেকে পারুমণিও থাক, কী বলো?’ 

   বৃষ্টি মাথায় করে একে-একে সকলে এসে জড়ো হচ্ছেন। প্রথম পিরিয়ড শেষ হয়ে যেতেই স্যার এবং ম্যামরাও একে-একে চলে এলেন অ্যাসেম্বলি হলে। স্টেজের পিছনে বৈভব সূর্যবংশীর একটা বড় পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেদিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে মুকুলবাবু জিজ্ঞেস করলেন দেবোপমস্যারকে, ‘এই কাণ্ডটি কার?’

   ‘আপনি যাকে ‘আমাদের বৈভব সূর্যবংশী’ বলে ডাকেন, সেই লোকন দাসের। ও কার কাছ থেকে যেন শুনেছিল, শিমুলতলির বাজারের ‘মাই স্পোর্টস’ দোকানে ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর বড় রঙিন পোস্টার পাওয়া যাচ্ছে! আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে লোকন দাস পোস্টারটা কিনে এনেছে। কেমন হয়েছে মুকুলকৃষ্ণস্যার?’

   ‘খুব সুন্দর হয়েছে! লোকন কোথায়?’

   ‘প্রথম ক্লাসের পর লোকন ওর দিদি পারুলমণিকে আনতে গেছে বাড়ি থেকে। হেডস্যার পারুলমণিকেও আজকের মিটিংয়ে আসতে বলেছেন তো!’ দেবোপম বললেন।

   বাইরের থেকে আমন্ত্রিতরা বৃষ্টি মাথায় করে এসে পৌঁছচ্ছেন। ঘন্টিদাদু চেয়ার এবং বেঞ্চি পেতে সকলের বসার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত। টেবিল-চেয়ার পেতে একটা ছোট মঞ্চ মতোও করা হয়েছে। স্কুলের অফিস ঘর থেকে বড় ফুলদানিটা এনেছেন ঘন্টিদাদু। তাতে স্কুলের বাগান থেকে ফুল তুলে এনে সাজিয়ে দিয়েছেন।

   মুতকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘নবনীতস্যার, সব মিলিয়ে বেশ একটা অনুষ্ঠান-অনুষ্ঠান ব্যাপার তৈরি হয়েছে বলুন?’    

   নবনীতস্যার মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল, ‘ছেলেটার সবদিকে নজর ছড়িয়ে থাকে! দেবোপম সঙ্গে থাকলে কিচ্ছু ভাবতে হয় না মুকুলবাবু।’

    এবার লোকনের হাত ধরে এসে পড়ল পারুলমণিও। অ্যাসেম্বলি হলে ঢুকতে-ঢুকতে পারুলমণি বলল, ‘ভাই, তুই এবার অন্তত আমাকে ছাড়? তুই বাড়ি থেকে আমাকে আনতে গেলি যে কেন আমি বুঝতে পারলাম না। আমি কি একা আসতে পারতাম না?’

   লোকন অভিমানের গলায় বলল, ‘তা হলে ফেরার সময় দিদি তুই একা চলে যাস? আমার কখন স্কুল ছুটি হয় কে জানে। যেভাবে বৃষ্টি নেমেছে!’

   মোটামুটি সকলেই এসে গেছেন। সব ক্লাসের ছেলেমেয়েরাও এসে বসে পড়েছে অ্যাসেম্বলি হলের বেঞ্চে। গমগম করছে গোটা হলটা। তখন কতটা জাঁকিয়ে বৃষ্টি নেমেছে বাইরে সেদিকে কারও তাকিয়ে দেখার ফুরসতই হয়নি। 

   তারপর অ্যাসেম্বলি হলের দরজার দিকে তাকিয়ে হেডস্যার বলে উঠলেন, ‘এই তো, যাঁর চেষ্টায় আমাদের কর্মকাণ্ড রূপায়িত হতে চলেছে, সেই আমাদের কন্ট্রাক্টরসাহেব মনোজ চাকলাদার সাহেবও এসে পড়েছেন! আসুন, আসুন!’ এবার হেডস্যার সূচনা করলেন, ‘আমি আজ জরুরি মিটিংটা ডাকলাম, একটা কথা ভেবে। আমাদের স্কুলের মাঠের উপরে শেড তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে, সে তো সকলেই দেখতে পাচ্ছেন। মনোজবাবু বলে দিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে কাজটা শেষ করে দেবেন! আমাদেরও স্কুলের অ্যানুয়াল এগজামের আর মাস তিনেকের মতো বাকি! আমি চাইছি, শেডের কাজ শেষ হয়ে গেলে তার পর-পরই আমাদের স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচের ফাইনালটা শেষ করে ফেলব। তারপর ছেলেমেয়েরা নিজেদের পড়াশুনোয় মন দিতে পারবে?’

   দেবোপমস্যার বললেন, ‘অন্য স্যার এবং ম্যামরাও তো সকলে আছেন? তাঁরা কে কী বলেন?’

   ভূগোলের ভুবনস্যার বললেন, ‘হেডস্যার যা ভেবেছেন, তা একদম ঠিক। ওই সময়টাই পারফেক্ট হবে।’

   বাংলার গীতিকাম্যাম বললেন, ‘হেডস্যার খুব ভাল সময়টা বেছেছেন। খুব ভাল হবে ওই সময় আমাদের স্কুল ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা হলে।’

  তিথিবকুল গ্রামের অমূল্য ধর বললেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ। এই সময়টাই একদম ঠিক সময়। আমারও নেদারল্যান্ড বেড়াতে যাওয়ার কথা ওই সময়ে। আমার মেয়ে তো ওখানেই থাকে। সেভাবে ডেট ঠিক করি, যাতে গগনজ্যোতি স্কুলের ফাইনাল ক্রিকেট ম্যাচটার সময় আমি প্রেজেন্ট থাকতে পারি!’ 

   ছোট জগৎপুরের অভিরূপ দলুই  বললেন, ‘স্যার যে সময়টা নির্বাচন করেছে, আমার ওই সময়টা বাইরে যাওয়ার কথা নয়। আমি ছোট জগৎপুরেই থাকব। দরকার হলে স্যার আমাকে ফাইনাল খেলা পরিচালনার ছোটখাটো কোনও কাজ আমাকে দেবেন, আমি দাঁড়িযে থেকে সে কাজ করার চেষ্টা করব।’ 

   সকলেই একবাক্যে ওই সময়টাকে ক্রিকেটের ফাইনালের সঠিক সময় বলে সম্মতি দিলেন। হেডস্যার তা হলে আমি নভেম্বর মাসের শেষ দুটো দিন মানে উনত্রিশ তারিখ এ সেকশানের সঙ্গে বি-সেকশানের এবং সি-সেকসানের সঙ্গে ডি-সেকশানের ম্যাচ হবে। দুটো খেলায় যে সেকশান দুটো জয়ী হবে সেই দুটো সেকশান পরস্পরের মুখোমুখি হবে তার পরের দিন অর্থাৎ তিরিশ নভেম্বর। সে দিনই হবে গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচের ফাইনাল ম্যাচ।’

   মুকুলকৃষ্ণস্যার গোটা আলোচনাটায় সম্মতি দিয়ে বলে উঠলেন, ‘স্যার, ফাইনালের দিন কোনও একজন বিখ্যাত ক্রিকেটাকে যদি আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসা হয় আমাদের স্কুলে, তা হলে কেমন হবে? তিনি এসে বিজয়ী টিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন?’

   দেবোপমস্যার হাততালি দিয়ে বলে উঠলেন, ‘দারুণ হবে! যদি সেই বিখ্যাত ক্রিকেটারটি হন বৈভব সূর্যবংশী!’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু বলে উঠলেন, ‘না। দেবোপম, এখন বৈভবকে আমাদের মতো লোক ছুঁতেও পারব না। অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা তো অনেক পরের কথা। তবে আমি চেষ্টা করে দেখব কাউকে যদি রাজি করানো যায়। আমাদের ডি এম সাহেবের সুপারিশে যদি কাউকে নিয়ে আসা যায় গগনজ্যোতি স্কুলে। ডি এম সাহেব নবান্নে আমারের ক্রিড়ামন্ত্রীকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে যদি কাউকে রাজি করানো সম্ভব হয়, দেখবখ’ন। গগনজ্যোতি স্কুল তো আমারই স্কুল!’

   মনোজ চাকলাদার বললেন, ‘এমন যদি স্যার করা যায়, আমার শেড তৈরির কাজ যেদিন কমপ্লিট হবে, তারই এক-দু’ দিনের মধ্যে যদি আমাদের এই মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আর স্কুলের ফাইনাল ম্যাচ একই দিনে করা সম্ভব হয়, তা হলে তো দেখতে হয় না। নবনীতস্যার, দেখুন, আমরা সকলে মিলে যাতে মাঠের উপরের শেডের কাজ নভেম্বর মাসের পঁচিশ তারিখের আগে শেষ করতে পারিস সে চেষ্টা করি!’

   হেডস্যার উপস্থিত সকলের  মুখের উপর চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিলেন। তা হলে সব ছোটরা শোনো, আমাদের স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচের খেলা হবে উনত্রিশে নভেম্বর। এবং ফাইনাল ম্যাচ হবে তিরিশে নভেম্বর। সকলে রাজি তো?’

  ছাত্রছাত্রীরা দাঁড়িয়ে পড়ে চিৎকার করে উঠল, ‘আমরা রাজি! আমরা রাজি!’

   এবার হেডস্যার বললেন, ‘এবার আজকের একটা দারুণ খবরটার কথা বলি। এখন তো বাইরে তুমুল বৃষ্টি নেমেছে। তোমরা সকলে শান্ত হয়ে বোসো। এবার শুরু হবে আমাদের ক্রিকেটের নানা জমজমাট গল্প শোনার আসর। তোমাদের ওসব গল্প শোনাবেন আমাদের সকলের প্রিয় মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি। উনি দীর্ঘ জীবন ধরে কলকাতায় ক্রিকেট খেলা দেখেছেন স্টেডিয়ামে বসে। এখনকার সব বিখ্যাত ক্রিকেটারকে সামনে থেকে খেলতে দেখেছেন। তিনি বলবেন। আমরা শুনব। তোমাদের কারও ক্রিকেট নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে  অবশ্যই করবে। মুকুলবাবু তোমাদের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন!’

   হেডস্যার এবার মুকুলবাবুকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘মুকুলকৃষ্ণস্যার, শুরু করুন! আমরা মন ভরে শুনি সেসব গল্প।’ 

(এর পর ৩০ পর্ব)

সৌর্যেশ পাল, ক্লাস -ii , মেদিনীপুর কলেজিয়েট প্রাইমারি স্কুল।

মনের পাঠশালা ৩

দিপালী সাহু 

M.A  Psychology (clinical)

আমি আগের সংখ্যায় তোমাদের বলেছিলাম যে মনের খাবার ও হয় । শুনে তোমরা অবাক হয়েছো নিশ্চই ।মনে ভেবেছো ,  যে মনের আবার খাবার কি ! হয় হয় ......।চলো আজ মনের খাবার নিয়ে আলোচনা করি ।

 শরীরের পুষ্টির জন্য কি কি খাবার প্রয়োজন সেটা তো তোমরা জানোই । তবু মনের খাবার নিয়ে আলোচনা করার আগে এসো শরীরের জন্য কি কি খাবার প্রয়োজন সেটা আর একবার মনে করে নিই । তোমরা পড়েছো যে শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনে ছয়টা খাবারের দরকার । যেমন -  শর্করা বা কার্বোহাইড্রোটেস, প্রোটিন ,স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাট,  ভিটামিন , খনিজ পদার্থ ও জল। তোমরা বলো তো আমাদের শরীরে কত রকম মেশিন আছে!  সেসব চলতে গেলে জ্বালানি বা তেল লাগবে । তাই খাবার শরীরকে চালাতে , শরীরের বৃদ্ধি ঘটাতে, রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ,শরীরে উৎপন্ন দূষিত পদার্থকে বাইরে বার করার জন্য সুষম খাবারের দরকার।  যেহেতু তোমাদের মতো ছোটদের শরীর তৈরী হচ্ছে বিশেষ করে যারা কৈশোরে আছো তাদের উচ্চতা বাড়ছে, হাড় ও পেশির বৃদ্ধি হচ্ছে ,মস্তিস্ক তৈরী হচ্ছে তাই পুষ্টিকর খাবারের খুব প্রয়োজন । আমি জানি শরীর নিয়ে তোমরা খুব সচেতন । তোমাদের মতো অনেকেই আমাকে লম্বা কি করে  হবে, রোগা বা মোটা কি করে  হবে জানতে চায় । সবকিছুর উত্তর খাবারের থালায় আছে। কোন খাবারে কি হয় সেটা এখানে বিস্তারিত বলছি না । তোমরা বই থেকে বা বড়োদের থেকে জেনে নিও ।

এবার আসি মনে খাবার নিয়ে .... ।আমাদের ব্রেন বা  মনকে খুশি ও চনমনে রাখতে চারটে জাদুকরী হরমোনের বা নিউরোট্রান্সমিটার এর খাবার দিতে হবে । জানো তো বৈজ্ঞানিক ভাষায় এদের বলে DOSE। 

D - Dopamine (ডোপামিন): কোনো নতুন কাজ বিশেষ করে সৃজণশীল কাজ বা লক্ষ্য পূরণ অর্থাৎ যাকিছু আগে থেকে করবে বলে ভেবেছিলে , সেটা যখন মনোমতো শেষ করতে পারো ,সেটা নিয়ে কেউ যখন প্রশংসা করে , তখন খুব ভালো লাগে তাই না ? তখন এই হরমোন নিঃসরিত হয়।এর নিঃসরণের ফলে আনন্দ বা ফুর্তি অনুভূত হয় । উৎসাহ আসে । কাজ করার আগ্রহ তৈরী হয় ফলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় ।

O - Oxytocin (অক্সিটোসিন): জানো তো এটা হলো ভাবোবাসার টনিক । যখন তোমরা মাকে বা প্রিয় কোন মানুষকে এমনকি তোমাদের পোষ্যকে জড়িয়ে ধরো তখন তোমাদের খুব ভালো লাগে । তাই না ? আসলে তখন এই হরমোন নিঃসরিত হয় । ভালোবাসা , আন্তরিক স্পর্শ , বা কাউকে সাহায্য করলে এই 'লাভ হরমোন' নিঃসরিত হয়।

S - Serotonin (সেরোটোনিন): মেজাজ ভালো রাখার হরমোন। যখন আমরা প্রকৃতিতে থাকি বা ব্যায়াম করি, তখন এটি বাড়ে।সকালের সূর্যের আলো,  যেকোনো ধরণের এক্সারসাইজ যেমন দ্রুত হাঁটা,. সাইকেল চালানো , দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, জিম ও পর্যাপ্ত ঘুম (বিশেষত ঘুমানো ও জাগা একই সময় ) হলে এই হরমোনের নিঃস্বরিত হয়। 

E - Endorphin (এন্ডোরফিন): শরীরের ও মনের ক্লান্তি ও কষ্ট দূর করার প্রাকৃতিক পেনকিলার।মন খুলে হাসা , গান গাওয়া বা শোনা , প্রকৃতির সাথে সময় কাটালে এটি নিঃস্বরিত হয় । 

আমরা যখন সারাদিন শুধু ফোন স্ক্রোল করি বা একই রকম যান্ত্রিক জীবন কাটাই, তখন ব্রেন এই হরমোনগুলোর পুষ্টি পায় না। মনের প্লেট তখন একদম খালি হয়ে যায়। তাই মনকে চনমনে করতে হলে তাকে রোজ এইসব প্রয়োজনীয়  খাবার দিতে হবে।

মনের প্লেটে পুষ্টিকর খাবার .....

যখন তোমাদের পেটে খুব খিদে পায় তখন তো চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করো।  মায়ের কাছে খেতে চাও । খাবার খেলে শরীর শক্তি পায় । 

ঠিকই তেমনি আমাদের মনের ও খিদে পায় । কিন্তু আমরা অনেকেই এই বিষয়ে কিছু জানি না তাই আমাদের মন অনেক সময় খাবারের অভাবে ঝিমিয়ে পড়ে। চলো আজ কিছু মনের খাবারের রেসিপি শিখি ....

প্রধান আহার : প্রতিদিন এমন কিছু করো যা তুমি নিজের হাত দিয়ে তৈরি করতে পারো। যেমন—কাগজ কেটে ওরিগামি বানানো, একটা ক্যানভাসে ইচ্ছেমতো রঙ লেপে দেওয়া, ডায়েরিতে গল্প লেখা, কিংবা গিটারের তারে নতুন কোনো সুর তোলা। নিজের সৃষ্টি যখন চোখের সামনে দেখবে, ব্রেন তখন ডোপামিনের এক দারুণ 'মিষ্টি' স্বাদ পাবে। সাথে খেলাধুলা করলে মন প্রতিদিনের ভিটামিন পাবে। 

পুষ্টিকর স্যালাড : প্রতিদিন ঘরের চারটে দেয়াল আর স্ক্রিনের আলো থেকে বেরিয়ে অন্তত ১৫ মিনিটের জন্য প্রকৃতির সংস্পর্শে যাও। বিকেলের নরম আলোয় ছাদে একটু হাঁটা, টবের গাছের নতুন কুঁড়িটা ছুঁয়ে দেখা, কিংবা আকাশের মেঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা। এই খাবারটা তোমার ব্রেনে সেরোটোনিনের বন্যা বইয়ে দেবে।

স্মৃতির চকোলেট বক্স :মন খুব খারাপ থাকলে ছোটবেলার কোনো অ্যালবামের পাতা উল্টে দেখো। তোমার একদম ছোটবেলার সেই ফোকলা দাঁতের হাসি, প্রথম স্কুলে যাওয়ার ছবিগুলো দেখবে মনের প্লেটে চকোলেটের মতো এক মিষ্টি ভালোলাগা এনে দিয়েছে।

লোভনীয় ডেজার্ট : মনকে সবচেয়ে দামি পুষ্টি দিতে পারে ভালোবাসা। মন খারাপের দিনে কোনো কারণ ছাড়াই মাকে গিয়ে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরো, কিংবা পোষ্য বিড়াল বা কুকুরছানাটাকে কোলে নিয়ে একটু আদর করো। এই ২০ সেকেন্ডের জাদু জড়িয়ে ধরা তোমার মনের সব ক্লান্তি এক নিমেষে ধুয়ে দেবে।

পছন্দের গান ও নাচের ককটেল :যখন নিজেকে খুব ভারী আর রোবট মনে হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিজের সবচেয়ে প্রিয় কোনো আনন্দের গান ফুল ভলিউমে চালিয়ে দাও। আর সেই গানের তালে তালে হাত-পা ছেড়ে মনের আনন্দে একটু নেচে নাও! এতে শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন তৈরি হবে, যা তোমার মনের সব একঘেয়েমি এক ঝটকায় দূর করে দেবে।

যদি তোমরা নিজেদের ভালোবাসো তাহলে শরীর ও মনের পুষ্টির জন্য এই খাবার গুলো অবশ্যই খাবে  কিন্তু।  

অভিভাবকদের জন্য

আপনার সন্তানকে শুধু পুষ্টিকর মাছ-মাংস আর ফলমূল খাওয়ালেই কিন্তু তার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। তাঁদের মনের পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া সমান জরুরি। সে যদি পড়াশোনার চাপে বা সোশ্যাল মিডিয়ার চক্করে পড়ে নিজের পছন্দের শখগুলো (যেমন গান, খেলাধুলো বা ছবি আঁকা) ভুলে যেতে বসে, তবে তাকে জোর করে পড়ার টেবিলে আটকে রাখবেন না। তাকে একটু শ্বাস নেওয়ার জায়গা দিন, তার পছন্দের কাজগুলো করতে উৎসাহিত করুন। মনে রাখতে হবে , একটি চনমনে আর পুষ্ট মনই কিন্তু একটি সুস্থ শরীরের আসল চাবিকাঠি। এর অভাবে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ  ও সফল জীবন কখনোই সম্ভব নয়।  

.     পরের সংখ্যায় মনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা করবো।  তোমরা খেয়াল রেখো।


বুড়ি

রোশেনারা খান 

আমাদের ছোট খুকু 

নাম তার বুড়ি।

দুষ্টুমিতে তার

নেই কোনো জুড়ি।

ঠাকুমার চশমা 

খুঁজে খুঁজে সারা,

লুকিয়ে রেখে বলে-

হয়ে গেছে তারা।

ফুল যদি তারা হয়

চশমা হবে না কেন?

আমি কী বুঝিনা?

খুব বোকা যেন!

বাবার ফোন খানা

থাকে বিছানায়,

খুঁজেছি সারা বাড়ি

কোত্থাও নাই!

শেষে পেলাম খুঁজে 

পায়রার খোপে,

সব্বাই হেসে সারা 

কান্ডটা দেখে!

ঠাকুমার ছায়া সে

দাদুর আদুরি,

বাবা মা'র আহ্লাদি 

নাম তার বুড়ি।


শিশু ও তার পরিচর্যা 

জ্যোতির্ময় সরদার

শিশুরা আগামীর রূপকার, আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন।অনাগত দিনের নতুন ইতিহাস।দেশের ভবিষ্যৎ। 

ভাবীকালের কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, শিক্ষক বিজ্ঞানী, দুঃসাহসী অভিযাত্রী,রাজনীতিবিদ, মহামূল্যবান মানব সম্পদ। আজ মর্ত্যের বুকে যার অপটু ভীরু চরণধ্বনি, উত্তরকালে তাঁরই দীপ্ত পদচারণা।

বিশ্বকবি রবিঠাকুরের কথা স্মরণ করে বলতে হয়,

" ধরায় উঠেছে ফুটি শুভ্র প্রাণগুলি 

নন্দনের এনেছে সম্বাদ 

ইহাদের করো আশীর্বাদ।"

এদের প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তুলতে মায়ের অবদান অসীম। সুসন্তানের জন্য চাই আদর্শ মা। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, "Give me good mother. I will give you good nation."

বর্তমানে মাইক্রো পরিবারগুলিতে অভিভাবকগণের আকাশকুসুম ইচ্ছাপূরণে শিশুমনে সৃষ্টি হচ্ছে অপরিসীম চাপ। নির্মল ও ফুলের মতো নরম হৃদয়ে তৈরি হচ্ছে ক্ষত। সমাজ সংসারের পক্ষে এ এক অশনি সংকেত। তাদেরকে নির্মাণ করা হচ্ছে অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হিসাবে। তাদের মানসিক বিকাশ সাধনে না আছে খেলাধুলার বিস্তীর্ণ পরিসর, না সাংস্কৃতিক সুস্থ পরিমণ্ডল। থাকলেও শিশুদের তা থেকে নির্মমভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ এক বিপজ্জনক ভাবনা।

প্রতিকূল পরিবেশ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।বাবা ও মায়েরা নিজেদের জীবনে স্বস্তি খুঁজতে কচি-কাঁচাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ভয়ংকর ক্ষতিকারক মোবাইল। যাতে তাঁরা চূড়ান্তভাবে আসক্ত ও বুঁদ। আনন্দের উৎস সন্ধানে মোবাইলে নিমগ্ন শিশু-চোখ। তাদের চোখ ও শরীর রেডিয়েশনের ভয়াবহ কুফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুদের শৈশব ও কৈশোর বিপন্ন।

প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে শিশু-কিশোরদের শরীর ও মন ক্লান্ত অবসন্ন। এক অসহায় ও অমানবিক নিষ্ঠুরতা তাদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে। গ্রাস করছে চরম হতাশা। তারা হারিয়ে ফেলছে আত্মবিশ্বাস।

শিশুর মন অত্যন্ত সংবেদনশীল। আয়নার মতো স্বচ্ছ। তাদের সামনে কোনো অসংযত আচরণ, অসংলগ্ন কথা, ঝগড়া বিবাদ,চিৎকার চেঁচামিচি চলবে না। এতে শিশুমনে সুদূরপ্রসারি প্রভাব পড়ে।

শিশুর জীবন সুন্দর করে গড়ে তুলতে,

ক) চাই পুষ্টিকর সুষম খাদ্য।

খ) অভিভাবকদের হতে হবে সৎ ও সত্যনিষ্ঠ।

গ) শিশু পরম আদরের ধন। তার প্রতি অবহেলা, অবজ্ঞা, ধমক, প্রহার চলবে না।

ঘ) আজকের যান্ত্রিক জীবনের ভয়াবহতা থেকে শিশুদের বাঁচাতে হবে।

ঙ) রাষ্ট্রকে নিতে হবে সে দায়।

চ) চাই ভালোবাসার কোমল স্পর্শ।

ছ) চাই সুপরিচর্যা, সুশিক্ষা।

জ) দিতে হবে সুস্থ সুন্দর নান্দনিক দূষণমুক্ত সামাজিক পরিবেশ।

ঝ ) চাই খেলাধুলার বিস্তীর্ণ মাঠ সাথে দিতে হবে খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ।

ঞ ) স্বাস্থ্য রক্ষা ও শরীর চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি। যথা সরকারি উদ্যোগে যোগব্যায়াম এর পরিকাঠামো নির্মাণ।

ট) শিশুকে সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের হাতে তুলে দিতে হবে শিশুকিশোর উপযোগী ছড়া- কবিতা ও গল্পের সুন্দর সুন্দর বই।

মোটকথা তাদের জন্য চাই এক নির্মল আনন্দময় পরিবেশ।

তবেই শিশুর ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল ও আলোকময়।


খিল্লি 

বিনোদ মন্ডল 

আমি জানি! কে বলেছে? 

ডাহা মিথ্যে। সবই মিথ্যে!

উষ্ণায়নের পড়াশোনা 

কাজ না আমার। সত্রাদিত্যের।


সত্রাদিত্য -- সত্যিকারের --

বইপোকা তো, না আমি না,

অথরিটি আমি না রে ;

আমার মতটা -- না, দামি না !


কে বলেছে -- আমার নামটা ?

সে সন্তোষ স্যার, ভালোবাসে!

চারিদিকে কত লোক জন --

রিসার্চ করেন -- বারো মাসে।


আকাশের এই রহস্য ভেদ,

রামধনু রং -- মেঘলা দুপুর 

আলো ঝলমল পালা বদ্ 'লে

নামল বৃষ্টি -- টাপুর টুপুর;


আমার লেখায় আলোর রেখা?

ভালো বললি । এটা খিল্লি!

পুরস্কারটা বড়ো কথা নয় ;

প্রত্যেক সালে দ্যায় তো দিল্লি!


একটু দিশা, হালকা হদিশ,

দিলাম মাত্র সৌরলোকের

প্লাটিনামপাত -- নিয়মিত,

কেন সরছে -- ভূগোলকের ?


বলবো এবার -- বছর দশেক 

লাগবে আরও -- পরমায়ু 

কেমন করে আনবো বশে 

ঝঞ্ঝা ঝড় ও খরবায়ু!


তখন তোরা বন্ধুরা সব

ডাকিস সভা বলবো সবই

সত্রাদিত্য এখন হিরো ;

তোল্লা দে রে ; তুলিস ছবি !


ডাক্তার বাবুর কলমে ৬ 

ডঃ এ সামন্ত 

কুইকোটা,  মেদিনীপুর 


কাল রাতে সে কি কান্ড, তুতুন সারারাত কানের যন্ত্রনায় কাতরেছে, আর বাড়ি শুদ্ধু সবাই কে ব্যতিব্যস্ত করেছে। আজ সকালে ডাক্তার বাবুর কাছে নিয়ে গেলে দেখা গেলো কানের মধ্যে থেকে পালকের টুকরো বেরোচ্ছে। এটা দেখে ডাক্তার বাবু তুতুনের মা বাবাকে প্রচন্ড বকাবকি করলেন। 

এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের কমবেশি আছেই। তাহলে আজকে কান পরিষ্কার করার ব্যাপারে আলোচনা করা যাক, কি বলো? 

আমাদের কানের তিনটি অংশ। বহিঃ কর্ণ, মধ্যকর্ণ আর অন্তঃকর্ণ। বহিঃ কর্ণে চামড়ার আস্তরন থাকে আর এর বাইরের এক তৃতীয়াংশের মধ্যে দুই ধরনের গ্রন্থি থাকে। সেরুমিনাস ঘর্মগ্রন্থি যা থেকে তরল জাতীয় পদার্থ আর সিবেসিয়াস ঘর্মগ্রন্থি যা থেকে সিবাম নিঃসৃত হয়। যা বহিঃ কর্ণের ত্বক কে লুব্রিকেন্ট করে কানকে রক্ষা র কাজ করে। তাছাড়া বহিঃ কর্ণের নালীতে প্রতিরক্ষা মূলক রক্ষী লোম থাকে। বহিঃ কর্ণে র দুই ধরনের নিঃসরণ, পুরোনো লোম , উঠে আসা চামড়ার অংশ ও জীবাণু মিশে এক বহুস্তরীয় পদার্থ তৈরি হয়ে থাকে তাকে আমরা ইয়ার ওয়াক্স বা  কানের খোল বা সেরুমেন বলে থাকি। 

কানের এই ওয়াক্স কখনোই পরিস্কার করা উচিৎ নয়। কারণ হাই তোলা , খাওয়া বা কথা বলার সময়ে আমাদের চোয়ালের টেমপোরো ম্যান্ডিবুলার সংযোগ এর নড়াচড়া র সময়ে এই সেরুমেন অটোক্লিন হয়ে যায়। 

তাছাড়া এই সেরুমেনের তিনটি কাজ আছে। প্রথমতঃ এটি জলরোধী হওয়ায় কানের মধ্যে জল ঢুকতে না দিয়ে জল কে কানের ত্বক ও পর্দায় লাগতে দেয় না। দ্বিতীয়তঃ ময়েশ্চারাইজার এর কাজ করে। আর তৃতীয়তঃ কানে প্রবেশকারী জীবাণু দের ( ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ইত্যাদি) ট্র্যাপ করে। 

এবার যদি আমরা কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচাই তবে আমরা ঐ প্রতিরোধী স্তরকে নষ্ট করব।  কানের ত্বকের ও পর্দার ক্ষতি করার পাশাপাশি এ সেরুমেন কানের আরো গভীরে ঢুকে যায়, যেখান থেকে অটোক্লিন সম্ভব নয়। তাই কোনো কিছু দিয়ে কোনো সময় ই নিজে নিজে কান খোঁচানো উচিত নয়। আর একটা কথা মনে রেখো কানে কখনোই সরিষার তেল বা নারকেল তেল দেওয়া উচিৎ নয়  কারণ  এগুলি ছত্রাক সংক্রমণ বা আটোমাইপোসিস ঘটায় । 

যাদের বেশি কানের খোল হবার প্রবণতা আছে তারা যদি ইয়ারফোন বেশি করে ব্যবহার করে তাদের ইয়ার ওয়াক্স আরো বেশি পর্দা র দিকে সরে আসে। 

তাহলে বুঝলে তো , কোনো তেল, তুলো, কাঠি, পালক দিয়ে নিজে থেকে কান পরিস্কার করা উচিৎ নয়। তবে প্রতিদিন স্নানের পর নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ (যাকে আমরা কঙ্কা বলি) পরিস্কার করা যেতে পারে। 

খুব সামান্য লোকের ক্ষেত্রে যাদের কানের অটোক্লিনং সহজে হয় না তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার বাবুর কাছে গিয়ে প্রথমে কানের ওষুধ লাগিয়ে কানের খোল কে নরম করে বিশেষ পদ্ধতিতে দক্ষতার সঙ্গে কান পরিষ্কার করতে হয়। 

তাহলে বুঝতে পারলে তো নিজে থেকে আমরা কান পরিস্কার করতে গিয়ে আমরা নিজেদের বিপদ কেমন নিজে থেকেই ডেকে আনি । এরকম  আর কোরো না কিন্তু। ভালো থেকো।


ক্যুইজ: ১৩ 

১. বাংলার বাঘ নামে পরিচিত কে? 

2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত? 

৩. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? 

৪. পশ্চিমবঙ্গে কটি লোকসভা কেন্দ্র আছে? 

৫. সুন্দরবন কোন বন্য প্রাণীর জন্য বিখ্যাত? 


গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর

১. দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা 

2. দার্জিলিং 

৩. কলকাতা 

৪. রবীন্দ্র সেতু 

৫. কলকাতা

Post a Comment

1 Comments

  1. ৩১ জুলাই কথা সাহিত্যিক প্রেমচাঁদ এর জন্মদিন চলে গেল।
    যদি ঐ সাহিত্যিককে নিয়ে মননঋদ্ধ লেখা আপনারা প্রকাশ করেন, ভালো হয়।

    ReplyDelete