পারিবারিক সর্বনাশ
দূর্বা মিত্র
রোটারী ক্লাবের সূত্রে তিনজন বরিষ্ঠ নাগরিক, ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন । প্রবীর ডাক্তার, রন্তিদেব উকিল, সৌমেন পারিবারিক স্বর্ণব্যবসায়ী ।
সৌমেনবাবু হঠাৎ এক রাতে মারা গেলেন। দীর্ঘদিনের হৃদ্রোগী হওয়ায় ডাক্তারও প্রথমে বললেন, “সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যু।”
একমাত্র ছেলে পুরন্দর আত্মীয়স্বজনকে খবর দিল।
রন্তিদেবের কিন্তু সন্দেহ হয় । গতবার ecg করার সময়ে তিনি সঙ্গে ছিলেন । কার্ডিওলজিস্ট বলেছিলেন, ওষুধ কাজ করছে । তাহলে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয় কি করে? তিনি পরিচিত এক পুলিশ অফিসারকে আসতে অনুরোধ করেন ।
দিন সাতেক আগে সৌমেনবাবু বলেছিলেন, “আমার ওষুধগুলো হয়তো বদলাতে হবে, কিরকম অচেনা গন্ধ পাচ্ছি ।”
রন্তিদেব ওষুধের শিশিগুলি পরীক্ষা করাতে চাইলেন। পুরন্দর বাধা দিল।
-“বাবা তো হার্টের রোগী ছিলেন। এসব নিয়ে সন্দেহ করার কী আছে?”
পরদিন ময়নাতদন্তে বিশেষ কিছু পাওয়া গেল না। হৃদ্যন্ত্র দুর্বল ছিল, তাই রিপোর্টে স্বাভাবিক মৃত্যুর সম্ভাবনাই বেশি লেখা হল।
🍂
কিন্তু রন্তিদেব থামলেন না । তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, সৌমেনবাবুর জিভের পাশে অস্বাভাবিক কালচে দাগ এবং আঙুলের নখে হালকা নীলচে আভা।
রন্তিদেব পুলিশকে বললেন, “রক্ত ও পাকস্থলীর নমুনা আবার পরীক্ষা করুন।”
দুই দিন পর রিপোর্ট এল—ধীরে ধীরে কাজ করা এক বিষ শরীরে পাওয়া গেছে। বিষটি এমনভাবে দেওয়া হয়েছিল যাতে হার্ট অ্যাটাকের স্বাভাবিক লক্ষণ বলে মনে হয় ।
পুলিশ নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল ।
চাকর রঘুলাল বলল— ছোটবাবু মানে পুরন্দরকে, বহুবার, বড়বাবুর ওষুধের তাকে হাত দিতে দেখেছে ।
পুরন্দরকে থানার লক আপে নিয়ে রাখা হয় ।
সে ভেঙে পড়ে স্বীকার করল, রেস আর জুয়ায় হেরে, বাজারে তার প্রচুর ঋণ । বাবার সম্পত্তি দ্রুত পাওয়ার জন্য প্রতিদিন অল্প অল্প করে বিষ মিশিয়েছিল তাঁর হার্টের ওষুধে।
পুলিশ অফিসার রন্তিদেবকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি এত নিশ্চিত হলেন কীভাবে?”
তিনি বললেন, “কারণ সৌমেনবাবু আমাকে মৃত্যুর তিন দিন আগে বলেছিলেন—‘আমার ছেলে আমাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু তার ভালোবেসে খাইয়ে দেওয়া ওষুধের গন্ধটা আজকাল একটু অচেনা লাগে ।’”
0 Comments