স্বার্থজয়ী
তপন তরফদার
না না লাভম্যরেজ নয়। এখনো বাঙালি সমাজে গাঁটছড়া বাঁধার জন্য ঘটকদের অবদান আছে। আগেকার দিনের মতো মোটা ধুতি, হাফহাতা খদ্দরের পাঞ্জাবি, কাঁধে ঝোলানো কাপড়ের ব্যাগ, মাথায় বেতের হাতলওয়ালা কালো ছাতা নিয়ে ঘুরে বেরায়না। এখন ফুলপ্যান্ট, ফুলশার্ট পকেটে ভদ্রস্থ মোবাইল নিয়ে ঘোরাফেরা করে। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেয় কোন পাত্রর কতো উজ্জল ভবিষ্যত। কোন পাত্রী রুপে লক্ষী গুণে সরস্বতী। এখন লক্ষী বোঝাতে এটাও বুঝিয়ে দেয় পাত্রী ভবিষ্যতে কত সম্পত্তির মালকিন হবে।
রমেশ পাতি মধ্যবর্তী পরিবারের ছেলে।মেদিনীপুর পৌরসভায় করনিকের কাজ পেয়েছে। ঘটক বসন্ত বেরাই গ্রে স্ট্রিটের মুঙ্কুর সাথে বাজিগড় হয়ে চারহাত এক করে দেয়।
বিয়ের হয়ে আসার পর থেকেই রমেশ মানিয়ে নিতে পারেনি মঙ্কুর সাথে।মঙ্কু চায় দেদার স্ফূর্তি করার জন্য টাকা। ওর খুড়তোতো, মাসতুতো বোনেরা, বন্ধুদের চলন-বলন দেখে জীবনের মোক্ষ ওটাই।প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদের অন্তিমে বাপের বাড়ি চলে যেত মঙ্কু। রমেশ অনুনয়-বিনয় করে ফিরিয়ে আনতো। দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে রমেশ বহুবার শুনে এসেছে – সে নাকি স্বার্থপর। এরকম লোকের সাথে এক ছাদের নীচে থাকা অসম্ভব। এরা স্বার্থপর।আর ওকিছু বিশেষ বিষেশন, প্রকারন্তে গালাগালি দিয়ে মঙ্কু মেদিনীপুর ছাড়ে। রমেশ আর গ্রে স্ট্রিট মুখো হয়নি।
মুঙ্কু বিয়ে না করে ও বিয়ের স্বাদ বজায় রেখেছে বিভিন্ন বয়ফ্রেন্ডর দৌলতে। জীবন একটাই। ফুল মস্তি করে ভোগ করছে।
তিন বছর কেটে গেছে।জনৈক রোহিত শর্মা একটা রেজিস্টার্ড চিঠি দিয়েছে। মুঙ্কু ভয়ে ভয়ে চিঠিঠা খুলে দেখে লের্খা, মেদিনীপুরের রমেশ মাইতি আমার কাছে উনার
ছেলেটি আর যায়নি বেলতলা । পরে মেয়েটি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিল।
একদিন হঠাৎ ব্যাঙ্ক থেকে মোবাইলে রিং– আপনি হেলেনা ম্যাডাম? আপনার নামে আপনার হাসব্যান্ড পঞ্চাশ লক্ষ টাকারএফ.ডি.করিয়েছিলেন।ম্যাচিয়োর্ড হয়ে গিয়েছে ব্যাঙ্কে চলে আসুন।
সেই মূহুর্তে ডাক্তার স্বামীর মোবাইলে একটি আর্জেন্ট কল– স্যার, একটি ডেড বডি এসেছে। দেহের সমস্ত অর্গানগুলো জন কল্যানে সে দান করে গিয়েছেন।
0 Comments