জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়



গুচ্ছ কবিতা 
মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায় 

অলস বসন্ত শেষে

আমার ভারি বয়েই গেছে অতশত ভাবতে
রত্নআকর লুটেছি আজ বসন্তবেলায়। 
তোমার বিদ্যুৎবাণ পোড়ায়নি আমায়
ভাসায়নি প্রবাহিণী দুয়ারে আমার
দেবদারু গাছ ছিল যেকটা নিরেট
তোলপার করেনি তারা বুনো শালিকের পাড়া। 

দয়া করো অকরুণ একটুখানি ঘুমাও।
অলস বসন্ত আজও টেনে টেনে সময় বাড়ায়
বন্ধ কোরোনা গান, তবে হাঁটা পায়ে অনেকটা পথ
জিরোবে না কিছুক্ষণ?

কোথায় তুমি হৃদয়হীনা, কোথায় তোমার বাড়ি 
তোমার সাথে সন্ধ্যাকালে গান গাইতে পারি।
চেনাপথে হারাও তুমি, কথাও দিতে পারি
শেষবারেতে জিতবে তুমি, সুখ সারি সারি॥


আমি যে ডরাই সখী 

সব পথ মিলিয়ে গেলে
মিলব নিজের সাথে
দুয়ারে তখন বাদামি ফুলের চারা
নীল গালিচায় এলিয়ে দিয়েছে মাথা
সীমান্তের বাঁশি আলগোছে সুর তোলে পায়ে
কোথায় নিহারিকা!
হারালাম তবে পথ!!
এসো প্রান্তর, থিতু হও আজ
জিরিয়ে নাও ছায়ায়
নির্লজ্জ ধূলোকণা সব
পড়ে আছে পাহারতলির শীত,
এখনো কি চাও
ভয় পাই অবিরাম? 


গোলাপি রঙের পাখা

এসব আমার ভালো লাগেনা
একদম না
তুমি বলবে গাইতে আর আমি 
একের পর এক কবিতা লিখব
এসব একদম ভালো লাগেনা আর

তুমি বরং আঁকতে বলো আমায়।
কথা দিচ্ছি সমস্ত সময় ধরে নেচে যাবো কত্থক 
অজস্র মুদ্রার হাত ঢাকবেনা চোখ 
লজ্জায় আনত মুখখানি তার।

তুমি তো থামতে বলতে পারো
পেরেছো অজস্রবার
আমি কি পারিনি 
অন্তত একটা হাজার মাইল হেঁটে যেতে
নিদেনপক্ষে একটা ছোটোখাটো আলোকবর্ষ!
এসব ভালো লাগেনা আর।
🍂

Post a Comment

0 Comments