জ্বলদর্চি

মুক্তি/দ্বিতীয় পর্ব /স্বাতী ভৌমিক

মুক্তি
দ্বিতীয় পর্ব

 স্বাতী ভৌমিক

 ভালো-মন্দ, আশা-নিরাশা সব মিশিয়ে সুভাষিনীর দিনগুলি অতিবাহিত হচ্ছিল। দেখতে দেখতে সমৃদ্ধি বছর দুইয়ের হয়ে গিয়েছে। সুভাষিনী থালায় ভাত-ডাল নিয়ে ছোট্ট মেয়েকে একটু খাওয়াতে ব্যস্ত ছিল। মুঠোফোনে বাজছে "আজ ফড়িংবাবুর বিয়ে"- গানটি। তার দিকে ছোট্ট সমৃদ্ধির মনোযোগটি দেশ আকৃষ্ট হয়ে আছে-যা তার মায়ের কাজের অনেকটাই সুরাহার ব্যবস্থা করেছে। এই দৃশ্য অবশ্য প্রায় দিনের অভ্যস্ত জীবনের রুটিনের মধ্যেই পড়ে। হঠাৎ বাইরে বেশ কিছু লোকের সমবেত কণ্ঠস্বর শোনা গেল। পাশের বাড়ির ঋতেশদা বাইরের গেটের সামনে থেকে চিৎকার করে ডাকছেন,"বৌমা, শুনতে পাচ্ছ, তাড়াতাড়ি একটু বাইরে এসো। কন্ঠস্বরে আর্তসুর। সুভাষিনী চামেলীর কাছে মেয়েকে দিয়ে দ্রুতপদে ঘরের বাইরে এলো। চামেলী হল সুভাষিনীর গৃহপরিচারিকা। 
 "কি হয়েছে ঋতেশদা?"
 "বৌমা, তুমি তাড়াতাড়ি একটু হসপিটালে চলো।"
 সুভাষিনীর বুকের ভিতরটা অজানা আশঙ্কায় "ছ্যাঁৎ" করে উঠলো। 
"কেন! কি হয়েছে দাদা?"
 "প্রকাশকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটু আগে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তুমি চলো বৌমা।"
 সুভাষিনী হতবাক হয়ে যন্ত্রের মত ঋতেশবাবুর সাথে বেরিয়ে গেল। সারা রাস্তা সুভাষিনীর মুখ দিয়ে একটাও কথা বেরোলো না।

 হসপিটালের সামনে এসে ঋতেশবাবুর সাথে দ্রুতপদে ইমার্জেন্সির কাছে গিয়ে হাজির হল সুভাষিনী। সেইসময় প্রকাশবাবুকে নিয়ে ডাক্তাররা সকলে বিশেষ আলোচনায় ব্যস্ত। সুভাষিনী পৌঁছোতে একটি পেপারে তাকে স্বাক্ষর করতে বলা হলো। এবার সুভাষিনী বলে উঠল, "ওর কী হয়েছে?" ডাক্তার বললেন, "ওনার ব্রেনে আঘাত লেগেছে এবং বাম পাশের অঙ্গগুলিতেও বেশ আঘাত লেগেছে। ব্রেনে যে পরিমাণ রক্ত জমে গিয়েছে তা বের করার জন্য একটা অপারেশন করতে হবে। It's urgent."
🍂

পায়ের নিচের মাটিটা যেন থরথর করে কাঁপছিল। নিজেকে কিছুটা সামলে চিকিৎসার জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয় ছিল সুভাষিনী তার ব্যবস্থা করল।

 চিকিৎসা শুরু হলো। ঘন্টা খানেক পর প্রকাশবাবুকে অপারেশন কক্ষ থেকে বের করে আনা হল। সুভাষিনী যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে,কিছুঘন্টা আগে তার কাছে মেজাজ দেখানো, জেদি মানুষটা কেমন নিথরের মতো শুয়ে আছে! গ্রামের বাড়ি থেকে ও সুভার বাপের বাড়ি থেকে দু' চারজন আত্মীয়স্বজনেরা এসেছেন। প্রকাশবাবুকে বেডে দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার জানিয়েছেন, এখন আপাতত আর ভয় নেই। তবে বামদিকে যে আঘাত লেগেছে,পায়ের হাতের ফ্রাকচার সারতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। ততদিন প্রকাশ বাবুকে বাড়িতে বিশ্রামে থাকতে হবে।

 ক্রমশ

Post a Comment

0 Comments