জ্বলদর্চি

শৈশবের স্মৃতি ঘেরা দুর্গাপূজা /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী


শৈশবের স্মৃতি ঘেরা দুর্গাপূজা
    
  
দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী
                                   

পুজা এলো মানে নীল আকাশের বুকে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ বর্ষা ঋতুর পরে শরৎকাল। প্রকৃতির বুকে কাশফুলের মেলা, ভোরের বেলায় শিশির ভেজা শিউলি তলায় এক রাশ ফুল, পুকুরে, দিঘিতে পদ্ম, শালুকের ছড়াছড়ি। প্রকৃতির এই আনন্দের মাঝে সর্বমঙ্গলময়ী মা দুর্গার আগমনী গানের সুর বেজে উঠেছে। 
দক্ষিনবঙ্গের বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে এক অখ্যাত গ্রামে আমার পিতৃ পিতামহের বাড়ি। গ্রামের উত্তর-পূর্বদিকে শালগাছের ঘন জঙ্গল। আমার ছোটবেলার স্মৃতি যেটুকু মনে আছে তাই লিখছি। আজ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬২ বছর আগের কথা। বাবার অফিসে ছুটি হত ষষ্ঠীর দিন অফিস শেষ হওয়ার পরে এবং বিজয়ার পরেরদিন পুনরায় অফিস খুলত। মাঝখানের চার দিনে আমরা সবাই বাবার দেশের বাড়িতে যেয়ে পল্লীগ্রামের দুর্গাপূজা দেখতাম। এটা আমাদের প্রতিবছরের আবশ্যক কর্তব্য ছিল। দেশের বাড়ি যাবার সময় বাবা আমাদের জ্যাঠতুতো, খুড়তুতো ভাই বোনদের জন্য জামা-প্যান্ট, গুরুজনদের জন্য ধুতি, শাড়ি ইত্যাদি কিনে নিয়ে যেতেন। অন্যান্য ভাই-বোনদের জন্য যে দামের জামাপ্যান্ট কেনা হতো আমাদের জন্যও সেইরকম কেনা হতো, কোন প্রভেদ থাকত না। সেই সময়ে যাতায়াতের যোগাযোগ ভাল ছিলনা। মেদিনীপুর রেল স্টেশনে রাত্রি একটার সময়ে হাওড়া-চক্রধরপুর ট্রেন ধরে আমরা যেয়ে চন্দ্রকোনা রোড স্টেশনে নামতাম। বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া করে বাবা আমাদের রাত্রি সাড়ে দশটা নাগাদ রিক্সা করে স্টেশনে নিয়ে যেতেন। সেখানে ঘন্টা দেড়েক বসে থাকার পরে ট্রেন আসার ঘন্টা পড়ত। প্রথম ঘন্টার অর্থ ট্রেন খড়্গপুর স্টেশনে এসে পৌঁছেছে, দ্বিতীয় ঘন্টার অর্থ খড়্গপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়েছে, আর তৃতীয় ঘন্টার অর্থ ট্রেন কাঁসাই নদীর ব্রিজ পেরোচ্ছে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঢুকে পড়বে। সকলের মধ্যে ব্যস্ততা, দু মিনিটের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি তখন ট্রেনের ইঞ্জিন চলত কয়লার সাহায্যে। ট্রেন চলতে শুরু করলে কয়লার গুঁড়ো উড়ে আসতো। রাত্রি দুটোর সময়ে যেয়ে পৌছাতাম চন্দ্রকোনা রোড স্টেশনে। টিমটিম করে দু'একটি বাল্ব জ্বলত স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। স্টেশনের বাইরে গাঢ় অন্ধকার, সেই অন্ধকার স্টেশনের বাইরের চতুর্দিকের শাল গাছের জঙ্গলে যেয়ে মিশে গেছে। সে একরকমের গা ছমছমে ভৌতিক পরিবেশ।     
🍂

এই ট্রেনে আরো অনেকেই থাকতেন যারা আমাদের গ্রামের বাড়ির পথের যাত্রী। সবাইয়ের সাথে একসাথে মালপত্র ধরাধরি করে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম দিকে যেখানে আমাদের বাস দাঁড়িয়ে থাকত সেখানে গিয়ে বাসে উঠতাম। তখন বাসের সামনের দিকে ইঞ্জিন থাকত। বাসে যেয়ে দেখতাম একটি হারিকেন লন্ঠন ঝুলিয়ে রাখা আছে বাসের ব্যাটারি যাতে খরচ না হয়। রাত্রি আড়াইটাতে বাস ছেড়ে ভোর চারটাতে যেয়ে বাস পৌঁছাত বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গাতে। বাস যেয়ে যেখানে দাঁড়াতো সেখানে একজনের চা ও মিষ্টির দোকান ছিল। তাঁর ভালো নাম কি ছিল মনে নেই তবে সবাই তাকে ভোলাদা বলে ডাকত। সেই দোকানে পৌঁছানো মাত্র ভোলাদা সকলকে মুখ ধোয়ার জন্য শালগাছের দাঁতন ধরিয়ে দিতেন। মুখ ধোওয়ার পালা শেষ হলে বড়রা চা খেতেন আর আমরা যারা ছোট ছিলাম তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল 'চমচম' মিষ্টি। এখান থেকে ভোর পাঁচটার ব্রাহ্মনডিহা-বাঁকুড়া বাসে পুনরায় চেপে সাড়ে পাঁচটাতে যেয়ে শালবনের ধারে আমাদের গ্রামের বাড়ির স্টপেজ ‘বীরভানপুরে’ যেয়ে পৌছাতাম। বাস থেকে যখন নামতাম তখন বেশ শীত-শীত ভাব থাকতো। আগের থেকে আমাদের যৌথ পরিবারে খবর দেওয়া থাকতো, যার ফলে বাস থেকে নেমে দেখতাম আমার জ্যাঠতুতো দাদা ও ভাইয়েরা সেখানে হাজির। আমাদের দেখে তাদের কি আনন্দ। এক বছর পরে সবাইকে দেখতে পেতাম। ব্যাগপত্তর হাতে নিয়ে মিনিট দশেক হেঁটে যেয়ে আমাদের বাড়িতে গিয়ে পৌছাতাম। আমাদের বাড়িটি ছিল গ্রামের শেষ প্রান্তে রঘুনাথ মন্দিরের পিছনে - মাটির দেওয়াল, খড়ে ছাওয়া দোতলা বাড়ি। যেয়ে দেখতাম জেঠিমা কাকিমাদের ব্যস্ততা, একটু পরেই নবপত্রিকা স্নান করাতে যাওয়া হবে। তার জন্য দরজায় আলপনা দিয়ে ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে মঙ্গলঘট বসিয়ে রাখা আছে। দরজার উপরে আমপল্লব দড়ি দিয়ে বাঁধা। মা দুর্গার নবপত্রিকা (কলাবউ) স্নান করাতে গ্রামের সমস্ত মেয়ে বৌয়েরা আমাদের গ্রামের নির্দিষ্ট জলাশয় 'বাঁধে' যেতেন। ফিরে আসার সময় মায়েদের শাঁখের শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাজনা, হরিনাম সংকীর্তন দলের কীর্তন- একত্রে যে খুশির আওয়াজ উঠত মনে হতো স্বয়ং মা দুর্গাকে বরণ করে মর্ত্যে আনা হয়েছে। সেই নবপত্রিকাকে গ্রামের মূল রাস্তা দিয়ে (বাঁকুড়ার গ্রামাঞ্চলের ভাষাতে বলা হত 'কুলি') পঞ্চদেউল স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত আমাদের কুলদেবতা রঘুনাথ জিউয়ের মন্দির পর্যন্ত আনার পরে আমাদের গ্রামের টিনের ছাউনি দেওয়া দুর্গামণ্ডপের সামনে আটচালাতে এনে স্থাপন করা হতো। এরপরে পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণের সাথে বিবিধ শাস্ত্রীয় ক্রিয়াপদ্ধতির সাহায্যে নবপত্রিকাকে বরণ করে দুর্গামণ্ডপে মায়ের একচালা প্রতিমার ডানদিকে স্থাপন করতেন। জীবনে বহু জায়গাতে প্রতিমা দেখেছি কিন্তু আমাদের গ্রামের সেই একচালা প্রতিমার মুখাবয়ব এত সুন্দর ছিল যে এখনও পর্যন্ত সেই মুখের ছবি মনের মণিকোঠায় জীবন্ত হয়ে আছে। পরবর্তী সময়ে অনেক জায়গায় প্রতিমা দেখেছি কিন্তু সেই মুখচ্ছবি আর কোথাও দেখতে পাই নি। প্রথমপর্ব শেষ হবার পরে আমরা ছেলের দল বাড়িতে যেয়ে খইয়ের সাথে আখের গুড় দিয়ে তৈরি 'মুড়কি' সহযোগে জলখাবার পর্ব শেষ করার পরে দলবেঁধে পুকুরে স্নান করতে যেতাম। জ্যাঠতুতো ভাইদের সাথে একসাথে জমির আলপথ ধরে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে আমি হাটু-জলের উপরে আর যেতাম না কারন আমি সাঁতার জানতাম না। বড় দাদারা সাঁতার দিয়ে পুকুর থেকে শালুক ফুল তুলে এনে হাতে দিত। একসাথে স্নান করে ফিরে আসার পরে দেখতাম বাড়িতে রান্নাঘরের একদিকে বেসন, চিনি সহযোগে লাড্ডু তৈরি হচ্ছে। পূজোর চারদিন মা দুর্গাকে বাড়ির তৈরি মিষ্টি দেওয়া হবে, বাইরের দোকান থেকে কোনপ্রকার মিষ্টি কিনে দেওয়া হবে না। একমাত্র অষ্টমীর দিনে যে সকল ব্রাহ্মণ দোকানদার মিষ্টি বিক্রি করতে আসতেন তাঁদের কাছ থেকে বাবা-কাকারা মিষ্টি কিনে সন্ধিপুজার পুষ্পাঞ্জলির সময়ে ঠাকুরমন্ডপে নিয়ে যেতেন। সন্ধিপুজার বলিদানের পরে এই মিষ্টি সেখানে 'হরিলুট' দেওয়া হতো। আমরা ছোটরা বড়দের পায়ের ফাঁক দিয়ে যে মিষ্টিগুলি গড়িয়ে আসত সেগুলি মহানন্দে গলাধঃকরণ করতাম। পূজার তিনদিন দুর্গামন্ডপে সকালের পূজার সময় বলিদান হতো। যেহেতু আমাদের পুজা বৈষ্ণবমতে হয় সেজন্য আখ, চালকুমড়ো, শসা বলি দেওয়া হয়। এই সময়ে ঢাকের বাজনার সাথে খোল করতাল সহযোগে রাধাকৃষ্ণের নাম গান হয়। সাধারণতঃ অষ্টমীর দিন থেকে বাড়ীতে আত্মীয়-স্বজনেরা আসতেন। দুপুরে বাড়িতে শালপাতাতে ভাত খেতে দেওয়া হতো 'ভুতমুড়ি' নামে এক প্রকার কালো রংয়ের ধানের থেকে তৈরি চালের সুমিষ্ট ভাতের সাথে ডাল, কুমড়োর তরকারি, ভাজা ও চাটনি দিয়ে। দুপুরে একটু ঘুমিয়ে বিকেলে ভাইয়েরা সবাই গ্রামের প্রান্তে প্রাইমারি স্কুলে যেতাম সেখানে যাত্রার রিহার্সাল দেখার জন্য। উল্লেখ থাকে যে সেই সময়ে রাত্রে মন্দিরের আটচালাতে হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে তিনদিন গ্রামের ও পাশাপাশি গ্রামের সুদক্ষ অভিনেতাদের নিয়ে যাত্রাপালা হত। পুজার তিনদিন পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক যাত্রাপালা হতো এবং সবাই খুব আনন্দ উপভোগ করতাম। উল্লেখ থাকে যে আমাদের গ্রামের কলাকুশলীরা এত সুন্দর অভিনয় করতেন যে আশেপাশের দু-তিনটি গ্রামের লোকেরাও রাত্রে হাতে লন্ঠন নিয়ে যাত্রাপালা দেখতে আসতেন। সন্ধ্যে থেকে আমরা ছোটরা যাত্রাপালা শোনার জন্য 'চট' পেতে জায়গা দখল করে রাখতাম। সন্ধ্যাতে সন্ধ্যা আরতির সময়েও দুপুরের মত হরিনাম সংকীর্তন হত। এরপরে ঘন্টা দুই তিনের বিরতি, তারপরে শুরু হতো যাত্রাপালা। সেই সময়ে এই যাত্রাপালাগুলি কমপক্ষে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার হত। যাত্রা শেষ হতে প্রায় ভোর হয়ে যেত। শুরু হতো সাধারণত রাত্রি সাড়ে এগারোটা থেকে বারটার মধ্যে। আমরা ছোটরা রাত্রের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। বাবা মাকে বলে রাখতাম যাত্রা শুরুর আগে যেন আমাদের ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হয়। যাত্রাপালা শোনার ছিল প্রচণ্ড উন্মাদনা। যৌথ বাড়িতে আমাদের স্থান হত মাটির তৈরি দোতলাতে। ভোরবেলা ঘুম ভাঙতো দুর্গামন্ডপের থেকে বাঁশী ও ঢোলকের আওয়াজে। বাঁকুড়া পুরুলিয়ার গ্রামাঞ্চলের ভাষাতে এই একত্রিত বাজনাকে বলা হয় 'টিকরা'। সন্ধিপুজার অষ্টমীর দিনে নির্দিষ্ট সময়ে সন্ধিপুজার সময় গ্রামের সকলেই এসে দুর্গামণ্ডপের আটচালাতে জড়ো হতেন। যদিও সন্ধিপূজার মূল অনুষ্ঠান ৪৮ মিনিটের কিন্তু দূর্গামন্ডপ ফাঁকা হতে প্রায় দেড় ঘন্টা লাগত। আমরা ছোটরা ভীড় থেকে দূরে থাকতাম। বড়রা মন্ডপের ভিতরে যেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতেন। এখানে উল্লেখ করি আমাদের গ্রামের পূজাটি যদিও সার্বজনীন তথাপি পুজার তিনদিনের মূল কারিগর আমাদের ত্রিপাঠী বংশের লোকেরা। এই ত্রিপাঠী বংশের আদিপুরুষ দুর্গাপূজা শুরু করেছিলেন। বংশের আদিপুরুষ থেকে বর্তমানে প্রায় সাত আটটি শাখা-প্রশাখা হয়ে গেছে যারা এই তিনদিন পুজার আয়োজন থেকে ভোগ রান্না সব ব্যাপারেই তাদের একচ্ছত্র অধিকার। সেই হিসেবে আমাদের বাড়ির দায়িত্ব থাকতো নবমী পূজার দিন। সেইদিন দেখতাম বাড়ি থেকে মা, জেঠিমা, কাকিমারা স্নান করে সেই দিনের ঠাকুরের স্পেশাল নৈবেদ্য তৈরি করতেন। যে স্পেশাল নৈবেদ্যগুলি মা দুর্গাকে দেওয়া হতো সেগুলির পরিচয় দিচ্ছি।     
কাকরা - ফুটন্ত গরম জলের সাথে চিনি মেশানোর পরে ফুটতে থাকলে তাতে চালের গুঁড়ো মিশিয়ে কাঠের হাতা দিয়ে নাড়ার পরে মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে লুচির মত ভাজা এক প্রকারের মিষ্ট দ্রব্য।             
গুড়পিঠে - নামের মধ্যে নিহিত আছে গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্ট দ্রব্য। আতপ চালের গুঁড়ির সাথে আখের গুড় মিশিয়ে মিশ্রণটি হাতের তালুতে চাপ দিয়ে ঘিয়ে ভাজা মিষ্ট দ্রব্য।                           
পায়েস – ‘মধুমালতি’ নামের এক ধরনের সুগন্ধি চালের সাথে চিনি ও দুধ সহযোগে তৈরী পায়েস। 
এই নবমীর দিন দুপুরে দুর্গামন্ডপে মায়ের যে ভোগ রান্না হবে তার জন্য আমাদের প্রত্যেকের বাড়ি থেকে চাল, ডাল, তরিতরকারি, মসলা, পায়েসের চাল, চিনি দিয়ে একটি বাঁশের বড় ঝুড়িতে করে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকত ছোটদের উপরে। দুপুরে ভোগ নিবেদন হবার পরে সেই ভোগ গুরুজনেরা সামান্য অংশ বাড়িতে নিয়ে এসে রান্নার ভাত ও অন্যান্য সামগ্রীর সাথে মিশিয়ে দিতেন। এছাড়াও দুর্গামন্ডপে যে বিশাল ভোগ রান্না হত তা' গরীবদের মধ্যে পাত পেড়ে খাওয়ানো হতো। এইভাবে তিন দিন পূজা হবার পরে বিজয়া দশমীর দিন পুজার শেষে দুর্গামণ্ডপের আটচালাতে গ্রামের সকলে এসে জড়ো হতেন এবং পুরোহিত প্রত্যেককে শান্তিবারি দিতেন। সন্ধ্যের সময় ঠাকুর বিসর্জন হতেন। সাধারণতঃ গরুর গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে অথবা একচালা প্রতিমার তলায় শাল কাঠের খুঁটি দিয়ে বেঁধে কাঁধে করে প্রতিষ্ঠিত পুকুরে নিয়ে যেয়ে বিসর্জন দেওয়া হতো। বিসর্জন দিয়ে ফিরে আসার পরে দুর্গামন্ডপে পুরোহিত সকলের হাতে অপরাজিতা গাছের লতা বেঁধে দিতেন। বিসর্জনের পূর্বে সকলে মন্ডপে যেয়ে মা দুর্গাকে প্রণাম করতাম। মেয়েরা পুজার প্রসাদী সিন্দুর নিয়ে একে অপরকে পরিয়ে দিতেন এবং হাতের শাঁখাতে লাগিয়ে দিতেন। বিসর্জনের পরে দুর্গামণ্ডপের দিকে আর যেতে ইচ্ছে করতো না। সপরিবারে মা দুর্গা যেখানে চারদিন উজ্জ্বলভাবে বিরাজ করতেন তিনিতো আর নেই, একেবারে ভাঙ্গাহাট। বিজয়ার পরের দিনে পুনরায় আমাদের মেদিনীপুর শহরে বাবার কর্মস্থলে মনে বিষাদের সুর নিয়ে ফিরে আসতাম। মনে হতো পুনরায় এক বৎসর পরে আবার পুজা হবে এবং আমরাও গ্রামের বাড়িতে সকলের সাথে মিলিত হতে পারব। মনের মনিকোঠায় সেই সমস্ত শৈশবের স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে।      
             
                            

Post a Comment

0 Comments