জ্বলদর্চি

‘সৌরলোকের বামন’ নিয়ে কলম ধরেছেন প্রিয়া কুণ্ডু নন্দী



‘সৌরলোকের বামন’ নিয়ে কলম ধরেছেন প্রিয়া কুণ্ডু নন্দী 

'সৌরলোকের বামন' বইটি পড়তে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। টেনে নিয়ে যায় শেষ অবধি। বইটির নামকরণ কতটা সার্থক, তা প্রতিটি কবিতা পড়লেই উপলব্ধি করা যায়।
কবিতাগুলো সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে রচিত। রূঢ় বাস্তবকে ছন্দের সুতোয় বেঁধে এতটাই সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে যা আমাদের চোখের সামনে সবটা ছবির মতো দেখায়। এমন নির্মম বাস্তবকে ছুঁয়ে দেখার জন্য যে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন, তা এই কাব্যগ্রন্থে স্পষ্ট। কঠিন ও জটিল বিষয়কেও কবিতা কীভাবে সহজবোধ্য করে তুলতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই সৃষ্টি।
কেবল সামাজিক বাস্তবতাই নয়, কিছু কবিতায় প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ ধরা দিয়েছে পাখপাখালির জলছবি হয়ে। আবার কোথাও কোথাও আনন্দময় বার্তা পরিবেশন করা হয়েছে। বিশেষ করে 'কবি' কবিতায় কবির নিজস্ব অনুভূতির কথা যোগ করেছেন। সত্যি কথা বলতে, বাস্তব যতই কঠিন বা নির্মম হোক না কেন, কবিতাই পারে তাকে সহজ ও সাবলীলভাবে প্রকাশ করতে। এই ছন্দে ভরা কবিতা মনকে সজীব করে তোলে।


লেখকের কথা

প্রায় অর্ধশতক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সংলগ্ন থেকে এখন যেন মনে হয়, গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ এবং কবিতার উঠোনে 
সচেতন পাঠকের অবস্থান। কিন্তু ছন্দোবদ্ধ পদ্য বা লোকায়ত ছড়ার পাঠক ছড়ানো সর্বত্র। খেত খামার, মাঠ ময়দান, চা বাগানের শ্রমিক, সাগরগামী নুলিয়া, কারখানার শ্রমিক, রেলের গ্যাংম্যান, খনির আকরিক মাখা বন্ধু স্বজন থেকে শহরের ফেরিওলা, সবাই ছড়া পড়েন বা নিবিষ্ট মনে শোনেন এমনকি ছোটদের শোনানও।

পদ্য লিখতে আয়ুও কম ব্যয়িত হয়। অফিস যাতায়াতের পথে ট্রেনের সিটে বসে সময় কাটাই প্রিয় বাংলা বর্ণমালা নিয়ে। শব্দরঙ্গ পূরণের আমেজে। ঘনিষ্ঠদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে প্রতিক্রিয়া আসে দ্রুত। এভাবেই সমাজের চালচিত্র নিয়ে নিজে জারিত হই। তারই সদ্যসৃষ্ট ফসল সৌরলোকের বামন। 
প্রচ্ছদে ব্যবহার করা ছবিতে এবং সংকলিত প্রতিটি পদ্যে সমসময় হয় হেসে উঠেছে অথবা যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠেছে। 
এর যে কোনও একটি পাঠক বা শ্রোতার ভালো লাগলে শ্রম সার্থক হবে। 
পলকের এই মানবজীবন যে কোনও সময় কালের নিয়মে খুনসুটি শেষ করবে।  থেকে যাওয়া গ্রন্থটি বহুবছর পরে কোথাও না কোথাও ধুলোর চাদর সরিয়ে বলবে, আমিও ছিলাম। জীবনবাবু জিন্দাবাদ।
🍂

Post a Comment

0 Comments