জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /আবীর ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

গুচ্ছ কবিতা 
আবীর ভট্টাচার্য চক্রবর্তী 

একটি প্রেমের কবিতা


তোমাকে কাঙ্ক্ষিত ভেবে বিরহকে কাছে ডেকে আনি।
প্রশ্রয়ে আশ্রয় পাই—দুই হাতে আরব্ধ আকাশ,
দিগন্ত পেরিয়ে যায় মহাযানী স্নেহ।

আজীবন ক্রোধে, ক্ষোভে, রিরংশার দায়ে
যাপনের ক্ষয় থেকে তবু কিছু মাধুরী বাঁচাই।
কখনো জ্যোৎস্নার রাতে সব্বাই বনে চলে গেলে,
পুনর্বার ভর্তি হই শৈশবের গানের ইস্কুলে…
বাহারে মল্লারে ফোটে নৈরঞ্জনা প্রণয়-কুসুম,
ভোগ, ব্যাধি, আকাঙ্ক্ষা পেরিয়ে যায় গানে…
শুধু তুমি এসেছিলে বলে ভালোবাসা এসেছিল—জানি।
তোমাকে কাঙ্ক্ষিত ভেবে বিরহকে কাছে ডেকে আনি।


 কবি ও কবিতা 

কবিই কবিতা লেখে,অতন্দ্রিলা অমর্ত্য স্পর্ধায়!
কবিতাও বারংবার ভেঙেচুরে লেখে না কি তাকে?
তপোক্লিষ্ট অক্ষর প্রব্রজ্যায়,
দীর্ঘায়িত দোলাচল শেষে
একটি কবিতা তার কাব্যদেহ পায়।
মা যেমন শিশুটিকে পালে তার আয়ুষ্মতী ধ্যানে 
আত্মজ হলেও মানে তার স্বতন্ত্রতা
কবিরও তেমনি থাকে প্রকরণ জ্বালা;
বসন্তের মন্ত্র গুঞ্জরণে,
শ্রাবণের ঝরো ঝরো গানে
অথবা দৈবাৎ কোন ব্যস্তদগ্ধ বিষণ্ণ প্রহরে
কাব্যলক্ষ্মী আপন প্রিয়ার মতো কোলে বসে তার।
বাধ্য করে লিখে যেতে আপনার প্রাণান্ত চেতনা
মিলনমধুর মোহে বাঁধে তাকে চিরন্তন সুন্দর পূজায়।

মুহূর্ত অনন্ত হয়,অনন্তের হাত ধরে কবিতার মুগ্ধ চলপথ
প্রাণের প্রতিষ্ঠা হলে, জন্মঋণে ভুলে যায় কাব্যের শপথ।


বিরহ

তার হাতে ছিল হৃদয়রাঙানো আগুন-পলাশ কুঁড়ি,
বুকে নিয়ে এক আস্ত বাউল—
গ্রামপথে সে যে ঘুরত বেভুল,
ফিরি করে যেত সুখ-উন্মেষ, বিষাদ-মাধুরীগুলি…

দুয়ারে দাঁড়িয়ে বধূটির চোখে উন্মন উতরোল,
তার বাপ-ঘরে নিরালা দুপুরে—
এমনই কি কেউ আসত দুয়ারে?
তার একতারা-ছন্দে মিললে কেঁপে কেঁপে যেত মন;
চৈতি হাওয়ায় নব বসন্ত, আবাহনে শালবন…

এখনও এমনই হাওয়া কি সুদূরে বয়?
বৈশাখী ঝড় তরুশাখা ভাঙে প্রেমিকের স্পর্ধায়!
বধূটির মন ঝরাপাতা হয়ে হা-হা রবে যায় উড়ে,
ঝেঁপে উদ্দাম বৃষ্টি নেমেছে আঁখিপল্লব জুড়ে…

🍂

Post a Comment

0 Comments