অলৌকিক ভোর
চোখে আলো পড়ল। ঘুম ভেঙে গেল আমার। দক্ষিণের বারান্দায় গিয়ে আমি দাঁড়ালাম। বৈশাখ সংক্রান্তির গাজন শেষ। আজ আজানের আওয়াজও কানে এলো না। সামনের পথটা বেঁকে গেছে ধনুকের মতো। জনমনিষ্যি চোখে পড়ছে না।
পেছন ফিরে দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম। ভোর সোয়া পাঁচ। পাখির কলকাকলি ও আমার সম্বিত এবার সমে উঠল। নানা কিসিমের আওয়াজ। কূজন কাওয়ালি। এসময় মায়েরা ছোট্ট বাসা থেকে বাচ্চাদের বার করে রেওয়াজ সারে। আয় সোনা, দু'কলি গেয়ে নে।
কুকুর ঘুমোচ্ছে। কাঠবিড়ালিও। একটা মানুষ, যেকোনও একটা মানুষের মুখ দেখে এই ভোর মুখরিত হোক। না, কেউ নেই। পথ ফাঁকা। খাঁ খাঁ করছে আমার অপ্রাপ্তিরণিত পাঁজরের মতো।
পথে নামেনি কেউ। আচ্ছা, তবে এবার পুবের বারান্দায় যাই। সাহেবদের ভাষায় যা ব্যালকনি। সেই একই সরগম। পাখসাট। কেউ নেই পথে।
হতাশ ঘরে চলে যাব, এমন সময় দেখি, পরিচিত এক বৃদ্ধা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, আঁকশি হাতে নিয়ে।
হেল-মেট
আমার এ অভ্যেস দেশসুদ্ধ লোক চেষ্টা করেও বদলাতে পারবেন না।
ট্র্যাফিক পুলিশ কতবার চেষ্টা করে নিজেরাই কেস খেয়ে গেছে। মাথায় হেলমেট পরে আমি বাজারে যাই। দোল খেলতেও। কতো জমানা এলো, গেলো। মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ হলো। শিল্প তাড়িয়ে বেচারাম কিষিমন্ত্রি হলো। বাম গিলে রাম এলো। সনাতন হিন্দু থেকে আজানিয়া হাজি, সব দেখলাম।
আজও হেলমেট না পরে একটা বাইকে বউ বাচ্চা সমেত পাঁচ সওয়ার দিব্যি রওনা দিচ্ছে। পুলিশ দেখছে। বলছে। সজাগ করছে। জরিমানা নিচ্ছে। তবু, জাহান্নামের জমানা জারি আছে!
চৌমাথায় নাকা চেকিং চলছে। বন্ধুটা সাইডে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। মাথায় হেলমেট। পাশে বাইক। চোখাচোখি হতে বললাম, যাবি না?
আব্বে, দিব্যি পেরিয়ে এলাম। ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। কাজের চাপে রিন্যুয়াল করা হয়নি।
ও, আপনাকে বলা হয়নি, এখন লালবাজারে পোস্টিং ওর !
0 Comments