অনিন্দিতা শাসমল
মেঘেদের গল্পকথা
নিজেকে আড়াল রাখবো ভাবি।
হঠাৎ তোমার ছাদ বাগান থেকে,
এক টুকরো মন খারাপের মেঘ উড়ে এসে দাঁড়ায় আমার ঝুল বারান্দায় !
আমার হাতের আলতো ছোঁয়া পেলেই, তারা বৃষ্টি হয়ে চোখ নাক মুখ ভিজিয়ে একশা করে দেয় ! আমার স্পর্শ নিয়ে পেঁজা তুলোর মতো তাদের হালকা শরীর আবার ফিরে যায় তোমার জানালার কাছে।
তুমি তখন ঘুমের দেশে আমাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছো !
মেঘগুলো স্বপ্ন হয়ে তোমার কপালে গালে এঁকে দিচ্ছে আলতো চুম্বন।
সম্পূর্ণ আকাশ
বিরহী প্রেমিক কোনো এক গোধূলি আলোয় আবিষ্কার করে তার প্রেমিকাকে। আলিশান ছাদের কার্ণিশ ছুঁয়ে যে মাধবীলতা, খামে ভ'রে তার সুগন্ধ পাঠায় ই-মেইলে। ভার্চুয়াল তরঙ্গ ভেসে আসে স্ক্রিনে।
জীবনের নতুন মানে খুঁজে পায় দুজনেই। সব অন্ধকার পেরিয়ে দাঁড়ায় আলোর পৃথিবীতে।
প্রস্ফুটিত সকাল। সরোবরের স্বচ্ছ জলে একজোড়া হংসমিথুন। দুটি পরিপূর্ণ হৃদয় জুড়ে তখন খাজুরাহোর ভাস্কর্য।
অর্ধেক নয়, একে অপরের সম্পূর্ণ আকাশ।
যুগল রেঁস্তোরা
নির্দয় গ্রীষ্ম দুপুর। শীতল ছায়া বিছিয়েছে তোমার স্নেহার্দ্র অভিভাবকত্ব ও অন্তহীন ভালোবাসা।
কে বেশি মূল্যবান ? প্রেম না বন্ধুত্ব ? বয়স ও দূরত্বের ব্যবধান মুছে দেয় দুই শব্দবন্ধ। দ্বিপ্রাহরিক লাঞ্চ টেবিলে তারা মুখোমুখি বসে। দুজনের সমান গুরুত্ব।
কাপল রেস্টুরেন্টের দেওয়ালে দেওয়ালে চুম্বনের দাগ। তবুও সংযম। স্ফীত ওষ্ঠাধর লাজুক ও স্থির । সব অস্থিরতা পেরিয়ে স্বাভাবিক আভিজাত্যে স্থিতধী যুগল।
0 Comments