সঞ্জীব ভট্টাচার্য
অজ্ঞাত
রঞ্জন বাবু সামান্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। দাঁড়িয়ে পড়লেন। রেগে গিয়ে বললেন, আশ্চর্য মেয়ে তো! -আমি না আপনি? ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে হাত লাগালেন।
-অসভ্য মেয়ে কোথাকার।
আপনি সভ্য না, অতটা হাঁটার জায়গা থাকতে।
মেয়েটির বয়স্কা সঙ্গিনীকে রঞ্জন বাবু বললেন, মেয়েকে সামলান। একে ঘরে রাখতে পারেন তো।
দেখতে দেখতে বেশ কিছু ছেলে মেয়ে এগিয়ে এলো। ওরা সবাই সন্ধ্যেবেলা মাঠে আড্ডা দেয়। সমস্বরে জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে স্যার? ঘটনাটা শুনে সবাই রে রে করে ওঠে,ছি ছি আপনার মতো মানুষকে স্যার..., মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তারা বলে, যা কিছু ভাবলেই হল। জানেন স্যার কত সম্মানীয় মানুষ।
মেয়েটি কিছু বলার সুযোগই পাচ্ছিলো না। সঙ্গের মহিলাটি তাকে জোর করে টেনে নিয়ে যেতে চাইলেন। মেয়েটা রঞ্জন বাবুর কাছে এগিয়ে এলো। মুখটা লাল। রঞ্জন বাবুর সমস্ত সত্তাকে কুঁকড়ে দিয়ে বলল, ক্ষমা করবেন স্যার, তবে যদি....
অন্ত-অমিল
রাজেশ এখনও ঘোরে। ভাবনার বাইরের ঘটনাই ঘটে গেল। মধ্য তিরিশের রাজেশ। সেই বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকে। চার বছর হতে চলল। মিতা আসার পর এখন দিনগুলো আগের মতো রঙহীন নয়।
মিতা যদিও বাঙালি, কিন্তু উত্তরবঙ্গের। বেশ দূর।কিছু দিনের মধ্যেই দুজনের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। এমনকি বিবাহিতা মিতা অবিবাহিত রাজেশের কাছে কোনো কথা বলতেই দ্বিধা করতো না।
শহরের একই দিকে তাদের বাসা। মিতা রাজেশের মোটর সাইকেলে যাতায়াত করে। রোজের মতো আজও তারা ফিরছিলো। রাজেশ হঠাৎ মিতার হাতটা ধরে চুমু খেয়ে বসলো। গোটা রাস্তাটায় মিতা একটাও কথা বললো ন। ফ্ল্যাটের কাছে এসে শুধু বলে উঠলো, আমার সঙ্গে এসো। রাজেশ তার সঙ্গে লিফ্টে গিয়ে উঠলো। আর তারপর চুমুতে আদরে তোলপাড় হয়ে উঠলো জায়গাটা।
কতক্ষণ হলো রাজেশ এক খুব ভালো লাগায় ভেসে বেড়াচ্ছে। ভাগ্যিস সে দেখতে পাচ্ছে না একটা মেয়ে কী প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে সাওয়ারের জলে সমস্ত অদৃশ্য দাগ মুছে ফেলতে।
0 Comments