শরৎ এসে গেছে
কদিন ধরে স্ত্রী’র সঙ্গে অবিনের মনোমালিন্য চলছে। মনের কথা চাপতে জানে না অবিন। যা মনে আসে বলে ফেলে। আর কথার সামান্য এদিক ওদিক হলেই বর্ণমালা বিবর্ণ হয়ে পড়ে। সেই দিনগুলোতে অবিনেরও কাজে মন বসে না। নানা বাহানা খোঁজে মিটমাট করার।
এবার বর্ণমালার বর্ণ ফেরাতে ভোরে উঠে শিউলি কুড়িয়ে আনল অবিন। সাতসকালে জানলার ধারে বসে পুরানো অ্যালবাম দেখছিল বর্ণমালা। দূর থেকে অবিন দেখল কলেজ জীবনের একটা ছবির দিকে উদাস চোখে তাকিয়ে আছে সে।
শিউলি ভরা অঞ্জলি বাড়িয়ে অবিন বলল, ‘কি সুন্দর শিউলি ফুটেছে দেখো’।
ঠিক সেই সময় বেরসিকের মত ডোর বেলটা বেজে উঠল।
‘শরৎ এসে গেছে।' বলে দ্রুত উঠে গেল বর্ণমালা।
হাসাহাসি
সুশোভনকে বাজার থেকে ঝুল ঝাড়া নিয়ে ঢুকতে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল অসীমা। জলের আগেই ধেয়ে এল অগ্নিবাণ। ‘কে তোমায় ঝুলঝাড়া আনতে বলল?'
‘তুমি তো কাল বলছিলে ঝুল ঝাড়া না আনলে আমায় ন্যাড়া করে দেবে’।
অবাক চোখে তাকিয়ে অসীমা বলে, ‘ হায় কপাল! এ কথা আমি কখন বললাম? আমি তো বলছিলাম চুল পড়া বন্ধ না হলে আমি এবার ন্যাড়া হয়ে যাব। সব সময় আত্মমগ্ন হয়ে থাক কোথায়? আত্মভোলা লোকের সংসার করা কেন বাপু’?
পিছন ফিরে মুচকি হাসে সুশোভন।
বাজারে ষাট টাকার ঝুল ঝাড়া একশ ষাট টাকায় বিক্রি করে পিছন ফিরে এমনই মুচকি হেসেছিল ঢেঙ্গা তপন। পাড়ায় কৃপণ বলে সুশোভনের খুব বদনাম। পূজা, উৎসবে হাত দিয়ে জল গলে না। সেই লোককে ঠকানো সহজ নয়!
দুজনের কেউই জানল না গতকাল সুশোভনের ক্লাসে তপনের মেয়ের অঙ্ক করার খাতা ছিল না।
2 Comments
দ্বিতীয় গল্পটি অপূর্ব।
ReplyDeleteএকজন প্রকৃত শিক্ষকই এই গল্প লিখতে পারেন।
প্রণাম নেবেন স্যার।🙏
ধন্যবাদ 🙏।
Deleteপ্রণাম --- না সে যোগ্যতা নেই 🙏