জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /তুলসীদাস মাইতি

গুচ্ছ কবিতা 

তুলসীদাস মাইতি 

জীবনের রাগ

সংরাগের সুখে মুড়ে কেটেছে উদাসীন বছরগুলো ।
রঙ ও সুখের প্রাপ্তিতে ভুলেছি যা কিছু দুঃখের সংলাপ।

বৈভব ছিল রূপের, আবরণের উপকরণে। বিহারের কোলাহলে।  
একাগ্র মায়ায় চোখ রেখেছি গড়েছি ঘর-দুয়ার, প্রসন্ন বারান্দা, বিহ্বল বাগান  ও অভ্যেসের সংবৃত-চৌকাঠ। 

মাঝে মাঝে সন্ধ্যাকালে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিরাগের কথা আসে। 
জীবনের আগুন-ছবিগুলিও তখন নিভে যায় ক্রমশ। তবু খড়কুটোহীন হওয়ার আগে প্রাচীন সংগীতগুলি গেয়ে উঠি। মনে আসে হিতোপদেশের নীতি। তখনই অন্তর্ঘরে জমা হয় জীবনের ধন। 

এভাবে ইচ্ছেদের চলমান রাখতেই রাখতেই  প্রতিদিন বেঁচে উঠি। 


আলোর উপকূলে

দিকহারা নৌকোর ছায়া আমার ভ্রুপল্লবে জড়িয়ে গেছে। 
সংকেতময় পথে আপাতত থমকে দাঁড়িয়েছি। 

দুপাশের কলরব দেখতে দেখতে সন্ধ্যে নেমে আসে। 
সুড়ঙ্গের মতো অন্ধকার আসে। ছায়াটি আরও গভীরে মিশে যায়। 
এখন সম্মুখে নির্বিকার ভবিষ্যত।

পিছনে পড়ে আছে পুরোনো ঘর। তার কথা ভাবি। ওখানেই পড়ে আছে পূর্বজদের হাতে নেভানো পরিত্যক্ত বাতি।
ঠাকুমার বলা রাজকন্যের বেঁচে ওঠার রহস্যগল্প।

অন্ধকার ধ্রুব নয়, 
নিশ্চয়ই ধ্রুবতারা দেখে নাবিকেরা পোঁছে দেবে আসন্ন ভোরের উপকূলে। 


অন্ধ ও বধির 
 
হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃদ্ধটি সেদিন বলে উঠেছিল, 
‘শ্রবণ শক্তি দুর্বল হলে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ প্রবলতর হয়ে ওঠে’। 
দৃষ্টিশক্তি কমলে অন্ধত্ব কমে কিনা 
এই প্রশ্ন তাকে করা হয়ে ওঠেনি। 

এমনই অবস্থান থেকেই দ্রোণাচার্য ও ধৃতরাষ্ট্র -এই  দুই পুরাণপুরুষকেও দেখেছি। 
স্নেহ কতটা গাঢ় হলে কান বা চোখেও অরাজকতা আসে
তা কি কেউ মেপেছে কখনো? 

শব্দ ও আলোর প্রসাদগুণে কীভাবে অন্ধ বা বধির হব না কখনো, 
তার সূত্রটি আমিও  খুঁজে চলেছি।
🍂

Post a Comment

0 Comments