পার্থসারথি চক্রবর্তী
স্বপ্নে বিভোর
শৈশবের গ্রামের স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠি
চেনা জনপদ, সবুজ ধানক্ষেত যার প্রতিটি শিস—
দিয়ে যায় অনাবিল আনন্দের নিমন্ত্রণ
এক কিশোরকে তন্নতন্ন করে খুঁজতে চাই
যে স্রোতস্বিনী নদীতে ডুব দিয়ে তুলে আনে
বুকভর্তি কবিতা, পাঁজর দিয়ে লেখা
নদীচরে জাগিয়ে তোলে পাখির বাসা
তার পায়ের স্পর্শে শস্যময় হয় ফসলের মাঠ
তির্যক চাউনিতে মেঘের মলিনতা কাটে
আমি সেই কিশোরের হাতে তুলে দিতে চাই
কবিতার খুশি, কলহাসি—
অপার আলোর সাথে যেখানে চাঁদের মাখামাখি।
গন্তব্য
সব কথার উত্তর দিতে নেই,
সব প্রশ্নের উত্তর হয় না।
তবু রোদ পড়লে যেমন শীত কেটে যায়,
প্রশ্ন করলে সন্দেহ অবসান হয়।
ধারণাগুলো ক্রমশ হেঁটে যায়—
সযত্নে রাখা কফিনের দিকে,
প্রশ্ন শুনে ফিরে তাকায়
একপলক, তারপর উত্তর দেয়,
কিংবা দিতে পারে না—
ফিরে যায় গন্তব্যের দিকে।
প্রেমপত্র
ধূসর জীবনের গান লিখতে লিখতে,
কখনো প্রেমপত্র হয়ে যায় অজান্তেই।
হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো যেন—
জীবন্ত হয়ে সামনে দাঁড়ায়।
ফুটন্ত কষ্ট আর দ্বিধার মাখামাখি,
এক প্রাণের সঞ্চার হয় মনে।
কিছু অবোধ্য ভাষার মর্মার্থ উদ্ধারে,
প্রাণপণ শ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ে মন।
প্রেমপত্রের ঠিকানা লেখা হয় না,
তবু অবলীলায় পৌঁছে যায় সাগরপাড়ে।
0 Comments