অরুণ দাস
দেখ চূর্ণী কত শিশির সাজিয়েছি তোর শরীরে
এক.
ধর চূর্ণী, মদের ঘোরে বিক্রমাদিত্যও একদিন বেতাল হয়ে গেল। তারপর বলে ফেলল অজস্র রূপকথার গল্প। যে গল্প কখনো ফুরোয় না। যে গল্প কখনো ফুরোতে নেই। ...শুনতে শুনতে কত ছায়াই ক্লান্ত হল ঘুমের মধ্যে... কত অনায়াসে।
কত সহজে অন্ধ লোকটি বলে ফেলেছিল... অন্ধকারের চেয়ে প্রিয়জন আর কেউ নেই। অথচ, ঐ অন্ধকারের বাইরেও একটা আকাশ ছিল, দিগন্ত ছিল। যার বুকের জল ছুঁয়ে যেত পরিযায়ী পাখিরা।
অন্ধ জানে না আকাশের রঙ নীল কেন। কেন নীল লেখা আছে জনহীন সমুদ্রের অতলে। অন্ধ জানেনা, বদ্ধতারও একটা মুক্তি আছে।
দুই.
আয়নাকে বললাম— এই দেখ আমার চোখের কাজলে কালো হরিণের অহংকার আঁকা।
আয়না বলল— মিথ্যে অহংকার ঝরে পড়ছে তোমার চোখের কোণে। তাতে লেখা গভীর রাতের গন্ধ।
তাকে বললাম— এই দেখ আমার ঠোঁটে ঘন জ্যোৎস্নার ডাক। শীতের শিশিরে আঁকা হবে তার নাম।
সে বলল— তোমার চকচকে ঠোঁটে গোলাপী লালার আভা। তাতে আঁকা মরীচিকার গান ।
— আর সেই উজ্জ্বল মুখ, উচ্ছ্বল বুক?
— সেও ভুল অহংকার, মিথ্যে স্বপ্নে ভরা পাতা।
শূন্য মনে শুয়ে আছে যে অন্ধকারের চাদর তাকে সরিয়ে রাখলাম পাশে। আয়না বলল— আমার বুকের উপর তোমার বুকের শীলমোহর।
খোলা পুঁথির উপর একটি চোখের মৃত্যু হল। আকাশের নক্ষত্র ঝরে পড়ল মাটিতে। আমি দেখলাম দূর গুহার গহ্বরে অন্ধকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছ তুমি। পলাশ রঙে মাখা তোমার হাত। তোমার সবুজ শরীরে আঁকা বর্ষাভীরু স্বপ্নের কথা।
তিন.
চূর্ণী, ঐ মাঠের আঁধারে আলো কুড়োতে যাওয়া মেয়েগুলো তাদের পোশাক খুলে দেখাল কেন চাঁদের কোণে কালো নখের নেশা লেগে আছে...। আমি দেখলাম তাদের সারা শরীরজুড়ে বিষ চোখেদের আঁচড়। আর ঘুম ঘুম চোখে ছুঁয়ে ফেললাম সহজ শরীরের গান।
শুকনো এ বুকে আজ কোন সবুজ গদ্য নেই, কোন সবুজ অভিমান নেই। একা একা নিশ্চিন্ত মন রেখে যাই ধূসর মেঘের কোণে।
বল চূর্ণী, তোর মধ্যে কতখানি শিশির জমলে তুইও একদিন ঘাস হয়ে যাবি?
0 Comments