জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /অয়ন মুখোপাধ্যায়


গুচ্ছ কবিতা 
অয়ন মুখোপাধ্যায়
যতটুকু আমি জানি 


বাঁ কাঁধের ভূগোল

দর্জি আমার মাপ নিতে এসে ফিতেটা গুটিয়ে ফেলল। বলল, আপনার দুটো কাঁধ সমান নেই। আমি বললাম, বাঁ দিকে বাজারের থলে নিই। সে জানাল, জামায় ওসব কারণ লেখা যায় না। পাশের ঘরে মেয়ের ভূগোল পরীক্ষা, সে পৃথিবীর আকৃতি মুখস্থ করছিল। দর্জি চক দিয়ে আমার বাঁ কাঁধে একটু বাড়তি জায়গা রাখল। তার নিজের জামার বগল ছেঁড়া, হাত তুললে দেখা যায়। বললাম, ওটা সারাও না কেন? সে হাসল, আমার মাপটা কেউ রেখে দেয়নি। যাওয়ার সময় টেবিলে এক টুকরো চক ফেলে গেল। মেয়ে সেটা নিয়ে পৃথিবী আঁকল। গোল হল না। বাঁ দিকে খানিকটা ঝুলে রইল।


 বোতাম

লিফটে লেখা, আটজন। আমরা সাতজন উঠতেই যন্ত্রটা বিপদসংকেত দিল। সবচেয়ে রোগা লোকটি নেমে গেলেন। তাঁর হাতে টিফিনের কৌটো, ঢাকনার ফাঁক দিয়ে আলুসেদ্ধ বেরিয়ে আছে। কেউ তাঁকে নামতে বলেনি, তবু আমরা সবাই একটু সরে আরাম করে দাঁড়ালাম। ওপরে উঠে দেখি তিনি আগেই পৌঁছে গেছেন। সিঁড়ির শেষ ধাপে বসে কৌটোর ঢাকনা লাগাচ্ছেন। আমাদের দেখে উঠে দাঁড়ালেন, যেন বসে থাকাটাও তাঁর ভুল। তখন লিফটের আয়নায় নিজের মুখটা আবার দেখতে ইচ্ছে করল। নিচে নামার বোতাম টিপতেই দরজা খুলে গেল। ভিতরে কেউ নেই। আটজনের জায়গায় আমাকে বেশ ছোট দেখাল।


ফেরত

বাবার শ্রবণযন্ত্র ফেরত দিতে গিয়ে শুনলাম, ব্যবহৃত জিনিস দোকান নেয় না। অথচ শেষ কয়েক মাস বাবা ওটা ব্যবহারই করেননি। কানে পরিয়ে দিলে খুলে বালিশের নিচে রাখতেন। আমরা ভেবেছি ব্যাটারি শেষ। নতুন ব্যাটারি এনে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেছি, এবার শুনতে পাচ্ছ? বাবা জানলার দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। দোকানদার যন্ত্রটা পরীক্ষা করে বলল, দিব্যি চলছে। আমি কানে লাগালাম। রাস্তার ওপারে একজন রিকশাওয়ালা আর একজন যাত্রী দুটো টাকার জন্য তর্ক করছেন। এত স্পষ্ট আগে শুনিনি। বাড়ি ফিরে যন্ত্রটা বাবার বালিশের নিচেই রাখলাম। সেদিন খাওয়ার টেবিলে মেয়ে তিনবার ডাকল। আমি প্রতিবারই উত্তর দিলাম।
🍂

Post a Comment

0 Comments