দিলীপ মহান্তী
বিচার
দাঁড়িয়েছি আগুনমাখা পথের ওপরে
একদিন এই ভারতবর্ষে শিশুপাল ছিল
যার শত অপরাধ ক্ষমা করার পরে
কৃষ্ণ জ্বলে উঠেছিলেন। সুদর্শন চক্র রক্ত মেখেছিল!
আজ পথে পথে ঘরে ঘরে অপরাধীর মিছিল
হিংসাও হাওয়ায় হাওয়ায় ঘোরে
আবার কোনও কোনও শিশুপালের জন্য
কৃষ্ণের দরকার। সুদর্শন চক্রে মরচে পড়েছে!
আমার হাত প্রতিরোধ করতে চায়
আমার চোখ সব অন্যায় দেখে
আমি বুঝতে পারি শয়তানের ষড়যন্ত্র ও অপরাধ
আইন আমাকে নীরব থাকতে বলে
ধর্ম আমাকে দয়া করতে বলে
পৃথিবী আমাকে হিংস্রপশুর কাছ থেকে সরে যেতে বলে
আর বলে কালের অপেক্ষা কর…
আমি তাকে ক্ষমা করি। করুণাও...
নৃশংস
মাঝে মাঝে লোকালয় ছেড়ে, হিংসার বৃত্ত ছেড়ে
সবুজের মাঝখানে দাঁড়ানো দরকার
জলের সামনে দাঁড়ানো দরকার
বাতাসের গোপনকথা শোনা দরকার।
ইটের প্রাচীরে আর লোহার ঘেরাটোপে
মানুষ আর মানুষ থাকে না
নখ বাড়তে শুরু করে
জিভে লালা ঝরে
দাঁত দংশন করতে চায়!
পাশাপাশি একটির পর একটি বাড়ি
যদিও মাঝখানে শুধু দেওয়াল
যেন দূরত্ব কয়েক মাইলের
কয়েক মহাসাগরের
কয়েক যুগের…
ওই লোমশ প্রাণীদের ঘরে
আনন্দ নেই, শান্তি নেই, বিশ্বাস নেই
আছে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস
পাহাড় প্রমাণ হিংসা
থৈ থৈ করা অশান্তি
আর আগুনের মতো ক্রোধ!
হিংসা
সমস্ত সকালগুলো ভেসে যায় রাত্রির আকাশে
উদ্বাস্তু শিবিরের আলো ঢেকে রাখে মেঘ
অচেনা রোদ্দুর কাঁপে ছায়াঘেরা আবছা উঠোনে!
মানুষের কাছে থাকা ভয়
মানুষের থেকে ঢের ভালো জঙ্গলের আদিম পশুরা!
সবুজ ঘাসেরা হাসে মানুষের হিংস্রতা দেখে
ধুলোবালি গোপনে কাঁদে মানুষের নীচে নামা দেখে
চলো, জঙ্গলে সবুজ ধরে বাঁচি
বিশ্বাসী জন্তুরা ঠিক পাহারায় জীবন বিলোবে
আক্রমণে ভেঙে দেবে হিংস্রতার ধারালো নখের বাহার!
0 Comments