কমলিকা ভট্টাচার্য
অন্তরাধার
অন্তরের খুশিটা লুকিয়ে রেখো না,
তাকে বসাও নিজেরই বারান্দায়—
যেখানে রোদ এসে নিঃশব্দে বসে,
আর বাতাস পুরোনো দুঃখ মুছে দেয়।
অন্যের কাঁধে আনন্দের ভার রেখো না,
কাঁধেরা ক্লান্ত হয়, আনন্দও বোঝা হয়ে যায়।
নিজের ভিতরেই এমন এক আকাশ বানাও,
যেখানে বৃষ্টি নামবে মুক্তির, কষ্টের নয়।
নিজেকে এতটাই আনন্দে সম্পৃক্ত রাখো
যেন দুঃখ দরজায় কড়া নাড়লে
হেসে বলতে পারো— “আজ ঘরে উৎসব।”
যে দুঃখ অন্যের হাতে পেয়ে জমেছিল,
তাদের ভাসিয়ে দাও অচেনা সাগরের দিকে—
অন্তরের খুশি নিজের ভেতরেই পূর্ণ ঋতুর মতো ফুটে থাক।
ফ্রি ফ্রি ফ্রি
একটার সাথে একটা ফ্রি,
ভোটের সাথে ভাতা ফ্রি।
হাসছে মঞ্চ, বাজছে ঢাক—
চুপচাপ কাঁদে দেশের ফাঁক।
ভয়ঙ্কর এই রাজনীতি,
ফোকলা হয়ে যায় অর্থনীতি।
হাত পেতে নেওয়া অভ্যেস হলে
মরে যায় শ্রম, স্বপ্ন দলে।
জন্ম নেয় কুমতি ধীরে,
মেরুদণ্ড ভাঙে ভিতরে ভিতরে।
বিকাশ তখন হামাগুড়ি দেয়,
লোভের আগুন ভবিষ্যৎ খায়।
কুবেরের ভাণ্ডারও ফুরোয় শেষে—
জাতি দাঁড়ায় ভিক্ষার দেশে।
🍂
অ্যালবামে সম্পর্ক
একটা সময় ছিল—
সে বলত, আছি।
আমি শুনতাম, থাকবে।
শব্দ দুটো পাশাপাশি হাঁটত,
আমরা ভেবেছিলাম—
এই হাঁটাই বুঝি স্থায়ীত্ব।
দিন কেটে গেছে।
কথা রয়ে গেছে।
উষ্ণতা ধীরে ধীরে ছবি হয়ে গেছে।
এখন সেই সম্পর্ক
অ্যালবামের পাতায় রাখা এক হাসি—
দেখলে চেনা লাগে,
মুহূর্তগুলোর অনুভব কোথায় গেল?
মনে হয়, অ্যালবামটা শুধু একটা প্রমাণ।
এইভাবেই
‘আছি’ বলা সম্পর্কগুলো
6 Comments
বাঃ উৎসবের শুরু হল একগুচ্ছ কবিতা দিয়ে। লেখিকা বিভিন্ন বিষয়কে এক তোড়ায় বেঁধেছেন। অভিনন্দন।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ।🙏
Deleteতিনটে তিন বিষয়ের কবিতা। ভালো লাগল।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ।🙏
DeleteOnek din por Kamalikar kobita pore bhalo laglo .sob somoyi anoboddyo
ReplyDeleteAro lekhar opekhay roilam.
অনেক ধন্যবাদ।🙏
Delete