জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প/সুদর্শন নন্দী

দুটি অণুগল্প
সুদর্শন নন্দী

বিধি নিষেধ

অনিলবাবু স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় থাকেন।  ছেলে মেয়ে সব বাইরে থাকে। একা থাকেন তাই নীচের তলাটা ভাড়া দিয়েছেন দীপকবাবুকে। মাসে মাসে গিয়ে ভাড়া নেন।  দীপকবাবু উপরে গিয়ে দিতে চাইলেও অনিলবাবু নিজেই নীচে যান ভাড়া নিতে।  উদ্দেশ্য ঘরটা ঠিকমতো ব্যবহার করছেন কিনা দেখতে।  সেবার দেওয়ালে দীপকবাবুর শিশু সন্তানের আঁকা বিড়ালের  ছবি দেখে খুব শুনিয়েছিলেন। কদিন পর নীচ থেকে দুমদাম শব্দ হতেই দৌড়ে গিয়ে দেখেন দীপকবাবু দেওয়ালে পেরেক পিটছেন।  অনিল বাবু রেগে বললেন, ঘরটা নিজের মনে করে ব্যবহার করুন, না হয় অন্য বাড়ি দেখুন। 
বছর দশেক পর। দীপকবাবু লোন নিয়ে বাড়ি করেছেন। ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজের নতুন বাড়িতে উঠেছেন। নীচ তলা ভাড়া দিয়েছেন ছোট এক পরিবারকে। 
পরিবারের মানুষটিকে দেওয়ালে টাঙানো  একটি নোটিশ দেখিয়ে বললেন, এগুলি স্ট্রিক্টলি ফলো করবেন।  নোটিসে লেখা ছিল দেওয়ালে আঁকাআঁকি নিষেধ,  কোথাও পেরেক পেটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ.....
         
🍂

                      

সাজেশন
                             
মেয়ে জামাই পুজোয় বাড়িতে এসেছে। 
জামাই-বাবাজীর জন্য অনলাইনে কি অর্ডার করবে মা জিজ্ঞাসা করতে মেয়ে দীপিকা বলল, ছাড়ো তো, কিছু অর্ডার করার দরকার নেই। ডাল ভাত তরকারিই ঢের। জামাই প্রণব পাশের ঘর থেকে তা শুনে দমে গেল। 
এমন সময় শ্বশুর মশায় জামাইয়ের ঘরে ঢুকলেন। দুচার কথার পর জামাই বলল, একটা সাজেশন চাইছিলাম, কিছু যদি মনে না করেন। 
— বল, বল মন খুলে বল । মনে করব কেন? শ্বশুর মশায় বললেন। 
—বলছি আমার স্ত্রী মানে আপনার মেয়ে যেভাবে দমিয়ে রেখেছে আমাকে— মানে, সব সময় মেজাজ টং হয়ে থাকে আর ও যা বলবে সেটাই শেষ কথা। কি করা যায় যদি সাজেশন দেন। 
শ্বশুর মশায় একগাল হেসে বললেন, আরে এক কান দিয়ে শুনবে আর এক কান দিয়ে বের করবে। ডোন্ট কেয়ার স্টাইলে থাকবে। আমি তাই করি।
এমন সময় দীপিকার মায়ের কর্কশ আওয়াজ শোনা গেল, আজ শিবানী (কাজের মেয়ে) আসবে না । বলি সকাল থেকে তো একটা কুটো নাড়োনি। ঘর দুটো ঝাঁট দিয়ে মুছে দাও দেখি।  মোছা হয়ে গেলে স্নান করার সময় কাপড় কটা কেচে দিও মনে করে। কোন রকমে সেরে দিও না যেন। 
ঢোক গিলে শ্বশুর দৌড়ে গিয়ে ঝাঁটা হাতে—
“সাহসী” শ্বশুরকে দেখে ভবিষ্যতে কপালে কি আছে জামাইয়ের বুঝতে অসুবিধা হল না।
                            

Post a Comment

0 Comments