জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/ মায়া দে

গুচ্ছ কবিতা 
মায়া দে

একা 


আমি একা।
সাদা কাগজের মতো।
নিঃশব্দ শিশিরের মতো। 
আমার একলা আকাশে সকাল আসে,সন্ধে নামে।
সূর্যের চুপি চুপি ডুবে যাওয়া —জেগে ওঠার মতো     
আমি একা।

প্রগাঢ় সবুজে —একা। সমুদ্রের অসীমতায় —একা।
দুপুর রৌদ্রে আগুন বুকে
মন পুড়ে খাক।
পোড়া ছাই মন। তবু জাগি একা।

বিধবা রজনীগন্ধার মতো
রাত জাগা পাখির মতো
আমি একা।


ফুসমন্তর 

হ্যাঁ। তুমি পারো।
ভালোবাসি বলে —আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে ,
ভেতরে বাইরে তুমুল বৃষ্টি এনেছো। প্রচণ্ড ঝড় নয়তো প্রপাত ।
সেই ফুসমন্তর। সেই সর্বনেশে ভালোবাসা।
সেই সবুজ পাঞ্জাবি।
তুমি পুব না পশ্চিম আমি জানি না 
দুপুরের সূর্য নাকি মধ্য রাতের চাঁদ!
গলে যাই পাতার পর পাতায়
কবিতায়
           আমি সবুজ পেলাম।
সবুজে ফুল ফোটে, ফল হয়, পাখি বসে‌।

পাতা খসে। গাছ শূন্য হয়। 

সেই তুমি তোমার রোদ বৃষ্টি নিয়ে আছো
আমায় চাও না।
তোমার সব থাক। শুধু কবিতা দাও।
আমি নতজানু হয়ে পান করি।
"শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ"


রাস্তা

খোঁড়া খুঁড়ি  এদিক ওদিক 
সর্পিল শরীরে খুবলে খাওয়া দাগ।
রাস্তায় নামে মানুষ। চাকা ঘোরে।  দোকান পাট , অফিস যাত্রী, দালাল, ফেরেপবাজ। তারি মাঝে জমে ওঠে সারমেয় খুনসুটি, প্রেম।
কখনো সখনো বৃষ্টি হয়।
রাস্তা ধোয়।
খোলা বিবর্ণ রাস্তা শরীর দেখায়।
রাস্তায় ছেলেটি, মেয়েটির হাত ধরে ঘোরে। চুমু দেয়। 
 ঘর পাতে—
তাদের বুকের একদিকে বালির স্তুপ, অন্যদিকে হাইড্রেন, সামনে চাকায় থ্যাৎলে পড়া কুকুর কিংবা বেড়াল। নির্মম নিয়তির মতো আঢাকা অন্ধকার ম্যানহোল।

ওদেরও বাচ্চা হয়।

রাস্তা তো মাটি। মাটির মতোই।
হৃদয় খোঁড়ো, আর পাথর ছোঁড়ো— এঁকে বেঁকেই চলে।
বাচ্চাটার সোজা পথে হাঁটবার রাস্তা চাই

আমাদের  রাস্তা কোথায়?

🍂

Post a Comment

0 Comments