শুভশ্রী রায়
এখনো ধানখেত
পৃথিবীটা অত রম্য জায়গা নয় আর
যেমন মধুময় ছিল কোনো এক সময়,
ছিল রূপকথা কেন্দ্রিক, প্রযুক্তি বর্জিত ও সহজ।
রোজ তার অন্তর্গত তাপ বাড়ছে
এবং প্রতিদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে একটি করে পাখি,
জল হারাচ্ছে তার অপার স্নেহ।
তবু এখনো ট্রেন থেকে ধানখেত দেখা যায়,
এইটুকু সান্ত্বনা নিয়ে বেঁচে আছে শত শত মানুষ,
শিশুরা সেই ধানখেত দেখে খুশি হয়, প্রকাশ করে ফেলে;
বড়রা প্রকাশ করে না তবু আনন্দ পায়।
নাহলে অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গেই তো মেনে নিয়েছি যে
আমাদের বাস-গ্রহের সহজাত রূপ লুঠপাট হয়ে গেছে,
পৃথিবী হারিয়ে ফেলেছে তার আটপৌরে সরসতা!
জীবনদায়ী
মুহূর্তটাকে সে কোনো মতে ধরে আছে,
স্পর্শ আরেকটু আলগা হলেই গহ্বর অতল,
প্রাণের রথ মিলিয়ে যাবে চরম কুয়াশায়।
এভাবেই নিজেকে সে ছুঁয়ে থাকুক
হারিয়ে যাওয়ার খাদ ও স্বেচ্ছাঘাতক রজ্জু থেকে দূরে।
ক্রমশ যাপনের বাঁধন হোক বজ্র আঁটুনি....
জীবন তাকে পাকে পাকে বেঁধে রাখুক
শত আসক্তির অদৃশ্য দৃঢ় রজ্জু দিয়ে,
নিজের হার ও জিতের সঙ্গে তার চির-বিচ্ছেদ নয়;
সহজ স্বীকৃতি থাকে যেন।
সেতু
একটি মৃত্যু থেকে আরেকটি মৃত্যু অবধি
পৌঁছনোর বহুমাত্রিক সেতু জন্ম,
মৃত্যু অমোঘ তবু অজানা,
জীবন সামান্য মুখচেনা বটে তবে
তাকেও আমরা যতটুকু চিনি বলে মনে করি;
তার চেয়ে ঢের বেশি চিনি না।
বিভ্রমের জন্ম মৃত্যুর রহস্যময়তার দিকে টেনে নিয়ে যায়,
তারপরেও আমরা ভাবি চারপাশ পরিচিত, স্বজনেরা কত চেনা
আর সত্যিই আত্মার কাছাকাছি কেউ কেউ থাকে!
আসলে আত্মার সমস্ত নৈকট্য অনন্ত অচেনার সঙ্গে।
0 Comments