Posts

চাতক সাহিত্য পত্রিকার ২১ তম সাহিত্য সভা এবং টেগোর ভিলেজ সাহিত্য সম্মাননা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান

Image
চাতক সাহিত্য পত্রিকার ২১ তম সাহিত্য সভা  এবং টেগোর ভিলেজ সাহিত্য সম্মাননা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান  নদিয়াজেলার অন‍্যতম  সাহিত্য পত্রিকা চাতকের ২১ তম বার্ষিকী সাহিত্য সভা এবং ‘টেগোর ভিলেজ সাহিত্য সম্মাননা ২০২১-২২’ অনুষ্ঠান অতিসম্প্রতি হয়ে গেল ২৯ জানুয়ারি’২৩,রবিবার, গয়েশপুর কিশলয় স্কুলে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন স্থানীয় নেতাজী বিদ‍্যামন্দির হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক মাননীয় সুভাষচন্দ্র দত্ত এবং অসমের বিশিষ্ট  সাহিত্যিক ও অনুবাদক তাপস পাল।  প্রথমে দু’হাজার একুশ,টেগোর ভিলেজ সাহিত্য সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় কথাশিল্পী অনিন্দ‍্যকেতন গোস্বামী এবং বিশিষ্ট ছড়াকার সুমন বিশ্বাসের হাতে। এরপর দু’হাজার বাইশ,টেগোর ভিলেজ সাহিত্য সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় বিশিষ্ঠ সাহিত্যিক তথা সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী এবং তরুণ কবি শুভদীপ দের হাতে। অনুষ্ঠানে বহুবিধ ভাষায় অনূদিত শিশু কিশোর গল্প সংকলন “ছোট্ট একটি ইসকুল” নিয়ে মনোগ্রাহী আলোচনা করেন ডঃ নির্মল করণ। কবি নিত‍্যপ্রকাশ দাসের কাব‍্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন সুনীল সাহা ও মানিক রায়। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি অজয় চক্রবর্তী,

রম্য কবিতা, পর্ব - ১৫ /তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
রম্য কবিতা, পর্ব - ১৫ তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় (১) মাতালের ভারকেন্দ্র পদার্থবিদ্যার শিক্ষক মহাশয়, যেতে যেতে প্রাক্তন ছাত্রের দেখা পান, ছাত্র কি দুর্বল? দেহ তার টলমল! ঠাহর করতে তাকে আরও তার কাছে যান। মদের বোতল হাতে, মুখে দুর্গন্ধও, দৃষ্টিও মদিরেক্ষণ, কুণ্ঠিত সে, দিতে সে কৈফিয়ত - লজ্জিত, আড়ষ্ট শব্দয় যেতে চায় ঘটনার উৎসে। সবিনয়ে হাতজোড় করে বলে, “দুঃখিত! দেখা হবে এভাবে যে কোনোদিনই ভাবিনি, আগে জানলে তো মদ খেতামই না মহাশয়, শিবের দিব্যি আমি অতোখানি নাবিনি।” কি বিষাদসিন্ধুর সুরাহা খুঁজতে সুরাসক্তি হয়েছে তার জানালো সে বেসুরো, সদা সুরারঞ্জিত, শুঁড়িরা বন্ধু হতো কেনো - তা বোঝালো সাথে নিজেকে বেকসুরও। শিক্ষক মহাশয় বললেন, “মনে কিছু করবোনা, উত্তর দাও যদি আমারে, মনে আছে কিনা দেখি, যা যা আগে পড়িয়েছি, নাকি হারিয়েছো সবই জলে, খেতে-খামারে! দেখি কি রয়েছে ঘটে - তোমার সন্নিকটে এসে কেউ তোমায় কি শুনবে না শুঁকবে? নাভির কাছেই থাকা ‘ভারকেন্দ্র’ তোমারই, মদ্যপ হয়ে বলো আদৌ কি ঝুঁকবে? তিরিশ ডিগ্রি বাঁয়ে, ঝুঁকলে নেশার ঘা’য়ে, ‘ভারকেন্দ্র’ কতোটা, কোনদিকে সরবে? কতোটা পড়লে পেটে, দারুণ নেশার চোটে, দোলকের মতো সেটা ক্রম

মহাভারতের কর্ণ - এক বিতর্কিত চরিত্র-৫/ দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
মহাভারতের কর্ণ - এক বিতর্কিত চরিত্র                                               দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী                                                  পঞ্চম পর্ব                          সময়ের সাথে আমরা এগিয়ে যাই ইন্দ্রপ্রস্থে যেখানে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির রাজা হবার পরে স্থির করলেন রাজসূয় যজ্ঞ করার। স্বভাবতই ভারতভূমির সমস্ত রাজারা যজ্ঞারম্ভের পূর্বে তাঁকে এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়ে কর দান করলে তবেই তিনি রাজসূয় যজ্ঞ করার স্বীকৃতি পাবেন। এই উদ্দেশ্যে ভীম অর্জুন নকুল ও সহদেব চারিদিকে যুদ্ধজয়ে যাত্রা করলেন। অর্জুন গেলেন উত্তরে, ভীম গেলেন পূর্বদিকে, নকুল গেলেন পশ্চিমে এবং সহদেব গেলেন সুদূর দক্ষিণে। তাঁরা প্রায় সকলের কাছে সমাদৃত হলেন একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন চেদিরাজ শিশুপাল। কিন্তু তিনি সাদরে ভীমসেনকে গ্রহণ করে প্রচুর উপঢৌকন দিলেন। এরপরে একমাত্র চিন্তা পূর্ব দিকের অঙ্গরাজ কর্ণকে নিয়ে। পান্ডবদের সম্বন্ধে তার ঈর্ষা ও বিদ্বেষ স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে তিনি বিনা যুদ্ধে কর দিবেন তা কেউ আশা করেনি।  কিন্তু কর্ণ উল্টো পথে হেঁটে সপার্ষদ সমভিব্যহারে আন্তরিক প্রীতি সম্ভাষণ করে ভীমসেনকে অভ্

বিস্মৃতপ্রায় কবি কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় /নির্মল বর্মন

Image
বিস্মৃতপ্রায় কবি কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় নির্মল বর্মন  "রংমশাল" পত্রিকার সম্পাদক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে 'বঙ্কিম পদক' প্রাপ্ত সাহিত্যিক ও কবি কামাক্ষী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় 'কৃত্তিবাস ওঝা' ছদ্মনামে কবিতা লিখে সুনাম অর্জন করেছিলেন। ২৭-০৩-১৯১৭ পৃথিবী মায়ের কোল আলো করে এসেছিলেন।আর বিশ্ববাসীর আশা আকাঙ্খাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে ৩০-০৫-১৯৭৬ এ সাত সাগরের পারে চলে গিয়েছেন । বস্তুতঃ ছোটগল্প, শিশু সাহিত্যিক ও কবি  রূপে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। স্বনামধন্য কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সহকারি হিসেবে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের প্রচার বিভাগে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন । কবি কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় রাশিয়ান বই বাংলা অনুবাদ করেছেন, উচ্চ শ্রেণীর ফটোগ্রাফারও ছিলেন। স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম অডিটর জেনারেল ছিলেন কবিবর। কবি কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ গুলি হল "শবরী", ১৯৩৭," মৈনাক" ১৯৪০, "সোনার কপাট" ১৯৪১ ,"শিবির " ১৯৪২ , "রাজধানীর তন্দ্রা" ১৯৪৩ ,

ড. প্রদ্যোত কুমার মাইতি (অধ্যাপক, ইতিহাস গবেষক, লেখক, প্রবন্ধকার - তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর)/ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ৩৯ ড. প্রদ্যোত কুমার মাইতি (অধ্যাপক, ইতিহাস গবেষক, লেখক, প্রবন্ধকার - তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর) ভাস্করব্রত পতি বয়ঃভারে ন্যুব্জ হয়েছেন। বয়স বেড়েছে। তাই বলে কখনো থমকে যায়নি তাঁর কাজ। আঞ্চলিক ইতিহাসকে তাঁর হাতের তালুতে বন্দী রেখেছেন আমৃত্যু। মেদিনীপুর জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি চর্চাকারীদের কাছে তিনি প্রাণভোমরা। তিনি ড. প্রদ্যোত কুমার মাইতি। যিনি মানতেন আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চাই পারে কোনো সমাজ ও সংস্কৃতির প্রকৃত রূপরেখা জানাতে। তুলে ধরতে। মেদিনীপুরের ইতিহাসের মূক মুখে তিনি জুগিয়েছেন ভাষা। ইতিহাস অন্বেষণের মাধ্যমেই তো ‘অবলা’ কথা, ‘অজানা’ তথ্য বলা হয়ে যায়, জানা হয়ে যায়। ইতিহাস হ’ল অতলস্পর্শী মহাসাগর। যে সাগরের কুলকিনারা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই ইতিহাস অন্বেষণ কখনই ‘লিমিটেড' হতে পারেনা। যতটা সম্ভব পারা যায় মহাসাগরের গভীরে ডুবে তুলে আনা যায় ইতিহাসের মণিমুক্তো। কিন্তু লেখক ড. প্রদ্যোতকুমার মাইতি তাঁর অগুনতি বইতে তমলুক তথা মেদিনীপুরের যে ইতিহাস তুলে এনেছেন, তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। সাগর ছেঁচে যে ‘মুক্তো’ তিনি সংগ্রহ করেছেন, তা অনবদ্য।

তমাল লাহা ও এস. মহীউদ্দিন-এর কবিতা

Image
অসতর্ক কাচ তমাল লাহা তুমি নেই ; অতিষ্টবেষ্টিত এই দুর্গম আমি  অপেক্ষার লুব্ধকে শ্রেয়।  আর কোনো প্রয়োজনও নেই ; পথের বৈশাখ  কিছু লুকিয়ে রোহিত, আর কিছু ভদ্র-চাঁদ যাযাবর  প'ড়ে আছে ঘি-মাখা পাঁপড়ের মতো, আধখাওয়া  মোহিত বিস্মৃত ; এখন নদীর কাছে চাওয়া যায় স্নানপ্রবণতা,  আগুনের গা থেকে খুলে নিয়ে অগ্নিগহনায়  স্বসম্মত নিঃস্ব হওয়া যায় ; নিশ্চিত, প্রশ্নচিহ্ণে তবু সেই অহংকার, তোমার-আমার, তার কিছু  অসতর্কে, সময়ের মেরুদন্ড বিক্রি ক'রে বাঁচে। তুমি নেই ; তবু যেন বিঁধে আছো আজও  চিড় ধরা কাচে। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   নীলকণ্ঠ পাখি  এস. মহীউদ্দিন নীলকণ্ঠ পাখি তুমি। উড়ে বেড়াও ধূসর ডানাজড়ানো  ধুলো পাখির জীবনবিন্যাসে। উড়ে যাও- দূর আকাশের ছায়াপথে পরমাকে ভালোবেসে, আকণ্ঠ ডুবে আছো  নীল বিষণ্ণতা বিষে... আজো সমুদ্র ভাঙে ঢেউ, সোনালী ডানার চিল উড়ে যায় শূন্যতার বুকে । নোনা হাওয়ায় ভাসে চিক্‌চিক বালি,  কান্নার কাতরতা। গ্রামগঞ্জে ভেসে আসে রূপশালী  ধানের দিগন্ত

ভীম ঠাকুর /অমর সাহা

Image
ভীম ঠাকুর              অমর সাহা ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়, দহিজুড়ি, কাঁটাপাহাড়ি প্রভৃতি জায়গায় আবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিড়াকাটা, নিমতলা, হুমগড়, আমলাশুলি, গোয়ালতোড়, পিংবনি, রামগড়, জলহরি, দক্ষিণশোল, ভাদুতলা, গড়বেতা, চন্দ্রকোণারোড, ডুকি, বিষ্ণুপুর, আঁধার নয়ন, ঘাটাল, কেশপুর প্রভৃতি জায়গায় ভীমপুজো হয় ৷ পুজো হয় সার্বজনীন ৷ পারিবারিক পুজো হয় না ৷ ভীমপুজো উপলক্ষে বিষ্ণুপুর (শালবনি), ভাতমোড় (শালবনি)-এ মেলা বসে ৷ ভীমপুজো ব্রাহ্মণরা করে ৷ যাত্রাবিষ্ণুপুর, ভীমপুরে সাধারণ মানুষ ভীমপুজো করেন ৷ এখানে উপাসক ক্ষেতমজুর, বাগদি, ভূমিহীন মজুর ৷ মেদিনীপুর শহরে পঞ্চুর চকে ভীমপুজোর উপাসকরা সকলেই রিকশাচালক ৷      মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে ভীমপুজো হয় ৷ এই একাদশী ভীম একাদশী বা ভৈম একাদশী নামে পরিচিত ৷ পুজো রাত্রিবেলা হয় এবং রাত্রিতেই এর নিরঞ্জন হয় ৷ পুজোর দিন ঢেঁকি চালনা বন্ধ থাকে ৷ এইদিন হলকর্ষণ, মুড়িভাজা, কাপড়কাচাও বন্ধ থাকে ৷ ভীম পুজোর উপাচার হিসেবে লাগে সিদ্ধ চাল আর রাঙা আলু ৷ ওইদিন কৃষিজীবী মানুষদের অনেকেই 'ভৈম একাদশী' পালন করে গোটা মুগ ও রাঙা আলু সিদ্ধ খেয়ে থাকে ৷ ভীম ক্ষেত্ররক

ওঝা ও ডাইনি বিশ্বাস /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ৫৬ ওঝা ও ডাইনি বিশ্বাস সূর্যকান্ত মাহাতো "বিখ্যাত পন্ডিত 'নগেন্দ্রনাথ বসু' তার 'বিশ্বকোষ' (ষষ্ঠ খন্ড) গ্রন্থে 'ছোটনাগপুর' ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন' এখানকার লোক 'ডাইনি'-তে বিশ্বাস করে। শুধু তাই নয় এই মেয়েদেরকে বিচারের জন্য আদালতেও যেতে হয়। মাঝেমধ্যে কোন কোন নারীকে এই জন্য মেরেও ফেলা হয়, নয় তো অপমানিত করা হয়। (পৃষ্ঠা- ৫৪৩) নগেন্দ্র বাবুর ওই ব্যাখ্যা আজকের জঙ্গলমহলে কতখানি প্রাসঙ্গিক?" তৃতীয় বর্ষে পাঠরত এক কলেজ ছাত্রী প্রশ্নটা করল। বললাম,"উনার মতো পন্ডিত মানুষ যখন বলেছেন তখন ভুল কিছু বলেননি। একথা একেবারেই একশো শতাংশ সত্য। তবে উনি যে সময়ে এমন কথা বলেছেন তখন এই বিশ্বাস যতখানি ভয়ঙ্কর ছিল আজ আর ততটা নেই। কোথাও কোথাও একেবারেই নেই, আবার কোথাও কোথাও এই বিশ্বাস বেশ জাঁকিয়ে বসে আছে। তবে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যেও একটা পরিবর্তন আসছে। এটা কম বড় কথা নয়। আসলে এই 'ডাইনি', 'ভূত-প্রেত'গুলো যদি মুদ্রার একটি পিঠ হয় তাহলে অন্য পিঠে বসে আছে 'ওঝা', 'গুণীন', 'গুরু', 

দেশান্তরী -৪ /হিল্লোল রায়

Image
দেশান্তরী -৪ হিল্লোল রায়  প্রথম আলোর চরণধ্বনি, রইলো হয়ে চোখের মণি ট্রাফিক পুলিশ হাত ওঠাতেই রাস্তা পেরিয়ে চৌরঙ্গীর মোড়ে এসে দাঁড়ালাম! ট্রাফিক পোলের 'লাল' সংকেত তখন 'সবুজ'। ঘড়ির বড় কাঁটা সবে মাত্র ৯ এবং ১০ এর মধ্যস্থ জায়গায় তিনচতুর্থাংশে অবস্থান করছে আর ছোটকাঁটাটা বড়কাঁটার নীচে ভয়ে জড়সড় হয়ে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বুঝলাম আমাদের সময় সংক্ষিপ্ত কারণ মার্কিণ দূতাবাস সকাল ৮টা থেকে ১২টা এবং বেলা ২II. থেকে ৫টা পর্য্যন্ত খোলা থাকে। কাজেই বারোটার আগে গিয়েই আমাদের মার্কিণ দূতাবাসে পৌঁছোতে হবে। অফিস যাত্রীদের অফিস পৌঁছাবার চিন্তাকে কমিয়ে দিয়ে কলকাতা পরিবহণ সংস্থার একটা দোতলা বাস হাতছানি দিল আমাকে ও সঞ্চয় ঘোষকে। দোতলায় জানলার পাশে জায়গা পেলাম আমরা। ক্ষণিক গল্পের সু্যোগ পেয়ে সঞ্চয় ও আমি বেশ উৎসাহের গোড়ায় ইন্ধন জুগিয়ে নিলাম। মিনিট পনেরোর মধ্যেই ডবল ডেকার ঊর্দ্ধশ্বাসে ছুটে গিয়ে আমাদের গন্তব্যস্থল বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে ঘেঁষে শেক্সপীয়ার সরণীর মুখে নামিয়ে দিয়ে হুঁশ করে বেরিয়ে চলে গেল। আমরা দুজন হেঁটে হেঁটে যখন মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছালাম তখন সকাল ১০টা বেজে ৩০ মিনিট। ক

প্রতাপ সিংহ ও বিমান কুমার মৈত্র-র কবিতা

Image
স্টেশনে  প্রতাপ সিংহ  ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছি একটা স্টেশনে  চতুর্দিকে ঝড় তুলে একটার পর একটা ট্রেন  দিগন্ত পেরিয়ে যাচ্ছে  শ'য়ে শ'য়ে মানুষ নামছে  আমি কাউকে চিনি না, কেউ আমাকে চেনে না এক মুখের সঙ্গে অন্য মুখের কোনো মিল নেই।  মিল শুধু একটাই -- আলোছায়ার ভেতর দিয়ে  একটা অদৃশ্য আধোচেনা রাস্তা।   কোথাও যেতে হবে আমাদের   ছুটতে ছুটতে আরেকটা পৃথিবী   এক্ষুনি ছুঁয়ে ফেলতে হবে আমাদের! জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   বিমান কুমার মৈত্র সন্ধিক্ষণ এমন নম্র সন্ধ্যায় একটি জাহাজ  যেন ক্রমশ বিন্দুভূত দৃষ্টি  শূন্যতায় ঢলে পড়ে। তাকে খূঁজি শব্দের মতো। ওইখানে শ্বেত পত্র ছিল। সময় অসময়ে ওরাও বরফের কুচি হয়ে ঝরে গেছে কবে কৃষ্ণ-গোধূলি তীরে। বোধ হয় বাবুইয়ের চঞ্চুবিদ্ধ হয়ে  চলে গেছে বিলাসী মহলে। জোনাকির আকাঙ্ক্ষার  ওম পাবে বলে। কৃষ্ণ-গোধূলি তীরে বসে আছি  বাঙ্ময় স্তব্ধতার রূপ মুগ্ধ হয়ে। কবিতা সরিয়ে রাখি। এখানে কবিতা ভাবার কোন অবকাশ নেই।। জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে 👇 ২০২৩ জ্বল

রাতি /ভাস্করব্রত পতি

Image
বাংলা প্যারোডি কবিতা, পর্ব -- ৫ রাতি ভাস্করব্রত পতি গোধূলির রঙে রেঙে দিন শেষ হল। উনুনে ভাতের হাঁড়ি ফুটিতে বসিল।। মাতাল পাতাল ফুঁড়ে শুঁড়িখানা ছোটে। বউগন দ্যায় মন 'সিরিয়াল' পাঠে।। ফুটিল তারার দল, আলোক ছুটিল। তাসপেটা লোকজন আসিয়া জুটিল।। গোপনে আসিল চোর করিতে হরন। গয়নার পুঁটুলি আর অযাচিত ধন।। ঝিঁ ঝিঁ শুধু রব করে, বাকি সব স্থির। ঝিকমিক ঝিকমিক আলো জোনাকির।। ওঠো ওঠো ভাত খাও, যাও ঘুম দেশ। স্বপনের মায়াজালে রাত হবে শেষ।। জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।  👇 জ্বলদর্চি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ https://chat.whatsapp.com/JWMuazCj0LLA1FNgunt5HY জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে...   প্রভাত মদনমোহন তর্কালঙ্কার  পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।। শীতল বাতাস বয় জুড়ায় শরীর। পাতায়-পাতায় পড়ে নিশির শিশির।। ফুটিল মালতী ফুল সৌরভ ছুটিল। পরিমল লোভে অলি আসিয়া জুটিল।। গগনে উঠিল রবি সোনার বরণ। আলোক পাইয়া লোক পুলকিত মন।। রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।। উঠ শিশু মুখ ধোও পর নিজ বেশ। আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।। জ্বলদর্চি তিরিশ পেরিয়ে 👇 ২০২৩ জ্বলদর্চি তিরিশ প

দূরদেশের লোকগল্প – কানাডা (উত্তর আমেরিকা)খরগোশের খাবার-দাবার / চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোকগল্প – কানাডা (উত্তর আমেরিকা) খরগোশের খাবার-দাবার চিন্ময় দাশ   অনেক অনেক কাল আগের কথা। এক গ্রামে একবার ভারি উপদ্রব শুরু হল। এমনিতেই গ্রামে খাবার-দাবারের কোন অভাব নাই। বেশ শান্তিতেই বাস করে মানুষজন। ভারি সদ্ভাব সকলের মধ্যে। হঠাৎই এক রাক্ষসের উদয় হোল। একা রাক্ষসে রক্ষা নাই। সাথে তার বুড়ি এক ডাইনি বউ। তাদের উৎপাতে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে উঠল।  দিনমানে তাদের ছায়াটুকুও দেখা যায় না। উদয় হয় রাত্তিরে। গোটা গ্রাম তখন ঘুমিয়ে কাদা। রাত নিঝুম। এর ওর ঘরে হানা দেয়। খাবার-দাবার যা কিছু মজুদ করা থাকে,মূহুর্তে সব সাবাড় করে, বা কেড়ে-কুড়ে নিয়ে, উধাও হয়ে যায়।  বিপদ বাড়ল, মাঝে মাঝে ছোট ছোট বাচ্চারা উধাও হয়ে যেতে লাগল। লোকজনেরা এসে ধরে পড়ল গ্রামের মোড়লকে। কিছু একটা বিহিত করো তুমি। কয়েকজন লেঠেল ছিল মোড়লের। তাদেরকে নামালো হোল। কিন্তু সন্ধানই পাওয়া গেল না রাক্ষসটার। পাওয়া যাবে কী করে? বনের একেবারে গভীর এলাকায়, পাহাড়। সে পাহাড়ের লুকানো এক গুহায় ডেরা করেছে রাক্ষস। দিনের বেলা ডেরা থেকে বেরোয়ই না তারা। তাছাড়া, রাক্ষসের বউটা আসলে ডাইনি। অনেক বিদ্যা জানে বুড়িটা। অদৃশ্য হয়ে চলাফেরা করতে পারে তারা।