Posts

রম্য কবিতা, পর্ব-১৩ /তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
রম্য কবিতা, পর্ব-১৩  তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় বিমান-দুর্ঘটনা সমুদ্রতট থেকে তিন কিমি ওপরে, কিউমুলোনিম্বাস মেঘেদের টোপরে। এ মেঘের নিয়ে কবিতাদের জন্ম হয়, নিংরালে জল দেবে কিনা ভেবে তন্ময়! কি ভালো যে হতো যদি ঠেলে-ঠুলে গোটাছয় যেখানে গরম বেশি সে আকাশে দেওয়া হয়। ছোটোখাটো ছুটি পেলে বাইপ্লেন উড়িয়ে, আকাশেতে এভাবেই বেলা যায় ফুরিয়ে। ঘুরে-টুরে, ভেবে-টেবে পেট করে চুঁইচুঁই ট্যাকোমিটারের কাঁটা তিনহাজার ছুঁইছুঁই। তাড়াতাড়ি নেমে ভাবি যেই খাব লাচ্ছা, প্রপেলারে পা গলায় শকুনির বাচ্চা। আ মরণ! কোত্থেকে? বলা নেই কওয়া নেই! আত্মহত্যা পাপ, তা কি তোর জানা নেই? ওরে ক্ষ্যাপা, সরে যারে মরবি না মারবি? যম এলে ও পোড়ামুখ লুকোতে কি পারবি? গতি হ্রাস পেয়ে ‘স্টল-গতি’ থেকে এত কম! সাধের বিমানে বুঝি আর নেই সংযম। বাপ্‌ আমার, ঝাঁপ্‌ মার, প্যারাশ্যুট খুলে নে, বেঁচে ভাবি এ কথা কি শ্রোতারা নেবে মেনে? পেসমেকার বিভ্রাট বুকে বসা কৃত্রিম-ছন্দ-নিয়ামকের - কৃপায় বেঁচে আগামী বিপদ পাইনি টের। পাঠাতো দ্রুত হৃদয়ে তা তড়িৎস্পন্দন, যদি হতো হৃদগতি শূন্য বা মন্দন । তালে তাল মিলছিলো, টলমল হইনি, যদিও পাহাড় কোনও কাঁধে রেখে বইনি। হঠাৎই আবার শুরু

তিনটি কবিতা /বিমান কুমার মৈত্র

Image
তিনটি কবিতা  বিমান কুমার  মৈত্র সব আালো নিভে গেলে....... নিদ্রিত পলকের বাইরে রাত্রি অপেক্ষা করে  অনঙ্গ ভাষ্কর্য নিয়ে আমরা শহরের পথে পথে  হাঁটি --- দুপাশে সার দেওয়া টিউমার টিউমার.....টিউমার সেখানে কান পাতলে  অন্ধকার নারীর শীৎকার...  আর গরিলার অট্টহাস শোনা যাবে আমাদের মনে কোন হেলদোল নেই আমরা আবার ঘুমোব এবং আজ রাতে শহর পরিক্রমণ করব ।।   মা তোমার আরোপিত বীজবৃক্ষ থেকে অনবরত মূহুর্তেরা খসে পড়ে আর অদৃশ্য উড্ডীন হয়ে আকাশগঙ্গায় স্রোতস্বিনী হয় মা আমার, তুমি কিন্ত সেই  মূহুর্তগুলিকে কুড়িয়ে নিয়ে  জাদুকাঠির ছোঁয়ায় আবার একটি নবতর আমিকে নিয়ে মহকালের  বালুতটে অপেক্ষা কোরো যতক্ষন না অভিকর্ষের নাগাল পাওয়া যায় ।।   আকাশ ও বৃষ্টি তোমার ব্রহ্মতালুর ইটপাজার পাটল ঘণকের উপর বসে একটি দেবশিশু বল খেলে দুর্ভিক্ষ ঠাকুরাণী পান্তা খায় আর একজন হাড়িয়া খেয়ে  মঙ্গলে পাড়ি দেয়  এই ইটপাজার উপরেই তোমার  শনিবারের হাটে তড়িঘড়ি কাচের  চুরির দোকানে ছোটা আর  নাগরের দোলনায় চড়ে ছন্দের অশ্বারোহী হবার স্বপ্ন এই ইটপাজার  শারীরিক বিভঙ্গের পাললিক উথাল পাাথালে লবনাক্ত শিশিরের যে ধাতব স্বাদ সেটা প্যাথলজ

পঞ্চক ব্রত /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব -- ৪৯ পঞ্চক ব্রত ভাস্করব্রত পতি  ওড়িশার পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের প্রধান সেবকের কন্যা রাই নিজের মনে প্রভু শ্রীজগন্নাথ দেবকে তাঁর পতি রূপে স্বীকার করে নেয়। তেমনি শ্রীজগন্নাথদেবও প্রীতচিত্তে রাইকে বিয়ে করেন। কিন্তু রাই উপেক্ষিতা হন। স্ত্রীর সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। তখন রাই জগন্নাথদেবের প্রধান স্ত্রী লক্ষ্মী দেবীকে সেবাযত্নে তুষ্ট করলে লক্ষ্মীদেবী রাইকে পাঁচদিনের জন্য নিজের সঙ্গে পূজিতা হওয়ার বরদান করেন। কার্তিকী শুক্লা একাদশী তথা উত্থান একাদশী থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই পাঁচদিন ধরে পূজিতা হন। টানা পাঁচদিন ব্যাপী পূজা হয় বলেই 'পঞ্চক ব্রত'।  প্রথমত, পঞ্চ তথা পঞ্চপরিমাণ। পাণিনি লিখেছেন, “পঞ্চকাঃ শকুনয়ঃ"। পঞ্চক বিণ [ পঞ্চন্ + ক ( কন্ ) ]  দ্বিতীয়ত, পঞ্চ দ্বারা ক্রীত। তৃতীয়ত, প্রতি শতে দেয় পঞ্চবৃদ্ধিযুক্ত (শতকরা পাঁচ টাকা সুদ সহিত)। মনুসংহিতা অনুসারে, “পঞ্চকঞ্চ শতম্"। চতুর্থত বলা যায়, পঞ্চাংশযুক্ত বা পঞ্চবেতনযুক্ত হল 'পঞ্চক'। এক কথায় পঞ্চের বর্গ বা সমবায় হল 'পঞ্চক'। গ্রামবাসীর মঙ্গল কামনায় কোনো পর্

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১১

Image
ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১১ সম্পাদকীয়, পৌষ-মাঘ শীতকাল - স্কুলে শীতকাল অনুচ্ছেদ লিখতে দিলেই প্রথমেই এই বাক্যটি লিখতাম। এখন অবশ্য শীতকাল অনুচ্ছেদ লিখতে দিলে তোমরা গুগুল দাদার দ্বারস্থ হও, জানি। তবু বলি পৌষ মানেই নবান্ন। আর নবান্ন মানেই উৎসব। সেকথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন হরিৎ আঙ্কেল। আর শীতকাল মানেই  কিন্তু মেলা আর মেলা।  সেও এক উৎসব। আর মেলা মানেই পাঁপড় ভাজা।  সোমরাজ দাদা, সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে বইমেলায় গিয়ে পাঁপড় ভাজার ছবি এনে ছোটোবেলার বন্ধুদের জন্য পাঠালো। পাঁপড় ভাজা দেখেই আমিও মেলায় যাবার জন্য লাফিয়ে উঠলাম। ঠিক তখনই দোলনচাঁপা আন্টি স্মরণ করিয়ে দিল, আজ ৪ ঠা ডিসে, নৌ দিবস। আমি তোমাদের হয়ে দোলনচাঁপা আন্টিকে বললাম, থ্যাঙ্কু আন্টি। তোমাদের আর একটি কথা চুপিচুপি বলছি, রোবটরা নাকি কথা কইতে শিখেছে। কে বলল,  ঠাম্মি। কার ঠাম্মি? জানতে হলে পড়ে ফেলো বন্দনা আন্টির গল্প। রোবটদের কথা শুনে তুহিনের নেকড়েটা ঘ্যাঁক করে উঠেছে। কি ঘুম পেয়ে গেল তো এবার? না, না তোমাকে বলিনি। পেরজাপতিকে বলছি। তৃষ্ণা আন্টির জয়াবতীর জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে আমাদের ছোটোবেলায়। যাদের পরীক্ষা হয়ে গেছে তাদের কথা মনে রেখে

নূতন শিক্ষা নীতি ২০২০ (NEP- 2020) - কিছু প্রশ্ন-৩/অধ্যাপক সজল কুমার মাইতি

Image
নূতন শিক্ষা নীতি ২০২০ (NEP- 2020) - কিছু প্রশ্ন  অধ্যাপক সজল কুমার মাইতি পর্ব - ৩ বিদ্যালয় বা স্কুল শিক্ষা  আমাদের নূতন শিক্ষা নীতিতে (NEP 2020) বিদ্যালয় বা স্কুল শিক্ষা বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সেজন্য এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সকল সিদ্ধান্তগুলির কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ আলোচনা করা যাক। প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার প্রতিটি স্তরে সবার পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা  জাতীয় শিক্ষা নীতির ( NEP 2020) লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে স্কুল শিক্ষায় মোট নিবন্ধনকরন অনুপাত অর্থাৎ Gross enrollment Ratio ( GER) একশো শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এই বিষয়ে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহন করার প্রস্তাব করা হয়েছে তা হল: উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত পরিমানে পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা। বিকল্প ও উদ্ভাবনমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা যার মাধ্যমে যে সকল ছাত্র পড়া ছেড়ে দিয়েছে তাদের মূল শিক্ষায় পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যত্নসহকারে প্রতিটি ছাত্রকে খুঁজে তাদের শেখার স্তর বিবেচনা করে সবার শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা পরামর্শদাতা, স্কুলের সঙ্গে যুক্ত উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রা

আমি আমার মতো /পর্ব ৩/ সুকন্যা সাহা

Image
আমি আমার মতো  পর্ব ৩  সুকন্যা সাহা  গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু  খুব ছোটো বেলা থেকেই আমি গান শুনি। একেবারে যাকে বলে গানের পোকা । সব  ধরণের গান । রবীন্দ্র সংগীত থেকে হাল আমলের হিন্দি ফিল্মের গান পর্যন্ত্। গান শোনার এই অভ্যাস বাবার কাছ থেকে  পাওয়া ; আমাদের ছোটোবেলায়  রেকর্ড প্লেয়ার   দেখেছি ... চাকতির  মতো গোল গোল রেকর্ড , মাঝখানটা  লাল , বাইরের দিকটা কালো । একটা  খামের  মতো মোটা কাগজে প্যাকেজিং ... রের্কড কোম্পানি ...  HMV , His Masters  Voice ... সঙ্গে   একটা কুকুরের লোগো । বেশির ভাগ রেকর্ডই ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের । বাবার  দুই প্রিয় শিল্পী। রেকর্ড প্লেয়ারটা রাখা থাকত  আলমারির   একেবারে  শেষ  তাকে কোনার দিকে ।বাবা মাঝে মাঝেই  গাইতেন ... কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো... বা আর কত দূর বল মা ...বেশ ভালো গলা ছিল অল্প বয়েসে  ... উদাত্ত  , দরাজ ।  আমাদের ছোটোবেলায় তখন খুব লোডশেডিং হত ... খোলা ছাদে মাদুর  পেতে বসে কত রাতে  যে  বাবার  গলায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের  গান শুনেছি ইয়ত্তা নেই ...তখন  আশে পাশের  ফ্ল্যাট বাড়ি গুলো তৈরী হয় নি   আর   এভাবে  ছাদ আর তার মাথার  তার

যেতে যেতে পথে /রোশেনারা খান /পর্ব ৪৮

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৪৮ আমার শাশুড়িমা বলতেন, মানুষ পাখির জাত, আজ এখানে তো কাল সেখানে। ভেবে দেখলে সত্যিই তাই, পাখি ছাড়া একমাত্র মানুষই পারে এক দেশ থেকে আর এক দেশ উড়ে যেতে বা পাড়ি দিতে। আগামিকাল দুপুরে হিথরো রওনা হব। জাভেদই আমাদের নিয়ে জাবে।আজ সকাল থেকেই ওয়েদার খারাপ, তবে সকালের দিকে বৃষ্টি ছিলনা। তাই দুজনে জিপসি মার্কেট গেছলাম। গ্রীসের তৈরি ২৪ ক্যারেট সোনার জলে অপূর্ব নক্সা আঁকা একটি প্লেট কিনেছি।             আজ বিশেষ কিছু রান্না করতে হবে না। গতকালের রান্না করা মাংস রয়েছে।চিংড়িমাছ আলু বেগুন দিয়ে করলাম,আর বিনভাজা। বিকেলে বনির মাসি পাটিসাপটা বানিয়ে এনেছিলেন। ভদ্রমহিলা খুব হাসিখুশি, মিশুকে। আজ জারা কিছুতেই বিছানায় শুতে চাইছেনা। জানিনা বাবলি ওকে একা সামলাবে কী করে? শুধু তো বাচ্চা সামলানো নয়। সংসারের অন্যান্য কাজও তো রয়েছে। মেয়েটার খুব কষ্ট হবে। এসব ভেবে মন আরও খারাপ লাগছে।শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে এটা সেটা করে চলেছি। কিছু ভাল লাগছে না।কিন্তু ফিরতে তো হবেই। এদেশে জানলাম ‘ব্রিটিশ কালচার’ কাকে বলে। আরও অনেক কিছুই দেখলাম জানলাম।     আজ সেই দেশে ফেরার দিন।দুপুরে জাভেদের

নাগরিক কথকতা /গৌতম বাড়ই

Image
নাগরিক কথকতা গৌতম বাড়ই  অট্টালিকার সুর  ঈশৎ কুশল বিনিময়  চোখাচুখি হয়না হয়তো সেইভাবে  থাকি সব পাশাপাশি বসবাসে  এর পাশে ও  তার পাশে আমি  সকাল বিকেল উঠি আর নামি  একা- একা কখনও একসাথে  বিকেল গড়িয়ে রাত্রি হলে  বাড়িগুলোর জ্বলে ওঠে আলো  তখনই সারাদিন পর সন্ধ্যের আলো মেখে বেজে ওঠে গিটারের সুর  চলে অনেক মধ্যরাতের পর  আমি প্রতিদিন ঘুমিয়ে পড়ি অট্টালিকার কোটরে ঐ এক রহস্যদানা বুকে নিয়ে -------  বসবাস একজন মানুষ বা প্রত্যেক মানুষ ভিড় থেকে এমন করে একা হয়ে যায়  একা ! একা ! তবে ঠিক একা থাকা নয়  যাপনে মনে হয় ভিড়গুলো যেন ঘিরেই আছে তাকে অথচ ভিড় নেই  একা-একা থাকতে থাকতেই আবার বাঁচতে শেখে আমি তুমি প্রত্যেকে এবং সে  বাঁচি মানেই আরও একটা দিন   প্রত্যেকটা দিন আবার নতুন করে  কাক ও মহানগর  হাত সরিয়ে মুখ সব সরিয়ে চেটো  দেখছি তুমি আমার চেয়েও খাটো!  একে একে সরিয়ে নিলে সমস্ত কুশীলব দেখছি আবার এখন আমি তোমার সব তুমি ভেঙ্গে গেলেও জোড়া লাগতে পারো তুমি মিছিল আমি নাগরিক বটে তোমারও সবার ধুতি কাপড় খোলে ছেঁড়াপথের শহরে স্তোকবাক্য জীবন খোঁজো ভাবে আর বহরে উদ্বাস্তু সময়  এই সময়ের যত ঋণ আমাদের

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২৯ ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর) ভাস্করব্রত পতি "কি হবে মাটির গহ্বরে ঢুকে  কঙ্কাল পাথর ফসিল কুড়িয়ে এনে? পুথি ঘেঁটে লাভ নেই নাই বা হল পি-এইচ ডি; ডি.ফিল. অথবা ডি.লিট। অর্থ না সন্মান? অথবা দুটোই? ক্ষুধা নিয়ে যাও যদি মাটির গহ্বরে মাটির ক্ষুধার চাপে চাপা হবে তুমি। ইতিহাস সজীব কি নির্জীব? জিজ্ঞাসার জাল বুনে লাভ নেই কিছু। বিজ্ঞান কি গতিশীল? সঠিক উত্তর মেলা ভার"--- কোনো জিনিস ফেলনা নয়। এই মর্মার্থ উপলব্ধি করেছেন ড. সুকুমার মাইতি। তাই পুরানো দলিল দস্তাবেজ, ঠিকা পত্তনি চুক্তিপত্র, চিঠিপত্র, পঞ্চায়েতী নামা, হুকুমনানা, ইজারাপত্র, পাট্টা, আবেদন নিবেদন ঋণপত্র বা বন্ধকনামা, তালপাতা ও তুলোট কাগজে লেখা দ্বি সহস্রাধিক সংস্কৃত ও বাংলা পুথি, ভাস্কর্য, টেরাকোটা মূর্তি, পোড়া মাটির লিপিলেখ, পুরানো মুদ্রা তিনি সংগ্রহ করেছেন। বাঁচিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন আজ থেকে অন্তত ১০০ বছর আগেকার প্রাচীন ইতিহাসকে। এজন্য স্থাপন করেছেন 'বিজন পঞ্চানন সংগ্রহশালা ও গবেষণা কেন্দ্র'। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরেই সুকুমার বাবুর সেই কর্মশ

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ৪৭ খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা সূর্যকান্ত মাহাতো সব সময় আমরা ছুটে চলেছি। এই ছুটে চলা আর ব্যস্তময় জীবনের আড়ালে আমরা কিছুটা হলেও কোথাও যেন একটু নির্জনতা প্রিয়। নির্জনতা প্রিয় না বলে 'নির্জনতা লোভী' বলাই বোধ হয় ভালো। এটা আমাদের আদিম সত্তারই একটা স্বরূপ মনে হয়। এই যে নির্জনতার লোভ, তার মাঝেই তো আমরা বারবার নিজেকে খুঁজে পাই। নিজের সঙ্গে কয়েকটা কথা বলা যায়। মুহূর্তগুলোর সঙ্গে একাত্ম হতে পারি। নিজেকে এইভাবে আবিষ্কার করার আনন্দটাও তো বড় কম কিছু নয়।  এই নির্জনতার মাঝে এলে একটা প্রগাঢ় প্রশান্তি যেন ঘিরে থাকে আমাদের মনে সর্বক্ষণ। জঙ্গলমহলে এরকমই যে কয়েকটা নির্জন জায়গা আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বেলপাহাড়ীর "খাঁদারাণী" জলাধার, ঝিলিমিলির "তালবেড়িয়া ড্যাম", এবং খাতড়ার "মুকুটমণিপুর ড্যাম"। পাহাড়, জল ও জঙ্গলের ত্রিবেণী সঙ্গমে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য ছড়ানো আছে সেখানে। এই নির্জন প্রকৃতি বারবার ডাক দেয় কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে গল্প করার জন্য। ব

কয়েকটি রম্য কবিতা-৫/শুভশ্রী রায়

Image
কয়েকটি রম্য কবিতা-৫ শুভশ্রী রায় মা-মিয়াও-কাব্যি যেমন পুষির মা, তেমনি তার মিয়াও মিয়াও পুষি! মোটা ভাতকাপড় আর অনেক কাব্য নিয়ে খুশি। মায়ের চুলে চিরুনি পড়ে না, ভেতর ভেতর জট ওই ভাবেই এ দিক সে দিক যায় চটিতে ফটফট, ছড়াকাব্যি লেখা-শোনা-পড়া চাই, চাই অতিরিক্ত মানুষ-মা আর বেড়াল-মেয়ে ছড়া-পংক্তির ভক্ত। ভালোমন্দ কিচ্ছু না জুটুক, অমৃত লাগে কাব্যি ছন্দ ভালোবাসতে কে যে এদের দিয়েছিল দিব্যি! পুষি অন্ত প্রাণ হয়নি কালকে পুষি নিয়ে কিছু লেখা তাই সোনা বেড়াল করেছে অভিমান, মুখখানা তার বড় দুখী, চঞ্চলতা নেই হতভাগিনী মায়ের ফেটে যাচ্ছে প্রাণ। আয় রে পুষি, মায়ের কাছে এসে বোস তোকে অনেক অনেক আদর করবে মা, জীবনভর ছড়াও লিখবে তোকে নিয়ে একটা দিন বাদ যাওয়ায় রাগ করিস না। পুষি, পড়া, শীত পুষি তুমি পড়া করে নাও শিগগিরি তারপরে অনেক গল্প করব আমরা, কমলালেবুর মতো রোদে পিঠ দিয়ে কথাবার্তায় ভরাব শীতের কামরা। না পোষা কষ্ট ওরে পুষি, কী দেখছিস চারতলার বারান্দা থেকে? মাগো, দেখছি রাস্তার ওই বেড়ালটার কত না কষ্ট! ঠিক বলেছিস, আসলে ওতো কারুর পোষা নয় খাওয়া-শোওয়া ঠিক থাকে না, আস্তানা নেই স্পষ্ট। পেজে লাইক দিন 👇

দূর দেশের লোকগল্প—মাদাগাস্কার /ছিল পণ্ডিত হয়েছে পশুপালক/ চিন্ময় দাশ

Image
দূর দেশের লোকগল্প—মাদাগাস্কার ছিল পণ্ডিত হয়েছে পশুপালক   চিন্ময় দাশ   কথায় বলে না, দশ চক্রে ভগবান ভূত! বেচারা বকের কপালেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল। সেদিন থেকে কী দুর্দশাই না ঘটেছে বকের জীবনে! সেই ঘটনাটাই শোনা যাক আজ।  মাদাগাসকার হোল নীল সমুদ্রে ঘেরা একটা দেশ। দেশটার গড়ন লম্বাটে। সে দেশের একেবারে ভিতরের অংশ জুড়ে আছে গভীর অরণ্য। সেটাও দেশের এ মাথা ওমাথা জোড়া লম্বা গড়নের। দু’দিকে ছাড় রেখে, একেবারে মাঝখান জুড়ে লম্বাটে অরণ্য।  আর অরণ্য মানেই নানা রকম জীবজন্তুর বাস সেখানে। তবে, মাদাগাসকারে বিচিত্র সব জীবজন্তু দেখা যায়। যাকগে, আসল গল্পের কথায় আসা যাক।  অনেক অনেক কাল আগের কথা। বনের ভিতরে এক জায়গায় একটা স্কুল বসে। বনের ভিতরে হরেক জীবজন্তুর বাস। ফসা, লেমুর, প্যান্থার ক্যামেলিন, টমেটো ব্যাঙ (এসব ব্যাঙের আবার পুরুষদের রঙ হলুদ-কমলা, আর মেয়েদের লাল-কমলা), কচ্ছপ, বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স— একেবারে শেয়ালের মত মুখ এই বাদুড়দের, তাই এমন নাম), নীলরঙের কোকিল—এমনই সব নানা জীবজন্তু।     তাদের বাচ্চারাই হোল স্কুলটার পড়ুয়া। স্কুলে না গেলে, একটু আধটু লেখাপড়া না করলে, চলে না কি? মানুষ না হোক, খানিকটা সহবত তো শেখা