অনির্বাণ দাশ


অ নি র্বা ণ  দা শ


বর্ষামঙ্গল

বৃষ্টি পড়ে একটি দুটি বিন্দু বিন্দু বুঁদ
শিবঠাকুর তো মন্দিরে নেই ঢালছো কেন দুধ
একখানা নয় তিনটে বিয়ে করবেনই করবেন
বউগুলো রোজ ঝগড়া করুক তিনি তো বাঁচবেন
গাঁজা খেয়ে শ্মশানচারি ধ্যানস্থ ত্র্যম্বক
বাংলা দেশে বর্ষা নামে রাগিনী ঝম্পক
খিচুড়ি আর ইলশে ভাজা স্কুলে আজ আর না
ঝমঝমে রা ছমছমে গা ভূতের গল্প শোনা
গরম গরম চা নিয়ে আয় সন্ধ্যে হলো যে
গায়ের ওপর ছায়াকালো রেনকোটেতে কে
মেঘের কোলে রোদ ওঠে না শুধুই ঝরছে জল
হাতি ডুবছে ঘোড়া ডুবছে মশা মাপছে তল

জীবন-বিষাদ

ফিরে আর এসো নাকো ধানসিড়ি নদিতে ;
নদি না নর্দমা! বক? ---
ধবল কোথায় দেখো? 
কতো যুবকের সাথে ডেটিংয়ের পথে
সুরঞ্জনা বনলতা মিসেস সান্যাল
অথবা 
বিউটি পার্লারে চোখে শশা টুকরো নিয়ে।
ওরা সব বলে কিনা ---
'যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম প্রীতি নেই
করুণার আলোড়ন নেই তারা হলো
সফটওয়্যার ঠাসা ঠাসা রোবটের দল।'

পাখিও ফিরেছে ঘরে,আঁধার এসেছে,
বারান্দায় কবিবর কখন বসেছে,
দুদণ্ডের তরে তবু শান্তি আসে নাই।


অন্তিম বয়ান

নোয়ার তরণী বাঁধা।পৃথিবীর থেকে
শেষ পা তুলে নিই আর লিখি এই কথা : 
কলমের নিবে এসে কালি থমকে যায়,
গলা দিয়ে নামতে চায় না ভাত যেমন।। 

পেন কালি ভাত গলা সব হাতে নিয়ে
এই আমি দীর্ঘ শীত বসেছি কবন্ধ।
পরমাণু অস্ত্রগুলো রাষ্ট্রপ্রধানের
উঠোনের কোণে হয় মাশরুম বারিদ।
এদিকে কার একমাত্র ছেলে গোণে দিন,
শেষের প্রহর আসে কর্কট অসুখে।
বাজারের ব্যাগ থেকে বেগুন পটল
ধুয়ে ধুয়ে তুলে রাখি ভিনিগার জলে।

ঈশ্বরী পাটনী তুমি চিরকেলে পিতা
কার কাছে চেয়ে নাও দুধ আর ভাত...


আত্মদহন

কতো বই কতো কতো না-ওল্টানো পাতা
দুটি মলাটের মাঝে দীর্ণ হ'তে থাকে 

 মৃত্যু এসে বলে যাবে ঢের হলো আর না

জন্মের আগে যে অন্ধকার ছিল 
মরণের পরে তবে ফিরে যেতে হয় সেই 
জড় আঁধার জগতে

আমার ছিন্ন পাতায় তরণী সাজাবো
জীবনের লোনা স্বাদে চুম্বনের দাগ
এঁকে প্রচণ্ড প্রভাতে গানের বিতানে
ঈশ্বরে এবং শ্রমে খুঁজে ফিরে চলি
উৎপাদনের রেখাচিত্র 

আর একটিবার হাত রাখো গো উদ্যম।
ঘ্রাণ নিই বুক ভরে জীবনের ওম।।
মান

কানু : নক্ষত্রপুঞ্জ এবং তুমি আর আমি 
          ক্রমশ চলেছি দূরে আরও দূরে   
         দূরে 
         কাছে কি আসে গো রাই সে-ও   
         দূরে যায়

কবি : বাঁশি যে বাজাও কানু অতো দূর    
          থেকে 
          শোনা যায়? 
          তাছাড়া রাধার কানে হেডফোন  
          গোঁজা

রাধা : যাও কানু যাও কবি পড়ে থাকি 
          অ্যাকা
          স্মার্টফোনে হাত রাখি শুনি 
          বাঁশিরব
          কে আর ভেবেছে কবে বিরহে 
          পীড়িত 
          রাধিকার অশ্রুচোখ তাপিত 
          পরাণ। 
          কানু কবি সকলেই পুরুষ বয়ান।। 

         ব্লক করে দাও তবে পুরুষ ঈশ্বর 
         যমুনার ঘাটে ছল ক'রে জল নিতে
         কখনও যাবো না।।
 
-------

Comments

  1. মন্তব্য করিয়া বাধিত করিবেন

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯