বিকাশ চন্দ


বি কা শ  চ ন্দ


মানুষ বোনা ক্ষেতে

ঋতুপর্ব কাল ঘিরে থাকে জমিন জীবন
অনন্ত সবুজে  ফসল চাষী বউয়ের বুকে---
হৈমন্তী বাসর খোঁজে চোখা চোখি সুখ
আকাশ মাটি জল বুনো পাখিদের গান
চেনা মানুষের গন্ধে আসে আলোর জীবন। 
#
শান্তি জলে ভিজে মরমি মরণ বহুবার---
প্রার্থনার রাতে চাষীর প্রাণের চাঁদ, 
নিহিত কথারা শরীর ছুঁলেই পালায় মন্দ শোক
সকালের ভাষা বোঝে পাখি আর হিরণ্য গাছ, 
পেটের ভেতর নড়ে চড়ে আলোর জীবন। 
#
ইচ্ছে কথাদের গল্প নক্ষত্র ধমনী স্পন্দন---
গাংচিল বন বাসরের পাখি দোয়েলের ডাক
আজন্ম প্রাণের ঠিকানায় আজান উলুধ্বনি, 
সহজিয়া জীবনের খুদ কুঁড়ো উজানী পরব--
সব ঘরে আসে অভিমন্যু মানুষ বোনা ক্ষেতে। 
বিবর্ণ বর্ণমালা

মরণের কাল ছুঁয়েছে আমার সত্তা হৃদয়
যাপন কালের চপলতায় ইচ্ছে শরীর সংযমে 
 নিহিত যন্ত্রণায় নামাজ প্রার্থনা পূজার দালান,
সংঘবদ্ধ মায়া লতা জানে জন্ম লগ্ন মুখরিত--
থমকে আছে জীবন কোন ছায়া নেই চাঁদে,
আনন্দ লহরী সূর্য পাখি গাছের শরীরে কাঁপে
ঋতুরঙ্গে জ্বলে ওঠে চিতা ঘর আত্মার অসুখে---
অন্তর্দাহে পুড়ে যায় চেতনা চৈতন্য আমার। 

কোন নিষেধ মাত্রা নেই শান্ত সূর্য ভোরে---
গেরস্ত মানুষ জলে ভেজায় রিক্ত উঠোন, 
সরল সংসার জানে মা হারানোর ব্যাথারা---
জলে ভেজে মাটির কাঙাল বীজের অংকুর
চিরকাল বশ্যতায় লাবণ্য মহিমা জানে
জলের মহিমায় নেচে ওঠে ঈশ্বর কণিকা,
আহারে নিসর্গ সুখ বোঝেনা অসুখ কথা---
পৃথিবীর প্রসব বেদনা জানে সে ধাত্রী কাল। 

কান্নাতে ভরে না গঙ্গা ভাগীরথী যমুনার জল---
আম জাম অশ্বত্থ বটে জমেছে পাখির বাসর,
শূন্যতায় ভেসে যায় জন্ম কাল গোত্র পরিচয়--
জন্ম মৃত্যু মানুষের পরিবার বিবর্ণ বর্ণমালা। 


প্রাণ প্রতিমা ঢেলেছে অমৃত

সমস্ত জীবন জুড়ে কথারা ঘিরে থাকে
কঠিনে কোমলে আমার কথারা বোঝেনা---
গোটা জীবনের পরিচ্ছেদ নম্র শব্দময়,
অকথিত অশোক বিম্বিসার ভাঙ্গা প্রত্নঘর
অথচ অনাহূত মৃত্যু সন্তাপ ঢেউ তোলে,
শোকের সাগর ভয় মেশানো রক্ত মজ্জা লীন---
কেবল কান্না ভেজায় শব্দ অক্ষর বর্ণমালা ঘর,
নীলকন্ঠ বিষে পৃথিবীর নীলে শূন্যময় মৃত্যু --
কেবল মা জানে প্রসারিত হাতের আড়ালে
আঁচলের আদরে বেড়ে ওঠে আত্মার বয়ন। 

ঘাড় ধরে কেউ দেখিয়ে দেয় অর্ধদগ্ধ চিতা
অন্ধকারের চতুর্দিকে সবুজ খোঁজাই সার,
মহাশূন্যের ছাদে কত না মোহন নক্ষত্র তারায়
শ্মশানে সাজানো ফুলের বাগানের পরাগ,
মৌমাছি প্রজাপতি ঘুম জাগানিয়া পাখির গান
চোখের কুয়াশার ভোরে খসে পড়ে নম্র মিনতি,
একাকী মরণ প্রহর জানে আকাশের হাহাকার
মাটিতে ঝরছে পাষাণ ভাঙ্গা স্রোতের বিলাপ,
চুম্বনে কপালের সুখ জানে জননী সকাল---
প্রাণ প্রতিমা ঢেলেছে অমৃত নীলকণ্ঠ গলায়। 
সম্মোহন

নিঃশব্দে বিভাজন প্লাজমা এবং রক্তে
চতুর্দিকে নীরবতা নাভিকুণ্ডলী পদ্ম জন্মকলা
তার ও নীচে আলো বাতি ঘর,
জীবনের প্রার্থনায় ভেসে যায় জমিন জঠর। 

হেঁটে গেছে যে পথে শরীর সন্তান
মা'ই জানে রক্ত সেঁচে নির্বিবাদী দুধের দোহন,
সাদা কালো কত না পায়রা দিয়েছে হাওয়া
জানা ছিল কী জননী সংসার 
আল্লার ঘরে নাকি ঈশ্বরের ! 

প্রদক্ষিণ কাল বড় বেদনা জ্বলে ওঠে আগুন
নিরাপদ দূরত্বে রঙিন কাঁচ ঘরে রাজা রানী 
ঠোঁট মুখ নড়ে শব্দহীন অন্য কোন ঘরে
সংসারে যে টুকু লজ্জা আবরণ 
কেবলই কী সবেদন আত্মার ঘরে৷! 

রক্ত দুধের বিভাজন জানে গোপন সন্ধিকাল
সরল ইচ্ছেরা আতান্তরে---
বুকের উষ্ণতায় বেড়ে ওঠে সুখ দুঃখ নীরবতা 
বরণীয় ধূলো পায়ের কি রঙ বলো---
দু'টো ঠোঁটে মরমি সম্মোহন। 


বীজে অঙ্কুরে অক্ষরে 

ভাঙনের মুখে কথা আলাপ পরম্পরা 
তবু ভেতর ঘরে আত্মহনন প্রাত্যহিক, 
মরণ প্রহরের পাহাড় হৃদয়ে ঝর্ণাধারা। 

উড়ছে পাখি গাছের সবুজ আত্মহারা 
মুখোশের আড়ালে খুঁজেছি দিব্য মুখ
এ দৃষ্টিতে বোঝা ভার বোবা ভাষারা। 

মন্দির মসজিদ গীর্জা ঘরেতেই প্রার্থনা 
কান্না ভারী বাতাশ শূন্য আকাশে নির্মাণ 
জল দেবী পৃথিবীর সব দিকে আত্মকণা। 

কণ্ঠস্বরই শুনিনি নেই তো কপাল চুম্বনে
তমসো মা আমার রাখেনি আলো ধারা
অরূপ দর্শনে নেই ভুলিনি হৃদি কম্পনে। 

এক সেতু চলে যায় জন্ম মৃত্যু সাক্ষরে
আড়াল বুঝিনি বিচ্ছিন্নতা চায়নি কেউ
পৃথিবীর  আলো বীজে অঙ্কুরে অক্ষরে ।

-----

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি