অনুপ মাহাত


অ নু প  মা হা ত


সৌপ্তিক পর্ব

সৌপ্তিক পর্ব সুখে নিদ্রা গেছো তুমি
ভুলে গেছো জীবন তোমার কুরুক্ষেত্র ভূমি
আঁধার রাতে অশ্বত্থামা ছুটে আসে
শাণিত খড়্গ রক্ত মেখে হাসে
স্তুতিতে যখন মহাদেবও ভুলে
পেঁচারা তখন আনন্দে গান ধরে
অন্ধকার গভীর কারো বিশ্বাস নেই আর
সৌপ্তিক পর্ব জেগে থাকা দরকার।
ধ‍্যান ভঙ্গ

অন্ধকার নিবিড় হলে
গাছেদের কান্না শোনা যায়
তপোবনে তখন সুবাহু
মারীচের উল্লাস ওঠে
মুনির ধ‍্যান ভঙ্গ হয়
সেই গভীর অন্ধকারে
কবিতারা থাকে জেগে
বিশ্বামিত্র রামের স্মরণ নেয়
তারপর বৃষ্টি নামে।


সকাল-সন্ধ্যা-রাত

যে সন্ধ্যায় প‍্যাঁচারা গান ধরে
সন্ধ্যাপ্রদীপ হাতে বধূর গা ছমছম করে
সমাজ তখন শান্তির আশ্রয় খোঁজে।

যে রাতে কবিতার হাহাকার শুনি
অন্ধকারে পাখিদের নীড় ছাড়তে হয়
পৃথিবী তখন স্তব্ধ হতে চায়।

যে সকালে শিশিরে রক্তের রঙ দেখি
ঘাসেরাও লজ্জা পায়
তখন সংবর্তের প্রত‍্যাশা জাগে।
মিছিল

আজো মিছিলের পদধ্বনি শুনি
এ যুদ্ধ কোনো দিন থামবে না জানি
ধরণী ধর্ষিতা হয় উকুনেরা হাই তুলে
সকাল থেকে সন্ধ‍্যে এ মিছিল চলে
লাল পাহাড় ভেঙে পড়ে
সবুজ দ্বীপ ওঠে গড়ে
তবুও অন্তহীন পথে সকাল হতে সন্ধ‍্যে
পায়ে পায়ে এ মিছিল চলে।


চলছি পথ হাজার বছর

চলছি পথ হাজার বছর
দ্বিধা তবু মনের ভিতর
যে পথে কবিতা চলে
মাঠ পথ গ্রামাঞ্চলে
যে পথে নদীর সাথে
দেখা হয় রূপকথাতে
গেছে যে পথ অনির্দেশে
সে পথে যেতে ইচ্ছে করে
পথ আছে ভিন্ন কত
কোন পথ আমার মত
এই দ্বিধা মনের ভিতর
চলছি পথ হাজার বছর।

-----

Comments

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি